Romantic lovestory লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Romantic lovestory লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

অনূ গল্প

অনূ গল্প


 ফারিয়া আপুর ডাকে ঘুমের রাজ্য থেকে বাস্তবে ফিরলাম। ফারিয়া আপু ডাকছেই...

.

-- অই হ্রামী। আর কত ঘুমাবে, এবার তো উঠো।

-- হু যাও তো,, ডিস্টার্ব করো না। শান্তিতে ঘুমাতে দাও।

-- বাবু, উঠ না রে। কলেজ যেতে হবে তো।

-- আচ্ছা উঠছি। শান্তিতে তো আর ঘুম হবে না। হলেও দিবে না।

-- হি হি..

.

প্রতিদিন কলেজ যাবার আগে ও আমায় ডেকে তুলে কলেজ নিয়ে যায়। আমি নিয়মিত উপস্থিত থাকার পেছনে তার হাত যে রয়েছে তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আমাকে জোর করে ডেকে বিছানা থেকে তুলে দিলো। আধা ঘুম আধা জাগরণে বাথরুমে গিয়ে পানি দিয়ে মুখ টুক ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। কিছুক্ষুণ পর এসে দেখি সব রেডি। তাড়াতাড়ি শার্ট গায়ে দিয়ে মায়ের কাছে গেলাম। কিছু মুখে দিয়ে আপুকে বলে বাইরে এলাম। পরে আমার ফ্রেন্ড কে নিয়ে কলেজের দিকে রওনা দিলাম। 

.

আমি ফয়সাল আহমেদ। পড়ি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার। ফারিয়া আমার আপন বড় আপু। আমাকে বাবু বলেই ডাকে। আমি নাকি পিচ্চি বাবুর মত তাই। আপুই সেই যে প্রতিদিন আমাকে ঘুম থেকে তুলে কলেজে পাঠিয়ে দেয়। আর আমার বন্ধু মনির। ব্যাচ মেট আমরা। 

.

কলেজে পৌছালাম ক্লাস শুরুর ১৫ মিনিট আগে। আমার আরও কয়েক ফ্রেন্ড ওখানে ছিলো। কয়েকজন বন্ধু বান্ধুবী মিলে আমাদের একটা ফ্রেন্ড সার্কেল। আমরা আড্ডা দিবো এমন সময় একটা মেয়ে ক্যাম্পাসে এ ঢুকলো। মেয়েটা নতুন। এবার ট্রান্সফার হয়েছে ২য় বর্ষে। মেয়েটা খুব সুন্দর না, আবার খারাপও না। তবে বেশ মায়াবী। হেটে চলে গেলো আমাদের সামনে দিয়ে। আমার বন্ধুবী তখন বলল,

.

-- কে এই মেয়েটাকে প্রপোজ করবে? বাজি রাখলাম। কে পারে দেখি?

.

আমার এক ফ্রেন্ড বলে উঠলো,

.

-- আমি করবো প্রপোজ। টাকা রেডি রাখ।

-- কিসের টাকা। এখানে চ্যালেঞ্জ বাজি হবে। কার মুখের কত দাম দেখি।

.

কিন্তু সেই বন্ধুটা পিছিয়ে গেল। কারণ তার গার্ল ফ্রেন্ড আছে। সে একবার জেনে গেলে কি অবস্থা হবে বুঝতে পারছে। তাইলে বাজি ধরার কেউ নাই নাকি। আসলে, মেয়েটা কারওর সাথে কথা বলে না। কারও সঙ্গে মিশে না। কাউকে পাত্তা দেয় না। সবাই হয়তো ভাবে ভাব। কিন্তু আমি বুঝি মেয়েটা কারওর সাথে মিশতে পারে না। আসলে মেয়েটাকে খারাপও লাগে না আমার। একটা চান্স নেয়া যায় কি বলেন? প্রেম করি না, আগেও করি নি। একেবারে খাটি সিঙ্গেল যারে কয় আর কি।

.

আমি মধ্যে থেকে হিরো সেজে বললাম,

.

-- আমিই করবো প্রপোজ। তোরা খালি সব ব্যাবস্থা করে দে। 

-- আচ্ছা করে দিবে নে। 

.

আমার কয়েকটা বন্ধুকে ব্যাবস্থা করতে বললাম। তারা ভিতরে চলে গেল। আর আমি বাইরে এসে বসলাম। মেয়েটার নাম জেনেছি। তাসনিয়া নাম মেয়েটার। বন্ধুরা তাসনিয়াকে আমার ব্যাপার বুঝাবে। আমি তাকে ভালবাসি এই সেই। অতঃপর কোনো এক বন্ধুর কল। তাসনিয়া আমার কাছে আসছে। এটা বলেই কল রেখে দিলো। আমি প্রস্তুত হলাম। মেয়েটা এসে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়।

.

আমার অবস্থা কি বলবো। লাইফে ফার্স্ট কাউকে প্রপোজ করবো। কেমন যেন ফিল হচ্ছে ভিতরে। যাই হোক তাসনিয়া আমায় জিজ্ঞাসা করলো,

.

--তোমার বন্ধুরা যা বলেছে সত্যি?

-- হ্যা।

.

সে আমার দিকে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। আমি অনেক কষ্টে তাকে বললাম, আমি তাকে ভালোবাসি। আসলে লাইফে ফার্স্ট প্রপোজ কি না তাই একটু ভয় লাগছিল। আসলে আমি তাকে ভালবাসি কথা টা মন থেকে নাকি এমনিই সাধারণ ভাবে বললাম বুঝতে পারছি না। তাসনিয়া একটা হাসি দিলো। আর আমার কাছ থেকে ফোন নাম্বার নিলো। আর সাথে ১ দিন সময় চাইলো সে।

.

আমি তো টেনশন এ আছি। বাজি ধরলাম, এখন যদি রিজেক্ট করে মান সম্মান যাবে। আর তাছাড়া এতো সহজে তো কেউ রাজিও হবে না। ধুর যা হবার হোক। তাকে দেখে তো পজিটিভ মনে হলো। আচ্ছা রাজি হলে কি হবে। আমি তো বাজি ধরে প্রেম করবো। ধুরর ছাই.. যা হবার হোক। পরে দেখা যাবে। 

.

পরের দিন যখন কলেজ শেষ করে বাসায় ফিরছি। বাসার কাছে প্রায় পৌঁছে গেছি, তখনই সে আমাকে ফোন করলো। প্রথমে আমি তাকে চিনতে পারি নি। কিন্তু পরে কথা বলার পর পরিচয় দিলে আমি তাকে চিনতে পারি। কথায় কথায় জানতে চাইলাম আমার উত্তর তো পেলাম না। সে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উত্তর দিলো। আমি চুপসে আছি। কিন্তু যখন বুঝলাম সে রাজি আছে। আমার আনন্দ যেন আর ধরে না। আসলে এই আনন্দটা কিসের? বাজি জিতার না তাকে কাছে পাবো সেটার? কনফিউজড!

.

ভালোই চলছিলো আমাদের রিলেশন। দিনে খুব বেশি ফোনে কথা বলতাম না। যাও বলতাম বাইরে গিয়ে বলতাম। মাঝে মাঝে গভির রাতেও কথা বলতাম। মায়ের কাছে ধরা খেয়েছিলাম। ওর আর আমার সম্পর্ক ভালোই চলছিলো। কিন্তু সমস্যা অনেক ছিল।

১) আমরা সমবয়সী।

২) ওর ফ্যামিলির কেউ ভালো ভালো না। আমার মা বাবা মেনে নিবে না।

৩) ওর খুব রাগ আর প্রচণ্ড জেদ। যার কারণে ঠিক মতো খাবার খেত না। দিনে একবার খেত আবার কখনো না খেয়েই দিন পার করতো।

৪) ও আমায় কিছু শেয়ার করতো না। অনেক কষ্টে কিছু কিছু জানতে পাড়তাম।

.

আমাদের সম্পর্কের এক পর্যায়ে সে তার প্রায় সবাইকে জানিয়ে দেয় আমাদের সম্পর্কের কথা। আমি চাইছিলাম না কেউ জানুক। জানুক তবে দু একজন। তবুও সে তার বাবা আর চাচা  বাদে সবাইকে জানিয়ে দেয়। আর তার চাচা ছিলো খুব রাগি আর ভয়ঙ্কর। এক পর্যায়ে তার চাচাকে জানিয়ে দেয়। 

.

আসতে আসতে আমাদের সম্পর্ক খারাপের দিকে এগুতে লাগলো। ওর সাথে কথা বললেই ঝগড়া হতো। ভাঙ্গন শুরু হলো। ওর চলা ফেরা আমার ভালো লাগতো না। ওকে অসহ্য লাগতে শুরু করলো। ও আমার সাথে ঠিক মতো কথা বলতো না। এক পর্যায়ে চরম অসহ্য লাগতে শুরু করলো। আমি তাকে সরাসরি ডেকে ব্রেক আপ করতে বললাম। এটা শুনেই সে আমার মোবাইল নিয়ে মায়ের নাম্বার নিজের মোবাইল টুকে নিয়ে মায়ের নাম্বারে কল দিয়ে দিলো। 

.

আমার মা এসব কিছু জানতো না। কিন্তু সে সব বলে দিলো। কিন্তু দেখলাম সে শান্ত ভাবে কথা বলছে। অর্থাৎ আমার মা তার সাথে শান্ত ভাবে বলছে। আমি কিছু অনুকূলতা অনুভব করলাম। আমি তাকে কিছু বললাম না। ফোন নিয়ে বাড়ি চলে আসলাম। বাড়িতে ফিরেই আম্মু সেরকম যাচ্ছে তাই বলে আমাকে বকা বকি করলো। কি হলো। শান্ত ছিলো ভেবেছিলাম। কথায় আছে না নিশ্চুপ হাওয়া ঝড়ের লক্ষণ। এখানেও তাই। নিশ্চুপ থাকা অতি রাগের কারণ হয়ে উঠেছে। ফারিয়া আপু আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে ঘরে বসিয়ে আমার মাথায় কিছুক্ষণ হাত বুলিয়ে দিয়ে উঠে চলে গেল।

.

আমি তো এদিকে রাগে ফুঁসছি। ঠিক করলাম কথা বলবো না আর ওর সাথে। কিন্তু না বলেও থাকতে পারতাম না। তাই মাঝে মাঝে এক আধ টুক কথা হতো আমাদের। এভাবেই দুজনই বিরক্ত একে ওপরের উপর। কিন্তু আবার দুজন দুজনলে ছাড়তে চাইতাম না। মানে একেবারে নাজেহাল অবস্থা। না পাড়ছি সইতে, না পাড়ছি সরে পড়তে। 

.

এদিকে ঝগড়া সম্পর্ক নিয়ে বিজি থাকতে পরিক্ষা খারাপ হলো। ও আবার এগুলো নিয়ে সারাক্ষণ চিন্তায় থাকতো। কিন্তু কিছু শেয়ার করতো না। এক সময় পুরো অসহ্য হয়ে গেলো সে। আমার সবার উপর আমার ক্যারিয়ার, তারপর বাদ বাকি। তার জন্য আমার রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। 

.

একসময় ভাবতে লাগলাম যে, ব্রেক আপ করে দিবো। যা কে বিয়ে করতে পারবো না, আমার বিয়ে পর্যন্ত যাকে রাখবে না, অযথা তার জীবন নিয়ে খেলা করে লাভ নাই। আর ব্রেক আপ করার জন্য একটা কারণ লাগবে তো। আমি সেই বাজিকেই কারণ হিসেবে ধরবো ঠিক করলাম। 

.

আমি কল দিয়ে তাসনিয়াকে পার্কে আসতে বললাম। সে আসলে আমি বাজি খেলেছি এই সেই বলে আমি ব্রেক আপ করে দিই। সে চুপ করেছিলো। কিছু বলে নি। ও প্রমাণ চাইলো যে আমি সত্যই বাজি ধরেছিলাম কি না? আমি মনির কে কল দিলাম। সে সব বলে দিলো। তাসনিয়া কে বলেদিলাম, আমার সাথে রিলেশন রাখার জন্য চাপ দিবে না। এতে আমি চিরদিনের মত তোমার লাইফ থেকে হারিয়ে যাবো। যদি বিরক্ত না করো আমরা বন্ধু হিসেবে থাকতে পারি। তাসনিয়া তাতেই রাজি হয়ে গেলো। 

.

আচ্ছা একবার পরিক্ষা করা দরকার। সে আমাকে সত্যিই ভালোবাসে কিনা। তা করাই যায়। ঠিক করলাম তার সামনে প্রেমের অভিনয় করবো। আর এই কাজে আমার গার্ল ফ্রেন্ড হবার জন্য বললাম, জাষ্ট অভিনয় করতে হবে। সব ঠিক করে ফেললাম।

.

এখন রোজ তার সামনে অভিনয় করি, কথা বলি, চ্যাট করি। সাথে তার প্রতিক্রিয়া দেখি। জেলাস হয় বুঝা যায়। কিন্তু একদিন দেখলাম আমার এক বন্ধুর হাত ধরে ক্যাম্পাসে ঢুকছে। আমি অবাক হয়ে গেলাম। খোজ নিয়ে জানতে পারলাম ওটা ওর বয়ফ্রেন্ড। নতুন বয়ফ্রেন্ড। এই সে বন্ধু আমাদের সম্পর্কের মাঝে ওকে ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম।

.

স্বাভাবিকই যদিও বাজি ধরে রিলেশন করেছিলাম। কিন্তু অনেক দিন রিলেশন গিয়েছে। মায়া জন্মানো স্বাভাবিক। প্রেমেও পড়লেও অবাক হবো না। আসলে সে যে জেলাস হতো এটা আমার ভুল ধারণা প্রমাণিত হলো। যাক গে মায়া বাড়িয়ে লাভ নাই। সে নিজের কাউকে খুঁজে নিয়েছে। আমার আর অভিনয় দরকার নাই। তাকে তার মতো চলতে দিই। 

.

এখন আমাদের মাঝে বন্ধুত্ব ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। আমি আমার ক্যারিয়ার নিয়ে বিজি। এটাই এখন আমার শখ। মন খারাপ থাকে তাসনিয়ার জন্য। কিন্তু কিছু করার নেই। আগে ভাগেই সরে পরেছি। অনেকে হয়তো বেঈমান ভাববে। হ্যা আমি হয়তো তাই। আমি তার ভালো জন্যই তাকে ছেড়ে চলে এসেছি। এটাও তো এক প্রকারের বেঈমানি। যাই হোক, তাসনিয়া ভালো থাকুক এটাই আমার চাওয়া|

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

Story the time (সময়)

Story the time (সময়)


 ’

লিখেছেন- শাহরিয়ার বিশাল


আমি মিমির হাত ধরে বসে আছি । দুহাতে ওর দুহাত আলতো করে জড়িয়ে রেখেছি । মুঠো কাঁপছে, তবে সঠিক কার হাতদুটো কাঁপছে তা বলা মুশকিল । সবে মিনিট-খানেক পেরিয়েছে । মনের হিসেব, ভুল হওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কাছাকাছি । আমি গুনে গুনে সময় বলে দিতে পারি । হাতে রয়েছে আর মাত্র চার মিনিট । চার মিনিট পর হাত ছেড়ে দিতে হবে । এর মাঝেও ছেড়ে দেয়া যেতে পারে তবে চার মিনিট পর অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে । নয়ত কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে । মিমি বলেছে পাঁচ মিনিটের মাথায় হাত ছেড়ে দিতে, না দিলে কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে ফেলবে । আমি বিশ্বাস করেছি । যে মেয়ে বিয়ের আগের রাতে সাবেক প্রেমিকের হাত ধরে পাঁচ মিনিট বসে থাকতে পারে, সে সব অসাধ্যই সাধন করতে পারে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস । 


হুম, কাল ওর বিয়ে । ছেলে ভালো, বেশ ভালো একটা চাকুরী করে । চাকরীর আবার ভালো আর খারাপ, অন্তত বেকার আমির থেকে তো অনেক ভালো । ছেলে আর আমি একসাথে কলেজ পাশ । কলেজে গাধাটার নাম ছিল গ্যাস বাবু । শামীম বাবুর, “শামীম” কেটে “গ্যাস” ঢুকে গেছিল । ওর গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতার বেশ নামডাক ছিল কি না ক্লাসে, তাই । যেদিন নাহার ম্যাডামের বিধ্বংসী টাইপের ক্লাস থাকত সেদিন সবাই মিলে ওর হাতে পায়ে ধরতাম । ‘বাবুরে বাবু দিস কিন্তু ভাই, পিলিজ লাগে’ । গ্যাসবাবু আমাদের আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে হাত তুলত, ‘টেনশন নিস না, আজ এক্কেরে একের মাল ছাড়ব’ । আমরা নিশ্চিন্ত মনে একদম শেষের বেঞ্চে বসতাম । একমাত্র একের মাল ছাড়া তার পক্ষেই সম্ভব । আর ম্যাডাম যে...... নিশ্চিত ক্লাস ছেড়ে পালাবেন । 


আমরা সব বন্ধু মিলে ঠিক করেছিলাম ওর বিয়েতে একটা গ্যাস সিলিন্ডার গিফট করব, তাও আবার খালি । বাবুকে বলতেই গম্ভীর মুখে বলে উঠল, ‘আচ্ছা দিস, তবে দুটো দিস । বাইচান্স যদি একটাতে না আঁটে । আরেকটা কাজে লাগবে । সবকিছুর একটা ব্যাকআপ থাকা ভালো’ । গাধাটার কথা শুনে এতটাই অবাক হয়ে গেছিলাম যে, সবাই দু সেকেন্ড হাঁসতে ভুলে গেছিলাম । সেই থেকে ওর নামের পাশে আরেকটা টাইটেল জুড়ে গেল ‘ব্যাকআপ গ্যাস বাবু’ । আর এই ব্যাকআপটাকেই নাকি বিয়ে করতে চলেছে মিমি ! কোনো মানে হয় ?! কে জানে বিয়ের জন্য আর কাউকে আবার ব্যাকআপ হিসেবে রেখে দিয়েছে কি না । গাধাটার কোনো ভরসা নাই ।


‘আচ্ছা একটু হোল্ড করা যাবে ?’ 

‘কি!’ 

‘হোল্ড, মানে আর চার মিনিট বাকি আছে । দুমিনিটের বিরতি দেয়া যাবে ? এই একটা কল করতাম’ ‘নাহ যাবে না, হাত ধরে থাক । পাঁচ মিনিট পর ছাড়বা । হাত ছেড়ে চোখের সামন থেকে দূর হয়ে যাবা’ অতি ভয়ানক গলা, এই গলার বিপরীতে বলা মানে কেয়ামত ডেকে নিয়ে আসা । তার থেকে থাক বাবা, খাল কেটে কুমির ঢোকানোর কোন ইচ্ছে আমার নেই । 


‘কাকে কল করবা ?’ 

‘মিমোকে’ 

‘কেন ? কি দরকার ?’ 

‘সিলিন্ডার কেনা হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করতাম’ 

‘সিলিন্ডার ? সিলিন্ডার দিয়ে কি হবে ?’ 

‘তোমাদের বিয়ের উপহার’ মিনমিনিয়ে উত্তর দিলাম 

‘এত কিছু থাকতে সিলিন্ডার ! ক্যান ?’ ভ্রু কুঁচকে গেছে মিমির, লক্ষণ খারাপ । অযথাই শার্টের কলার ঠিকঠাক করতে করতে এড়িয়ে যেতে চাইলাম । তবে লাভের লাভ কিচ্ছু হল না, উল্টে জোর চেপে ধরল, ‘বল’ 

‘কি বলব ?’ 

‘ঢঙ্গ করবা না, তাড়াতাড়ি বল, সময় এমনিতেই কম । আর নাইলে............ এরপর আর কোন কথা চলে না, এমনেই উপরে কেলেঙ্কারির খড়গ ঝুলতেছে । আগাগোড়া সব খুলে বললাম, মিমি চুপচাপ । 


আমার ইনটিউশন বলছে মিমি লিটারেলি চিল্লিয়ে বাড়ি মাথায় তুলে সত্যি সত্যি কেলেঙ্কারি টাইপের কিছু করবে । কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে শুধু ‘ও’ বলে চুপ মেরে গেল । দু সেকেন্ড পর নিজ থেকেই ফের বলে উঠল, ‘আচ্ছা তাহলে আমাকে কয়েকটা রুম ফ্রেশনার গিফট কোরো’ । আমি নির্বোধের মত বলে উঠলাম ‘আচ্ছা’ । এই মুহূর্তে ‘আচ্ছা’ বলাটা শুধু নির্বোধই নয় আমি যে একটা গর্দভ তারও এক জলজ্যান্ত প্রমাণ । । এখানে বলা উচিত ছিল, ‘দেখ কি দরকার ঐ গাধা ব্যাকআপটাকে সহ্য করার, তার থেকে এক কাজ করো আমাকে বিয়ে করে ফেলো । অন্তত রুম ফ্রেসনারের খরচটাতো বেঁচে যাবে ।’ আমি যে সত্য সত্যই নির্বোধ তার আরো একখানা প্রমাণ দিয়ে চুপ মেরে গেলাম । মিমি ছোট্ট ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলছে । নিঃশ্বাসের তালে তালে নাকের পাটা মৃদু ফুলে ফুলে উঠছে । দেখতে এত মিষ্টি লাগছে যে চট করে চুমু খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে । অসম্ভব ইচ্ছে । আমি চুপচাপ সময় গুনে যাচ্ছি, দুশ নব্বই, একানব্বই...............তিনশ, তিনশ এক । সময় শেষ । 


‘আমার মনে হয় চলে যাওয়া উচিৎ ?’ 

‘কেন, হাত ধরে থাকতে কি এতটাই খারাপ লাগছে ?’ 

‘না মানে, পাঁচ মিনিট তো শেষ’ 

‘ও’ উত্তরটা দিয়েই চুপ মেরে গেল মিমি । মুঠোটা মনে হয় একটু শক্তও হল, কে জানে আমার মনের ভুলও হতে পারে । 


হাত ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ালাম, পকেট থেকে হয়ত খামটা এখনো বের করে ওর হাতে তুলে দেয়া যায় কিন্তু মনটা আর সায় দিল না । পাঁচ মিনিটের ছোট ইচ্ছেটাই যদি ওকে এতটা কষ্ট দেয় তবে সারাজীবনের এই অসম্ভব ইচ্ছেটা ওকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে যাবে । থাক, কি দরকার । ‘বিশাল’ পেছন থেকে অতি পরিচিত ডাকটা শুনে পোড়া চোখদুটোকে শক্ত করে ঘুরে দাঁড়ালাম । ওর থেকে কোন আশা নেই, আরও দুটো নিরাশার কথা শুনতে হবে এই আরকি । 

‘হুম’ 

‘আমি কিন্তু কেলেঙ্কারি করে ফেলব’ 

‘মানেটা কি ! পাঁচ মিনিটের মাথায় হাত ছেড়ে দেয়ার কথা ছিল, আমি ছেড়েছি । এখন আবার এই কাহিনী ক্যান ?’ মুখ হা হয়ে গেছে আমার । 

‘শোন ঐ গাধাটারে আমি কিছুতেই বিয়ে করতে পারব না । তুমি আমারে নিয়া পালাবা ? নাহলে কিন্তু আমি নিজে নিজেই পালাব । বল পালাবা ? বল ?’ টলটলে ঐ দুচোখের আহ্বান কখনই উপেক্ষা করার দুঃসাহস হয়ে ওঠেনি আমার, আজও হল না । হাঁটু গেঁড়ে দুহাতে খামটা ওর হাতে তুলে দিলাম । একনজর চোখ বুলিয়েই দমাদম কিল বসাতে লাগল বুকে ‘তোমার যে চাকরি হইছে, আগে বলনাই ক্যান, ক্যান ?’ দুহাতে ওকে বুকে আগলে নিলাম, মেয়েটা ছোট বাচ্চার মত ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে । 


একটু পরে ভেজা স্বরে বলে উঠলো, ‘শোন একটা কেলেঙ্কারি যেহেতু করেই ফেলতেছি সেহেতু আরেকটাও করব । আমরা না দুটো বাবু নেব । দুটো মেয়ে, না একটা ছেলে আরেকটা মেয়ে । নামদুটো কিন্তু আমি রাখব, তোমার যে নামসেন্স । ছেলেটার নাম বিহান আর মেয়েটা... হুম আচ্ছা তুমি বল, বল, আরি বল না... মিমি কি যে আবোল তাবোল বকছে তার কিছুই কান দিয়ে ঢুকছে না আমার । আমি রীতিমত ওকে বুকের সাথে পিষছি আর প্রাণপণে সময় গুনছি । পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়, দশ...... ছোট্ট একটা মুহূর্তকেও হারাতে রাজি নই আমি । হারাতে রাজি নই পাগলী এই মেয়েটাকে, আর জীবনের সবথেকে খুশির সময়গুলোকে । রাজি নই আমি, একদম না ।

শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪

গল্প:- শেষ_দেখা,,,

গল্প:- শেষ_দেখা,,,

 

লেখক:- আরিয়ান ইসলাম

প্রায় বছর দুইয়েক পর অহনা নক দিলো ম্যাসেঞ্জারে। ভালো মন্দ, না করে সোজা পথ কর এই, লন্ডের কই থাকো তুমি? এড্রেস কী?

রিপ্লাই, কেন গিফ্ট বারবার?
তুলো, দিতে পারি।
এড্রেস দিয়ে টুকটাক কথা বলা। আছো, স্বামী, শিশুরা কি জানা আছে এই সব আর কী?
তার কথা সন্ধ্যায় দুয়েক পরে নাক পড়লে সামনে খবর পাওয়া!
আমি স্বপ্ন দেখছি বুঝতে পারছি না। তার বর আর শিশু দুইটা।
আমি কী বলবো আলোচনা করছি না। ঘোরে খুঁজছি মনে হচ্ছে।
অহনা হাসি দিয়ে বললো, কি, ভয় পাইছো?
তার বরের সাথে হাত বাসার অন্তর্ভুক্ত নিয়ে আস তাদের।
আমি এখনো বুঝছি না! আহনা তার বরের সাথে আমেরিকা। প্রায় তিন বছর পর আমেরিকার কাছে যেতে পারে। বছর সাতেক আগে আমাদের প্রেমের ইতি শেষ! তখন আমরা দুইজনে সংবাদ প্রচার। আমার প্রাক্তন তার বর শিশু নিয়ে আমার উত্তর, আমার ঘোরে না যাওয়ার উপায় আছে?
অহনার বর বেচারা বিব্রত মনে হচ্ছে। মানুষকে আমার কথা বলতে, কিন্তু আমাকে এই প্রথম আগুনন মনেহয়।
অহনা ড্রইং রুমে বসতে দোতো, আমেরিকা থেকে বসতে এসে থানে। ভাব তোমার সাথে দেখা করেই। আজকে রাত তোমার এখানে খাবো। শিখতে শিখেছি তুমি! একা থাকো?
নিজের, না, বন্ধু আর তার ওয়াইফ থাকে আমার সাথে। ওরা ছুটি ছুটিতে। এখন একাই থাকতে হয়। তুমি আমাকে না বললে, যদি থাকতে থাকতে? এসে পরপর!
অহনা বলতে, আরে সারপ্রাইজ নষ্ট হয়ে গেছে তাহলে না?
রাতের খাবার আমার রান্না করার কথা বলা অহনা রান্নাঘর খাবার পরিবেশন করে নিলো! আমাকে দেখাও, তুমি আমার বারকে সময় না। তালিকা নাহয় আমার হাতে খেলার পদ্ধতি।
অহনার ছেলে মেয়ে দুই ছেলে খেলানা বসিয়ে গার্ডেনে বসলাম আমি আর অহনার বর।
ভদ্রলোক এখনো মনেহয় খুব বিব্রত। আমি ওনাকে ইজি কর‍তে ভাই, ভাই! আপনি প্লিজ আনন্দ পাবেন না, বিব্রতবোধ করবেন না। পৃথিবীটা অদ্ভুত একটা জায়গা। চারিমাঝে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন অংশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আমি ভয়ে আছি আপনার বউ না খাবার বিষেশ দিয়ে আমাকে মেরে, সাত বছর আগে তাকে একা হোটেলের পক্ষে কারণে!
ভদ্রলো আমার কথা বলতে ইজি বার। হেসে স্থান। লোকটার হাসিটা খুব সুন্দর। বললেন, ভাই যদি বিষ দিতো, তাহলে আমাকে দিতো! তবে আমি তোমাকে জানি না। আমার বাবা তোমার সম্পর্কটা নেই। আহনাও বাবা আমাকে যেতে পারে না।
ভদ্রলোক চায়ে চুমুক দিতে, ভাই আগে আহনা আর আপনার কিছু আহনা আমাকে বলে। বলে, বাবার ইচ্ছা বিয়েটা করছে সে! আপনি এখনও প্রায় নিজেকে ভিন ভিন!
আমি, আমি বলছি ভাই! এক কথা! ঐতিহ্য না থাকার কথা! আপনি কি সুন্দর দুই! দুইটা সুন্দর সুন্দর শিশু! ভালো মনে করবেন না। ভাগ্য সতর্কতা আমাদের সাথে না।
ভদ্রলোক বললেন, না, না, আমি সুখী মানুষ! যদি আপনি জানেন আমার সুরক্ষিত স্থানের সুযোগ! আহনা যখন আমার সাথে দেখা করে বলে, প্রেম আমাদের আছে। প্রচন্ড প্রেমে সে ছেলে ছেলে। আমি আমার গবেষণা সে চাচ্ছে বিয়েটা ভেঙ্গে দেই আমি। আমি না আমি না ভাই! অহনার মায়া পড়ি! আমার মনেহয় হয়েছিল এই মেয়ের সাথে সাথে করতে না ঠিকানা মরে যাবো! আমি আজকে সঙ্কেত আপনার পরিবারটা হলে! অহনার পর আমি আমাকে বলেছি, আমি তাকে ভালবাসতাম, এখনও সতর্ক বাসি তবে আমি এই না আমার পক্ষে না, তোমার প্রতি ভালোবাসা না বা কোনোভাবে ঠিকঠাক বোলো। এটা আমি কখনো কখনো না। একজন হিসাবে আমার সব দায়িত্ব আমি পালন করছি। করেছে মেয়েটা। করে যাচ্ছে। আমি সুখি একজন মানুষ ভাই! আমি আমার কোনো বড়ো পুণ্য করে আশাই বলে মনেহয় এই মেয়ে বড়ো বড়ো বড়ো পুণ্য করে!
এই বলতে বলতে ভদ্রলোক কেঁদেব! আমি বিব্রত হলাম! ভদ্রলোক বললেন, ভাই আপনাকে একটা কথা জানাচ্ছি। অহনার বছর খান আগে ক্যান্সার পড়ে। প্রেসক্রিপশন কিন্তু খুব একটা লাভ হবে না। আপনি সতর্ক জানেন আমি নিজেও ডাক্তার।
আমি ভদ্রলোকের কথা বলতে জানি না! কী বলেন এই সব!
ভদ্রলোক আবার বলা শুরু, ও খুব দ্রুত অনুরোধ করা হচ্ছে। টনে ঘুরতে পাগলামি করে। আমাকে বললো, আমি পরে পরেই মারা যাবো! আমাকে দেখেন! আমি পাগলামী প্রশ্রয় বিশ্বাস। কিন্তু এখানে স্বামীকে পরে জানালাম, এখানে আসা শুধু আপনার সাথে একবার দেখা করার জন্য!
লন্ড্রিজ হোটেলে ফেরার পথ গাড়িতে আমাকে হাত ধরে বলে, যেদিন রানার সাথে শেষ দেখা করি, পাগলের মতন চিৎকার করে, জান রানা! একজন প্রেমিক তার প্রেমিককে ধরে চিককার করে আর আকুতি মিনতি করে দুই পাশে, আমাকে ছেড়ে যেও না প্লিজ! আমি তোমার বাবার পায়ে ধরে রাখতে চাই! তোমার সুখের জন্য আমি সব! প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাও না! নিস্তুর আমি বলে, আমার সুখের জন্য আমাকে ছেড়ে দেন তাহলে! আমাকে এই শেষ সময় একটাবার রানার সাথে দেখা করতে?
অহনার বার তার বাবা থেমে বললেন, গত সাত বছর অহনা তার সাথে শব্দও বলে না! একটা ওয়ার্ডও না! বলে, আমার বাবা আমার সুখ চেয়েছি, আমি সুখ পেয়েছি। জন্মদাতা বাবা আমাকে জন্ম দেওয়ার অধিকার খাতায়ছেন, মানুষ হিসাবে আমার অধিকার আছে কার সাথে কথা বলুন না বলুন তার!
এইসব কাহানীতে ভাইভারিমাঝে নিজেকে ভিলেন মনেহয়! এখনও আমি স্টার আমার কাছে কৃতজ্ঞ অহনার মতন বউশ্বর! যে একজন স্ত্রী যেমন একজন একজন প্রেমিক হারানো প্রেমিকাও!
দুনিয়ায় আমার যত শক্তি আছে আমি চেষ্টা করি যাবো আমার অহনার যন্ত্রের জন্য! তবুও আমি জানি আমাকে হার মানতে হবে! আমি আর আমার অহনাকে নির্দেশ পাবো না কখনোই! এখনো কত মিরাকল হয় না ভাই? একটা মিরাকল! আমি এইও পণ করেছি অহনা ব্রাদার হয়ে আমি তাকে বলি, তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো অহনা৷ তুমি যেখানে সুখে থাকো সেখানে যাও! এখনো তুমি স্থায়ী থাকো! নিশ্বাস নাও!
রান্নাঘর থেকে অহনার ডাক আসলে আমাদের কথায় বাধা পড়ে। আমি আর অহনা প্রায় দেখা করতাম। সে প্রায় এটা রান্না করে আমার জন্য আসতো। তার মধ্যে তার হাত গাজরের হালুয়া সুন্দর আমার সবচেয়ে প্রিয়! নীল একটা বক্সে খাবার টেবিলে দেখলাম হালুয়া রাখা। অহনা বলতে, পাঠাও দেখো। নষ্ট সেট কথা না। আমেরিকা থেকে আনা। ফ্রোজেন করতেছি। বাস আছে গান কে জানা।
নামে, খাবো। সঙ্গে যোগদান করুন।

রাত অহনারা বিদায় নিলো আমার কাছে। অহনার বর ভদ্রলোক শিশু দুই দুই জোট নিয়ে আমাদের একত্রে কিছুক্ষণের জন্য।
অহনা বলে, আমার বরই আমার অসুখের কথা বলেছে। ভণিতা না। আমার উল্টো একবার সামনাসামনি ইচ্ছা হল আর এই চিঠিগুলো রাখো। তোমার দেওয়া এক শো আটাশিটা চিঠি। এই চিঠিটি পুড়িয়ে ফেলার অনেকবার চেষ্টা করতে পারি না। আমার ভালমন্দ কিছু চিঠিপত্রগুলি অযথাই থাকবে তাই আপনাকে দিয়েই৷ আর যদি রাখা বৈশিষ্ট্য প্রতিফলন দেও! আর শুনো, আমি সুখি একজন নারী। আমার সুখের সংসার। তোমার জন্য প্রেমে নাই। ভেবো না আমি এখনো তোমার প্রেমে অন্ধ! দুই শিশুর মা হয়েছি! এখন আর এই সব বাংলার ছবি সময় আছে? তোমার এখনও প্রতি জন্মদিনে আমি সুন্দর মতন সাজি। একটা করে গিফট কিনি। যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিলো চব্বিশ জুলাই, আমি একা একা আমার ঘুরতে বের হই! আমার বর সব খবর। আমি বলি নাই অব্যাহতিও। জানো রানা, আমার দেখা শ্রেষ্ঠ একজন মানুষও! ভাল এইসব কেন আমি জানি না। আমার সতর্কতার সময় কম তাই যা জানাবেন। তুমি সেই জলের জন্য আমার জন্য বলেছিলে 

আমি টার বছর আমি আমার কাছে তোমার কাছে ক্ষমা পাবো না। তাই ক্ষমা চাইবো না। এখনো বলি আমার উপর অভিমান রেখো না রানা। আর সত্য মিরাকল হলে আমার চিঠিগুলো আমার কাছে ফেরত দেবে! মনে রাখতে হবে! আর তোমার সাজানো কোন কষ্টের জন্য এসেছিলাম যদি আমার অধিকার দিয়েছি! কিন্তু আমার কি তোমার প্রতি কোন অধিকার আছে? আছে সতর্ক!
আমি তার হালুয়ার বাটিটা নিয়ে বসলাম। প্রিয় এই খাবারের কথাবার্তা দিয়েছি সাত বছর! আমার সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে ইচ্ছা করছে অহনার জন্য! কেন জানি মানতেও না! আমার ইচ্ছা ইচ্ছা করছে চিৎকার করছে আবার, আমাকে ছেড়ে যাও না! আমার কষ্ট হচ্ছে!
অহনার চিঠিগুলো আমার কাছে যত্ন করে আছে। প্রায় বের করে পড়ি আর পুরনো কথা মনে করি। চিঠিগুলো তাকে তার ফেরত সুযোগ দেয় না।

নাহ! কোন মিরাকল অহনার সাথে হয় না! সর্বোচ্চ এক মমতাময়ী অনারার জন্য প্রার্থনায় একজন একজন ব্যক্তি একজন বউ পাগলের সামনে দাঁড় করিয়ে একজন প্রেমিক! এখনো স্রেষ্টার মন গলে নাই! এখনও অভিমানী আহনা আর আমাদের সাথে থেকে।
(সমাপ্ত) 

সোমবার, ৮ জুলাই, ২০২৪

গল্প কথা

গল্প কথা

🖊 সুবর্ণ সারমিন নিশি

 প্রথম প্রথম মত পাত্র পক্ষ আমাকে দেখতে আমি খুবই নাভাস আসলে বান্ধবীদের জন্য এত কিছু উল্লেখ করছি যে এখন নার্ভাস না হওয়া। ভাবী আমাকে সাহস দিয়ে বলেছে খুব ভালোভাবে কথা বলতে এখানে ভয় পাবার কিছু নেই।

 পাত্রপক্ষের উত্তর দিয়ে হেঁটে ঘরের মনে মনে বসল মা হাতের ইশারায় আমাকে প্রায় ৬/৭ জন এসেছিলেন। পাত্র মা চাচি বোন সহ আরো বেশ গুরুত্বপূর্ণ।


আমি ইরা গত বছর ঢাকা ইউনিভার্সিটির থেকে ইংলিশ ছাত্রদের কমপ্লিট করেছি, এখন একটা প্রাইভেট ফার্মে কর্মরত আমার কোন বোন নেই, মা, বড় ভাই আর ভাবীকে নিয়ে আমাদের ছোট ছোট।


সোফায় বসার সালাম বাবা, ছেলের নাম রাতুল একটা প্রাইভেট নামতে আছে।

আমি সাধারণভাবে কামিজ পরা শুনতে শুনতে শুনতে শুনতে পাই, আমি চাই ওরা আমাকে নাচার সালো ব্রাক দেখুক।


-মেয়ে তোকে অনেক শুকনা তা তোমার বাবার বাড়ি থেকে টেতে দেয় না? হাসতে হাসতে ছেলের মা আমি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে মিশে তাকালাম।

দেওয়া স্থায়ী আমার ভাবী একজন ডক্টর, শি দল সম্ভ্রান্ত ফ্যামিলির মেয়ে। নিজেও তখন হাসতে বললেন,

- আপনার বাড়িতে ছেলেমেয়েকে ভালো করে দেখাতে হবে না, কিন্তু আপনার কাছে যেতে পারে যে চুল পড়ে যাচ্ছে সেই টাকের চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আমাকে বলবেন আমার কিছু বন্ধুবান্ধব কলিগ তাদের সাহায্যে নেবে।

ভাবীর হাস্যজ্জল কথাগুলো খুব সম্ভবত ছেলের ছেলের ছেলের বুকে গিয়ে বিধায়ক এবং খানিকটা অপমানিত আবারও তিনি সামালের উপরে। 

- এই মেয়ে , কি বাবার নাম তোমার ও হ্যাঁ ইরা আচ্ছা ইরা যাও সেখানে গিয়ে অনেক হেঁটে দেখাও। আমি আবার খান অপ্রস্তুত অপ্রস্তুত আমি তো ওদের আমাকে দিয়েই হেঁটে আসলাম। ভাবীর তাকালম , ভাবী ইশারা করে যেতে বললেন, আমি সামনে পর্যন্ত হেঁটে আবার ফিরে আসলাম।ভাইয়া বললেন,

- ওখানেই দাঁড়া ইরা, এই ছেলে কি ছেলের নাম তোমার ওও রাতুল তা ভাই রাত্রি তুমি যাও সেখানে গিয়ে আমাদের সামনে দাঁড়াও। ছেলের চাচির প্রায় হতেই উঠলেন,

- আবার এটা কি ধরনের অসভ্যতা?

-আরে কি আশ্চর্য্য আমরা দেখবো না ছেলে মেয়ে চেয়ে খাটো না লম্বা, হাঁটতে পারে কি না?

-কেন ছেলে যখন এসেছিলেন তখন ভালোনি

-তা আমার বোন নিজেও তো হেঁটে আসলো মুসলিম ইসলামের উত্তরই মুসলিমনি! আলোচনা পারলামে বেশ জব্দ করা হয়েছে আমার চারণ দাঁড় করানো ছাড়া কোন উপায় নেই।

ভাইয়া কিছুক্ষণ কথা বলতে, 

- বায়োডাটাতে বোল্ডার লিখেছেন ছেলের উচ্চতা ৫ ফুট আট ফুট হচ্ছে মনে মনে ৫ ৬ এর বেশি হবে না ,যাই রাতুল তুমি বসো।

আমি গেছি আমি এখানে একজন সত্যি কথা বলতে পারলাম, আপনি এটা বলছেন যে ফ্যামিলি এখনও আমার সাথে কথা বলে না আবার বসলাম।

ছেলের বোন বলে,

- কি তোমার আসবাব রংয়ের মেকআপ করে পার্লারে এটা বিশ্বাস করে?

আমি মাথা না দেখা

-তা রাতুল তুমি কি চুলে কলে টলপ মাখো? চুল কি পেকে গেছে? প্রকৃতপক্ষে তোমার চুলটা অনেক বেশি কালো ছিল, ভাবীর প্রশ্নের উত্তরে।

-ইরা তুমি রান্নাবান্না জানো তো? ।

-আপনি আপনাকে বললেন অনেক টাকা পয়সা আছে, আমার বোনকে টাকা রোজগার করতে হবে না তাহলে ভালো বিদেশী কোন শেকফ কেন রাখছেন? ঘরের বউকে কেন রান্না করতে হবে? সে তো বড়লোক ঘর বউ তাই না! সে খাতার উপর পায়ের পাতার উপর পাল্টা হিন্দি বারল দেখবে আর কুটনামি শিখবে, অসুবিধা প্রশ্ন? পাশ থেকে ভাইয়া বললেন।

- আপনি কি আমাদেরকে এখানে অপমান করার জন্য ডেকেছেন? ছেলের মা ঝাঁঝালো কনঠে বলে উঠলো

আমার মা মুখ খুলুন,

- কেন আপা আমার মেয়েকে দেখতে এসেছেন যদি বাজারের পণ্যের মত বিচার করি আমরাও মেয়ে দিচ্ছ আমারও কিছু দায়ভার আছে তাই না? মেয়ে শিক্ষকদের জীবনের জন্য কার হাতে লেখা তাকে বলো তোকে-বাছাই করা তো আমাদের দায়িত্ব এবং শ্রদ্ধার মধ্যে পড়ে যদি না পড়ি তাহলে মা হিসেবে আমি আমার বাল্বকে। ব্লু বাছাই করে ভালো একটা বউ নিয়ে যাবে কিন্তু আমরা ভালো-বাছাই করি যদি একটা মেয়ে জামাই না পাই তাহলে একতরফা হয়ে গেল না? এখন আর দীর্ঘ যুগটা পড়ে নেই ১৯৫৪ সালে। যে মেয়ের চুল দেখবে, রং দেখবে, হাত-পা খুঁটে দেখবে কিন্তু মেয়ে দল টুটি শব্দ করবে না। দুনিয়া বিপরীত হয়ে গেছে আপা , আপনি যে তার তিনগুণ বিচারের কারণ হবেন আপনি আপনার পছন্দ করবেন না, তবে আপনি ফেরত দেবেন কিন্তু আমি আমার বুকের কলিজাকে, যাকে আমি জন্ম দিয়েছি, ছোটবেলা থেকে মানুষ আমি তাকে লিখতে দিয়েছি। ফল-বাছাইটা আমি বেশি দর্শক না। আপনি দয়া করে আসতে পারেন।


-কি হয়েছে ইরা মন খারাপ?

-না ভাবী 

-মার মনে আছে যখন তোমরা দেখতে পাবে তখন আমাকে কি হবে? আমি সাধারণ পোশাকে আমাকে আমার খুব কাছে এসেছিলাম। মা খুব সুন্দর সালামের উত্তর দিয়েছিলেন আজকে এখানে কেউ আমার সালামের উত্তর দেয়নি যেখানে আমার বিষয়টা খুব খারাপ, একইভাবে আর আপনার পরিবারকে এমন প্রশ্ন করতে পারে যাতে আমার খারাপ হতে পারে আমার পড়াশুনা বিষয়ক কথাবার্তা জানতে চেয়েছিলাম, আমার মা বলেছিল। পরেও আমি শক্তিশালী আর চাকরি-বাকরি শুল্ক তখন তোমার বাবা আমারশ্বর জীবিত তুমি আর কথা দিয়েছিলে আমাকে শেষ করবে। সর্বউনার কথা অক্ষরে পালন করেছেন, আজ আমি একজন ডাক্তার। একটি চাকরি করছি আর যতটা সম্ভব করতে চেষ্টা করছি এটা নিয়ে কিন্তু মা কোন সমস্যাটি নিচ্ছে না। আমার জন্য আমি একটি পরিবারের সদস্যদের ঠিক দেবার জন্য একটি পরিবারকে একইসঙ্গে রঞ্জিত করার জন্য আপনাকে আমার মত বর্ণনা করতে পারবো, ভালোবাসতে পারো অভিযোগ কোন পরিবারকে না যে মেয়ের সমর্থক বিচার, হাঁটার স্টাইল, রান্নাবান্না দিয়ে বিচার করা। কারণ আমরা আমাদের সাধ্য মতবাদ করি, এখন তুমি চাকরি কর। তুমি তোমার কাছে তোমার ঢোকার পর চাকরির কর্পোরেশনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে তোমার ব্যক্তিগত অভিমত সেই ক্ষেত্রে তোমার শুউর অন্য কোনো ইন্টারফেয়ার করতে পারে না। প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তি স্বাধীন আছে সব সময় মনে রাখবেন আত্মসম্মানবোধ হচ্ছে জীবনের মূলমন্ত্র।


-এই তুমি যাবে আমার সাথে? ভাবী ভাইয়ার দিকে ফিরে কথাটা বললেন।

-রাত আটটা বাজে এখন আবার তোমরা জানতে পারবে মা?

-মা আপনাকে ভাই বলে না আমার চাচাতো ফাহিম ভিডিও আমাদের সাথে দেখা করছি।

-ও মনে মনে সুন্দর যে ছেলেটা দেখতে বেশ ভালোই ডক্টর পাশ করে কি ডিগ্রির জন্য ছিল 

-ঠিক ধরেছেন মা, আমাদের সাথে দেখা করে আসবার ফোন করে চাচি সহ ডেকে নেব? রাতের খাবারটা না হয় এখানে খেলো, এমনিতেও আমরা তো চেষ্টা করেই।

আমার পথের কিছু আলোচনা আমার দিকে আমার দিকে

- সেই ভালো এত রাতে গিয়ে কাজ নেই ডেকে নাও। ভাবী আমার দিকে মুখি হাসলেন।




বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০২৪

দ্বিতীয়_বিয়ে। (দ্বিতীয় তথা শেষ পর্ব)

দ্বিতীয়_বিয়ে। (দ্বিতীয় তথা শেষ পর্ব)

 


Waiting by

আফিয়া খোন্দকার আপ্পিতা 


 পয়তাল্লিশ বছর বয়সে দ্বিতীয় বিয়ে করে খালা নিরুদ্দেশ। তার কোন খোঁজখবর পাওয়া গেল না। ফোন বন্ধ, বাসায় তালা দেয়া। খালার ছেলের ঠিকানায় গিয়ে ও কোন লাভ হলো না। প্রতিবেশী বলল, তারা বাসা বদলে ফেলেছে। খালার ছায়ায় বড় হওয়ার সুবাধে আমাদের মায়া হয়ে গেছিল খালার প্রতি। এত বছরে বাসার সদস্যই হয়ে উঠেছিলেন যেন। মোটামুটি বাসার সবাই কৌতুহলী আর উদ্ধিগ্ন ছিল এ ব্যাপারে। নির্বিকার রইলেন কেবল মা। এ নিয়ে মায়ের কোন হেলদোল দেখা গেল না। মা নতুন বুয়া খোঁজার তোড়জোড়ে ব্যস্ত। 

আমার বদ্ধমূল ধারণা আদ্যোপান্ত সব মায়ের জানা। মাকে জিজ্ঞেস ও করে ও আশানুরূপ উত্তর পাওয়া গেল না। 


প্রতিদিন সকালে হাসপাতালের যাবার আগে নাস্তার সময় পাওয়া চায়ের স্বাদ ভিন্ন হলো। খালার হাতের চা খেয়ে অভ্যাস। সেই অভ্যাসে ভাটা পড়ল। নতুন বুয়ার হাতের চা বড্ড বিষাদ ঠেকল। নতুন বুয়ার কাজ কিংবা রান্না কোনটাই মনঃপূত হলো না। মা পরপর কয়েকটা বুয়া বদলালেন। কোনটাকেই টিকল না। অভ্যাস না কি মায়ার ভাটায় কে জানে? নতুন কাজের খালা এলো গেল, কিন্তু পুরনো কাজের খালাকে আর পাওয়া গেল না। দিন, সপ্তাহ, মাস পেরুলো। 


  মাঝে একবার নাইমের সাথে দেখা হলো। আমার হাসপাতালে লিফটে। নাইমের সাথে ছিল সুদর্শনা রমনী। চোখেমুখে ধূর্ততা। বোধকরি, স্ত্রীই হবে। খালার বদৌলতে ছোটোবেলা, বড়োবেলায় আমাদের বাসায় বেশ ক'বার এসেছিল নাইম। খালা আমাদের বাসার পার্মানেন্ট ছিলেন। দিনের অনেকটা সময় তাকে আমাদের বাসায় পাওয়া যেত। নাইম আসতো কখনো বাসার চাবি নিতে, কখনো মায়ের থেকে পকেট খরচ নিতে। সেই সুবাধে মুখটা এক দেখাতে চেনা গেল। খালার চিন্তা মাথায় এনে আমিই এগিয়ে গিয়ে কথা বললাম। ভাগ্যের সুপ্রসন্নতায় নাইম অচেনার ভান করল না। কুশল বিনিময় করল। আমি নাইমকে বললাম,

" তা তোমরা এখানে কার জন্য? খালা ঠিক আছেন?" 


খালার নাম শুনতেই নাইমের কপালে বিরক্তির ভাঁজ পড়ল। ওপাশ ফিরে নাক ফুলাল। ছোটো করে উত্তর দিল,

" আমার মামীশাশুড়ীকে দেখতে এসেছি। " 


আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। যাক খালা ঠিক আছে। জিজ্ঞেস করলাম,

" খালা ভালো আছেন? "


উত্তরটা নাইমের বদলে পাশে থাকা মেয়েটা দিল। তীব্র তাচ্ছিল্য করে বলল,

" বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে, নাগর জুটিয়ে রঙ্গ করছে, বিয়ে করছে। কলঙ্কিনীরা ভালোই থাকে। "  


শ্বাশুড়ি সম্পর্কে পুত্রবধূর মুখে এহেন মন্তব্য শুনে মেয়ের অবিভক্ত বুঝা হয়ে গেল। নাইমের দিকে তাকিয়ে বললাম,

" সারাজীবন কষ্ট করেছে। এখন সুখে থাকুক। বিয়ের আগে খোঁজ নিয়েছো তো? পরিবার ভালো? " 


নাইম চোখমুখ কুঁচকে বলল, 

" এখন বিয়ে করার বয়স? সমাজে মুখ রাখল না। নিজের সুখের কথা ভেবে আমাদের মুখে চুনকালি দিয়েছে। সুখেই আছে। স্বার্থপর। এর থেকে মরে গেলেও নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম।" 


আমি থমক গেলাম, নাইমের কথা শুনে নয়। নাইমের চোখমুখের ভাষা দেখে। চোখে মায়ের জন্য তীব্র ঘৃণা, বিতৃষ্ণা। কী তাচ্ছিল্যতা, কী ধিক্কার! এতখানি ঘৃণা মানুষ বোধহয় শত্রুকেও করেনা । আমি কখনো কোন মায়ের জন্য সন্তানের এত ঘৃণা দেখিনি। 


 আমার কানে বাজল, "স্বার্থপর" শব্দটা। আত্মত্যাগের উদাহরণে থাকা নামটার পাশে 'স্বার্থপর' শব্দটা শুনে আমি কথার খেই হারিয়ে ফেললাম। এই ছেলেটাকে মানুষ করার জন্য খালা রক্তমাংস এক করেছেন। পঁচিশটা বছর যুদ্ধ করার বিপরীতে কি একটু সম্মান ও ডিজার্ভ করেন না! খালা শুধু তার সুখ, শান্তি, রূপ, যৌবন বিলীন করেন নি, অর্থসম্পদ বিলীন করে একবারে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এই তো মাস কয়েক আগেই তো ছেলে আর ছেলেবউ মেয়ে মায়ের গুচ্ছিত সব টাকা এক প্রকার হাতিয়ে নিয়েছে। 


খালা যতটা সহজ সরল, খালার ছেলে ছেলেবউ ততটাই ধুরন্ধর। নাইমের বিয়ের পর আলাদা থাকায় খালার বেতনের টাকার অনেকাংশ বেছে যেত। আমি খালাকে ব্যাংকে একাউন্ট খুলে দিয়েছিলাম। খালা টাকা ব্যাংকে জমা রাখতেন।

তিন চার বছরে তা জমে ভালো অংকের টাকা হয়ে গিয়েছিল। সে টাকার খবর কোনভাবে শুনে গিয়েছিল নাইমের বউ রিনা। তারপর থেকে শ্বাশুড়ির সাথে ভাব জমাল। নাইমের ব্যবসা লসের গল্প শুনাতে লাগল। 


খালা সবকিছু মায়ের সাথে পরামর্শ করেন। ছেলের মনোভাব খালা ছাড়া মোটামুটি সবার কাছেই পরিস্কার।  

 আজকালকার যুগে বাবা মা দম ছাড়বার পর কান্নার বদলে সম্পত্তির দলিল বসে ছেলেমেয়েরা। কে গেল থেকে কী রেখে গেল, জানা বেশি জরুরি। সেখানে এই ঘটনা কাম্যই বটে। মা সতর্ক করলেন,  


 "বয়স পড়ে আছে। এত কাজ আর কদিন করতে পারবে। টাকা থাকলে শেষবয়সে কাজে আসবে। ছেলেকে সব দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পরে যদি ছেলে না দেখে!" 


ছেলে অন্তপ্রাণ খালা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জবাব দিলেন, "মা তো, জন্ম দিছি, কত কষ্টে পালছি, বড় করছি। মোর খুব আদরের পোলা, তার কষ্ট সইতে পারিনা। নিষ্ঠুর হইতে পারিনা। " 


মা খালাকে বুঝালেন। খালা বুঝ নিলেন। কিন্তু কথায় আছে, সরল মানুষ বিশ্বাসেই ঠকে। খালা সরলমনা মানুষ। অল্পতেই মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলেন। অবিশ্বাস তো পরকে করা যায়, নিজের রক্ত, নিজের জন্ম দেয়া সন্তানকে অবিশ্বাস করা যায়! 


আমাদের কাছে ছেলের জন্য খালার ভালোবাসা বাড়াবাড়ি লাগলেও, কেবল খালাই জানেন এই ছেলেকে তিনি কত কষ্ট করে অর্জন করেছেন। পনেরো বছরের অপরিপক্ক শরীরে ন'টা মাস গর্ভে ধরে রেখেছেন। ছেলের বুঝ হবার আগেই বাবা মারা গেল। তখন তো বাবা মায়ের ভালোবাসা একাই দিয়েছেন। এই ছেলের জন্যই অজপাড়াগাঁয়ের এক মেয়ে অচেনা শহরে পা রেখেছে। ছেলের জন্মের পর ছেলে ছাড়া নিজের কথা মাথায় আসেনি। তার বেঁচে থাকা, তার পৃথিবী মানেই ছেলে। সন্তানের প্রসঙ্গে কি মা স্বার্থপর হতে পারে? সন্তানকে ফেলে নিজের কথা ভাবতে পারে? আমরা হয়তো দূর অবস্থান থেকে ঠিকই বিচার করতে পারব, কিন্তু কাছে গিয়ে খালার অবস্থানে বসলে শক্ত থাকার শক্তি আমাদেরও থাকবে না। সন্তান হিসেবে মায়ের ব্যাপারে আমরা স্বার্থপর হতে পারি কিন্তু মা হিসেবে সন্তানের ব্যাপারে স্বার্থপর হতে পারি না। মায়ের ধর্মই যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।  


ছেলের জন্য খালার অবিশ্বাস এলো না। বিশ্বাস এলো। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রইল না। ছলে বলে কৌশলে চেক বইয়ে তার আঙুলের ছাপ পড়ে গেল। কদিন ভালোই চলল।  

ছেলের ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াতেই ছেলে, ছেলেবউয়ের মনোভাব ও ঘুরে দাঁড়াল। ফিরে গেল আগের স্থানে। নাক ছিটকাল রিনা। এমন ব্যাকটেডেড মানুষ নিয়ে উঁচু সমাজে চলা যায়! সবাই যদি জেনে যায় তার শ্বাশুড়ি কাজের বুয়া। বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করে। মানসম্মান থাকবে? থাকবে না। ব্যবসায়িক সফলতা মনে করিয়ে দিল সেটা। তারপর যা হবার তাই হলো.... মায়ের বিশ্বাস ভাঙল আরও একবার। 


মায়ের এত আত্মত্যাগের পর ও 'স্বার্থপর' এর দায়টা খালার উপর গেল! এই ছেলের বিবেকবোধ নেই! 

 আমরা ভেবেছিলাম, মায়ের বোঝা ঘাড় থেকে নামানোর জন্য বিয়ে দিচ্ছে নাইম। কিন্তু এখন দেখি সেখানেও সমস্যা। সমাজের কাছে না কি টেকা যাচ্ছে না। কোন সমাজে সমাজে সে রেখেছে মাকে! মা দিয়েই গেল, মাকে কিছু দেয়নি। বিয়ে করে থিতু হলো, সেও সহ্য হলো না। একটুখানি কৃতজ্ঞতাবোধ ও কি নেই! 


আমার স্বরে অজস্র প্রতিবাদ, অথচ আমি টু শব্দ ও করতে পারিনি। বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। খানিক বাদে রাগ নিয়ে বললাম,

"খালা স্বার্থপর! ভেবে বলছো তো!" 


নাইম অপ্রস্তুত হলো। তারপর হনহন করে চলে গেল। নাইমের ক্ষুব্ধতা দেখে আমার চিন্তা বাড়ল। খালা কি একা একা বিয়ে করলেন! 


খালার বিয়ের রহস্য উন্মোচন হলো খালার আগমনের পর। একদিন হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে দেখি বসার ঘরে খালা বসা। সারাদিন রোগী দেখে ক্লান্ত বিধ্বস্ত আমি প্রথমে খেয়াল করিনি। কারণ অবশ্য খালার চলনবলন। আমি খালাকে সবসময় সাদামাটাভাবে চলতে দেখেছি। 


দুই ইদে মা খালাকে ভালো কাপড় দিতেন। কিন্তু খালার পছন্দ হতো সেই সুতির কাপড়। খালার গায়ে কখনো সোনার গহনা দেখিনি। মুখে বিষন্নতা, একটা দুঃখী, মলিনতা থাকতো। কিন্তু এই মহিলার ভাব ভিন্ন। পরনে চান্দেরি সিল্ক ফেব্রিকের শাড়ি। গলায় হাতে অলংকার বেশ। মুখে ঝুলছে হাসি। হেসে হেসে মায়ের সাথে গল্প করছেন। খালার কথা খেয়াল হতেই আমি চক্ষুচড়ক। 


আমাকে গিয়ে বললাম, " খালা না কি! ভালো আছেন?" 


বিপরীতে খালা সুন্দর করে হাসলেন। খালার এই হাসি আমি আগে কখনো দেখিনি। চেহারা ঝলমলে। সুখী মানুষের চেহারায় অন্যরকম এক উজ্জ্বলতা থাকে। খালার চেহারায় সেই উজ্জ্বলতা ভাসছে। খালার চোখমুখ বলছিল, খালা সুখে আছেন। 


বহুকাল ধরে কোন মানুষকে দুঃখী হয়ে থাকতে দেখার পর হুট করে তাকে সুখী হতে দেখলে মনের মাঝে অন্যরকম এক আনন্দ কাজ করে। চোখে শান্তি মিলে। খালার ওই সুখী মুখটা দেখে আমার মনে হলো, অনেকদিন, অনেক বছর পর আমি এমন সুন্দর দৃশ্য দেখিনি। খালা প্রসন্ন সুরে বললেন,

" আলহামদুলিল্লাহ ভালা আছি।" 


"ওখানে কোন সমস্যা হচ্ছে না তো?" 


খালা প্রসন্ন সুরে বললেন, " না, আল্লাহ আমারে সম্মানে রাখছে..


 দ্বিতীয় বিয়েতে ভালোবাসার থেকে সম্মানটাই ঢের কাম্য। খালা তা পেয়ে প্রসন্ন হয়ে গেছেন। তা দেখে পুলকিত হলো মন। 

খালার সুখমাখা অবতারে অবতারণে বাসায় খুশির জোয়ার বয়ে গেল। সবাই এসে বসল বসার ঘরে। আমি বললাম, 

"এতকাল আপনার দুঃখের গল্প শুনেছি, আজ শুনব আপনার সুখের গল্প। " 


খালা মায়ের দিকে তাকালেন। খালার গল্পটা মা বললেন। আকস্মিক খালার জীবনে হানা দেয়া সুখের গল্প। শুনবার সময় মনে হলো এ যেন কোন সিনেমার গল্প। পরে মনে হলো সিনেমা তৈরি হয় বাস্তব জীবন থেকে।  


খালার দ্বিতীয় বিয়ের সুত্রপাত নানুবাড়ি থেকে। বছর খানেক আগে খালাকে নিয়ে আমার নানুর গ্রামের বাড়িতে যান। বাবা ব্যস্ত, সাথে যাবেন না। মা একা যেতে নারাজ, বগলদাবা করে নিয়ে গেলেন শিউলি খালাকে। কটাদিন থেকে এলে তারও ভালো লাগবে। 


নানু বাড়িতে গিয়ে দেখা হলো একটা বছর দশের বাচ্চা মেয়ের সাথে। মলিন, বিষাদ, দুঃখ ভাসা চেহারা। মায়াময় চোখে জল দেখে খালা কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 

"কী হইছে মা? কানতাছো ক্যান?" 


মমতাভরা স্বর শুনে মেয়েটার কান্না বাড়ল। কেঁদে কেঁদে বলল, 

"মায়ের কথা মনে পড়তেছে।" 


"কী হইছে তোমার মার?"


মেয়েটা উত্তর দিল না, ডুকরে কেঁদে উঠল। খালা অনুসন্ধানী মনে জানলেন, মেয়েটার মা মারা গেছে। মা হারা মেয়ের কাতরতা দেখে বিধ্বস্ত খালার মনে হলো, তার দুঃখ অতি নগন্য। মমতাময়ী খালা মমতায় গা ভাসিয়ে মেয়েটাকে সান্ত্বনা দিলেন। কান্না থামার পর আলাপ হলো মেয়েটার সাথে। 


মায়ের দূর সম্পর্কের এক ভাইয়ের মেয়ে। নাম রোদেলা। রোদের মতোই উজ্জ্বল ছিল তার জীবন। বাবা মা আর সে, তিনজনের সুখী পরিবার। হঠাৎ মায়ের ক্যান্সার হলো। অকালেই মারা গেলেন। মায়ের মৃত্যুর পর জীবনটাই এলোমেলো হয়ে গেল। মায়ের ছায়ায় বড় হওয়া মেয়ে, মায়ের শূন্যতায় মনমরা হয়ে থাকে সারাক্ষণ। নাতনির এই অবস্থা দেখে দাদী ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের কথা বললেন। রোদেলার বাবা তড়িৎ মানা করে দিলেন। নতুন বউ যদি তার মেয়েকে মানতে না পারে! যদি তার মেয়ের অনাদর হয়? সৎ মায়ের সংজ্ঞাতেই তো দোষ।


দাদী এবার নাতনিকে ধরলেন, বাবারে কও, নতুন মা লোইয়্যা আইতে। হ্যায় তোমারে আদর করবো। 


রোদেলা বাবাকে বলতেই বাবা বললেন,  

"তোমার জন্য আমিই যথেষ্ট। আমিই বাবা, আমিই মা। এসব কথা আর মুখে এনো না। মায়ের কোন রিপ্লেসমেন্ট হয়না। " 


মাকে মনে পড়লে রোদেলা বাবার কাছে গিয়ে কাঁদে, মাকে এনে দাও না বাবা! 

বাবা খুব অসহায় হয়ে যান তখন। ম'রে যাওয়া মাকে কি আনা যায়? তিনি সর্বোচ্চ আদর দেন মেয়েকে। কিন্তু মায়ের অভাব তবুও যায়না। রোদেলার দাদীও বুঝাতে থাকেন। শেষমেষ বিয়ে করবার জন্য রাজী হন তিনি। তবে শর্ত থাকে। পাত্রী পছন্দ করবে রোদেলা। সে যদি কারো মাঝে মমতা খুঁজে পায়, মায়ের ছায়া খুঁজে পায়। তবেই তিনি বিয়ে করবেন। 

রোদেলার মা খোঁজার পর্বে নানুবাড়িতে হাজির হলেন শিউলি খালা। 


সেবার মা খালাকে নিয়ে দিন দশেক ছিলেন নানুবাড়িতে। তখন খালা রোদেলার সাথে সময় কাটিয়েছেন অনেক সময়। এতটুকু একটা বাচ্চা মেয়ের দুঃখ দেখে খালা মায়ায় পড়ে গেছিলেন। আদর করেছেন বেশ। 


দুটো বিষয় নিশ্চিত করি, 

এক, রোদেলাকে আদর করার পেছনে খালার কোন উদ্দেশ্য ছিল না। খালা জানতেন না, রোদেলার মা খোঁজার ব্যাপারে। 

দুই, খালা পরিপাটি হয়ে থাকতেন। সাদামাটাভাবে চলতেন, তবে ছেঁড়া কাপড় পরতেন না।  


রোদেলার মন খারাপের বেলায় খালার মমতা দেখে রোদেলার মনে খালা জায়গা করে নিয়েছিলেন বটে। 

রোদেলার দাদী মাকে প্রস্তাব দিয়ে ফেলেছিলেন। মা অবশ্য তখন খালাকে জানাননি। খালাকে নিয়ে ফিরেছেন। 


ঢাকা আসার পরে খালাকে জানান। শুনেই খালা মানা করে দেন। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। প্রথম বিয়ের অসম্মান, অমর্যাদা, অসামঞ্জস্যতা, অপূর্ণার পর খালার জীবনে সুখ হারিয়ে গিয়েছিল।

দ্বিতীয়বার কাউকে জীবনে জড়ানোর সাহস নেই খালার। তাও এই বয়সে এসে! 


খালার প্রত্যাখানের করে ক্ষান্ত হন। মা খুব করে চাইছিলেন খালার একটা গতি হোক। মা রোদেলার পরিবারকে চিনেন। ভদ্র নম্ব বেশ। রোদেলার বাবা রেজা হাবিব খুব ভালো মানুষ। গ্রামের সহজ সরল মানু্ষ। প্রথম বউয়ের সাথে কখনো গলা উঁচু করেও কথা বলেননি। সেই পরিবারে গেলে খালার অসম্মান হবেনা, এটা নিশ্চিত থেকেই মা খালা বুঝাচ্ছিলেন। খালা বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। 


এরমাঝে ছেলে ছেলেবউ ভালো সাজল। খালা জীবনে সুখের ভ্রমে ডুবে গেলেন। তারপর ছেলে টাকা নিয়ে ছলনা করল। ছেলেকে নিয়েই সুখে থাকতে চেয়েছেন। কিন্তু ছেলেটা তাকে ঠকিয়ে গেছে বরাবর। সেবার খালার সব টাকা নিয়ে নাইম খুব খারাপ আচরণ করেছে মায়ের সাথে। খালা ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন। ভগ্নহৃদয়ে খালা বুঝে গিয়েছিলেন, এ ভুবনে তার কেউ নেই। যেই ছেলেকে তিনি আপন ভেবে এসেছেন, সে আপন না। সে প্রাচুর্যে ডুবে পর করেছে তাকে। আর আপন ভাবেনা। এই উপলব্ধি খালাকে শেষ করে দিচ্ছিল। নিজের জীবনটাই বৃথা মনে হলো। খালা নিজের মৃত্যু কামনা করতেন। 


খালার এই খারাপ সময়ে রোদেলা এলো ঢাকায়। আমি মনে করে দেখলাম, রোদেলা তখন খালার সাথেই থাকতো। খালা রোদেলার মায়ায় পড়ে গিয়েছিলেন। মেয়েটার সঙ্গ তাকে শান্তি ছিল, ছেলের ছলনা ভুলিয়ে দিল। জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে হাঁপিয়ে গিয়েছিলেন খালার। মা ছায়া হয়ে বুঝালেন। 

রোদেলার মায়ায় পড়েই খালা বিয়ের জন্য রাজি হয়েছেন। 


রোদেলার বাবার সাথে দেখা হয়নি তেমন। তিনি তো আর বাইশ বছরের তরুণী নয় দেখে পাত্র দেখাদেখি পর্বে চায়ের কাপে আলাপ সারবেন। দূর থেকেই দেখেছেন। খারাপ লাগেনি। 


আমাদের সবার অগোচরে খিচুড়ি পাকালেন মা। স্বভাবগতভাবেই মা বেশ চাপা স্বভাবের। তারউপর আমরা ভাইবোন সবাই পড়াশোনা, চাকরি নিয়ে ব্যাস্ত। সারাদিন বাইরে থাকি। সন্ধ্যেবেলা বাসায় ফিরি। শুক্রবারটাই সারাদিন থাকি। সারাসপ্তাহে বাসার খোঁজ থাকেনা। সে হিসেবে ব্যাপারটা এতটাও কঠিন না। 


এতে অবশ্য মায়ের সাথে বাবা ও শামিল ছিলেন। আমরা সবাই বড়ো হয়ে গেছি, এ বয়সে খালার বিয়ে কিভাবে নিব। এ জন্য খালা লজ্জায় ছিলেন। বিয়েটা হলো রোদেলার চাচার বাসায়। তিনি ঢাকা থাকেন। তারপর সুখ গায়ে মেখে খালা গেলেন শ্বশুরবাড়িতে। জীবনের বড্ড অবেলায় এসে খালার সংসার হলো, সন্তান পেলেন, সম্মান পেলেন। রেজা মামা স্বামী হিসেবে ভালো। খালাকে সম্মান করেন। কদিন মেয়ের সাথে খালার ভাব থেকে তিনিও ভীষণ ঝুকেছেন খালার প্রতি। এখন তাদের সংসারটা সুখের বটে। 


ও হ্যাঁ, নাইমের কথা বলা হয়নি। আসোলে সুখের অধ্যায়ে দুঃখের সুতো টানা অন্যায়। তাই সে প্রসঙ্গ বাদ গেল। খালার বিয়ের প্রস্তাব খালাকে দেয়ার পর মা নাইমের সাথে আলাপ করেছেন। শুনেই নাইম চটে গেল। মাকে তেমন কিছু না বললেও, খালার বাসায় গিয়ে খুব অপমান করেছেন। মা পুরো ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলার পরেও নাইম ধারণা করেছে, মা নিজেই স্বামী খুঁজে নিয়েছে। 

নাইম খুব খারাপ ভাষায় গালাগাল অবধি দিয়েছেন। ছেলের ব্যবহার দেখে খালা ফের বেঁকে বসেছিলেন। বিয়ে করবেন না। 

নাইম বিয়েতে ও আসেনি। ছেলের কথা বলতে গিয়ে খালার সুখমাখা মুখে ফের জল এলো। ছেলেটা তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। ফোন দিলে ফোন ধরেনা। দুই একবার তুলে খুব অপমান করেছে। 


এমন না যে, বিয়ে ভেঙে দিলে নাইম মাকে দেখতো। না দেখতো না। এত কাল দেখেনি, এখন কী দেখবে। নাইম থাকে খালার আশার কিছু নেই। পূর্বাকার সময়ে নাইমের আচরণের পর খালার দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত যথাযথ।  


খালার সুখ দুঃখের গল্পের মাঝে কলিংবেল বেজে উঠল। আমি গিয়ে দরজা খুললাম। লিলেন ফ্রক গায়ে একটা মেয়ে চঞ্চল গলায় বলল, 

" আমার ছোটমা কি আপনাদের বাসায়?" 


ভীষণ আন্তরিকতা নিয়ে বলল মেয়েটা। চোখ মুখ উজ্জ্বল। রোদের মতোই। আমি হ্যাঁ বলতেই, দৌড়ে ভেতরে ঢুকল। শিউলি খালাকে দেখে ডেকে উঠল,

"ছোটোমা?" 


খালা তখন ছেলের দুঃখে কাঁদছিলেন। সেই কান্নার মাঝেই মেয়েটার ডাকে হেসে ফেললেন। হাত বাড়ালেন। মেয়েটা বুকে খালার বুকে পড়ল। খালা আগলে নিলেন। মাথায় চুমু খেলেন। খালার চোখে ছেলের জন্য জল, ঠোঁটে মেয়ের জন্য হাসি। 

রোদেলা বলল,

"বাবা নিচে দাঁড়িয়ে আছে, তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে। আজ আমরা ঘুরতে যাব।" 


খালা চোখের পানি মুছে ফেললেন। চোখ থেকে জল সরলেও ঠোঁট থেকে হাসি সরল না। খালার হাসিটা টিকল। সেই সুন্দর, সুখের হাসি। যে হাসি আমরা এতকাল দেখিনি। 


আমার মন বলল, খালা সুখে আছেন। খালার প্রথম জীবনে সুখ, শান্তি, সম্মান, সংসার কিছুই মিলেনি। দ্বিতীয় জীবনে মিলল। দ্বিতীয় বিয়ে, দ্বিতীয় জীবনে প্রথম সুখ মিলল। খালাও সুখের দেখা পেলেন। 


যার প্রথম জীবন দুঃখে কাটে, তার দ্বিতীয় জীবন সুখের কাটে। 


সমাপ্ত....


শেষ কথা- খালার ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা রক্ষার্থে কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়েছে। তবে এটা নিশ্চিত যে, খালা দ্বিতীয় বিয়ের পর সুখে আছেন। খালার শেষ হাসিটা সুখের এখনো।

দ্বিতীয়_বিয়ে  । ( পর্ব-১)

দ্বিতীয়_বিয়ে । ( পর্ব-১)




Writing By 


আফিয়া খোন্দকার আপ্পিতা। 

পর্ব-১
 কদিন ধরে কাজের খালা আসছে না দেখে ফোন দিয়ে জানা গেল, খালার বিয়ে হয়ে গেছে। শুনে বেশ অবাক হলাম। খালার বয়স পয়তাল্লিশ। ছেলে ও বিয়ে করিয়েছেন। নাতির বয়স পাঁচ। এমতাবস্থায় বিয়ে করাটা বেশ বিস্ময়ের বটে। 


খালা আমাদের বাসায় প্রায় ২৫বছর ধরে কাজ করেন। 

আমার বুঝ হবার পর থেকে খালাকে আমাদের বাসায় কাজ করতে দেখছি। খালার মুখেই শুনেছি তার করুণ জীবনবৃত্তান্ত। 

 খালার প্রথম বিয়ে হয়েছে পনেরো বছর বয়সে। তাও তার চেয়ে তিনগুন এক লোকের সাথে। হতদরিদ্র বাবা বড়ো ঘরের সমন্ধ পেয়ে বাছ-বিচার ছাড়া মেয়ে তুলে দিয়েছেন দুই বাচ্চার বাবার কাছে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তি, তালুকদার বংশ। নাম যশ খ্যাতি, অঢেল অর্থবিত্ত, কিছুরই কমতি নেই। রাজকীয় বাড়ি যার নামে, নাসির তালুকদার। 


দুই ছেলেমেয়ে। বিয়ে-শাদী দিয়ে যে যার মতো আছে। ছেলেটা থাকে শহরে, মেয়ে বিদেশ পাড়ি দিয়েছে। মা মরবার পর এ মুখো হয়না। সংসারে ঝুট ঝামেলা নেই। অত বড় বাড়ি খা খা করছে। মণি মুক্তো দেখার কেউ নেই। বিয়ের পর সব তো মেয়েরই হবে। মেয়ে রাজরানী হয়ে থাকবে। পাত্র দেখতে শুনতেও বেশ। কেবল বয়সটাই একটু বেশি । পঞ্চাশ পেরিয়ে ষাটের ঘরে এগুচ্ছে। এ আর এমন কী বয়স? পুরুষ মানুষ ২৫হোক আর ৫০, সে একই কথা। মতি মিয়া অমত করবার দিক খুঁজে পাননি। প্রস্তাব আসতেই নির্দ্বিধায় হ্যাঁ বলে দিয়েছেন।


  আশি দশকের কিশোরী মেয়ে শিউলি। সে মত দিল কি দিল না সে কথা ভাবার সময় কোথায়? ওত বড় ঘরে সমন্ধ হলে নিজের ও দিন ফিরবে, এই খুশিতে মেতেই কূল পেলেন না। এক শুক্রবার সমাজের লোকজন ডেকে পঞ্চদশী শিউলির হাত তুলে দিলেন পঞ্চাশোর্ধ নাসিরের হাতে। 


বিয়ের পরের দিন দাওয়াত হলো তালুকদার বাড়িতে। মাকে দেখে শিউলি কেঁদেকেটে বলল, মা আমি থাকব না এখানে। আমাকে নিয়ে যাও। লোকটা খুব খারাপ। 


মা ধমকে উঠলেন, স্বামীর নিন্দে করতে নেই। খারাপ হোক ভালো হোক, এখন থেকে উনিই তোর সব। এটাই তোর বাড়ি। মানিয়ে নে। 

দাদী বললেন, মাইয়্যা মানুষ স্বামীর ঘরে বউ হইয়্যা আহে, , লাশ হইয়্যা যায়। আর কোন যাওন টাওন নাই। মনে রাহিছ। 


 রাজভোগে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বিদায় নিলেন তারা। যাবার কালে শিউলি কত আকুতি করল সাথে নেবার। কেউ নিল না। যদি আর না আসে! সংসারে মন বসে গেলে পরে যেতে পারবে। 


শিউলি বেগম সেদিনই বুঝে গেলেন, এখন এটাই তার একমাত্র আশ্রয়। নিয়তি মেনে নিলেন, মানিয়ে নিলেন। প্রথম দিকে মন কাঁদল, চোখ ভিজল। ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে গেল বুড়োমানুষটা। 

 বছর ঘুরতেই বমির ব্যামোতে সুখবর আলো। ন'মাস বাদে কোল আলো করে এলো পুত্রসন্তান। ছেলের মুখ দেখতেই শিউলি নিজের দুঃখ কষ্ট সব ভুলে গেলেন। ছেলের মাঝে সব সুখ খুঁজে পেলেন। বুকে আগলে পরম যত্নে ছেলেকে আগলে রাখলেন। 


শেষকালে পুত্রসন্তানের বাবা হবার সৌভাগ্যে খুশিতে আটখানা হলেন নাসির তালুকদার। গরু জবাই করে আকিকা দিয়ে নাম রাখলেন, নাইম। 


স্বামী, সন্তান, সংসার নিয়ে শিউলির দিন ভালোই কাটছিল। কিন্তু সুখ যেন ঠিক ছুঁয়েও ছুঁতে পারেনি। বিয়ের বছর পাঁচেক হতেই বার্ধক্যজনিত রোগে গত হলেন স্বামী। হেসেখেলে বেড়াবার বয়সে গায়ে জুড়ল সাদা শাড়ি, বিধবা উপাধি। ভালো হোক কি মন্দ, ওই মানুষটাই এতদিন ছায়া হয়ে ছিল শিউলির। এখন সেই ছায়াও চলে গেল। 


স্বামীর মৃত্যুর শোকের মাঝে এলো তার জীবনের আরেক ঝড়। আগের পক্ষের ছেলে এসে হাজির হলো। বাবাকে দাফন করে এসে বাবার রেখে যাওয়া সহায় সম্পত্তির দলিল বুঝে নিল ছেলে। ছেলে বউ বুঝে নিল শিউলীর আলমারিতে রাখা বংশীয় অলংকার, আঁচলের গিট খুলে নিল সংসারের চাবি। 


শুভ্র শাড়িতে ছেলেকে বুকে নিয়ে নির্বাক চেয়ে রইল শিউলি। সে স্তব্ধ, বাকরুদ্ধ। 


রাতারাতি উকিল ডেকে সব সম্পত্তি নিজের নামে করে নিল নাদির। বোনকে অবশ্য দিল কিছু। পেল না কেবল বাবার শেষ বয়সের ছেলে। না সম্পত্তি আর না স্বীকৃতি। কড়া স্বরে ঘোষণা দিল, বাবার দেখভালের জন্যই ছিল। এখন বাবা নেই, তার ও প্রয়োজন নেই। এত ঝামেলা কাধে নিতে পারবেনা। 


শিউলির জায়গা হলো না তালুকদার বাড়িতে। এক প্রকার বের করে দেয়া হলো তাকে। ছেলেকে নিয়ে ফের এসে পড়লেন বাবার বাড়ি। সেখানে নুন আনতে পানতা পুরোয়। তার আগমনে বাবা মা ও খুশিতে হতে পারলেন না। মেয়ে, তার উপর নাতি, এ যেন বাড়তি ঝামেলা। 


আশি নব্বই দশকে একটা বিধবা মেয়েকে সমাজ মেনে নিতে পারতো না। সতীদাহ প্রথা উঠে গেলেও রেশ কিন্তু রয়ে গেছিল। বিধবাকে পুড়িয়ে মা'রতো না, তবে জীবন্ত মা'রতো। মৃত লাশ দাফন করা হতো, কিন্তু জীবন্ত লাশ রেখে দিতো। তাকে পদে পদে হেয় করা হতো, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হতো। তাকে অপয়া ভাবা হতো। কথার বাণে বিদ্ধ করে ক্ষতবিক্ষত করা হতো প্রতিক্ষণ। তার বাঁচা দুর্বিষহ করে তুলতো। 

 আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীর কথায় কান ভারি হলো। কদিন যাবার পর মা বোন ও কথা শুনাতে লাগলেন। উঠতে বসতে কটু কথা কানে এলো পরিবার থেকে। শিউলির বুঝে গেলেন, এখানেও ঠায় হবে না তার। 


তখন শিউলির বয়স ২০, ছেলের বয়স ৫। বাস্তবতা বুঝবার ক্ষমতা শিউলির হলেও বাচ্চাটার হয়নি। জমিদার ঘরের ছেলে। আভিজাত্যে বেড়ে উঠা। তিন বেলা মাছ মাংস খাওয়ার অভ্যাস নাইমের। নানা বাড়ির পেঁয়াজ, মরিচ দিয়ে পান্তাভাত তার গলা দিয়ে নামে না। ছেলেটা খেতে পারে না, মাংসের বায়না করে। শিউলি এনে দিতে পারেন না। কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যায়। খাওয়া অনিয়মে অল্প কদিনে ছেলের শরীর ভেঙে আসে। 


ছেলের দিকে তাকালে চোখে জল নামে শিউলির। কী করবে না করবে দিশেহারা লাগে। অজপাড়া গাঁয়ের অশিক্ষিত মেয়ে, জীবিকা নির্বাহ করবার পথ খুঁজে। ছেলেকে বাঁচাতে হবে তার। এখান থেকে পালাতে হবে, এ সমাজ বাঁচতে দিবেনা তাকে।  


সেই তাগিদে পা বাড়ান ঢাকায়। বস্তিতে আশ্রয় নিয়ে, মানুষের বাসায় কাজ জোগাড় করেন। 


খালা তখন থেকে আমাদের বাসায় কাজ করেন। ছেলেকে নিয়ে আসতেন। খালার মুখে কেবল একটাই নাম থাকতো, আমার নাইম। খেয়ে না খেয়ে ছেলেকে মানুষ করতে লাগলেন। মানুষের বাসায় কাজ করে, পড়ালেন ছেলেকে। আমাদের বাসায় ভালোমন্দ রান্না হলে, খালা কখনো খেতেন না। বলতেন, আমার ভাগেরটা দিয়ে দিন, আমার ছেলেটা খাবে। নিজে খেতেন না, দু'বেলা ছেলেকে খাওয়াতেন। ছেলের খুশিতেই খালার খুশি। খালার গায়ের কাপড় যত মলিন, ছেলের কাপড় তত উজ্জ্বল। ছেলের দিকে চেয়ে খালা কত কিছু বিসর্জন দিলেন, কত সংগ্রাম করে গেলেন। 


খালা আত্মমর্যাদা ছিল প্রখর। এত বাধাবিপত্তির পর ও কারো দয়া নেননি। নিজে কাজ করে ছেলের খরচ চালাতেন। 


স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে ছেলে বায়না ধরল শহরের বড় কলেজে পড়বে। খালা আর ক'টা বাসার কাজ বাড়িয়ে নিলেন। রাতদিন খেটেখুটে ছেলেকে পড়ালেন। খালার আশা ছেলে একদিন বড়ো চাকরি করবে। মাঝে মাঝে বলতেন, 

"বুঝলা মা, শরীরডা আর কুলায় না। গিটে গিটে ব্যাথা। পোলার চাকরি হইলে এই কাম ছাইড়া দিমু। আমাগো সুখের দিন আইব।" 


সেই সুখের দিন এলো। ছেলের চাকরি হলো। বস্তি থেকে বাসায় উঠল। খালা বিদায় নিতে এসে উৎফুল্ল হয়ে বললেন, "আমার সুখের দিন আইসা গেছে। দোয়া কইরো।" 


খালার সুখ দেখে আমাদের স্বস্তিই মিলল। সেই স্বস্তি উবে গেলে মাস তিনেক বাদে। একদিন ফোলামুখ নিয়ে খালা এলেন বাসায়। গায়ে মারের দাগ। কাতর গলায় মাকে বললেন,

"আমারে কাজে লোইবেন আপা?" 


মা অবাক হয়ে বললেন, " তুমি কাজ করবে কেন? তোমার ছেলের কতবড় চাকরি! " 


ছেলের কথা আসতেই খালা ডুকরে উঠলেন। ভেজা গলায় বললেন,

" আমার পোলাডা বদলাইয়্যা গেছে, আপা। বউ আমার গায়ে হাত তুলল, পোলা চাইয়্যা চাইয়া দেখল।" 


যে ছেলের জন্য মানুষটা নিজের সুখ শান্তি বিসর্জন দিয়েছে, সেই ছেলে এই প্রতিদান দিল! জানা গেল, ভার্সিটিতে পড়ার সময় এক জুনিয়রের সাথে মন দেয়া-নেয়া হয়েছিল। ভালো চাকরি পেয়ে বিয়ে করে বউ ঘরে তুলেছে। শিউলি খুশিমনেই মেনে নিলেন। কিন্তু বউ তাকে মানতে পারল না। সংসারে শ্বাশুড়ির উপস্থিতি পছন্দ না তার। বরের কান ভাঙিয়ে কদিনেই মায়ের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি করিয়েছে। শ্বাশুড়ির সাথে খারাপ ব্যবহার করতো। হাত ও তুলতো। শিউলি ছেলেকে বলার সুযোগ পেতেন না, তার আগেই ছেলের কান ভারি করতো বউ। ঘটনা এমনভাবে উপস্থাপন করতো, যেন সব দোষ শিউলির। নিত্যকার কলহে ছেলেও অতিষ্ঠ মায়ের প্রতি। 

সংসারে সুখ আনতেই বিরক্তির ভাঁজ ফেলে নাইম বলল, 

"রোজ রোজ এত অশান্তি ভালো লাগেনা, মা। তুমি অন্য ব্যবস্থা করো। "


পোড়া কপালের ছাই তুলে বেরিয়ে গেলেন শিউলি। দ্বিতীয়বারের মতো উঠলেন বস্তিতে। একবার ছেলেকে বাঁচাতে, আরেকবার ছেলের থেকে বাঁচতে। 

সুখের দিন এলেও সুখ তাকে ছুঁতে পারল না এবারও। 


তারপর থেকে খালা আবার বাসায় কাজ করেন। জীবনের এত উত্থান পতনের মাঝেও খালা কখনো দ্বিতীয় বিয়ের নাম নেননি। তবে এখন কী এমন হলো যে খালা বিয়ে করে নিলেন? 




চলবে.....


বাস্তবিক ঘটনার নিরিখে ছোট্টো একটা গল্প। আগামী পর্বে শেষ হবে।

শুক্রবার, ২৪ মে, ২০২৪

অনুগল্প : ডিভোর্সি বউ  ভালোবাসা

অনুগল্প : ডিভোর্সি বউ ভালোবাসা

Waiting: মি হাসিব

 'ডিভোর্সের ২ মাস পরে অগ্র প্রাক্তন ফোন 

দিয়ে বলতেছি। "জান জানা আছো।


'আশ্চর্য হলাম তার কথায়।

কিন্তু আমি তাকে না চেনার ভান 

আপনি কি বলতে চান?


'আরে আমি তোমার বউ অহনা।

আমার কন্ঠ বন্ধু চিনতে পাচ্ছো তুমি।


'আমার বউমান। 

আপনার সাথে আমার ২ মাস আগ ডি*ভোর্স হয়েছে


'হ্যাঁ তাই কি?

আমি তোমার বউনা বলো।


'নাটক 

ভালো লাগতেছে। কি বলতে চাও সেইটা আগে 

আমাকে প্রচার বল? (সরি বলুন)


'ভালোবাসি।


'ফাজলামি করার জায়গা পাননা। তাই আমাকে ফোন

দিয়ে ফাজলামি করতেছেন।


'সত‍্য আমি ভালোবাসি।

আমি ভূল করে ফেলছি আমাকে অনুরোধ করছি।


'সত‍্য অহনা আপনি অনেক সুন্দর নাটক জানেন।

যদি দেখতে দেখতে ভাবতেন।

তাহলে ২ মহিলার জন্য নেওয়ার পর পুরুষ 

হাত ধরে কখনো ধরেন না।


'বিশ্বাস করো।

আমি আমার ভূলটি বুজতেছি। আমার সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে চাই।


'বুজলাম।

কিন্তু আপনার স্বামী কি হবে।

যাকে বিয়ে করে সংসার করতে তুমি।


'ওর সঙ্গেও আমার ডিভো*র্স হয়েছে।

আমি আবার নতুন করে কিছু করতে চাই।

আমার সুখের সংসারে ফিরাই নাও প্লাজ।


'স্ত্রীর এমন আকুল আবেদনে স্বামী কিছুক্ষন নিস্তব্ধ 

হয়ে যায়।

এবং বলে "ঠিক আছে ফিরে এসো।


'সত্য যাবো।


'হ্যা সত্যি ফিরে আসো। 

একটি সুযোগ দিতে আমি চাই। শুধুমাত্র 

আমার সন্তানের কারনে। আমি চাই না আমার সন্তান 

তার আমেরিকা আদর থেকে বন্চিত


'স্বমি কখনো আমি এমন ভূল আর না।

সত্যি আমি লজ্জি*ত।


'আমি তোমার বতর্মান স্বামী না।

যদি আমাদের সম্পর্ক ঠিক হয় তখন হবো। আমরা আমাকে স্বামী বলিওনা।

আর একটি কথা আমাদের ইসলামে একটি দিকে নিদর্শন আছে। ডি*ভোর্সি স্ত্রী কে কখনো কখনো নিতে হবে না আমি এখনও আমার সন্তানের মুখের দিকে এগিয়ে নেই।

(ভুল হলে ক্ষমা করবেন)


'হ্যাঁ মন্তব্য করছি। 


'আল্লাহ হাফেজ।

আমি সব কিছু ঠিক করতে ব‍্যবস্তা করতেছি।


'হুম।


'আসলেই পুরুষের ভালোবাসা।

আত্ত্যগ বুজি এমনি হয়।



Romantic story

Romantic story

লেখা: সুবর্ণা শারমিন নিশি


নিশা যদি আজ জানতে পারেন যে রায়হান এখনও বাড়ি খুঁজতে পারেননি তাহলে সম্ভবত তাকে চিবিয়ে খাবেন। অফিসে প্রচন্ড কমিউনিটি প্রেশারে এসির সীমাও এই চিন্তা রায়হানের ঘাম ছুটিয়ে দিচ্ছিল। ওদের বিয়ে হয়েছে কেবল চার মাস। যদিও বাইরের পরই নিশাকে নিয়ে রায়হান একটা ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে শুরু করে কিন্তু উত্তর দিতে যাচ্ছে তাই। বোঝাতে থাকে কানাডায়, কেয়ারটেকের হাতে পানির সমস্যা, এর সমস্যা, ফ্ল্যাটর থেকে সিঁড়ি শুরু করে অনেকটাই নোংরা দিয়ে ভরা, হাবিজাবি এলাকান সমস্যা। নিশা কোনোভাবে মাস তিনেক পার করে রায়হানকে এক কথা বলে সে আর ঐ ফ্ল্যাটে, রায়হান যদি নতুন বাড়ি না থাকে তাহলে আর চিরকালের মতো হারিয়ে যাবে। নিশার এই এক অভ্যাস, খুব জেদি, অনেকটাই রেগে যায়। ঘরের সাথে চিরকালের মতো হারিয়ে যাওয়া কি সম্পর্ক, বুঝতে পারে না রায়হান। এক মাস প্রায় শেষ হতে চললো রায়হানের অফিসের চাপ এতই যে বেরোবে বাড়ি খুঁজবে সেই উপায় নেই। 

-কি কথা রায়হান ভাই এই নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াতে ঘামছেন কেন? মিট মিট করে হাসছে কলিগ তানিয়া , মেয়েটা ইচরেপাকা কিন্তু মনটা খুব ভালো আর মিুক।
-আর বোলো না তানিয়া জানোই তোর বাড়ি বদলাতে হবে আর এটা কি মুখের কথা!
-উফ রায়হান ভাই! আপনি না ব্যাকেডেটেড হয়ে যাবেন থেকে এখন তো ফেসবুকেই টুলেটের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আপনি ওখান থেকে ছবি দেখবেন, ভিডিও দেখবেন, ফোনে কথা বলবেন, পোষালে যাবেন বাড়িওয়ালা সমস্যা শেষ।
-তাই, কি বোলো!
-হ্যাঁ এই তো খারাপন না, তানিয়া মোবাইল ফোনটা ধরলো 
রায়হান দ্রুত নিজের ফোন থেকে শুরু করতে কয়েকটা বাড়ি পছন্দ করা। কিন্তু একটা জায়গায় গিয়ে সে ইন্টেন্টে গেল। ফ্ল্যাট্যাটের ঘরের ছবি বাথ রুমে রান্নাঘর বারান্দার ছবি সুন্দর করে সাজানো কিন্তু আমার ক্যাপশনটা দেওয়া হচ্ছে নিরিবিলি ভাড়াটিয়া চাই নিরিবিলি বাড়ির জন্য। বাড়ির নামটাও" নিরিবিলি" কি অদ্ভুত! অফিস একবার যেতে যেতে হয়। 
এই রায়হান খান আছে নিরিবিলি জবাব আশরাফ সাহেবের বক্তব্য। ভদ্রলোক-বিপত্নীক, একা থাকেন, একটা ছেলে আছে, পুরানো ৪০ এর আশেপাশে। আগে ঢাকা ইউনিভার্সি ফিজিক্স পাঠেন, স্বেচ্ছায় অফিস থেকে অবসরের।
ভদ্রলোক চশমাটা ঠিক করে নিয়ে রায়হানের দিকে এগিয়ে বললেন,
- আপনার ফ্যামিলিতে কে আছে?
- আমি আর আমার স্ত্রী 
-বাচ্চা?
- না শিশু আমাদের বিয়ে হয়েছে কেবলমাত্র মাস 
-ভালো হয়েছে, শিশুকা থাকলে চিৎকার চেঁচামেচি হয় আমার আবার পছন্দ না। রায়হান একবার ভুরুচকালো। বাচ্চাকাচ্চা নাই এমন না যে তাদের কখনো বাচ্চা হবে না। এখন তাদের এই প্ল্যানের বৈশিষ্ট্য নেই। তা ছাড়া বাড়িটা সুন্দরভাবে, সামনে অনেকখানি খোলা জায়গা, দোতলা বাড়ি ভদ্রলোক দোতা থাকে। নিচতলা টাকার ভাড়া, কারণ যা যাচ্ছে পয়সারে ভুল বোঝায় উনার, নিতান্তই খালি পড়া দরকার নেই তাই বড় বাড়ি ভাড়ার নাম লেখার কারণ এতটা ভাড়ায় রায় রায়হানের কিছু শর্ত আছে যেমন দোলায়ঠা যাবে না, ছাদ ঘটনা, চিৎকার। চেঁচামেচি করা যাবে না, বেশি মেহমান আসা যাবে না, নিজের বাগানের ফুল যাবে না, এই হাবিজাবি।
এতগুলো শর্ত চালু করার পর রায়হান কোল ঝাঁজ বেরোতে বললে,
- আমি কি মনে করি তা জানতে না 
-প্রয়োজন নেই তোমার কাপড়চোপড় ,থাক বার্তার স্টাইল, বসার ভর্তা সমস্ত অ্যাক্টিভিটিস বলে তোমার ব্যবহার এই শারীরিক ভাড়া নিয়ে কঠিন করা হবে না।
রায়হান বাধা দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললো,
আগামীকাল আমার স্ত্রী নিশা এসে দেখবে, যদি তার পছন্দ হয় তাহলে কেবল কনফার্ম করা হবে, আপনার কোন সমস্যা আছে?
-নাহ, শুধু দোতালায় কারন না পাওয়া। ভালো করে উঠুন, আমার ছেলেটা আপনি চলে গেছে। চা অফার করতে পারলাম না দুঃখিত।
বাড়িওয়ালাকে রায়হানের পছন্দ হয়েছে সে তার লেখা এত ইন্ট্রোভার্ট মানুষ ভুলনি। 
পরদিন অফিস থেকে ফির নিশা ছুটে এসে রায়হানকে প্রায় ধরলো।
- শোনো ছেলে বাড়িটা আমার পছন্দ হয়েছে। কি সুন্দর বাগান আর খোলা জায়গা, আমরা উঠতে পারি, বাড়ি তো খালি পড়ে আছে। ছেলেটা যে কেয়ারটেকার ছেলেটা কি নাম ,ও মনে মনে সুন্দর আমার সাথে আমার কথা হয়েছে। আপনার পক্ষে সব কাজ করে, ভাড়া টাকাও আমাদের হাত দিয়ে যায়, ও বলেছে কালই আমরা উঠতে পারি, চলো না চলো না প্লিজ।
রায়হান নিশাকে বুকে চেপে ধরে ঠোঁট চেপে হাসতে লাগলো। কে বলে এই মেয়েটি অনার্স কমপ্লিট করেছে , স্বভাবে আর আচরণে এখনো শিশুই রয়ে গেছে৷ বাবা মা হারিয়েছে কতকাল আগে, চাকে মানুষ হয়েছে, রায়হানই আমাদের সব, রায়হান আরো শক্ত করে নিশাকে ধরলো।
নিরিবিলি বাড়িতে এসে নিশা প্রশাসন। এইবার অন্য সে সত্যকারের জন্য কোমর বেঁধে মাঝে মধ্যে গুছিয়ে ফেললো কয়েকটা। বাড়িটার সামনের খোলা জায়গায় সেলিকারিই কফি মগ হাতে নিয়ে শুনতে শুনতে হাঁটাহাঁটি করে। রায়হান আশরাফ সাহেব বুদ্ধহয় বিষয়টা পছন্দ করবেন না কিন্তু সে ভুল ছিল। তাদের কথাবার্তা ও শব্দগুলো দোতলা পর্যন্ত না অনেকটাই হয়। ভদ্রলোক দোতালায় একা একা কি করেন, কে শিক্ষার্থী? তবে উনার কেয়ারটেকারমনের কাছ থেকে যা জানা গেছে ভদ্রলোকের সুফি কিছু ভালোভাবে চেক করে কিছু ব্রেরী আছে ক্রমলাইন সেখানে আলোচনা করে, গভীর রাতের গানের প্রকাশন, খুব ঘনঘন চা ক খান সাথে সিগারেট যাকে বলা হয় স্কার। জীবনযাত্রার মন যখন খারাপ হয় তখন আপনার কম্পিউটারের কবরস্থান আছে সেখানে ওনার মা, বাবা, ছোট সেই পাঁচ বছর বয়সে পানিতে ডুবে মারার বন্ধু আর কবরের বিনিময়ে চুপচাপ বসে থাকে। আশরাফ সাহেবের আবেদন গুরু গম্ভীর আচরণের কারণ রায়হান এখন আলোচনা, ভদ্রলোক প্রকৃতপক্ষে এককভাবে। 
প্রায় চার মাস। বাড়িতে বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই নিশার ঘ্যানঘ্যানি শুনতে আর এখানে এসে নিশা পুরোই বলে গেছে। প্রতিদিন ফোন করে জানার খোঁজ খবর অফিসই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলে। ছুটির দিনগুলোতেও উত্থাপিত হওয়ার জন্য বায়না ধরে না আমার রায়হানের পছন্দের খাবার রান্না করা। হালকা সাজগোজাও করে। বাকিটা শুধু ছেলেমানুষী করে দোতলায় ভুল, বেচারি কথা ধমককে দেখতে পাল্টাও। কিছু করার নেই, এটা তো শর্তই ছিল, রায়হানের নিয়ম মেনেও পারছিল না, এতটা অপমানিতও অন্যকে ভুল করেনি। বিগত তারিখেই কিন্তু জীবন তাদের খুব সুখেই ছিল।
কিন্তু এক সন্ধ্যায় নিয়মের ব্যতিক্রম করা। অনেকবার বাজান পরেও খুলনা না নিশা। নিজের পকেট থেকে চাবিটা বের করে লেখালিখল রায়হান। সে এলাকায় ছিল নিশা শঙ্কা ঘুমিয়েছে। কিন্তু নিশা নেই। সে সব নিয়ম ভেঙ্গে দোতলায় ছুটে গেল। 
-আরে রে ভাইজান, কি করেন, কি যান? সুমন বলে উঠলো না মেজাজ খারাপ বোলো, মানুষ পছন্দ করেন।
-কি হয়েছে রে সুমন? সুমন কাঁচুমাচু করে এক পাশে সরে গেল। আশরাফ সাহেব বের হয়ে আসছেন তার লাইব্রেরী থেকে।
- আমি খুব দুঃখিত তোমাকে বলার জন্য কিন্তু নিশাকে খুঁজে পাচ্ছি না, ফোনটাও বলে গেছে। আপনাকে না বলে ছাদে, বাগানে বাড়ির সব জায়গা খুঁজে বের করতেও কিছু নেই। রায়হানের পক্ষে ছিল ভদ্রলোক প্রচন্ড প্রবর্তন হবে কিন্তু আশরাফ সাহেব তাকে শান্ত করে বললেন,
- হোন চলুন আপনার আদর্শ। আশরাফ সাহেব রায়হান এবং সুমন তিনজনে চাপ এলো।
- এক কাজ করুন মিস্টার রায়হান আপনি আপনার স্ত্রীর ফোন থেকে তার বান্ধবীদের পরিচিত এমন কেউ আছে যার বাড়িতে সে যেতে পারে ফোন দিন। 
রায়হান যন্ত্রের সাহায্যে রোবট, তাই ঠিক করতে বাড়িতে চাওয়াই নিশা। 
-আপনি ফোনে খবর নিতে আমি আমার মত দেখছি, সুমন আশরাফ সাহেবের পিছন পিছন বের হয়ে গেল।
কোন উপায় না পেয়ে রায়হান পৌঁছে গেল কিন্তু ওরা বলল ২৪ ঘন্টা ধৈর্য ধরতে। রাত ১১:৩০ টার দিকে রায়হান বাড়ি ফিরে এলো। তার বারান্দায় হাত দিয়ে পাশ্বর সুমন শান্তি আছে।
-ভজান আগামী? ও ভাইজান , এহন কি হতে পারে? এই ঘর তো বডনাম হওয়া বো। 
-মানে তুমি কি বলছো সুমন?
-আপনাগোর আগেও এক লোক তার পরিবার নিয়া ভাড়া নিছিল কিন্তু সেমব, পরিবার উধাও। ভালো কষ্ট পোহাইতে হয়েছে। আপনি তো ম্যালা ভাগ্যবান, সামনে নিজের বড় চাচার ফোন দিয়া আপনার বয়ের খোঁজখবর নিতে বলেছেন, তার বড় চাচা রাজনৈতিক বড় বড় চাচার।
ভারাক্রান্ত হৃদয়ে রায়হান ফিরে এলো নিজের তৈরি। অনেক ধকল গেছে, তাকে শুতে হবে, বিএনপি কোনোমতে বিছানায় দিল কোলবালিশটা সরে যেতে একটা চিরকুটের মত পাওয়া গেল।
"আমি দুঃখিত রায়হান, আমি সোহানকে ভালবাসি। চাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমার কাছে একটা ভিডিও করে। সো তখন কোন অফিসে ছিল না আমাকে নিয়ে তুলবে তার কোন নিশ্চয়তা ছিল না এবং এখন ভাল কথা বলবে আমার সাথে আমার উত্তর, তুমি বললে। আমাকে ক্ষমা করে দিই ইতি নিশা"
রায়হান কাঁপা হাতে চিঠিটা ধরো। মনে মনে কি তবে তারদিনের মত হারিয়ে যাবার, এই ভয়ই কি সে দেখাতো রায়হানকে?
-রায়হান সাহেব জেনারেলন? আশরাফ সাহেবের কন্ঠ 
 সেই চিঠি দিয়ে রায়হান মেরে পাস ছিল, কখন সকাল হয়েছে সে সকাল না 
খোলাই ছিল আশরাফ বলার কথা বলতে শুরু করুন 
-শুন আপনি চিন্তা করবেন না, আমার পরিচিত একজন আছে। দুই একের মধ্যেই আপনার স্ত্রী পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ। কেবলমাত্র না, সব ঠিক হয়ে যাবে।
রায়হানের নেতৃত্বে মাথা তুলুন, কম্পিউটার হাতে চিঠিটা আশরাফ সাহেবের দিকে দিতে দিতে দিতে 
-ওকে আর খুঁজতে হবে না দয়া করে আর কষ্ট করবেন না।
চিঠি পড়ে বিস্ময়ে আশরাফ সাহেবের দেখা বড় হয়ে গেল। 
রায়হান ফিরে গেছে তার ব্যাচেলার জীবন সেই মেসে।
লাইব্রেরীর রিং চেয়ারে দোল নিজের আশরাফ সাহেব মনে করতে লাগলেন, "তোরা স্বামী স্বামী না থাকলে প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে নাস্তামি করবি মেয়েটা সহ্য না হয়। বর দিয়ে পরিবারের সদস্যরা অধিকার।"
নিশার কাছে সোহানকে বেশ কয়েকবার আশরাফ আসতে চলেছে। কাছে সোহান বের হতে যেতে আশরাফ নিশারে কলিংবেল বাজায়। প্রতীক নিশা ভয় ভয় হওয়া যায়। সুমন তার গলায় ছুরি ধরেছিল আর আশরাফ বলেছিল চিঠিতে কি লিখতে হবে। ভাবতে আশরাফের ভাবতে ফুটে উঠতে বিধ্বস্ত একটা হাসি। চিৎকার করে তার সকল কুকর্মের কর্মীর সুমনকে ডাকলো। সুমন প্রায় ছুটতে এলো।
-হা*রা*মজা*দা টু-লেট ঝুলানোর কথা কি বলতে হবে? আর টেবিল পেইজটা আবার প্রকাশ করার কথা তোকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হয় জা*নোয়ার?
এতগুলো গালি প্রচারের পরেও সুমন দিয়া বের করে বলে, -দুটোই করে কথা বলেছি, আপনি কোন চিন্তা করবেন না নিরিবিলি বাড়িতে ভিতরেই ভাড়াটিয়া বলে তার জন্য একই বিশ্রী কদাকার হাসি।
.


সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৪

বর্ষার রাতে

বর্ষার রাতে

 


Writing By জাহের ওয়াসিম



অদ্ভুত এক প্রেমে পড়ে যাই গত বর্ষায়, যা এলোমেলো করে দেয় আমার বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দেয়াল। অন্য রকম এক সত্যের মুখোমুখি হই আমি। জীবনের অন্যতম সেই সত্য ঘটনাটি আপনাদের শোনাব। এটাকে নিছক গল্প ভাববেন না। এই ঘটনা আমার জীবন ওলটপালট করে দিয়েছে।

নানাবাড়িতে যাচ্ছিলাম ঢাকা থেকে। প্রায় পাঁচ-ছয় বছর পর যাচ্ছি। মা-বাবা ব্যস্ত, তাই ইউনিভার্সিটি থেকে ছুটি পেয়ে আমি একাই পথ দিলাম। সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য নানাবাড়িতে ফোন না করেই বের হলাম। রাত এগারোটায় স্টেশনে নামলাম। অজপাড়াগাঁয়ের স্টেশন। একটা কাকপক্ষীও নেই। দূরে শুধু একটা অচেনা পাখির চিঁ চিঁ ডাক শুনে হকচকিত হয়ে উঠলাম। আরও আগে নামার কথা। কিন্তু পথে ট্রেনের যান্ত্রিক সমস্যা হওয়ায় দুই ঘণ্টা দেরি হয়ে গেল। স্টেশন থেকে নানার বাড়ি মাইল পাঁচেকের পথ। রিকশায় যেতে হয়। কিন্তু এত রাতে গ্রামের রিকশাওয়ালাদের এক ঘুম হয়ে গেছে। এই স্টেশনে আমার সাথে আর একটা লোক নেমেছে। সাদা পাঞ্জাবি পরা। মাথায় লম্বা টুপি। একা একা যেতে ভয় লাগছে। ভাবলাম, লোকটার সাথে গিয়ে পরিচিত হই। আমি বললাম, ‘স্লামালাইকুম। চাচা, আমার নাম শুভ। হাবিবুল্যা চেয়ারম্যানের নাতি। ঢাকা থেকে এসেছি আমি।’ লোকটা কিছু বলল না। অদ্ভুতভাবে চেয়ে থাকল। আমি বললাম, ‘চাচা, আপনি কোন দিকে যাবেন। চলুন এক সাথে যাই।’ লোকটা হাত ইশারা করে উত্তর দিকের রাস্তাটা দেখাল। আমি যাব পশ্চিম পাশের রাস্তাটা দিয়ে। লোকটা মনে হয় বোবা কিংবা তার কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। বোবা হওয়ার সম্ভাবনা কম। বোবারা সাধারণত কানে শোনে না। ইনি শোনে। যা-ই হোক, আমি হতাশ হয়ে একা একাই হাঁটা ধরলাম। অমাবস্যার রাত। অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না। আমি প্রচণ্ড ভীতু। রাতে গ্রামের রাস্তায় একা একা হাঁটা আমার কাছে পুলসিরাত পার হওয়ার চেয়েও দুঃসাধ্য। গা ছমছম করে ভয়ের একটা শীতল অনুভূতি বয়ে গেল আমার ভেতর দিয়ে। এত দূর হেঁটে হেঁটে যাব কী করে? ভেবে ঘেমে গেলাম। ভাবলাম, নানাবাড়িতে ফোন করি, যেন কেউ এসে আমাকে নিয়ে যায়। মোবাইলটা বের করে দেখি নেটওয়ার্ক নেই। অগত্যা মোবাইলের টর্চ জ্বেলে আয়াতুল কুরসি পড়ে বুকে তিনবার ফুঁ দিয়ে হাঁটা ধরলাম। কিছুক্ষণ হাঁটার পর মনে হলো, আমার পেছন পেছন কেউ একজন আসছে। এটা একটা চিরাচরিত সমস্যা। সব রহস্য গল্পেই এই লাইনটা থাকে। পিছে পিছে কেউ একজন আসে। এমনকি রহস্য পত্রিকার অনেক রহস্যগল্পতেই এই লাইনটা পড়েছি আর হেসে খুন হয়েছি। মনে মনে ভেবেছি, লেখকেরা বুঝি আর কোনো লাইন পান না। কিন্তু বাস্তবেও যে এ রকম অভিজ্ঞতা হতে পারে, তা আজ বুঝলাম। ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে এল। এসব ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, পিছু ফিরে তাকানো যাবে না। পেছনে ভূত থাক আর পেত্নি থাক, কোনো আগ্রহ দেখানো যাবে না। সোজা হেঁটে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমার যে এখন ঝেড়ে একটা দৌড় দিতে ইচ্ছে হচ্ছে। কী করব বুঝতেছি না। একবার মনে হলো, সাদা পাঞ্জাবি পরা লোকটা নাকি। হয়তো আমাকে ভীতু ভেবে ভয় দেখাচ্ছে। পেছনের লোকটার হাঁটার আওয়াজ বেড়েছে। আমি আর থাকতে না পেরে পিছু ফিরে তাকালাম। দেখি, কেউ নেই। কিন্তু আওয়াজটা অবিকল আছে। মনে হচ্ছে, ধপধপ করে পা ফেলে কেউ এগিয়ে আসছে। হঠাত্ করে হালকা মিষ্টি একটা গন্ধ এসে লাগল আমার নাকে। মিষ্টি জর্দা দিয়ে পান খাওয়ার গন্ধ। আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠল। মনে হলো, ঘুরে পড়ে যাব। আমার ভয় এখন চরম অবস্থায়। বুকের মধ্যে যেন ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে। হূিপণ্ডটা হাপরের মতো ওঠা-নামা করছে। আমি উল্টা দিকে ফিরে একটা দৌড় দিলাম। মনে মনে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলাম। বারবার নিজেকে গালি দিচ্ছি কেন যে ফোন করে এলাম না। পেছনের অদৃশ্য মানবটার দৌড়ের আওয়াজ স্পষ্ট কানে আসছে। ধীরে ধীরে তা কাছে চলে আসছে। এভাবে আমি মাইলখানেক চলে এসেছি। আরও বেশিও হতে পারে। আমার কোনো হুঁশ নেই। প্রাণপণ দৌড়াচ্ছি। কোনোমতেই ধরা পড়া যাবে না। এটা আমার জীবন-মরণ খেলা। তবে কাঁধের ব্যাগটা নিয়ে বেশিক্ষণ দৌড়াতে পারলাম না। ক্লান্ত-অবসন্ন হয়ে উঠল শরীর। নুয়ে পড়ছি আমি। এ যাত্রায় আমি মনে হয় শেষ। মৃত্যুভয় আমাকে গ্রাস করে নিল। আমি যেন অচেতন হয়ে যাচ্ছি। চলে যাচ্ছি জীবনের শেষ প্রান্তে, মৃত্যুর শিয়রে। মিষ্টি গন্ধটা নাকের কাছে চলে এসেছে। কলিজাটা মোচড় দিয়ে উঠল। এক মুহূর্তের জন্য মা-বাবার ছবিটা ভেসে উঠল মনের আয়নায়। ইউনিভার্সিটির শায়লার কথা মনে হলো। মনে মনে বললাম, বিদায় শায়লা। আর তোমার পিছে পিছে ঘুরে বিরক্ত করব না। বিদায়! আমার ঘাড়ে স্পষ্ট ছোঁয়া অনুভব করলাম—ঠান্ডা-শীতল কিছু একটার।

ঘাড়ে হাত দিয়ে দেখি পানি। বৃষ্টি নামছে। কিছুটা প্রাণ ফিরে পেলাম। ভিজে যাচ্ছি আমি। পাশে একটা বাড়ি থেকে নারী কণ্ঠের খিলখিল আওয়াজ শুনলাম। অত-শত না ভেবে দৌড়ে রাস্তার পাশের অন্য একটা বাড়িতে আশ্রয় নিতে ছুটলাম। দূর থেকে বাড়ির ভেতরে আলো জ্বলতে দেখলাম। অনেক্ষণ ধরে নক করলাম দরজায়। কেউ দরজা খুলল না। এত রাতে কেউ খোলার কথাও নয়। গ্রামের বাড়ি। সবারই চোর-ডাকাতের ভয়। হতাশ হয়ে বাড়ির দরজায় বসে পড়লাম। ঘর থেকে একটু দূরে একটা কবর দেখতে পেলাম। উত্তেজনায় আমার সব ভয় মুহূর্তে উবে গেছে। অন্য সময় হলে কবর দেখেই অজ্ঞান হয়ে যেতাম। কবরকে খুব ভয় পাই আমি। হঠাত্ করে দরজাটা খুলে গেল। আমি উঠে দাঁড়ালাম। দেখি এক বৃদ্ধ মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন অন্ধকারে। পরনে সাদা শাড়ি বলে মনে হলো। আমি সালাম দিয়ে আমার নানার বাড়ির নাম বললাম। বৃদ্ধা বললেন, ‘ও চিনেছি। তুমি হাবিবুল্যা চেয়ারম্যানের নাতি।’ আমার নানাকে সবাই চেনে। বিখ্যাত লোক এলাকার। বললাম, ‘আমি ঢাকা থেকে আসছি। ভিজে যাচ্ছি বলে একটু আশ্রয় নিয়েছি। বৃষ্টি থামলেই চলে যাব।’ বৃদ্ধা আমাকে ভেতরে নিয়ে বসালেন। তারপর গামছা এনে দিলেন মাথার পানি মোছার জন্য। আমি বললাম, ‘দাদি ঘর অন্ধকার কেন? হারিকেন নাই?’ বৃদ্ধা বললেন, ‘আছে বাবা। দাঁড়াও দিচ্ছি। কিছুক্ষণ আগে নিভিয়েছি। আমরা শুয়ে পড়েছিলাম। তুমি বসো, আমি হারিকেন পাঠাচ্ছি। তুমি আসাতে ভালোই হলো। নামাজ না পড়েই শুয়ে গেছিলাম। নামাজটা পড়ে নিই।’ এ কথা বলে ভেতরে চলে গেলেন বৃদ্ধা। কিন্তু বৃদ্ধা আমাকে বাবা বাবা করছে কেন, আমি তো উনাকে দাদি বললাম। উনার কি ছেলে-টেলে নেই? যাক বাদ দিলাম। কিছুক্ষণ পর হারিকেন আর খাবার নিয়ে এল এক অপরূপা সুন্দরী। হালকা আলোয় অসাধারণ লাগছে ওকে। জীবনে এত রূপবতী মেয়ে দেখিনি। ঢিলেঢালা জামা পরেছে মেয়েটি। এর পরও তার প্রস্ফুটিত যৌবন ঠেলে বের হয়ে আসতে চাইছে। ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে আছে যেন। আমি লাজ-লজ্জা ফেলে সেদিকে এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম। আমার জায়গায় আমার বন্ধু রবিন থাকলে সে এতক্ষণে মেয়েটির বুকের মাপ বলে দিতে পারত। মেয়েটি হেসে বলল, ‘আমি আনুশকা। উনি আমার দাদি। নামাজ পড়ছেন তো তাই আমি খাবার নিয়ে এলাম। আপনি ঢাকা থেকে আসছেন। নিশ্চয়ই না খেয়ে আছেন। আপনি নিঃসংকোচে খেয়ে নিন। আপনার নানাদের আমি চিনি। অনেক দূরে আপনার নানার বাড়ি। আমি এখানে স্থানীয় কলেজে পড়ি। আমার মা নেই। যেই কবরটা দেখে ভয় পেয়েছেন, ওটা আমার মায়ের। আমার জন্মের সময় মারা যান। বাবা ঢাকায় ছোট একটা চাকরি করেন। নইলে আমাদের নিয়ে যেতেন ওখানে। আমি শুধু বকবক করে যাচ্ছি, আপনি খান।’ আমি ইতস্তত করে বললাম, ‘না না, কী যে বলেন। আপনার কথা শুনতে অনেক ভালো লাগছে। আপনি বলুন।’ ভেতরে ভেতরে আমি অবাক হয়ে গেলাম মেয়েটা হড়বড় করে এত কথা বলছে কেন? তা ছাড়া আমি ভয় পেয়েছি, তা ও বুঝল কীভাবে। ভাবলাম, চালাক মেয়ে। মুখ দেখে সব বুঝে নেয়। গ্রামে সাধারণত এত মিশুক মেয়ে দেখা যায় না। ও মেয়েটা কোন কালারের জামা পরেছে, বলা হয়নি। আকাশি নীল। অদ্ভুত লাগছে। মনে হচ্ছে, স্বর্গ থেকে নেমে এসেছে। মেয়েটাকে আমার খুব ভালো লেগে গেল। খাবার পর আমি জানালার পাশে গিয়ে দাঁঁড়ালাম। দেখি, তুমুল বৃষ্টি বাইরে। থামার কোনো লক্ষণ নেই। মেয়েটা আমার পাশে এসে দাঁড়াল। বলল, ‘আল্লা! কী সুন্দর বৃষ্টি। উফ্ আমার-না ভিজতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু ভিজলেই ঠান্ডা লেগে যাবে। তা ছাড়া দাদিও বকবে।’ আমি মনে মনে ভাবলাম, মেয়েটা অনেক সহজ-সরল। মনের কথা গোপন রাখে না। এ রকম সরল মেয়ে আমি আগে দেখিনি। অপরিচিত মানুষের সাথে এমন ফ্রি-ভাবে কথা বলছে, যেন অনেক দিনের চেনা-জানা। বৃদ্ধা এসে বললেন, ‘বাবা বৃষ্টি মনে হয় আজ আর থামবে না। তুমি ওই পাশের রুমটাতে গিয়ে শুয়ে পড়ো। ওটা আমার ছেলের রুম। ও ঢাকা থেকে আসলে থাকে।’ আমি বললাম, ‘না না, আমি এক্ষুণি চলে যাব। বৃষ্টি কমে যাবে।’ বৃদ্ধা বললেন, ‘এখন যাবে কীভাবে? সকালে চলে যেও। বৃষ্টি কমবে না। আষাঢ়ের বৃষ্টি এত সহজে কমে না। যাও, শুয়ে পড়ো বাবা।’ আমি ওপরে-ওপরে না না করলেও ভেতরে ভেতরে থাকার জন্য রাজি। কারণ এই সহজ-সরল মেয়েটাকে আমার খুব পছন্দ হয়ে গেছে। তা ছাড়া সারা রাত বৃষ্টি হবে। হয়তো মেয়েটার সাথে ভেজার একটা চান্স পেয়ে যেতে পারি।

অন্ধকার একটি ঘরে আমাকে ঘুমাতে দেওয়া হলো। সামান্য ভয় পেলাম। বিছানায় শুতে যাব। দেখি, আমার বিছানায় কে যেন ঘুমিয়ে আছে। ভয়ে আমার গা শিউরে উঠল। ভয়ে ভয়ে হাত দিয়ে দেখি একটা কোলবালিশ। পাশের ঘর থেকে আনুশকার খিলখিল হাসি শোনা গেল। নিজের বোকামিতে লজ্জা পেয়ে শুয়ে পড়লাম।

রাত মনে হয় তিনটার মতো বাজে। শুয়ে আছি কিন্তু ঘুম আসছে না। এখানে আসার পর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবতে লাগলাম। সকালে নানাবাড়ি গেলে তারা অনেক কথা জানতে চাইবে। তা ছাড়া গ্রামের একটা বাড়িতে এভাবে অপরিচিত একটা ছেলেকে থাকতে দেওয়াও অস্বাভাবিক। যাই হোক, নিজের এ রকম নেগেটিভ ধারণার জন্য নিজেকে বকা দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। আচমকা আমার গায়ের ওপর একটা শীতল হাতের ছোঁয়া পেয়ে আঁতকে উঠলাম ভয়ে। বুক ধুকধুক করে উঠল। দেখি, আনুশকা। আমার কানের কাছে এসে ফিসফিসিয়ে বলল, ‘ভয় পেয়েছেন? চেঁচাবেন না। দাদি জেগে যাবে। চলেন বৃষ্টিতে ভিজি।’ আমি অবাক হওয়ার ভান করে বললাম, ‘এত রাতে?’ কিন্তু মনে মনে যা ভাবছিলাম, তা ঘটে যাওয়ায় খুশি হয়ে গেলাম। ভয়ে ভয়ে থাকলাম, ও আবার চলে যায় নাকি। ও বলল, ‘ভিজার আবার দিন-রাত কী? আর রাতে ভিজতেই তো মজা।’ আমি বললাম, ‘তুমি কি প্রায় রাতেই ভিজো নাকি?’ ও বলল, ‘আরে না। একবার ভিজে অনেক ঠান্ডা লেগেছিল। আচ্ছা চলেন যাই।’

চুপিচুপি বাইরে এসে দেখি ব্যাপক বৃষ্টি। আনুশকা খুশি হয়ে গেল। আমাকে বলল, ‘আমার হাত ধরুন। প্লিজ সংকোচ করবেন না। আপনাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে।’ আমার মনের কথাই ও বলে ফেলল। আমরা হাত ধরে ভিজতে লাগলাম। ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। দূরে একটা-দুইটা বাজও পড়ছে। বৃষ্টির তোড়ে আনুশকার ভেজা চুল আমার মুখে এসে বাড়ি খাচ্ছে। আর আমার সারা শরীরে যেন বিদ্যুত্ বয়ে যাচ্ছে। আনুশকার পাতলা জামা ভিজে গায়ের সাথে লেপ্টে গেছে। ওর শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আকৃতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওর স্তনের বোটা দুটো দেখা যাচ্ছে পরিষ্কার। ইচ্ছা করল ছুঁয়ে দিই একবার। আমি বললাম, ‘আনুশকা তোমাকেও আমার অনেক ভালো লেগেছে। আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।’ এ কথা বলে আমি ওকে জড়িয়ে ধরলাম। সাথে সাথে ও ছাড়িয়ে নিল। আমি লজ্জা পেয়ে সরি বললাম। একটু পর বৃষ্টি থেমে গেল। আনুশকা বলল, ‘তুমি এখন চলে যাও। হালকা অন্ধকার, ভয় পাবে না তো?’ আমি বললাম, ‘না না, ভয় পাব না।’ ও বলল, ‘চলে যেতে বলায় অবাক হয়েছ? এখন না গেলে সকালে গ্রামের মানুষ দেখলে খারাপ কথা রটাবে।’ আমি বললাম, ‘ঠিক আছে, আমি তাহলে যাই। তুমি দাদিকে বুঝিয়ে বোলো। আর আমি আবার আসব।’ ও বলল, ‘রাতে এস। দিনে এস না। তাহলে কেউ দেখবে না।’ ওর প্রস্তাবটা ভালো লাগল। আমি বললাম, ‘আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাই তাহলে।’

ভোরের দিকে নানাবাড়ি পৌঁছালাম। হালকা অন্ধকার তখনো। এত ভোরে আমাকে দেখে সবাই অবাক হলো। আমি আনুশকাদের বাড়ির ব্যাপারটা পুরো চেপে গেলাম। বললাম, ‘নানা, রাতের গাড়িতে এসেছি। তাই ভোরে পৌঁছুলাম।’ আমার মামাতো বোন রিয়া আমাকে দেখে খুব খুশি হলো। সামান্য সন্দেহের চোখে তাকাল মনে হচ্ছে। নাকি আমার মনের ভুল, কে জানে? চোরের মনে পুলিশ পুলিশ। ও মনে হয় আমাকে একটু-আধটু পছন্দ করে কিন্তু মুখ ফুটে বলেনি কখনো।

নানার বাড়িতে ভালোই দিন কাটছিল আমার। প্রতিদিন রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে আমি তখন চুপি চুপি বের হই। একটুও ডর-ভয় লাগে না। সেদিনের পর থেকে আমার সব ভয় মন থেকে উবে গেছে। এখন মনে শুধু আনুশকার ছবি। মামাতো ভাইয়ের একটা সাইকেল আছে, সেটা নিয়ে চলে যাই আনুশকাদের বাড়ি। চুপি চুপি আনুশকাকে ডেকে গল্প করি দুজনে। গভীর সখ্য হয়ে গেল আমাদের। আমার শারীরিক ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু আনুশকা বলল, ‘না’। আমি কথা বাড়াইনি। শুধু ওকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছি। একবার ওর বুকে হাত দিতে চেয়েছি। ও সরিয়ে দিল। আমি প্রথমে কষ্ট পেলেও পরে ভাবলাম, ভালো মেয়ে বলেই রাজি হয়নি। তা ছাড়া বিয়ের পর তো ও আমারি হবে। আমরা এত কিছু করি, অথচ ওর দাদি কিছু টেরই পায় না। উনি বেঘোরে ঘুমায়।

অনেক দিন হলো এখানে আছি। আমার ঢাকায় ফেরার সময় হয়ে যাচ্ছে। আনুশকাকে বললাম, ‘আমি তোমাকে বিয়ে করে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাই। আমি নানা-নানিকে পাঠাব বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে।’ আনুশকা চুপ করে রইল। আমার মন খারাপ হয়ে গেল। পরের দিন রাতেও সবাই ঘুমানোর পর আমি বেরুচ্ছিলাম। হঠাত্ কে যেন পেছন থেকে আমার শার্টের হাতা টেনে ধরেছে। দেখি রিয়া। ও আমাকে একদিকে টেনে নিয়ে বলল, ‘ভাইয়া রোজ রাতে তুমি কোথায় যাও? আমাকে বলো তো! আমি প্রতিদিনই দেখি, কিন্তু কিছু বলি না। আজ আর থাকতে পারলাম না। তুমি আমাকে সব খুলে বলো। কারণ তুমি হয়তো জানো না, তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি।’ আমি রিয়াকে প্রথম থেকে সব খুলে বললাম। বললাম, ‘তুই নানা-নানিকে বলে ব্যবস্থা করে দে।’ আমার সব কথা শুনে রিয়া থ মেরে গেল। এরপর ও আমাকে যা বলল, তা শুনে আমার মাথা ঘুরে গেল। ওর ভাষ্যমতে, সেদিন রাতে নাকি কোনো বৃষ্টিই হয়নি। আমি আতঙ্কিত হয়ে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লাম এবং পরের দিন বিকেলে ঘুম ভাঙল। ঘুম থেকে উঠে আমি সোজা আনুশকাদের বাড়িতে গেলাম। গিয়ে দেখলাম, ওই বাড়িতে যে ঘরটায় আমি রাতে এসেছি, সেই জায়গায় দুুটি কবর। দূরে আর একটা কবর, যার কথা আনুশকা আমাকে বলেছিল, ওর মায়ের। ঘর-টর কিচ্ছুর কোনো অস্তিত্ব নেই। পুরো বাড়ি খাঁ খাঁ করছে। দূরে একটা পাখি ডেকে উঠল। আমি মাথা ঘুরে পড়ে গেলাম। পরে সম্ভবত আশপাশের লোকজন আমাকে নানাবাড়িতে পৌঁছে দেয়। আমার জ্ঞান ফিরে প্রায় তিন দিন পর। দীর্ঘদিন আমি মানসিক হাসপাতালে কাটিয়ে এখন সামান্য সুস্থ। তাও অন্ধকার দেখলে প্রচণ্ড ভয়ে চিল্লায়ে উঠি। ডাক্তার বলেছে, আমাকে একা রাখা যাবে না। সব সময় পাশে কেউ একজন থাকতে হবে।

রিয়ার কাছে আনুশকার যেই গল্প শুনেছি তা হলো, ‘ওই বাড়িতে আনুশকা নামের একটা মেয়ে থাকত, যে আরও পাঁচ বছর আগে মারা যায়। কোনো এক বৃষ্টির রাতে মেয়েটি তার প্রেমিকের সাথে ভেজে সারা রাত ধরে। তারপর প্রচণ্ড ঠান্ডা লেগে টাইফয়েড হয়ে মেয়েটি তিন দিনের মাথায় মারা যায়। আর ছেলেটি পাগল হয়ে যায়। মেয়েটির বাবা ঢাকায় থাকতেন। একমাত্র সন্তানের শোকে তিনি এখন আর বাড়িতে আসেন না। বৃদ্ধ হয়ে গেছেন এ ক’বছরেই। পাগলের মতো এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়ায়। বাড়িতে আনুশকার দাদি ছিলেন। আদরের নাতনির মৃত্যুশোকে পড়ে বৃদ্ধাও দুই মাসের মাথায় মারা যান। আনুশকার পাশেই তাকে কবর দেওয়া হয়। এর পর থেকে ওই বাড়িতে কেউ আর যায় না ভয়ে। অনেকেই নাকি আনুশকাকে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখেছে রাতের বেলায়। লোকজন ভয়ে রাতে তো দূরের কথা, দিনেও ওই বাড়ির পাশ দিয়ে যায় না।’



রবিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৪

জোড়া শালিক ও কুকুর

জোড়া শালিক ও কুকুর




















Writing অরণী মেঘ


প্রচলিত আছে জোড়া শালিক পাখি দেখলে দিন ভালো যায়। তবে একটা শর্ত আছে। দুইটাই পুরুষ অথবা দুইটাই নারী শালিক দেখলে হবে না। এদের মধ্যে একটা পুরুষ ও অন্যটা নারী শালিক পাখি হতে হবে। ইফাদ সাহেবের ধারণা দুইটা শালিক পাখির মধ্যে একটা নারী ও একটা পুরুষ শালিকই হবে। রোজ দুপুর বেলায় কোত্থেকে যেন দুইটা শালিক পাখি অতিথি হয়ে তার বারান্দায় আসে। তিনি কিছুটা বিস্মিত হলেন। 

একদিন বিস্মিত কণ্ঠে তার স্ত্রীকে বলেন,
"একটা জিনিস খেয়াল করেছ?"
"হ্যাঁ, ঠিক দুপুর বেলায় দুইটা শালিক পাখি আমাদের বারান্দায় এসে বসে। এরা অন্য কোনো সময়ে আসে না। ঠিক দুপুর সময়টায় আসে।"

তিনি বলার আগেই বিরস কণ্ঠে জবাব দেন রেনু। ইফাদ সাহেব দ্বিতীয় বারের মত বিস্মিত হলেন। যদিও তিনি জানেন রেনুর চোখ থেকে কোনো কিছু এড়ায় না। 

"তোমার অবাক লাগছে না?"
"নাহ। অবাক লাগার বয়স আরো ২৫-৩০ বছর আগে পার করে এসেছি।"

মুখের উপর এমন উত্তর শুনে ইফাদ সাহেব নিজের বিস্মিত ভাবটা গিলে ফেললেন। তিনি ঘরের জানালা দিয়ে লাগোয়া বারান্দায় তাকালেন। দুপুর দুইটা বাজতে চলেছে। এখনই শালিক পাখি দুইটা এসে বারান্দায় বসবে।

.

শালিক পাখিগুলোর জন্য কিছু খাবারের ব্যবস্থা করছেন ইফাদ। ইফাদ সাহেবের পাগলামিতে কিছুটা বিরক্ত হলেও রেনু মুখে কিছু বললেন না। মানুষটার অবসরটা যদি এই পাখিগুলোকে নিয়ে কাটে তো কাটুক না। ক্ষতি কী?

ইফাদ ঘরে এসে জানালার সামনে বসে রইলেন। তাকে দেখলে পাখিগুলো হয়ত খাবে না। কিছুক্ষণ বাদেই পাখিগুলাও এসে বারান্দায় বসলো। আজকে তাদের জন্য খাবার আর পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাখিগুলো খাচ্ছে। ভীষণ আনন্দ অনুভব করলো ইফাদ। 

"তোমার শুধু বয়সটাই বেড়েছে। এখনো সেই বাচ্চাটিই রয়ে গেছ।"
কাপড়গুলো ভাজ করতে করতে কথাগুলো বললেন রেনু।
ইফাদ স্ত্রীর দিকে তাকালেন না। না তাকিয়েই উত্তর দিলেন,
"পাখিগুলো কী সুন্দর খাচ্ছে, দেখো!"
রেনু সেদিকে একবার তাকালেন। কিন্তু জবাব দিলেন না। বুড়ো বয়সে বাচ্চামিকে প্রশ্রয় দেয়া ঠিক না। 
রেনু বললেন,
"খেতে চলো।"
"আসছি একটু পর।"

"বাবা, তুমি কি এখন শালিক পাখির সাথে সাথে কুকুরও পুষতে শুরু করেছ?"

ছেলে আরাফ এর আওয়াজে ঘুরে তাকালেন তিনি। একদিন মসজিদ থেকে আসার পথে এই কুকুরটাকে তিনি রুটি কিনে দিয়েছিলেন। কুকুরটা সেদিন তার পিছু পিছু বাসা পর্যন্ত চলে এসেছিলো। এরপর থেকে প্রায়ই কুকুরটা এখানে আসে। তবে রেনুর কড়া হুকুম কুকুরকে ঘরের ভিতরে আনা যাবে না। 

আরাফকে উদ্দেশ্য করে ইফাদ সাহেব বললেন,
কুকুররা মানুষের চাইতে বেশি বিশ্বাসী হয় জানিস তো? আর দেখ মাত্র একদিন রুটি খাইয়েছি তাতেই আমার পিছু ছাড়ছে না।"
"মা কিন্তু খুব রাগ করবে, বাবা। মায়ের কুকুর পছন্দ না।"
বাঁকা হেসে ইফাদ সাহেব বললেন,
"ছাড় তো তোর মায়ের কথা। তোর মায়ের তো আমাকেই পছন্দ না।"
"এটা কিন্তু ঠিক না বাবা। মা তোমাকে অসম্ভব ভালোবাসে।"
"কুকুরটার জন্য একটা নাম ভাবা দরকার। কী নাম দেয়া যায় বল তো।"
আরাফ কিছুটা রেগে বলল,
"জানি না।"

একদিন বড় সাহসিকতার কাজ করে ফেললেন। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে। বাসার মূল ফটক খুলে অর্ধভেজা কুকুরটাকে বাসায় ঢুকতে দিলেন। 

"তুই তো পুরো ভিজে গেছিস রে। আয় ভিতরে আয়।"
কুকুরটাও লেজ গুটিয়ে ভিতরে চলে আসলো। রাগে রেনু কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলল।

"গত দুইদিন ধরে কুকুরটা আসছে না কেন? কুকুরটার সাথে কি ঝগড়া করেছ?"
 বিদ্রুপের স্বরে ইফাদ সাহেবকে উদ্দেশ্য করে কথাটা বললেন রেনু। 
"জানি না কেন আসছে না। কোথায় কোথায় থাকে কে জানে!"
"ওহ।"
"তোমার মায়া হয় না ওদের জন্য?"

ভীষণ মায়া হওয়া সত্ত্বেও কেন যেন রেনু সেটা প্রকাশ করতে পারলেন না। তার বিশ্বাস 'মায়া প্রকাশ করতে হয় না। মায়া প্রকাশ করলেই তারা হারিয়ে যাবে।" তিনি যখনই প্রকাশ করে ফেলবেন কুকুরটার প্রতি কিংবা জোড়া শালিক পাখিগুলোর প্রতি তার মায়া জন্মে গেছে এরপর থেকেই আর ওরা আসবে না। কেন এই ধারণা হলো কে জানে!

মুখে যথাসম্ভব বিরক্তিভাব এনে তিনি বললেন,
"ঘরটাকে চিরিয়াখানা বানিয়ে ফেলছ দিন দিন।"
ইফাদ সাহেব হাসলেন। 
"খাবার নিয়ে আসছি। খেয়ে নাও। এরপর তো ঔষধ গুলো খেতে হবে।"
"ইচ্ছে করছে না এখন।"

রেনু ইফাদ সাহেবকে কিছু বললেন না। রুম থেকে বেরিয়ে গিয়ে ছেলের হাতে খাবারের প্লেটটা ধরিয়ে দিয়ে বললেন,
"বাবাকে খাইয়ে দিয়ে আয়। আমার একটু কাজ আছে। কাজগুলো সেরে আসছি।"

আরাফকে খাবারের প্লেট হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে হতাশার ভঙ্গিতে ইফাদ সাহেব বললেন,
"তোকে পাঠিয়েছে?"
"হ্যাঁ। এখন লক্ষী ছেলের মত খেয়ে নাও তো।"
বাবার পাশে বসে ছোট এক লোকমা বাবার মুখে তুলে দিলো আরাফ। তিন নাম্বার লোকমাটা মুখে নিয়ে বসে রইলেন ইফাদ সাহেব। হঠাৎ তার মাথাটা ঢলে পড়লো আরাফের কাধে। ঘটনার আকস্মিকতায় আরাফের হাত থেকে ভাতের থালা টা পড়ে গেল। শেষ লোকমাটা বাবার মুখেই থেকে গেল। সেটা আর পাকস্থলী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। 

.

শালিক পাখিগুলোর জন্য রাখা বাটিটায় খাবার দিলেন রেনু। চারদিন খাবার দেয়া হয়নি পাখিগুলোকে। পাখিগুলো এসেছিলো কিনা সেটাও খেয়াল করেননি। বাটিটায় খাবার আর পানি দিয়ে তিনি রুমের ভিতরে এসে বসলেন। তিনি বারান্দায় থাকলে হয়ত পাখিগুলো আসবে না। 

অধৈর্য হয়ে ঘড়ির দিকে তাকালেন রেনু। তিনটা বাজতে চলল। অথচ পাখিগুলো আসেনি। 

রেনু তবুও বাটিটায় নষ্ট হয়ে যাওয়া আগের খাবার ফেলে দেন। নতুন খাবার দেন। কুকুরটা এসেছে কিনা সেটা জানার জন্য বারান্দায় দাঁড়িয়ে রাস্তায় উঁকি মারেন। কিন্তু সেদিনের পর থেকে জোড়া শালিক কিংবা কুকুর কেউই আর আসেনি। কেন আসেনি এই উত্তর কেউ জানে না। 

(সমাপ্ত)