তানিয়া তখন নার্সিং পড়তে বরিশালে এক সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়। ওদের বাড়ি ছিলো নাটোরে। দূরত্বের কারণে কলেজ হোস্টেলে জায়গা না পেয়ে এক পরিচিতের সাহায্যে কাছাকাছি একটা বাসায় উঠে যায় – একটা পুরনো বাড়ির নিচতলার ছোট্ট ফ্ল্যাট। বাড়িটা বেশ বড় হলেও ভিতরে ভাড়াটিয়া ছিলো কম। সামনে একটা ফাঁকা উঠোন, আর পেছনে ছিলো একটা বড় পুকুর, যার পানি সবসময় সবুজ আর স্থির থাকতো।
তানিয়ার সঙ্গে রুম শেয়ার করতো আরও দুই মেয়ে – রিমি আর অহনা। সবাই ব্যস্ত থাকতো কলেজ আর পড়াশোনা নিয়ে, তাই ভয়-টয় নিয়ে কেউ ভাবতো না।
ঘটনার শুরু এক পূর্ণিমার রাতে। সরকারি এক দিনের ছুটি ছিলো। রিমি আর অহনা আগেই তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। তানিয়া থেকে যায় – সামনে পরীক্ষা, পড়া ফেলে যাওয়া যাবে না।
সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িটা একেবারে চুপচাপ। আশেপাশেও কেউ ছিলো না, সব রুম খালি। তানিয়া তখন ঘর পরিষ্কার করে ডিনার সেরে পড়তে বসে। বাইরে পূর্ণিমার আলোয় চারদিক কেমন যেন সাদা হয়ে ঝলমল করছিলো।
রাত তখন সাড়ে বারোটা।
হঠাৎ তানিয়ার মনে হলো বাথরুমের দিক থেকে পানির শব্দ আসছে... যেন কেউ কল ছেড়ে দিয়েছে, আবার যেন কেউ গোসল করছে!
তানিয়া ভয় পায় না। ভাবে, "হয়তো পাশের ফ্ল্যাটের কেউ..."
তবে হঠাৎ মনে পড়ে – পাশের রুমগুলো তো ফাঁকা, কেউ নেই আজ।
সাহস করে গিয়ে বাথরুমের দরজা খুলে দেখে – কেউ নেই। কিন্তু মেঝেতে পানি, আর ভেজা তোয়ালে পড়ে আছে মেঝেতে – যেন কেউ কিছুক্ষন আগেই গোসল করে উঠে গেছে।
"আমি কি ভুল দেখছি?"
নিজেকে বোঝাতে চেষ্টা করে আবার পড়তে বসে।
ঠিক তখন বিদ্যুৎ চলে যায়।
একটা থমথমে নীরবতা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভিতর হঠাৎ ঠান্ডা ঠান্ডা লাগতে শুরু করে।
তানিয়া মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে দেখলো – ঘরের জানালা হালকা খোলা, পর্দা বাতাসে দুলছে।
কিছুক্ষণ পর কারেন্ট এলো, সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো।
তানিয়া তখনো ভাবছে, এটা কি ওর ভয় থেকে আসা কল্পনা, নাকি সত্যি কিছু?
পরদিন রিমি আর অহনা ফিরে আসে। তানিয়া ঘটনা দুটো হালকা করে বলে। ওরা হাসাহাসি করে, ভাবে তানিয়া ভয় পেয়েছে।
রাতের খাবার খেয়ে সবাই ঘুমাতে যায়। রাত তখন প্রায় দেড়টা।
তানিয়ার ঘুম আসে না। জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকায়। চাঁদের আলোয় পুকুরের পানি চকচক করছে। হঠাৎ করে ও দেখে – পুকুরের মাঝখানে সাদা কাপড় পরা একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে!
পূর্নিমার চাঁদের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। কোনো একটা মেয়ের অবয়ব পুকুরে গোসল করছে। সে ধীরে ধীরে চুল থেকে পানি ঝরিয়ে নিচ্ছে, হাত দিয়ে মাথা ঘষছে।
তানিয়া চোখ কচলিয়ে আবার দেখে – ঠিকই দেখছে! মেয়েটা যেন একদৃষ্টিতে পুকুরের পানিতে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
আচমকা মেয়েটা চোখ তুলে সোজা তানিয়ার দিকে তাকায়..
তানিয়ার গা কাঁটা দিয়ে ওঠে। সে চুপচাপ জানালা থেকে সরে গিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে।
পরদিন সকালে সে পুরো ঘটনা রিমি আর অহনাকে বলে।
রিমি একটু থেমে গিয়ে বলে,
"শোন, এই পুকুরটা নিয়ে আমি কিছু শুনেছিলাম আগেও। এই বাড়িতে যাদের আগে ভাড়া ছিলো, তারা নাকি মাঝরাতে মেয়ের কান্নার আওয়াজ শুনতো..."
অহনা বলে, "ওই পুকুরে নাকি আগে একটা মেয়ে মারা গিয়েছিলো। নাম ছিলো নিশা। ফাইনাল পরীক্ষায় ফেল করেছিলো। পরিবার মানতে পারেনি। একরাতে ঘুমের বড়ি খেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দেয়। সকালে তার লাশ উঠে আসে মাঝপুকুরে।"
তানিয়া যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলো না। এত ভয়ানক একটা ইতিহাস!
তবে এখানেই শেষ না।
পরের রাতে ঘুমের মাঝে হঠাৎ তানিয়ার কানে পানির ছিপছিপ শব্দ আসে। সে চোখ খুলে দেখে – জানালার কাঁচে বাইরে কেউ তাকিয়ে আছে! পর্দা উড়ে গিয়ে হালকা মুখটা দেখা যায় – ভেজা চুল, ফ্যাকাসে মুখ, আর শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা চোখ।
তানিয়া চিৎকার করে ওঠে।
রিমি আর অহনা উঠে পড়ে। সবাই মিলে লাইট জ্বালায়, বাইরে গিয়ে দেখে – কেউ নেই।
তবে জানালার নিচে তখনও ভেজা পানি জমে ছিলো – যেন কিছুক্ষণ আগে কেউ ভিজে পা নিয়ে জানালার পাশে দাঁড়িয়েছিলো।
সেই রাতের পর তিনজনেই ঠিক করে – আর এখানে থাকা যাবে না।
তারা বাসা ছেড়ে দেয়, কলেজ হোস্টেলে উঠে যায়।
তবে এখনো মাঝে মাঝে, পূর্ণিমার রাতে, কেউ কেউ বলে – তারা মেয়েটাকে পুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছে।
চাঁদের আলোয় সাদা কাপড়ের মতো কিছুর ছায়া পড়ে থাকে পানির উপর...
শেষ।
শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫
Author: sojib2
আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।

2 coment rios:
ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প
ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প ছোট
লুল্লু ভূতের গল্প
নতুন ভূতের গল্প
ভূতের গল্প অডিও
ভূতের গল্প অভিশপ্ত গ্রাম
অদ্ভুত ভূতের গল্প
অলৌকিক ভূতের গল্প
অন্য ভূতের গল্প
ভূতের গল্প স্টরি
অনেক অনেক ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প
ভুতের ছবির গল্প
উড়ুক্কু ভূতের গল্প
ভয়ংকর ভুতের গল্প নতুন
ভূতের গল্পের নাম
ভূতের গল্পের কার্টুন
ভূতের গল্পের পিডিএফ
ভূতের গল্প ক্যাপশন
ভূতের গল্প কাটুন
ভূতের গল্প কাহিনী
MedEx
https://medex.com.bd
জিনসিনা ৫০০ মি.গ্রা. ক্যাপসুল | Ginsina | 500 mg | Capsule | Ibn Sina Pharmaceuticals ...
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন