লেখক:- আরিয়ান ইসলাম
প্রায় বছর দুইয়েক পর অহনা নক দিলো ম্যাসেঞ্জারে। ভালো মন্দ, না করে সোজা পথ কর এই, লন্ডের কই থাকো তুমি? এড্রেস কী?রিপ্লাই, কেন গিফ্ট বারবার?
তুলো, দিতে পারি।
এড্রেস দিয়ে টুকটাক কথা বলা। আছো, স্বামী, শিশুরা কি জানা আছে এই সব আর কী?
তার কথা সন্ধ্যায় দুয়েক পরে নাক পড়লে সামনে খবর পাওয়া!
আমি স্বপ্ন দেখছি বুঝতে পারছি না। তার বর আর শিশু দুইটা।
আমি কী বলবো আলোচনা করছি না। ঘোরে খুঁজছি মনে হচ্ছে।
অহনা হাসি দিয়ে বললো, কি, ভয় পাইছো?
তার বরের সাথে হাত বাসার অন্তর্ভুক্ত নিয়ে আস তাদের।
আমি এখনো বুঝছি না! আহনা তার বরের সাথে আমেরিকা। প্রায় তিন বছর পর আমেরিকার কাছে যেতে পারে। বছর সাতেক আগে আমাদের প্রেমের ইতি শেষ! তখন আমরা দুইজনে সংবাদ প্রচার। আমার প্রাক্তন তার বর শিশু নিয়ে আমার উত্তর, আমার ঘোরে না যাওয়ার উপায় আছে?
অহনার বর বেচারা বিব্রত মনে হচ্ছে। মানুষকে আমার কথা বলতে, কিন্তু আমাকে এই প্রথম আগুনন মনেহয়।
অহনা ড্রইং রুমে বসতে দোতো, আমেরিকা থেকে বসতে এসে থানে। ভাব তোমার সাথে দেখা করেই। আজকে রাত তোমার এখানে খাবো। শিখতে শিখেছি তুমি! একা থাকো?
নিজের, না, বন্ধু আর তার ওয়াইফ থাকে আমার সাথে। ওরা ছুটি ছুটিতে। এখন একাই থাকতে হয়। তুমি আমাকে না বললে, যদি থাকতে থাকতে? এসে পরপর!
অহনা বলতে, আরে সারপ্রাইজ নষ্ট হয়ে গেছে তাহলে না?
রাতের খাবার আমার রান্না করার কথা বলা অহনা রান্নাঘর খাবার পরিবেশন করে নিলো! আমাকে দেখাও, তুমি আমার বারকে সময় না। তালিকা নাহয় আমার হাতে খেলার পদ্ধতি।
অহনার ছেলে মেয়ে দুই ছেলে খেলানা বসিয়ে গার্ডেনে বসলাম আমি আর অহনার বর।
ভদ্রলোক এখনো মনেহয় খুব বিব্রত। আমি ওনাকে ইজি করতে ভাই, ভাই! আপনি প্লিজ আনন্দ পাবেন না, বিব্রতবোধ করবেন না। পৃথিবীটা অদ্ভুত একটা জায়গা। চারিমাঝে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন অংশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আমি ভয়ে আছি আপনার বউ না খাবার বিষেশ দিয়ে আমাকে মেরে, সাত বছর আগে তাকে একা হোটেলের পক্ষে কারণে!
ভদ্রলো আমার কথা বলতে ইজি বার। হেসে স্থান। লোকটার হাসিটা খুব সুন্দর। বললেন, ভাই যদি বিষ দিতো, তাহলে আমাকে দিতো! তবে আমি তোমাকে জানি না। আমার বাবা তোমার সম্পর্কটা নেই। আহনাও বাবা আমাকে যেতে পারে না।
ভদ্রলোক চায়ে চুমুক দিতে, ভাই আগে আহনা আর আপনার কিছু আহনা আমাকে বলে। বলে, বাবার ইচ্ছা বিয়েটা করছে সে! আপনি এখনও প্রায় নিজেকে ভিন ভিন!
আমি, আমি বলছি ভাই! এক কথা! ঐতিহ্য না থাকার কথা! আপনি কি সুন্দর দুই! দুইটা সুন্দর সুন্দর শিশু! ভালো মনে করবেন না। ভাগ্য সতর্কতা আমাদের সাথে না।
ভদ্রলোক বললেন, না, না, আমি সুখী মানুষ! যদি আপনি জানেন আমার সুরক্ষিত স্থানের সুযোগ! আহনা যখন আমার সাথে দেখা করে বলে, প্রেম আমাদের আছে। প্রচন্ড প্রেমে সে ছেলে ছেলে। আমি আমার গবেষণা সে চাচ্ছে বিয়েটা ভেঙ্গে দেই আমি। আমি না আমি না ভাই! অহনার মায়া পড়ি! আমার মনেহয় হয়েছিল এই মেয়ের সাথে সাথে করতে না ঠিকানা মরে যাবো! আমি আজকে সঙ্কেত আপনার পরিবারটা হলে! অহনার পর আমি আমাকে বলেছি, আমি তাকে ভালবাসতাম, এখনও সতর্ক বাসি তবে আমি এই না আমার পক্ষে না, তোমার প্রতি ভালোবাসা না বা কোনোভাবে ঠিকঠাক বোলো। এটা আমি কখনো কখনো না। একজন হিসাবে আমার সব দায়িত্ব আমি পালন করছি। করেছে মেয়েটা। করে যাচ্ছে। আমি সুখি একজন মানুষ ভাই! আমি আমার কোনো বড়ো পুণ্য করে আশাই বলে মনেহয় এই মেয়ে বড়ো বড়ো বড়ো পুণ্য করে!
এই বলতে বলতে ভদ্রলোক কেঁদেব! আমি বিব্রত হলাম! ভদ্রলোক বললেন, ভাই আপনাকে একটা কথা জানাচ্ছি। অহনার বছর খান আগে ক্যান্সার পড়ে। প্রেসক্রিপশন কিন্তু খুব একটা লাভ হবে না। আপনি সতর্ক জানেন আমি নিজেও ডাক্তার।
আমি ভদ্রলোকের কথা বলতে জানি না! কী বলেন এই সব!
ভদ্রলোক আবার বলা শুরু, ও খুব দ্রুত অনুরোধ করা হচ্ছে। টনে ঘুরতে পাগলামি করে। আমাকে বললো, আমি পরে পরেই মারা যাবো! আমাকে দেখেন! আমি পাগলামী প্রশ্রয় বিশ্বাস। কিন্তু এখানে স্বামীকে পরে জানালাম, এখানে আসা শুধু আপনার সাথে একবার দেখা করার জন্য!
লন্ড্রিজ হোটেলে ফেরার পথ গাড়িতে আমাকে হাত ধরে বলে, যেদিন রানার সাথে শেষ দেখা করি, পাগলের মতন চিৎকার করে, জান রানা! একজন প্রেমিক তার প্রেমিককে ধরে চিককার করে আর আকুতি মিনতি করে দুই পাশে, আমাকে ছেড়ে যেও না প্লিজ! আমি তোমার বাবার পায়ে ধরে রাখতে চাই! তোমার সুখের জন্য আমি সব! প্লিজ আমাকে ছেড়ে যাও না! নিস্তুর আমি বলে, আমার সুখের জন্য আমাকে ছেড়ে দেন তাহলে! আমাকে এই শেষ সময় একটাবার রানার সাথে দেখা করতে?
অহনার বার তার বাবা থেমে বললেন, গত সাত বছর অহনা তার সাথে শব্দও বলে না! একটা ওয়ার্ডও না! বলে, আমার বাবা আমার সুখ চেয়েছি, আমি সুখ পেয়েছি। জন্মদাতা বাবা আমাকে জন্ম দেওয়ার অধিকার খাতায়ছেন, মানুষ হিসাবে আমার অধিকার আছে কার সাথে কথা বলুন না বলুন তার!
এইসব কাহানীতে ভাইভারিমাঝে নিজেকে ভিলেন মনেহয়! এখনও আমি স্টার আমার কাছে কৃতজ্ঞ অহনার মতন বউশ্বর! যে একজন স্ত্রী যেমন একজন একজন প্রেমিক হারানো প্রেমিকাও!
দুনিয়ায় আমার যত শক্তি আছে আমি চেষ্টা করি যাবো আমার অহনার যন্ত্রের জন্য! তবুও আমি জানি আমাকে হার মানতে হবে! আমি আর আমার অহনাকে নির্দেশ পাবো না কখনোই! এখনো কত মিরাকল হয় না ভাই? একটা মিরাকল! আমি এইও পণ করেছি অহনা ব্রাদার হয়ে আমি তাকে বলি, তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারো অহনা৷ তুমি যেখানে সুখে থাকো সেখানে যাও! এখনো তুমি স্থায়ী থাকো! নিশ্বাস নাও!
রান্নাঘর থেকে অহনার ডাক আসলে আমাদের কথায় বাধা পড়ে। আমি আর অহনা প্রায় দেখা করতাম। সে প্রায় এটা রান্না করে আমার জন্য আসতো। তার মধ্যে তার হাত গাজরের হালুয়া সুন্দর আমার সবচেয়ে প্রিয়! নীল একটা বক্সে খাবার টেবিলে দেখলাম হালুয়া রাখা। অহনা বলতে, পাঠাও দেখো। নষ্ট সেট কথা না। আমেরিকা থেকে আনা। ফ্রোজেন করতেছি। বাস আছে গান কে জানা।
নামে, খাবো। সঙ্গে যোগদান করুন।
রাত অহনারা বিদায় নিলো আমার কাছে। অহনার বর ভদ্রলোক শিশু দুই দুই জোট নিয়ে আমাদের একত্রে কিছুক্ষণের জন্য।
অহনা বলে, আমার বরই আমার অসুখের কথা বলেছে। ভণিতা না। আমার উল্টো একবার সামনাসামনি ইচ্ছা হল আর এই চিঠিগুলো রাখো। তোমার দেওয়া এক শো আটাশিটা চিঠি। এই চিঠিটি পুড়িয়ে ফেলার অনেকবার চেষ্টা করতে পারি না। আমার ভালমন্দ কিছু চিঠিপত্রগুলি অযথাই থাকবে তাই আপনাকে দিয়েই৷ আর যদি রাখা বৈশিষ্ট্য প্রতিফলন দেও! আর শুনো, আমি সুখি একজন নারী। আমার সুখের সংসার। তোমার জন্য প্রেমে নাই। ভেবো না আমি এখনো তোমার প্রেমে অন্ধ! দুই শিশুর মা হয়েছি! এখন আর এই সব বাংলার ছবি সময় আছে? তোমার এখনও প্রতি জন্মদিনে আমি সুন্দর মতন সাজি। একটা করে গিফট কিনি। যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিলো চব্বিশ জুলাই, আমি একা একা আমার ঘুরতে বের হই! আমার বর সব খবর। আমি বলি নাই অব্যাহতিও। জানো রানা, আমার দেখা শ্রেষ্ঠ একজন মানুষও! ভাল এইসব কেন আমি জানি না। আমার সতর্কতার সময় কম তাই যা জানাবেন। তুমি সেই জলের জন্য আমার জন্য বলেছিলে
আমি টার বছর আমি আমার কাছে তোমার কাছে ক্ষমা পাবো না। তাই ক্ষমা চাইবো না। এখনো বলি আমার উপর অভিমান রেখো না রানা। আর সত্য মিরাকল হলে আমার চিঠিগুলো আমার কাছে ফেরত দেবে! মনে রাখতে হবে! আর তোমার সাজানো কোন কষ্টের জন্য এসেছিলাম যদি আমার অধিকার দিয়েছি! কিন্তু আমার কি তোমার প্রতি কোন অধিকার আছে? আছে সতর্ক!
আমি তার হালুয়ার বাটিটা নিয়ে বসলাম। প্রিয় এই খাবারের কথাবার্তা দিয়েছি সাত বছর! আমার সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করতে ইচ্ছা করছে অহনার জন্য! কেন জানি মানতেও না! আমার ইচ্ছা ইচ্ছা করছে চিৎকার করছে আবার, আমাকে ছেড়ে যাও না! আমার কষ্ট হচ্ছে!
অহনার চিঠিগুলো আমার কাছে যত্ন করে আছে। প্রায় বের করে পড়ি আর পুরনো কথা মনে করি। চিঠিগুলো তাকে তার ফেরত সুযোগ দেয় না।
নাহ! কোন মিরাকল অহনার সাথে হয় না! সর্বোচ্চ এক মমতাময়ী অনারার জন্য প্রার্থনায় একজন একজন ব্যক্তি একজন বউ পাগলের সামনে দাঁড় করিয়ে একজন প্রেমিক! এখনো স্রেষ্টার মন গলে নাই! এখনও অভিমানী আহনা আর আমাদের সাথে থেকে।
(সমাপ্ত)
।

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন