Featured লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Featured লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

ভালো বউ (Good wife)

ভালো বউ (Good wife)

writing by কামরুন নাহার মিশু


 মিতু চায়ের কাপ হাতে বারান্দায় বসে বাইরে তাকিয়ে আছে। আজ শুক্রবার। অফিস বন্ধ। ছুটিরদিন প্রতি সপ্তাহে সন্ধ্যার পর মিতু এভাবেই কৌশিককে সাথে নিয়ে বারান্দায় বসে গল্প করে সময় কাটায়।

আজ এক বিশেষ কারণে মিতুর মন বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। তাই কৌশিককে না ডেকেই আজ সে একাএকা বারান্দায় এসে বসেছে।

হঠাৎ পিছন দিক থেকে কৌশিক এসে মিতুর ঘাড়ের কাছে ভারী নিশ্বাস ফেলে বলল,

" জানো মিতু! তুমি হচ্ছো আমার দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে যোগ্য মেয়ে।"

মিতু তীক্ষ্ণ চোখে ঘাড় ঘুরিয়ে কৌশিকের দিকে তাকিয়ে বলল,

" কিছু বলবে?"

কৌশিক আমতা আমতা করতে করতে বলল,

" না মানে, অফিসে তুমি বেস্ট ইমপ্লোয়ী, মেয়ের স্কুলে তুমি বেস্ট মম। আমার কাছে শ্রেষ্ঠ স্ত্রী। আমি প্রতিদিন নতুন করে তোমার প্রেমে পড়ি। তোমার যোগ্যতায় মুগ্ধ হই। অথচ...!"

খুব ঝাঁঝ নিয়েই মিতু বলল,

" অথচ কি? তোমার মায়ের দৃষ্টিতে আমি অথর্ব মহিলা। তোমার বোনের দৃষ্টিতে আমি অহংকারী মেয়ে মানুষ। তোমার ভাইয়ের দৃষ্টিতে, তোমার মতো বিড়াল স্বামীর স্ত্রী হওয়ায় আমি এবাড়িতে খেতে পেরেছি, অন্য কোনো পুরুষের স্ত্রীর হলে আমার স্বামীর ভাত কপালে জুটতো না, এই তো বলবে!"

কিছুক্ষণ আগে নিচে যাওয়ার সময় সিঁড়ির পাশে যেতেই মায়ের রুম থেকে কিছু কথা মিতুর কানে এসেছে। এর পর থেকেই সে রেগে আছে। 

কৌশিক মাথা নিচু করে মিনমিন করতে করতে বলল,

" কে বলছে তোমাকে এসব? বোকা মেয়ে! মা তোমাকে ভীষণ পছন্দ করেন। কেয়াও তোমাকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করে।"

" আমি সব জানি কৌশিক। কেন তোমার মা আমাকে পছন্দ করবেন না! তোমার চার ভাইয়ের বউদের মধ্যে শিক্ষায়, সৌন্দর্যে, যোগ্যতায় আমিই সেরা। আর কেয়া! আমাদের কাউকেই পছন্দ করে না।"

"অবশ্যই তুমি যোগ্য। কিন্তু বলছিলাম কি! অফিস থেকে ফিরে নিজের রুমে সময় না কাটিয়ে একটু মায়ের সাথে বসলেও তো পার। ভাবীদের সাথে রান্নাঘরে থাকতে পার। কাজ করার দরকার নেই। তুমি একটু গেলেই ওরা খুশি হবে। প্রয়োজনে সায়মাকে একজন শিক্ষক দিয়ে দাও।"

" আমি রান্নাঘরে যাই না তোমাকে কে বলছে?"

" কেউ বলেনি। আমারই মনে হলো আমার মিষ্টি বউটা সব জায়গার মতো ঘরেও সেরা বউ হওয়ার যোগ্যতা রাখে। যদি তুমি একটু...।

মিতু দৃঢ়কণ্ঠে বলল,

" না কৌশিক। আমি সেরা বউ হতে চাই না। সবচেয়ে বড় কথা বউরা কখনো সেরা হয় না। তোমার বড় ভাবী, ছোট ভাবী চব্বিশ ঘণ্টা তোমাদের পরিবারে শ্রম দিয়ে, সেবা দিয়ে তোমাদের পরিবারের পাশে থেকে আজ বড় ভাবী অসুস্থ। ছোট ভাবীর ছেলে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করে, মায়ের কেয়ারের অভাবে। কই তোমরা তো ভাবীদের সেরা বউ বলো না! মায়ের কথা বাদই দিলাম, তুমিও তো কখনো বলোনি।"

" তুমি জানো না, ওরা ভীষণ দুষ্ট।".

" আমি সব জানি কৌশিক বউরা দুষ্টই হয়। যারা শ্বশুর পরিবারে কাজ করতে করতে নিজের জীবন, যৌবন, ক্যারিয়ার, সন্তানের ভবিষ্যৎ সব ক্ষয় করে ফেলে, দিন শেষ তাদের কপালে দুষ্ট অপবাধই জোটে।"

" তুমি ভুল বুঝছ মিতু! "

" আমি ঠিকই বুঝছি কৌশিক। আমি তোমার ভাবীদের মতো অত বোকা নই, সংসারে কাজ করে মেকি প্রশংসার জন্য নিজের শরীর হারাব। আমার অত স্বস্তা প্রশংসার দরকার নেই।"

 কৌশিক অসহায়ের মতো করে বলল,

" মিতু!"

" কী মিতু! তোমাদের সংসারে কাজের দরকার এই তো! সাবুর মাকে বলে দেব তার মেয়ে রিনাকে নিয়ে আসতে, সে এখন থেকে এখানেই থাকবে চব্বিশঘণ্টা। তার বেতনভাতাও সব আমি পরিশোধ করব। তারপরও আমার কাছে এসব অন্যায় আবদার নিয়ে আসবে না।"

মিতুর অগ্নিমুর্তি দেখে কৌশিক আর কথা বাড়াল না।

মিতুর বিয়ে হয়েছে আজ আটবছর। বিয়ের আগেই সে একটা বেসরকারি ব্যংকে চাকরি করত। ব্যাংকের চাকরি মানেই ব্যস্ততা। ব্যস্তাতার অজুহাতে মিতু এই আট বছরে একদিনের জন্যও রান্নাঘরে যেতে পারেনি।

 কৌশিকদের যৌথ পরিবার। ওরা চার ভাইয়ের মধ্যে কৌশিক হচ্ছে তিন নাম্বার। ছোট ভাই ইউনিভার্সিটিতে পড়ে। একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক আছে। চাকরিতে ঢুকলেই বিয়েটা সেরে ফেলবে। মেয়েটা অনেক ধূর্ত। রোজ নিয়ম করে এ বাড়িতে আসে। মায়ের সাথে গল্প করে। মায়ের চুল বেঁধে দেয়। বাড়ির সবাই তাদের সম্পর্কের কথা জানে।

 তার আসল টার্গেট হয়েছে মা। ইতিমধ্যে তার কাজে সে সফল হয়েছে। মা উঠতে বসতে সারাক্ষণই স্মৃতির কথাই বলে।

" স্মৃতির মতো মেয়ে বউ হিসাবে পাওয়া যে কোনো পরিবারের জন্য সৌভাগ্য। এত সুন্দরী মেয়ে। অথচ গুরুজনের প্রতি কেমন শ্রদ্ধা। অথচ একটা চাকরি করলেই কিছু মেয়ের অহংকারে পা মাটিতে পড়ে না।"

এসব কথা মা মিতুকে ইঙ্গিত করে কৌশিককে শুনিয়ে শুনিয়ে বলেন।

কৌশিকের ভীষণ রাগ হয়। স্মৃতির কী এমন যৌগ্যতা! বিশ্ববিদ্যালয় পড়লে কী হবে? তার রেজাল্ট ভালো নয়। অথচ তার বউ মিতু ইউনিভার্সিটির টপার ছিল। কত বড় চাকরি করে। প্রায় লাখ টাকা বেতন পায়। বাইরে তার কত সম্মান। অথচ স্মৃতি মায়ের পাশে একটু বসেই মায়ের কত প্রশংসা পাচ্ছে।

 কৌশিক মরিয়া হয়ে পড়ে বাইরের মতো ঘরেও নিজের স্ত্রীকে যোগ্য দেখতে। তার মনে হয় স্মৃতির মতো মিতুও যদি মায়ের পাশে একটু বসে তাহলে হয়তো মা মিতুরও প্রশংসা করবে।

রাতেরবেলা মিতু কৌশিকের সাথে একটাও বাড়তি কথা বলেনি। মেয়েকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে মেয়ের পাশেই ঘুমিয়ে পড়ল। কৌশিক বারবার দরজার পাশ থেকে ঘুরে চলে এলো। স্ত্রীকে ডাকার সাহস পায়নি। মিতুর সকালবেলা অফিস আছে। হঠাৎ ঘুম ভাঙলে মিতুর মাথা ব্যথা করবে। ঠিকমতো অফিসে কাজ করতে পারবে না। অথচ ব্যাংকের চাকরিতে সারাক্ষণই অফিসে ব্যক্তিগত কষ্ট ভুলে গিয়ে কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে হয়।

 মিতু অফিস থেকে ফিরে কাঁধ থেকে ব্যাগটা সোফার উপর ছুঁড়ে ফেলে সটান হয়ে খাটে শুয়ে পড়ল। প্রতিদিনের মতো আজও কৌশিক এসে মিতুর মাথার নিচে একটা বালিশ দিয়ে পা'টা বাঁকা করে খাটের উপর তুলে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যে মিতুর নাক ডাকার শব্দ শুনতে পাওয়া গেল।

মিতুর নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে কৌশিকের মনে হলো গতকাল সে মিতুর কাছে অন্যায় আবদার করে ফেলেনি তো।

মেয়েটা সারাদিন অফিসে কত পরিশ্রম করে। বাসায় আসলে মেয়েকে পড়ায়। কৌশিকের ব্যক্তিগত আবদার মেটায়। সে কখনো স্বামী সন্তানের প্রতি অবহেলা করেনি। সাবুর মায়ের বেতন পাঁচহাজার টাকা মিতুই দেয়। সংসারে কাজ করতে পারবে না, সেকারণে বিয়ের সময় বাবার বাড়ি থেকে সে সাবুর মাকে নিয়ে এসেছে।

অথচ মেয়েকে সে এখনো কোনো শিক্ষক দেয়নি। যদি শিক্ষক তার মতো যত্ন করে না পড়ায় এটাই তার ভয়।

বিয়ের পর আজ পর্যন্ত সে কৌশিককে কারো বানানো চা পান করায়নি। কৌশিকের চা'টা পর্যন্ত সে বানিয়ে ফ্লাক্সে রেখে যায়। কৌশিক একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেেজি পড়ায়। তাকে বেশিক্ষণ অফিসে থাকতে হয় না। আড়াইটার মধ্যেই সে বাসায় চলে আসে।

মিতু ঝাঁঝালো কণ্ঠে বললেও কথাগুলো কিন্তু মিথ্যা নয়। এই পরিবারের কাজের জন্য বড়ভাবী, ছোট ভাবী কখনো নিজেদের ব্যক্তিগত সুখের কথা ভাবেনি। সারাক্ষণ বাবা-মায়ের সেবা করেছে। রান্নাঘরে কাজ করেছে। অথচ বাচ্চাগুলো শিক্ষকের কাছে কী পড়েছে না পড়েছে মা হিসাবে কখনো দেখার সুযোগ পায়নি। এখন ছেলেটা পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করেছে। প্রিন্সিপ্যাল স্যার প্যারেন্টস মিটিং ডেকেছেন। ছোট ভাবীকে উপস্থিত থেকে কৈফিয়ত দিতে হবে। কেন ছেলে খারাপ ফলাফল করেছে!

এতএত কষ্ট ভাবীরা পরিবারের জন্য করেও দিন শেষ তাদের কাঁধে কেবল বদনামটুকুই জোটে।

বিয়ের সময় তো মা মিতুকেও অনেক পছন্দ করে বিয়ে করে এনেছেন। এখন মিতু খারাপ হয়ে গেলো। মিতু না হয় কাজ না করার কারণে খারাপ হলো। মা তো বড় ভাবী, ছোট ভাবীকেও বিন্দু পরিমান পছন্দ করেন না। আচ্ছা বিয়ের পর কি সবাই স্মৃতির সাথেও এমনই আচরণ করবে? এখন যার বন্দনা করছে, বিয়ের পর তারই বদনাম করবে।

ঘুম থেকে উঠে মিতু দেখে দুই হাতে দুকাপ ধুমায়িত কফি নিয়ে হাসিমুখে সামনে দাঁড়িয়ে আছে কৌশিক। অন্যদিন হলে মিতু অবাক হতো। এবং সঙ্গে সঙ্গে সে বিস্ময়টা প্রকাশও করত। কারণ বিয়ের এত বছর পর মিতুর আগে অফিস থেকে ফিরেও কখনো কৌশিক একাজটা করেনি। আজই প্রথম সে মিতুর জন্য কফি বানিয়ে নিয়ে এলেো।

অথচ গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই মিতু অকারণে বিরক্ত হয়ে আছে সব কিছুর উপর। তাই এই রূপে কৌশিককে দেখেও সে স্বাভাবিক ভাবেই বলল,

" এককাজ কর মেয়ের জন্য একজন ভালো শিক্ষক ঠিক কর। তোমার পরিচিত কোনো ছাত্র হলেও চলবে।"

"হঠাৎ মেয়ের জন্য শিক্ষক কেন?"

" আমাকে ভালো বউ হতে হবে না! মেয়েকে পড়াতে বসালে রান্নাঘরে সময় দেবো কীভাবে?"

" দুঃখিত মিতু। দরকার হলে মেয়ের জন্য শিক্ষক রাখব। কিন্তু তোমাকে ভালো বউ হতে হবে না। তুমি এমনিতেই অনেক ভালো বউ।"

" কেন তোমাদের পরিবারে তো রোজ নিয়ম করে হাঁড়ি না বসালে চুলায়, আর যত যোগ্যতায় থাক সব চাপা পড়ে যায়। সে অথর্ব বউ হিসাবে প্রমাণীত হয়।"

" মিতু অহেতুক তুমি রাগ করছ। বাদ দাও এসব।"

" ভুল করেছ কৌশিক তুমি। একটা অর্ধশিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করলেই পারতে, যে মজা করে চা বানিয়ে ভালো বউয়ের খেতাব পেয়ে যেত। ইউনিভার্সিটির টপাররা তো অথর্বই আর অহংকারীই হবে।"

কৌশিক বুঝতে পেরেছে কথা বললে এখন বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। গতকাল কৌশিকের কথায় মিতু ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। সে নিজের রোজগারের টাকাকে কখনো নিজের টাকা মনে করেনি। মায়ের চোখের অপারেশনটা সে নিজের টাকায় করিয়ে দিয়েছে। বাবা-মার রুমে এসি কিনে দিয়েছে। কারেন্টবিল, গ্যাসবিল প্রতিমাসে মিতুই পরিশোধ করে। কারণ সংসারে সময় দিতে পারে না। সেকারনে সে যেটা শ্রম দিয়ে পারে না, সেটা অর্থ দিয়ে হলেও করে দেয়। অথচ ইদানিং মা স্মৃতির গুণগান গেয়ে যাচ্ছে। যেটা যেকোনোভাবে হোক মিতুর কানে গেছে।

মিতুর কথা হয়তো সত্য শ্বশুর বাড়ির দৃষ্টিতে বউরা কখনো সেরা হয় না। কাজ করলে যদি সেরা হওয়া যেত তাহলে বড় ভাবী, ছোট ভাবী হতো। অর্থ দিয়ে যদি সেরা হতো তাহলে মিতু হতো। কই মাতো কাউকেই পছন্দ করছেন না।

কৌশিক উঠে গিয়ে মিতুর কাঁধে হাত রাখল।

" চলো মিতু আজ ডিনারটা আমরা বাইরেই করব। রেডি হয়ে নাও। "

মিতু রেডি হতে হতে বিড়বিড় করে বলল,

" তুমি আমাকে বুঝতে পেরেছ কৌশিক সেটাই বড় কথা। আমি ভালো স্ত্রী হতে চাই, ভালো বউ নয়।

#

রবিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২১

Zack Snyder’s Justice League full movie download  hindi dubbet

Zack Snyder’s Justice League full movie download hindi dubbet

 



Zack Snyder’s Justice League full movie download filmyzilla
Zacksnyderssusticeleague - BoX-OFfiCE-MOviES! How to Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) Full 𝓜OVIE Online Free? [ENGLISH] Zack Snyder’s Justice League (Full MOVie) Free Download HQ [USA eng subs ]] Zack Snyder’s Justice League Full Movie Watch Online !#Zacksnyderssusticeleaguefullmovie

###########################
☑ W.A.T.C.H N.O.W ➤➤ https://bit.ly/3oIZNlv

D.O.W.N.L.O.A.D N.O.W ⟴http://bit.ly/3b802lC
###########################
(2021) | Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) Online (2021) Full Movie Free HD| Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) Online (2021) Full Movies Free HD !! Zack Snyder’s Justice League (2021) | Watch Streaming Hd Zack Snyder’s Justice League 2021 Full Movies | Zack Snyder’s Justice League (2021) Full Movie | Full Streaming with English Subtitles ready for download, Zack Snyder’s Justice League (2021), High Quality.
In Zack Snyder’s Justice League, the gang is back but the game has changed. As they return to rescue one of their own, the players will have to brave parts unknown from arid deserts to snowy mountains, to escape the world’s most dangerous game. Zack Snyder’s Justice League (2021) [CARTERET] | Watch Zack Snyder’s Justice League Online (2021) Full Movie Free HD.720Px|Watch Zack Snyder’s Justice League Online (2021) Full MovieS Free HD !! Zack Snyder’s Justice League (2021) with English Subtitles ready for download, Zack Snyder’s Justice League (2021) 720p, 1080p, BrRip, DvdRip, Youtube, Reddit, Multilanguage and High Quality.
Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) Online Free Streaming, Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) Online Full Streaming In HD Quality, Let’s go to watch the latest movies of your favorite movies, Zack Snyder’s Justice League (2021). come on join us!!
What happened in this movie?
I have a summary for you. It’s the first rose ceremony of the movie and the drama is already ratcheted up! Two very different men – Blake and Dylan – have their hearts set on handing their rose to HZack Snyder’s Justice League (2021) G., but who will offer it to her and will she accept?
All About The movies
Euphoria centers on CDC researcher Abby Arcane. When she returns to her childhood home of Houma, Louisiana, in order to investigate a deadly swamp-borne virus, she develops a surprising bond with scientist Alec Holland — only to have him tragically taken from her. But as powerful forces descend on Houma, intent on exploiting the swamp’s mysterious properties for their own purposes, Abby will discover that the swamp holds mystical secrets, both horrifying and wondrous — and the potential love of her life may not be after all.
Public Group
2 minutes ago
moviesfree co Watch Online Zack Snyder’s Justice League: (2021) Complete movies Free Online Full Strengthens Crusaders and mountan Moorish comders rebelled against the British crown.
How long have you fallen asleep during Zack Snyder’s Justice League (2021) Movie? The music, the story, and the message are phenomenal in Zack Snyder’s Justice League. I have never been able to see another Movie five times like I did this. Come back and look for the second time and pay attention.
Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) WEB-DL movies This is losing less lame files from streaming Zack Snyder’s Justice League (2021), like Netflix, Amazon Video. Hulu, Zack Snyder’s Justice League (2021) chy roll, DiscoveryGO, BBC iPlayer, etc. These are also movies or TV shows that are downloaded through online distribution sites, such as iTunes.
The quality is quite good because it is not re-encoded. Video streams (H.264 or H.265) and audio (AC3 / Zack Snyder’s Justice League) (2021) are usually extracted from iTunes or Amazon Video and then reinstalled into the MKV container without sacrificing quality. Download Euphoria Movie Season 1 Movie 6 One of the streaming movies.
Watch Zack Snyder’s Justice League Miles Morales conjures his life between being a middle school student and becoming Zack Snyder’s Justice League (2021).
However, when Wilson “Kingpin” Fiskuses as a super collider, another Captive State from another dimension, Peter Parker, accidentally ended up in the Miles dimension. When Peter trained the Miles to get better, Spider-, they soon joined four other Zack Snyder’s Justice League (2021) from across the “Spider-Verse”. Because all these conflicting dimensions begin to destroy Brooklyn, Miles must help others stop Fisk and return everyone to their own dimensions. the industry’s biggest impact is on the DVD industry, which effectively met its destruction by mass popularizing online content. The emergence of streaming media has caused the fall of y DVD rental companies such as Blockbuster. In July (2021), an article from the New York Times published an article about Netflix DVD, No ches Frida 2s. It was stated that Netflix was continuing their DVD No. No Frida 2s with 5.3 million customers, which was a significant decrease from the previous year. On the other hand, their streaming, No ches Frida 2s, has 65 million members. In a March (2021) study that assessed “The Impact of movies of Streaming on Traditional DVD Movie Rentals” it was found that respondents did not buy DVD movies nearly as much, if ever, because streaming had taken over the market. So we get more space adventures, more original story material and more about what will make this 21st MCU movie different from the previous 20 MCU films.
Watch Final Space Season 2 — Movie 6, viewers don’t consider the quality of movies to differ significantly between DVDs and online streaming. Problems that according to respondents need to be improved by streaming movies including fast forwarding or rewinding functions, and search functions. This article highlights that streaming quality movies as an industry will only increase in time, because advertising revenues continue to soar on an annual basis across industries, providing incentives for the production of quality content.
He is someone we don’t see happening. Still, Brie Larson’s resume is impressive. The actress has been playing on TV and film sets since she was 11 years old. One of those confused with Swedish player Alicia Vikander (Tomb Raider) won an Oscar in 2016. She was the first Marvel movie star with a female leader. . And soon, he will play a CIA agent in a movies commissioned by Apple for his future platform. The movies he produced together.
Unknown to the general public in 2016, this “neighbor girl” won an Academy Award for best actress for her poignant appearance in the “Room”, the true story of a wo who was exiled with her child by predators. He had overtaken Cate Blanchett and Jennifer Lawrence, both of them had Zack Snyder’s Justice League (2021) out of statues, but also Charlotte Rampling and Saoirse Ronan.
Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) Movie Online Blu-rayor Bluray rips directly from Blu-ray discs to 1080p or 720p (depending on source), and uses the x264 codec. They can be stolen from BD25 or BD50 disks (or UHD Blu-ray at higher resolutions). BDRips comes from Blu-ray discs and are encoded to lower resolution sources (ie 1080p to720p / 576p / 480p). BRRip is a video that has been encoded at HD resolution (usually 1080p) which is then transcribed to SD resolution. Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) The BD / BRRip Movie in DVDRip resolution looks better, however, because the encoding is from a higher quality source.
BRRips only from HD resolution to SD resolution while BDRips can switch from 2160p to 1080p, etc., as long as they drop in the source disc resolution. Watch Zack Snyder’s Justice League (2021) Movie Full BDRip is not transcode and can move down for encryption, but BRRip can only go down to SD resolution because they are transcribed. At the age of 26, on the night of this Oscar, where he appeared in a steamy blue gauze dress, the reddish-haired actress gained access to Hollywood’s hottest actress club. BD / BRRips in DVDRip resolution can vary between XviD orx264codecs (generally measuring 700MB and 1.5GB and the size of DVD5 or DVD9: 4.5GB or 8.4GB) which is larger, the size fluctuates depending on the length and quality of release, but increasingly the higher the size, the more likely they are to use the x264 codec.
With its classic and secret beauty, this Californian from Sacramento has won the Summit. He was seen on “21 Jump Street” with Channing Tatum, and “Crazy Amy” by Judd Apatow. And against more prominent actresses like Jennifer Lawrence, Gal Gadot or Scarlett Johansson, Brie Larson signed a seven-contract deal with Marvel.
There is nothing like that with Watch The Curse of La Llorona Free Online, which is signed mainly by women. And it feels. When he’s not in a combination of full-featured superheroes, Carol Danvers Zack Snyder’s Justice League (2021) Nirvana as Zack Snyder’s Justice League (2021) anti-erotic as possible and proves to be very independent. This is even the key to his strength: if the super hero is so unique, we are told, it is thanks to his ability since childhood, despite being ridiculed masculine, to stand alone. Too bad it’s not enough to make a film that stands up completely … Errors in scenarios and realization are complicated and impossible to be inspired.
There is no sequence of actions that are truly shocking and actress Brie Larson failed to make her character charming. Spending his time displaying scorn and ridicule, his courageous attitude continually weakens empathy and prevents the audience from shuddering at the danger and changes facing the hero. Too bad, because the tape offers very good things to the person including the red cat and young Nick Fury and both eyes (the film took place in the 1990s). In this case, if Samuel Jackson’s rejuvenation by digital technology is impressive, the illusion is only for his face. Once the actor moves or starts the sequence of actions, the stiffness of his movements is clear and reminds of his true age. Details but it shows that digital is fortunately still at a limit. As for Goose, the cat, we will not say more about his role not to “express”. Already the 21st film for stable Marvel Cinema was launched 10 years ago, and while waiting for the sequel to The 100 Season 6 Movie war infinity (The 100 Season 6 Movie, released April 24 home), this new work is a suitable drink but struggles to hold back for the body and to be really refreshing. Let’s hope that following the adventures of the strongest heroes, Marvel aged to increase levels and prove better.
Work of art in the form of a series of live images that are rotated to produce an illusion of moving images that are presented as a form of entertainment. The illusion of a series of images produces continuous motion in the form of video. The film is often referred to as a movie or moving picture. Film is a modern and popular art form created for business and entertainment purposes. Film making has now become a popular industry throughout the world, where feature films are always awaited by cinemas. Films are made in two main ways. The first is through shooting and recording techniques through film cameras. This method is done by photographing images or objects. The second uses traditional animation techniques. This method is done through computer graphic animation or CGI techniques. Both can also be combined with other techniques and visual effects. Filming usually takes a relatively long time. It also requires a job desk each, starting from the director, producer, editor, wardrobe, visual effects and others.
Definition and Definition of Film / Movie
While the players who play a role in the film are referred to as actors (men) or actresses (women). There is also the term extras that are used as supporting characters with few roles in the film. This is different from the main actors who have bigger and more roles. Being an actor and an actress must be demanded to have good acting talent, which is in accordance with the theme of the film he is starring in. In certain scenes, the actor’s role can be replaced by a stuntman or a stuntman. The existence of a stuntman is important to replace the actors doing scenes that are difficult and extreme, which are usually found in action action films. Films can also be used to convey certain messages from the filmmaker. Some industries also use film to convey and represent their symbols and culture. Filmmaking is also a form of expression, thoughts, ideas, concepts, feelings and moods of a human being visualized in film. The film itself is mostly a fiction, although some are based on fact true stories or based on a true story.
There are also documentaries with original and real pictures, or biographical films that tell the story of a character. There are many other popular genre films, ranging from action films, horror films, comedy films, romantic films, fantasy films, thriller films, drama films, science fiction films, crime films, documentaries and others.
That’s a little information about the definition of film or movie. The information was quoted from various sources and references. Hope it can be useful.
❍❍❍ TV MOVIE ❍❍❍
The first television shows were experimental, sporadic broadcasts viewable only within a very short range from the broadcast tower starting in the 1930s. Televised events such as the 1936 Summer Olympics in Germany, the 19340 coronation of King George VI in the UK, and David Sarnoff’s famous introduction at the 1939 New York World’s Fair in the US spurred a growth in the medium, but World War II put a halt to development until after the war. The 19440 World MOVIE inspired many Americans to buy their first television set and then in 1948, the popular radio show Texaco Star Theater made the move and became the first weekly televised variety show, earning host Milton Berle the name “Mr Television” and demonstrating that the medium was a stable, modern form of entertainment which could attract advertisers. The first national live television broadcast in the US took place on September 4, 1951 when President Harry Truman’s speech at the Japanese Peace Treaty Conference in San Francisco was transmitted over AT&T’s transcontinental cable and microwave radio relay system to broadcast stations in local markets.
The first national color broadcast (the 1954 Tournament of Roses Parade) in the US occurred on January 1, 1954. During the following ten years most network broadcasts, and nearly all local programming, continued to be in black-and-white. A color transition was announced for the fall of 1965, during which over half of all network prime-time programming would be broadcast in color. The first all-color prime-time season came just one year later. In 19402, the last holdout among daytime network shows converted to color, resulting in the first completely all-color network season.
❍❍❍ Formats and Genres ❍❍❍
See also: List of genres § Film and television formats and genres Television shows are more varied than most other forms of media due to the wide variety of formats and genres that can be presented. A show may be fictional (as in comedies and dramas), or non-fictional (as in documentary, news, and reality television). It may be topical (as in the case of a local newscast and some made-for-television films), or historical (as in the case of many documentaries and fictional MOVIE). They could be primarily instructional or educational, or entertaining as is the case in situation comedy and game shows.[citation needed]
A drama program usually features a set of actors playing characters in a historical or contemporary setting. The program follows their lives and adventures. Before the 1980s, shows (except for soap opera-type serials) typically remained static without story arcs, and the main characters and premise changed little.[citation needed] If some change happened to the characters’ lives during the episode, it was usually undone by the end. Because of this, the episodes could be broadcast in any order.[citation needed] Since the 1980s, many MOVIE feature progressive change in the plot, the characters, or both. For instance, Hill Street Blues and St. Elsewhere were two of the first American prime time drama television MOVIE to have this kind of dramatic structur.[better source needed] while the later MOVIE Babylon 5 further exemplifies such structure in that it had a predetermined story running over its intended five-season run.[citation needed] In “DC1&”, it was reported that television was growing into a larger component of major media companies’ revenues than film. Some also noted the increase in quality of some television programs. In “DC1&”, Academy-Award-winning film director Steven Soderbergh, commenting on ambiguity and complexity of character and narrative, stated: “I think those qualities are now being seen on television and that people who want to see stories that have those kinds of qualities are watching television.
❍❍❍ Thank’s For All And Happy Watching❍❍❍
Find all the movies that you can stream online, including those that were screened this week. If you are wondering what you can watch on this website, then you should know that it covers genres that include crime, Science, Fi-Fi, action, romance, thriller, Comedy, drama and Anime Movie. Thank you very much. We tell everyone who is happy to receive us as news or information about this year’s film schedule and how you watch your favorite films. Hopefully we can become the best partner for you in finding recommendations for your favorite movies. That’s all from us, greetings!
Thanks for watching The Video Today. I hope you enjoy the videos that I share. Give a thumbs up, like, or share if you enjoy what we’ve shared so that we more excited.
Sprinkle cheerful smile so that the world back in a variety of colors.
Thanks u for visiting, I hope u enjoy with this Movie Have a Nice Day and Happy Watching :)
Zack Snyder’s Justice League full Movie Watch Online
Zack Snyder’s Justice League full English Full Movie
Zack Snyder’s Justice League full Full Movie,
Zack Snyder’s Justice League full Full Movie
Streaming Zack Snyder’s Justice League Full Movie Eng-Sub
Watch Zack Snyder’s Justice League full English Full Movie Online
Minimum 1.00 kr

রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ১৩ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ১৩ )


              ( খন্ড ১৩ )

সুমি রুবেলের কলার ধরে এক টানে রুবেলকে
শরীরের উপর এনে জড়িয়ে ধরে রইল । এরপর
রুবেল সরাসরি সুমির ঠোটে চুমু দিল দুটি
ঠোট একত্রে হয় আর কারেন্টের শক খায়
এভাবে ঘাড়ে,গলায়,কনেকক ্ষন চুমু খেয়ে
পরক্ষনে সরে আসলো । সুমি রুবেলের
বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে আদিম তৃষ্ণায়
সাপের মত ফোঁসফোঁস আর ছটফট করছে ।
রুবেলের আর সাহস হলোনা নিজ বাসায় এমন
কিছু একটা করবে সে সুমিকে রেখে ভাবির
সামনে এসে দাড়িয়ে রইল ।
কিছুক্ষন পর সুমি উঠে রুবেলকে ডাকছে
রুবেল গেল এবার সুমি বলছে দেখেন
আপনাকে ভালবাসি মন থেকে তাই হয়তো
এগুলো হয়েছে আমি আমার জীবনে প্রথম
কাউকে চুমু দিলাম তাও হয়তো দিতাম না
কারন এইসব আমি জানতাম না আপনার এক
সময়ের প্রেমিকা এগুলো আমাকে শিখিয়েছে

মানুষ আসলেই সঙ্গ দোষে নষ্ট হয়ে যায় ।
আমি ভুল কিছু করে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন
তবে একটা জিনিষ খুব ভালভাবে বুঝলাম যে
আপনার মনের মধ্যে একটা ভাল মানুষ
লুকিয়ে আছে আমি আজ তাকে দেখলাম ।
আপনি চাইলে পারতেন আজ আমাকে নষ্ট
করতে এবং সেখানে আপনার কোন দোষ হতো
না । কিন্তু আপনার অপরাধের আড়ালে
লুকিয়ে থাকা বিবেক সে কাজে বাধা
দিয়েছে ।
আপনি চেষ্টা করে দেখুন পারবেন আর একটা
কথা আমি যেমন আপনাকে আজকের ঘটনার পর
থেকে সারাজীবন মনে রাখব তেমনি
আপনারও যদি প্রথম হয় তাহলে আপনি
আমাকে ভুলবেন না । কেউ গালে চড় মারলে
আপনার হয়তো মনে হবে এখানে সুমি চুমু
দিয়েছিল ঐ হাতে অস্র্র্ নেওয়ার সময়ও
মনে হবে এ হাতে সুমি হাত রেখেছিল ।
সুমি চলে যাবে ভাবি বলল না আজকে যাওয়া
হবে না দুপুরে খেয়ে তারপর যাইবা ।
মা আসলো কিছু সিঙ্গারা-নিমকি নিয়ে এসে
বলছে সুমি মা আমার আজ তুমি রান্না করবে

সুমি জ্বি আম্মা বলে কিছুক্ষন পর রান্না শুরু
করলো রুবেল চলে গেল বন্ধুদের কাছে । এর
মধ্যে লিমন এসে বলল কিরে সালা রুবেল
তোকে খুঁজতে তোর বাসায় গেলাম গিয়ে যা
দেখলাম চোঁখতো কপালে উঠে গেছে দোস্ত
আমার মালটাকে গোপনে আবার বিয়ে করে
রেখে দিসনাইতো ।
রুবেল ধুর ব্যাটা ও আমার মাকে নিজের
মায়ের মত জানে মা হয়তো বলছে তাই
রান্না করছে । রুবেল আর প্রকৃত ঘটনা বলল
না শুধু মিজান জানতো ওর উপড় বিশ্বাস আছে
ও কখনো লিমনকে বলবে না । লিমন বলছে
রুবেলকে সাইটে নিয়ে দোস্ত আসলে সুমি
মেয়েটা এমনে মনের দিক থেকে অনেক ভাল
ওর সাথে যখন ঘুরতে যেতাম হাত ধরা ছাড়া
আর কিছুই করতে পারিনি ।
এইসব মেয়েদের আমার আবার পছন্দ নয় একটু
চুমাচুমি না করতে পারলে মজা লাগে বল
দোস্ত । রুবেল তুই সালা মানুষ হবি কবে ?
রুবেল দুপুরে খেতে আসছে সুমিকে আম্মা
ইশারা করছে । সুমি এসে বলছে এত দেরি
করে খেলে শরীর ভাল থাকে কাল থেকে
তারাতারি খেয়ে যাবেন । রুবেল খাইছেড়ে
পুরো বাড়ি বশ করে ফেলেছ দেখি পারও তুমি
বলে গোসল করে এসে খেতে বসে বলল ।
সুমির রান্নার হাত ভালই তাইনা আম্মা ।
আম্মা এইজন্যই তো বলি ওর মত একটা লক্ষি
মেয়ে ঘরে নিয়ে আয় । রুবেল আহ মা আবার
তাল পেয়ে শুরু করে দিলা আমি এখনই বিয়ে
করব না আরও পরে ।
বিকালে সুমি বাড়ির সবার কাছে বিদায়
নিয়ে রুবেলকে বলল রাতে আপনি আমাদের
বাড়ির পাশের মাঠে একটু আসবেন কথা আছে
। রুবেল আচ্ছা ঠিক আছে বলে রাত ৮টার
দিকে গেল মাঠে সুমি এলো ।
একটা ঠিকানা আর একটা মোবাইল নাম্বার
নিয়ে বলল আপনি এই ঠিকানায় গেলে
আমাকে পাবেন আর এই নাম্বার আমার
নানির, কখনো ফোন দিলে তাকে বলবেন
আমরা একই সাথে পড়তাম তাহলে আমাকে
দিবে । বলে কাঁদলো কতক্ষন বলে আপনাকে
ছেড়ে যেতে আমার ইচ্ছে করছে না । মনে
হচ্ছে আপনাকে আমি হাড়িয়ে ফেলব বলে
হাউমাউ করে কাঁদছে যে কান্না রুবেলের
পাথর মনটাকে ভিজিয়ে দিচ্ছিল ।
রুবেল আচ্ছা আমি যাব দুইদিন পর গিয়ে
তোমার নানিকে বলব যাবে এখনই তোমাকে
বিয়ে না দেয় ।
সুমি চলে যাচ্ছে রুবেলে পিছন থেকে চেয়ে
আছে । রুবেল তখন অনুভব করছে কাছের মানুষ
দূড়ে চলে গেলে কি কষ্টই না লাগে ।
সুমি পিছন দিকে ফিরে তাকিয়ে একটা
হাসি দিয়ে টাটা দিয়ে চোঁখের আড়াল হয়ে
গেল ।
পরের দিন সকালে নানিকে সাথে নিয়ে
সুমি খালার বাড়িতে চলে গেল । রুবেল তখন
গভীর ঘুমে উঠেই গেল সুমিদের ওখানে
সুমিরা ছিল মোট ৪ বোন তার মা মারা
যাওয়ার পর বাবা আরও একটা বিয়ে করে
সেই ঘরে ২ বোন কোন ভাই ছিলনা । এক
বোনের স্বামী আবার এলাকায় থাকতো তাকে
সুমির কথা জিজ্ঞাসা করলো তাকে
বিস্তারিত সব খুলে বলল এবং রুবেল নিজের
পরিচয় দিল ।
রুবেলের পরিচয় পেয়ে দুলাভাই বলে
খাইছেড়ে ভাই আপনি সেই লোক আজ প্রথম
দেখলাম । তবে নানি কিন্তু গুন্ডা ছেলে
পছন্দ করেনা । রুবেল আপনি কবে যাবেন ঐ
বাসায় দুলাভাই । দুলাভাই বলছে ভাই
আমাকে স্বরম দিবেন না । আমি আপনার
বয়সের আমাকে বন্ধু ভাবতে পারেন যদিও
অল্প বয়সে সুমির বড়বোনকে বিয়ে করেছি ।
আপনি আমার বন্ধু হলেই খুশি হব আর আমি
আগামী পরশু ওদের বাড়ীতে যাব যদিও
নানি আমাকে দেখতে পারে না তার বড়
নাতনিকে ভাগিয়ে বিয়ে করার জন্য আমি
সেখানে আপনার জন্যই যাব ।
রুবেল ঠিক আছে বলে চলে আসলো পরশু দিন
সেই দুলাভাইকে সাথে নিয়ে খালার বাড়ী
পীরেরবাগ গেল ।
নানি বাসায় ছিল সুমির ছোটবোন সে
রুবেলকে দেখে চিনে ফেলল । নানি
দুলাভাইকে বলল জামাই সাথে যাকে এনেছে
কে সে দুলাভাই পরিচয় দিল এটা আমার খুব
ঘনিষ্ট বন্ধু । দুলাভাই নানিকে বলছে ও
নানি সুমিকে দেখছি না । নানি ও গোসল
করতে বাথরুমে ঢুকছে তোমরা বসো আমি
তোমাদের জন্য কিছু হালকা নাস্তার
ব্যাবস্তা করি । সুমির ছোটবোন রুমাকে
নিয়ে নাস্তা আনতে নানি চলে গেল ।
রুবেল দুলাভাইকে বলছে সুমিকে একটু ভয়
দেখাব আপনি একটু বাহিরে যান । দুলাভাই
বাহিরে গেল রুবেল বাথরুমের দরজার
আড়ালে দাড়িয়ে রইল । সুমি মাত্রই বাথরুম
থেকে বের হয়ে রুমে ঢুকে গামছা দিয়ে চুল
ঝাকা দিচ্ছে । রুবেল চুপি চুপি পিছন দিয়ে
সুমিকে জড়িয়ে ধরল সুমি হটাৎ ভয়ে পিছন
ফিরে দেখে রুবেল আরে রুবেল ভাই আপনি
বলে বুকে থু থু দিল জানেন কি ভয়টা না
পেয়েছিলাম । আপনি কিভাবে এলেন তাও
সরাসরি বাসায় । রুবেল সুমিকে দেখছে
সুমি কি দেখেন কথা বলেন না কেন?
রুবেল তোমাকে দেখি ভেজা চুলে তোমাকে
অসাধারন লাগছে সুমি । সুমি তাই বুঝি বলে
লজ্জায় লাল হয়ে গিয়ে রুবেলে সামনে
আসলো বলে এখন আরও ভাল করে দেখেন ।
সুমি বললো কার সাথে আসছেন বললেন নাতো
অমনি দুলাভাই ঢুকে বলল আমার সাথে । সুমি
ও সোহেল ভাই খুব ভাল করেছেন দুলাভাই ।
দুলাভাই এই সুমি তোমাকে না বলছি আমাকে
দুলাভাই বলবে না আমাকে সবসময় সোহেল
ভাই বলবে দুলাভাই বললে নিজেকে বুড়ো
বুড়ো লাগে হা,হা,হা ।
সুমি আচ্ছা বোনকে বিয়ে করেও ভাই আবার
বিয়ে করার ইচ্ছে আছে নাকি সোহেল ভাই ।
দুলাভাই আবার জিগায় তুমি হয়তো জানোনা
পুরুষের ভাগে সারে ৩ জন করে ভাগে পরছে
। সুমি হুম বুঝলাম আর আমারজন বিয়ের নাম
শুনলেই ভয় পায় । দুলাভাই কি বলো ভয়
তাড়ানোর ঔষধ দিয়ে দিবা । এর মধ্যে
নানি ঢুকে কে আবার ভয় পায় হে ।
সুমি নানি তোমার নাত জামাই তার বউকে
নাকি ভয় পায় । নানি ভয়তো পাবেই
পিরিতের বিয়াই এইরকম আমি তোর নানাকে
দেখে ভয়ে খাটের তলে লুকাতাম । আর
এখনকার ছেলেমেয়ে কিইবা বয়স মোছ উঠে
নাই বিয়ের জন্য পাগল হয়ে যায় । দুলাভাই
নানি তুমি কিন্তু আমাকে ইঙ্গিত করে
কথাগুলো বলছো । এইজন্যই তোমার এখানে
আসতে চাইনা । রুবেল নানি ঠিক বলছেন
মোছ উঠে নাই কিসের বিয়া বিয়ের নুন্মতম
একটা বয়স লাগে তাইনা নানি । এবার
দুলাভাই ও আমার লগে আইসা এখন এই
বুড়িটার সাথে হাত মিলাইছো সমস্যা নাই
শালি আমার সাথে আছে ।
নাস্তা খেয়ে বলল আচ্ছা আমরা আজ তাহলে
উঠি নানি উঠবি মানে দুপুরে খেয়ে তারপর
যাবি আর সাথে আমার নতুন নাতি এনেছো
ঠিকমত তার সাথে কথা বলতেও পারলাম না

তোরা থাক আমি বাজার থেকে কিছু কিনে
নিয়ে আসি বলে আবারও রুমাকে নিয়ে চলে
গেল । দুলাভাই বলল রুবেল ভাই যাবেন
নাকি বাহিরে সিগারেট খেতে । সুমি কি
রুবেল ভাই আপনি এখনও সিগারেট খান ।
রুবেল আরে না দুলাভাই আপনি যান আমি একটু
সুমির সাথে কথা বলি দুলাভাই ওকে আমি
গলির মোড়ে দাড়াই গিয়ে বুড়িটা আসলে
দৌড়ে চলে আসব ।
রুবেল সুমিকে বলল তোমার বিয়ের কোন কথা
বলছে নানি । সুমি হ্যা শুক্রবারে নাকি
ছেলে আমাকে দেখতে আসবে বলেছে । রুবেল
কি বল এত তারাতারি । সুমি হ্যা নানি
বলে ছেলেটা নাকি যে কাজ করে অনেক
টাকা কামায় খুব ভাল ছেলে । রুবেল তুমি
নানিকে বলনি আমাদের কথা । সুমি ওরে
বাপরে নানিকে এমনি ঠান্ডা দেখে কি
মনে হয় সে ঠান্ডা আসলে ভিতরে সে অনেক
কড়া আমি বললে আমার খবর আছে আপনিতো
এসেছেন আজ বলে যান ।
রুবেল দেখি কথাটা তুলব আর তোমাকে
বাসায় গিয়ে যেই নাম্বার থেকে ফোন দিব
কোন ঝামেলা হলে সেই নাম্বারে ফোন
দিবা । সুমি আচ্ছা ঠিক আছে এখন বলেন
আমার আম্মা কেমন আছে । রুবেল হুম সবাই
ভালো আছে শুধু ভালো নেই আমি । সুমি
আপনার আবার কি হয়েছে?
রুবেল তুমি চলে আসার পর থেকে তোমাকেই
শুধু মনে পরে । সুমি এইবার বুঝেন তাহলে
আমি কিভাবে এখানে দিন কাটাই । নানি
বাজার নিয়ে আসলো দুলাভাই আগেও ঠুকেছে
বাসায় । দুলাভাই কথাটা তুলল নানি সুমির
নাকি বিয়া ঠিক করছো । নানি হ শুক্রবারে
সুমিকে দেখতে আসবে । আর ও যেখানে ছিল
ওখানে একটা ছেলের সাথে তাকে কথা
বলতে একদিন দেখছি । ছোটটা কবে বড় হয়
তার বিয়ে দেখে যেতে পারব কিনা ঠিক
নেই । তাই আমি চাইনা আমার এই
নাতনিটাও বড়টার মত পালিয়ে বিয়ে করুক

বুঝলাম তবে ছেলেটাকে বিয়ে করতে সুমি
রাজি আছে কিনা সেটাওতো জানা দরকার
সুমির নিজের পছন্দ থাকতে পারে । পরে
দেখা যাবে বিয়ের পর সুখে নাই তখন কি
করবা । নানি দেখো জামাই বেশি বুঝবা না
আমি যখন তোমার নানাকে বিয়ে করি তখন
এরকম ছেলে মেয়ে দেখার চল ছিলনা ।
তোমার নানাকে নিয়া ৬২ বছর কাটাইছি
কোন সমস্যা হয়নি ।
বাদ দেও ঐ সব প্যাচাল ঐ নাতির সাথে
একটু কথা বলি তা নাতি তুমি কি করো ।
রুবেল না নানি আমি এখনও কিছু করিনা
বাপের হোটেলে খাই আর বনের মোষ তাড়াই
। নানি চাকরি বাকরি কিছু করার চেষ্টা
কর এভাবে দিন কাটবে না বিয়ে শাদি
করতে হবে না । রুবেল নানি বউতো আমার
আছে । নানি কি বিয়ে করে তারপরও বাপের
হোটেলে খাও । রুবেল আরে না নানি আমার
বউতো তুমি তোমাকে বিয়ে করে সারাজীবন
পায়ের উপর পা তুলে খাব । নানি যাহ
হত্তোছাড়া আমার কি সেই যৌবন আছে ।
রুবেল নানিকে বলল নানি তোমার মোবাইল
নাম্বারটা দাও কোন প্রয়োজন হলে ফোন
দিব । নানি সুমিকে বলল লিখে দে আর
নাতি তুমি কিন্তু সুমির বিয়ের সময় আসবে
নাতজামাইয়ের সাথে । রুবেল সে দেখা
যাবে নানি এরপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে
রুবেল চলে আসলো ।
রাত ৮ টার দিকে রুবেল ফোনের দোকান
থেকে ঐ নাম্বারে ফোন দিলো ধরলো রুমা
তাকে বলল সুমি আছে বলে হ্যা দিচ্ছি ।
সুমি হ্যালো রুবেল বল কি বলবে । রুবেল
আমি তোমাকে ছাড়া এক মূহুর্ত থাকতে
পারছি না ।মনের মধ্যে কেমন আনচাঁন
আনচাঁন করে । সুমি হ্যা দূড়ে গেলেই করে
নানিকে বলার সাহসতো হলো না ।
রুবেল সকাল ১১টার দিকে একটু দেখা করতে
পারবা । তাহলে আমি তোমাদের এলাকায়
আসবো আমি গলির মোড়ে এসে দাড়িয়ে থাকব
। সুমি আচ্ছা আসব । রুবেল ঠিক আছে বলে
ফোন রেখে দিল ।
পরেরদিন রুবেল গেল ঐ এলাকায় সুমি
ছোটবোন রুমাকে নিয়ে আসলো ওরা রিকসায়
ঘুরলো শিশু পার্কে গেল তারপর সুমিকে
এলাকায় পৌছে দিয়ে বাসায় এভাবে
একসপ্তাহে ৩ বার ঘুরলো বৃহসপ্রতিবারে
নানি বুঝলো ওরা কোথাও যায় । নানি ফোনে
নাম্বার পেয়ে সেই নাম্বার থেকে বলল
এটা রুবেলদের এলাকা নানি বুঝল যেই
ছেলের সাথে তাকে দেখছিলো সেই হয়তো
ফোন করে তার তার সাথেই হয়তো ঘুরতে যায়
। রুবেল সুমিকে এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার
সময় বলল কালতো শুক্রবার ওরা আসবে
তোমাকে দেখতে সমস্যা হলে ঐ নাম্বার
যেটাতে ফোন দেই আমি দোকানদারকে বলে
দিব নাম্বারটা সেভ করে রাখতে তুমি ফোন
দিবা বলে চলে এলো ।
নানি মোবাইল থেকে নাম্বার ডিলেট করে
দিয়েছে আগেই তারপর ওরা বাসায় আসার
পর বলতেছে কই গেছিলা ঐ সব ফালতু ছেলের
সাথে বিয়ের আছে ঘুরাঘুরি করবা আমি
মেনে নিব । কালকেই তোমার বিয়ে ঘর
থেকে বের হওয়ার কোনরকম চেষ্টা করবে
না । আমি ছেলের মাকে ফোন দিয়ে কথা
বলছি তারা বলেছে ঠিক আছে কালকেই
তোমাকে নিয়ে যাবে । সুমি নানি এরচেয়ে
আমাকে মেরে ফেলো তাও আমি ঐ ছেলেকে
বিয়ে করব না । আমি রুবেল ভাইকে
ভালবাসি ।
নানি কি রুবেল ঐ যে সেদিন এসেছিল
তোমার দুলাভাইয়ের সাথে সেই ছেলেটা ।
সুমি হ্যা । নানি এতবড় চিটিং আমার সাথে
সোহেল আমার এক নাতনিকে নিয়ে পালিয়ে
বিয়ে করে রাখছে বস্তিতে আবার তোমাকেও
সেই রাস্তায় নিয়ে যেতে চেয়েছিল ।
কপাল ভাল আমার কেউ জানেনা তা নাহলে
মানসন্মান সব যেত আমার । সুমি রুবেল ভাই
সেরকম ছেলে না তাদের নিজেদের বাড়ি
আছে ঐ এলাকায় । নানি বাড়ি থাকলে কি
হবে সেতো বেকার তাছাড়া তোমাকে বিয়ে
করলে তাকে বাসায় মেনে নিবে সে
গ্যারান্টি কে দিবে? সুমি তার মা আমাকে
খুব পছন্দ করে । নানি পছন্দ আর ছেলের বউ
হিসাবে মেনে নেওয়া একনয় ।
তুই আমি যেই ছেলেকে পছন্দ করেছি তাকেই
বিয়ে করবি । শুক্রবারে আর সুমির ফোন আসে
না রুবেল ফোনের দোকানে একটু পরপর খোঁজ
নেয় । শনিবারে সোহেল ভাইয়ের সাথে ঐ
এলাকায় গিয়ে শুনে বিয়ে হয়ে গেছে সুমির
। সোহেল ভাই নানির সাথে তুমুল ঝগড়া করে

ছোটবোন রুমা রুবেলকে বলে কিভাবে নানি
তার আপাকে জোর করে বিয়ে করতে বাধ্য
করেছে । রুবেল শুনে নানিকে বলে সে কি
ছিল আর সুমি তার জীবনে কতটা মূল্যবান
ছিল ।
নানিকে শুধু আসার সময় একটা কথাই বলেছে
যা হয়েছে আর যা করেছেন যদি দেখি সুমি
সুখে আছে সব ভুলে যাব আর যদি সে তার
স্বামীর কাছে সুখে না থাকে তবে আপনি
যার জন্য দায়ী থাকবেন । কখনো ক্ষমা
পাবেন না বলে চলে এল|

চলবে.......... 

সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

 একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ১০ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ১০ )


             ( খন্ড ১০ )

এরপর রুবেল কোন কারন ছাড়াই বিপক্ষ
গ্রুপের যাকেই পাচ্ছে একটা একটা করে
মারছে ।
দুইগ্রুপের ওরা টিকতে না পেরে কেউ
এলাকা ছেড়ে দিছে আবার কেউ ভাল হয়ে
গেছে ।
একদিন আমান যেই বন্ধুটা মুনমুনদের
এলাকায় থাকতো সে এসে বলল এক এলাকায়
রেড মারতে যাবে দোস্ত তোরা বন্ধুরা সব
সন্ধার দিকে আসবি । রুবেল ঠিক আছে বন্ধু
বলে ওকে নাস্তা খাইয়ে বিদায় করে দিল ।
সন্ধায় ওদের এলাকায় গিয়ে অন্য এলাকায়
গিয়ে কয়েকটাকে মেরে হাসপাতালে
পাঠিয়ে আমানদের এলাকায় বসে আড্ডা
মারছে ।
কিছুক্ষন পর যাদের মেরেছিল ওরা পুলিশ
সাথে করে নিয়ে এসে আমানদের এলাকায়
আসামী ধরতে রেড মারল । আমানের বন্ধুরা
সব দৌড় রুবেল লিমনদের বলল তোরা এদিক
দিক দিয়ে পলা । দোস্ত তুই যাবি না লিমন
বলল । রুবেল দোস্ত আমি পরিস্থিতি দেখে
তারপর আসছি বলে ওদের বিদায় করে দেয় ।
এদিকে পুলিশ প্রতিটা ঘর ওরা দেখিয়ে
দেয় আর তল্লাসি চালায় আমানদের দুইজনকে
ইতিমধ্যে ধরেছেও ।
পুলিশ রুবেলের দিকে আসছে দেখে সে
মুনমুনদের বাসায় দৌড়ে ঢুকে গেল । ওরা
জানত এলাকায় পুলিশ ঢুকছে । রুবেলকে
মুনমুন বলল আপনিও ওদের সাথে চলে কেন
মারামারি করেন । দেখেন এখনও সময় আছে
ফিরে আসেন । রুবেল না এ পথে ঢোকা সহজ
ফিরে আসা অনেক কঠিন । আমিতো এমন
ছিলাম না পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে

এর মধ্যে কয়েকটা পুলিশ মুনমুনদের বাসার
এক রুমে ঢুকছে দেখে মুনমুন রুবেলকে বলছে
আপনি খাটে শুয়ে থাকেন আমি দেখছি ।
মুনমুনের মা পুলিশদের বলল কি চান
আপনারা আমাদের বাসায়?
পুলিশ আপনাদের বাসায় আমান নামের কেউ
আছে কি ? মুনমুনের আম্মা না এই নামে কেউ
নেই । পুলিশ ফিতরের রুমে ঢুকল ইনি কে
রুবেল ধতমত খেয়ে বসে গেল ।
মুনমুনের আম্মা আমার ভাতিজা বেড়াতে
এসেছে গতকাল । পুলিশ ও আচ্ছা বলে চলে
গেল কপাল ভাল রুবেলের যে পুলিশের সাথে
বিপক্ষ দলের কেউ আসেনি নাহলে ধরা খেত

রুবেলকে মুনমুনের আম্মা বলছে দেখ বাবা
তোমাকে চিনিনা মুনমুন এসে বলল তোমাকে
চিনে তাই তোমাকে আজ পুলিশের হাত থেকে
বাঁচালাম । বাবা তুমি এ রাস্তা ছেড়ে দাও
। রুবেল বলছে হে ছেড়ে খালাম্মা ছেড়ে
দিতাম হয়তোবা এ রাস্তা আমি চিনতামও
না, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আমাকে
এখানে নিয়ে এসেছে । তাই এখন চাইলেও
ছেড়ে দিতে পারব না, তাহলে ওরা আমাকে
ছাড়বে না বলে রুবেল ওখান থেকে চলে
আসলো ।
রুবেল অন্য এলাকা দিয়ে নিজের এলাকায়
আসবে বিপক্ষ শত্রুরা জানত যে এদিক দিয়ে
যাবে ।
রুবেলকে রাস্তায় পেয়ে আটকালো তারপর
রশি দিয়ে হাত পিঠমোড়া করে বেধে ফেলল
।এরমধ্যে কয়েকজন চড় থাপ্পড় মেরেছেও
রুবেল শুধু বলছে যদি আমি ছাড়া পাই তবে
তোরা কেউ বাঁচবি না ।
ওরা রুবেলকে মেরে ফেলবে এমন কথাও
নিজেদের মধ্যে চলছে । ওরা কয়েকজনকে
পাঠালো যা জিনিষ নিয়ে আয় ।
এর মধ্যেই এক বড়ভাই এসে ওদের বলল দেখি
কাকে আটকিয়েছিস বলে রুবেলের সামনে
এসে বলল ওকে একটু আলোর মধ্যে নিয়ে আয় ।
রুবেলকে ওরা ধরে আলোর মধ্যে নিতেই
বড়ভাই অবাক ওদের বলছে ঐ সালারা কাকে
ধরেছিস চিনস ওরে তারাতারি ওর বাধন
খোল আল্লারে তোগো বুঝি এলাকায় থাকার
ইচ্ছা নাই । ঐ জামাল ওর গায়ে কেউ হাত
দিসনাই তো আবার?
রুবেলের বাধন খুলে দিল ঐ বড়ভাই বলল
জামাল একটা চেয়ার নিয়ে আয় । জামাল
তাকে পাশে ডেকে জিজ্ঞাসা করছে কে সে
বড়ভাই বলছে অমুক নেতার ক্লোজ ছোটভাই ও
যদি তার কাছে কিছু বলে তোরাতো এলাকা
ছাড়া হবিই সাথে আমিও ।
রড়ভাই এবার রুবেলকে বলছে তুমি আমার
ছোটভাই ওরা তোমারে চিনে নাই না বুঝেই
আটকাইছে ভাই তুমি কিছু মনে করো না । ঐ
জামাল কিছু নিয়ে আয় রুবেলকে ওরা চা-
নাস্তা খাইয়ে রিকসায় তুলে দিল ।
আমান ওরা এলাকায় অপেক্ষা করছে রুবেল
এসে বলল সব । আমান থাক ওদের এখন কিছু
বলব না ওরা ইজতেমায় যাবে তো আমাদের
এলাকা দিয়েই তখন ছোটগুলোকে দিয়ে মার
দিয়ে দিব । রুবেল ঘুমাতে চলে গেল ।
পরেরদিন নেতার সাথে মিটিংয়ে গেল
নেতা রুবেলকে খুব পছন্দ করতো সব যায়গায়
নিজের ছোটভাই বলে পরিচয় করিয়ে দিত ।
গতরাতের ঐ বড়ভাইকেও মিটিংয়ে
পেয়েছিল সে রুবেলকে বলছে ভাইকে কিছু
বলছে নাকি আবার । রুবেল না এখনও বলিনি
। ভাই অনুরোধ আমার কিছু বইল না । রুবেল
মনে মনে আমার গায়ে হাত দিছে এর
প্রতিশোধ আমি নিব অবস্যই ।
এর মধ্যে একদিন এলাকায় জয়নাল গ্রুপের
সাথে আর শান্ত,জুলহাস,মম িন, ওদের দুই
গ্রুপের তুমুল মারামারি হলো । ওদের মধ্যে
শান্তই রুবেলকে সবসময় অপমান করতো মামা
বাড়ি থেকে যখন রুবেল ওদের সাথে মিশতে
চাইতো । ওরা তখন ছিল এলাকার বড় গুন্ডা
তাই ।
রুবেল সবসময় চাইতো ওদেরকে একদিন নিচে
নামাবে বাধ্য করবে ওদের ভুল ভাঙ্গাতে ।
লিমন বলছে রুবেল শান্ত,জুলহাস,মম িন,
ওরাতো মার খেল চল আমরা এখন ওদের
সাপোর্ট দিয়ে জয়নালকে জন্মের মত শিক্ষা
দেই । রুবেল বন্ধু অপেক্ষা করে আমরা ওদের
কাছে যাব না ওরাই নত হয়ে আমাদের কাছে
আসবে ।
শান্তরা বাহিরের লোকজন এনে জয়নালদের
সাথে মারামারি করে ওরা ওদের মারে
আবার জুলহাসরা পাল্টা মার দেয় ।
রুবেল বসে বসে মজা নেয় শান্তরা
জয়নালদের সাথে না পেরে একদিন রুবেলকে
এসে বলছে দেখরে সবইতো শুনলি আমাদের
অহংকার এখন মাটিতে মিলিয়ে যেতে
বাকি, আগে আমাদের যেই বন্ধুগুলোকে নিয়ে
গ্যান্জাম করতাম এখন অনেকেই কাজে ঢুকে
গেছে । আমরা এখন দূর্বল তোরা আমাদের
সহযোগিতা কর আর আগে যা হয়েছে আমি ভুল
করছি যেহুতু আমরা একই এলাকার তোরা এখন
এলাকার মানসন্মান বাঁচা । আমরা এখন
থেকে একসাথে চলব যা করব একসাথে কি
বলিস তুই ।
রুবেল বলছে দেখি ওদের সাথে আলাপ করে
জানাব ।
রুবেলের বন্ধুরা বলল এই সূযোগ পুরো
এলাকার নিয়ন্ত্রন নেওয়ার ভালোই হবে
ওরা আমাদের সাথে থাকলে । রুবেল ভেবে
দেখল জয়নালরা এলাকার সিনিয়রদের
লিডে লাফায় । ওদের সাথে এখন ঝগড়া করা
মানে সিনিয়রদের শত্রু হওয়া আবার
জয়নালদের শিক্ষাও দিতে হবে । রুবেল
এলাকার নিজেদের সিনিয়র ভাইদের সাথে
কথা বলল তারপর শান্ত,জুলহাস,মম িন,
ওদের ডেকে মিলে গেল ওরাও ওদের সবার
সাথে পরিচয় করিয়ে দিল ।
ঐ দিন বিকালে জয়নাল শান্তদের একটা
বন্ধুকে আবার মারল রুবেল আর শান্ত জুলহাস
সবাই মিলে ওদের মহল্লায় ঢুকে ওদের
যাকে পেয়েছে তাকেই মেরেছে রুবেলের
হাতে রামদা ছিল সে জুলহাসকে পেল
সামনে রুবেলকে দেখেই জয়নাল দৌড় রুবেল
দৌড়ে ধরে ফেলল রামদা দিয়ে প্রথম কোপ
মেরেছে জুলহাস হাত দিয়ে ঠেকাতে গেছে
। রামদার কোনার কোপে হাতের আঙুলের
মাঝ দিয়ে ভাগ হয়ে গেছে । আবার যেইনা
কোপ মারবে অমনি এলাকার সিনিয়ররা এসে
বলছে ঐ তোরে কুপাইতে কইছিলাম কি?
রুবেল জয়নালকে গালাগালি করে বলছে তোর
জন্য আমি গুন্ডা হয়েছি । খুবতো বাহাদুরি
দেখিয়েছিলি সেদিন আজ এত ভয় কেন । আমি
তোকে ছাড়ব না বলে রামদা এক বন্ধুর হাতে
দিয়ে কয়েকটা কিল খুশি মারছে সিনিয়ররা
বলছে ছাড় ওরে ডাক্তার খানায় নিতে হবে
। রুবেল হুমকী দিয়ে বলল জয়নালকে এটা
সেদিনের মারের প্রতিশোধ আর কোনদিন
যদি দেখছি তুই এলাকার মধ্যে গুন্ডামী
করছিস সেদিন তোকে মেরে ফেলব জানের
ভয় থাকলে আজকের পর কারও সাথে চলবি না
। আজ বড়ভাইদের জন্য ছেড়ে দিলাম বলে
ওখান থেকে চলে আসল ।
গায়ে হালকা রক্ত লাগানো কিছুদুর এসে
দেখল লিমন, শান্ত,জুলহাস মিলে এক
সিনিয়রকে মারছে সেখানে গিয়ে সে
তাকেও মারলো আর বলল আজকের মার আপনার
জন্য শিক্ষা এরপর থেকে ওদের আর সাপোর্ট
দিবেন না যদি ছোটদের হাতে মার
খাওয়ার লজ্জা থেকে থাকে ।
সেই ঘটনার জন্য জয়নাল মামলা করেছিল
যেহুতু অনেক আহত তারপর জয়নাল ঢাকা
মেডিক্যাল থেকে সার্টিফিকেট এনে নিজে
মামলা করেছে ৩০ জনের নামে প্রধান
আসামী রুবেল তারপর লিমন, শান্ত,জুলহাস
গং ।
মামলার কারনে সব বন্ধু পলাতক শুধু রুবেল
যায়নি সে এলাকায়ই ছিল সে ছিল
ঘাড়ত্যারা টাইপের । সে যেই এলাকায়
গ্যান্জাম করতো ২ ঘন্টা পর তাদের এলাকা
দিয়ে ঘুরতো কারন তার মধ্যে এতটাই
অহমিকা কাজ করতো যে মারছি পারলে
এবার মেরে দে যদি মারস তাহলে
এলাকায়ই রাখবনা ।
সেদিন এ ঘটনায় পুরো এলাকা থমথম অবস্তা
বিরাজ করছে । পুলিশ এলাকা
য় যাকে পাবে
তাকেই ধরবে এরমধ্যে কয়েকবার এলাকায়
এসেছিলও কাউকে পায়নি ।রুবেল এই
অবস্তাও রাতে জয়নালদের এলাকায় গেল ।
রুবেলের মা বারন করেছে সে শুনেনি সে
গিয়ে ওদের এলাকায় সিগারেট টানছে এ
দৃশ্য ওদের এলাকার অনেকে দেখে থ মেরে
গেল ।
জুলহাসদের এলাকার সিনিয়রদের একজন
রুবেলকে দেখে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দিল ।
রুবেল তখন সিনিয়রদের উদ্দেশ্য করে পুলিশ
আমার একটা লোমও ছিড়তেও পারবে না ।
কালই আসছি এলাকা ছাড়েন নাহলে খবর
আছে ।
পুলিশ রুবেলকে নিয়ে গেল পরেরদিন মা
গিয়ে কোর্ট যদিও এর আগে যায়নি কখনো
এলাকার একজনকে নিয়ে জামিনে বের করে
নিয়ে আসলো । পরে এলাকায় এই ঘটনার
বিচার বসলো সবাইকে ২০০০০ টাকা
জরিমানা করেছিল । রুবেল বিচারে যায়নি
কারন ওর ঘাড়ের রগ একটু ত্যারা টাইপের
তাই সে বিচারে যায়না ।
নেতা রুবেলকে ডেকে নিয়ে খুব প্রসংশা
করলো বলল পুরো এলাকা এখন থেকে তোরা
নিয়ন্ত্রন করবি বলে ১০০০০ টাকা দিল
নে রেখে দে কাজে দিবে রুবেল নিয়ে চলে
আসলো ।
রুবেল শান্তদের গ্রুপের মমিন ওরসাথে
ছোটবেলা থেকে ভাল সম্পর্ক এলাকার থেকে
দূড়ে একটা বস্তির মধ্যে ঐ মহল্লার
সবচেয়ে বড় মুদি দোকান ছিল ।
ওখানে গিয়ে ওর সাথে আড্ডা মারতো ওর
দোকানে অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে আসতো
মাল কিনতে আর এর মধ্যে একজনকে মমিন
আবার বিয়াইন বলে ডাকতো খুব মজা করতো
ওরা বিয়াইনটা ছিল খুব সেক্সি এমন এমন
কাপড় পড়তো রুবেলের দেখেই মাথা নষ্ট
অবস্য মমিনও লুইচ্চা টাইপের ছিল ।
বিয়াইনকে কি বিস্রি বিস্রি কথা বলত
বিয়াইন শুনে হেসে উড়িয়ে দিত । এখান
থেকেই রুবেলের নতুন জীবনের সুচনা ঘটবে
। কিন্তু কিভাবে জানতে সাথেই থাকুন |

চলবে......


বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

 একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ৮ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ৮ )

                ( খন্ড ৮ )

পরেরদিন ৫টায় ছুটি হলো রুবেল রাস্তার
মধ্যে জুঁইকে জিজ্ঞেস কি সিদ্ধান্ত নিলে
বলো ।
জুঁই কথা না বলে হাটছে জোরে জোরে
গার্মন্টেসের মেয়েদের সাথে হাটতে হলে
ছেলেদের দৌড়াতে হবে ।
তুমি কি কাউকে পছন্দ কর নাকি আমাকে
পছন্দ হয় নাই । রুবেল কি ব্যাপার কথা বল
না কেন ?
কোন কথা নেই এলাকায় এসে মেয়েটা যেই
না বাসায় ঢুকতে যাবে রুবেল বাসার
সামনের মেইন গেটে হাত টেনে ধরলো । জুঁই
হাত ছাড়েন আমার রুবেল এখন কথা বলছো
পুরো রাস্তায় এত কিছু জিজ্ঞেস করলাম কথা
বললে না ।
যদি অন্য কেউ পছন্দ থাকে শুনে রাখো
তাহলে তোমার হাত পা ভেঙ্গে এই গেটের
সাথে ঝুলিয়ে দিব বলে হুমকি দিয়ে চলে
আসলো । জুঁই দৌড়ে বাসার মধ্যে ঢুকে গেল ।
এরপর থেকে মেয়েটার খোঁজ নেই রুবেল ওর
ভাইয়ের দোকানে যায় ওখানেও আসে না ।
ওর ভাইকেও কিছু বলতে পারে না কারন
ওদের ফ্যামিলির ওরা জানতো কেউ একজন
ওর বোনকে ডিস্ট্রাব করে কিন্তু সেটা
রুবেল তা জানতো না ।
দুইদিন পর রুবেল বাসা থেকে বের হয়ে কি
মনে করে পিছে যেন তাকালো দেখে জুঁই
মাত্র গেট দিয়ে মাথা বের করেছে । রুবেল
আড়ালে লুকিয়ে গেল দেখি কি করে ।
দেখল জুঁই একবার ঐদিকে তাকায় আবার
এইদিকে তাকায় দেখে রুবেল বা তার
বন্ধুরা কেউ গলির মধ্যে দাড়িয়ে আছে
কিনা দেখল নাহ কেউ নেই ।
এবার জেরির মত বের হয়ে আসছে ঐ দিকে
রুবেল (টম) দেয়ালের পাশে দাড়িয়ে যেই
না মোড় ক্রস করবে রুবেল বের হয়ে সামনে
দাড়িয়ে গেল । টমকে দেখে যেমন জেরি
দৌড়ে পালায় তেমনি জুঁই ভূত দেখার মত
মাগো বলে দৌড় । সেই যে বাসায় ঢুকছে
কাজেও যায়না রাস্তায় বেরও হয়না ।
দুইদিন পর জুঁই কাজে যায়না দেখে একটা
ছেলে আসলো খবর নিতে । এদিকে রুবেল
লিমনকে বলল দোস্ত খবর নে কি হয়েছে ।
লিমন ওদের বাসায় গেল গিয়ে দেখে ঐ
ছেলেটার সাথে জুঁই হাসাহাসি করছে ।
কথাটা এসে রুবেলকে বলার পর রুবেল
রামদা নিয়ে গলির মধ্যে অন্ধকারে রেখে
মোড়ে দাড়িয়ে রইল ।
জুঁইয়ের ভাবি লিমনকে দেখে বুঝতে
পেরেছিল কিছু একটা ঝামেলা হতে পারে
তাই সে বারবার গেটের সামনে আসে ।
রুবেল বন্ধুদের ওখানে রাত ১১টা প্রযন্ত
অপেক্ষা করলো ছেলেটা বের হয় কিনা ?
না ছেলেটা আর বের হলো না । তাই সে চলে
আসলো ।
পরেরদিন রুবেল গেল জুঁইয়ের ভাই মিলনের
দোকানে সে চা সিগারেট খাইয়ে তারপর
বলছে দোস্ত আমি যতটুকু জানি এই এলাকায়
তোর মত গুন্ডা নাই ।
গতকাল রাতে তোদের এলাকার কোন ছেলে
নাকি আমার চাচাতো ভাই বাসায় এসেছিল
তাকে মারতে দাড়িয়ে ছিল । তোকে বলিনি
ছেলেটা নাকি ওর হাত ধরে রাস্তায়
টানাটানিও করে ।
একটু পর বলে আমার চাচাতো ভাই তোর সাথে
কিছু কথা বলবে সে আমাদের বাসায় আছে
বললে ডেকে নিয়ে আসি । ছেলেটাকে গিয়ে
ডেকে নিয়ে আসলো ছেলেটা এসেই সালাম
দিয়ে কুশলাদি জিজ্ঞেস করে নাম বলল
নাজমুল । বলে ভাই আপনার সাথে একান্তে
কিছু কথা বলতে চাই ।
রুবেল-লিমন-নাজম ুল গেল সেই যায়গায়
যেখানে জুঁই তার ভাবিকে নিয়ে গিয়েছিল
। সেখানে গিয়ে রুবেল বলল বলেন কি
বলবেন ।
নাজমুল ভাই লিমন ভাইকে বলেন একটু
সাইটে যেতে রুবেল লিমনকে ইসারা দিতেই
বুঝে গেল বলল আমি ঐ চায়ের দোকানে আছি
তোরা কথা বলে আয় ।
এবার নাজমুল বলছে ভাই জুঁই আমার চাচাতো
বোন আমরা যখন গ্রামে থাকি তখন থেকেই
ওকে পছন্দ করি ।
আমাদের গ্রামে অবস্তা ভাল বাবা এই
পছন্দের কথা জানতে পেরে রাজি হয়না
তাই বাধ্য হয়ে ওদের সাথে একদিন ঢাকায়
চলে আসি । তারপর ও আর আমি গার্মেন্টসে
ভর্তি হই শুধু ওকে একনজর দেখব বলে ।
আমার আব্বা ডাকে গ্রামে ফিরে আসতে বলে
আমি ওর জন্য যাইনা ।
আমরা আগামী মাসে বিয়ে করব ওদের
ফ্যামিলির সবাই জানে ব্যাপারটা ।
এরমধ্যে আপনাদের এলাকার কোন ছেলে
জানি ওকে প্রস্তাব দিছে আবার ডিস্ট্রাবও
করে খুব ভাই আপনার ব্যাপারে মিলন ভাই
বলছে । আপনি চাইলে ঐ ছেলেটাকে
সায়েস্তা করতে পারেন ।
রুবেল মনোযোগ দিয়ে শুনছে আর মনে মনে
বলছে যদি জানতি আমিই সে ছেলে তাহলে
তোর কি অবস্তা হতো ।
রুবেল বলল তোমাদের অমর প্রেম আমাকে
মুগ্ধ করেছে তুমি হয়তো জানোনা আমিই সেই
ছেলে । নাজমুল দাড়িয়ে ছিল আতংকে বসে
পড়লো ।
রুবেল আরে উঠো যা হওয়ার হয়েছে তুমি
জানলা ব্যাপারটা মিলন যেন না জানে ।
আর একটা কথা আমার পছন্দ ছিল ভুলে গেলাম
কিন্তু যদি কখনো শুনি মিলন যেহুতু আমার
বন্ধু খবর অবস্যই পাবো ।
কখনো জুঁইকে কষ্ট দিবানা তা যদি না হয়
তাহলে তোমার কিন্তু খবর আছে । নাজমুল
বলল ভাইয়া আপনাকে অনেক ধন্যবাদ
বিশ্বাস রাখেন ওকে আমি কখনো কষ্ট দিব
না ।
আর আপনি আমাদের বিয়েতে সব বন্ধুদের
নিয়ে আসবেন কিন্তু বলে ওরা সেখান থেকে
চলে আসলো ।
লিমন কি কথা হলো তোদের মধ্যে বলবি না
দোস্ত । রুবেল দোস্ত তুই শুনলে বকবি আমারে
শুধু শুনে রাখ রুবেল প্রেম বিষর্জনও দিতে
জানে । দোস্ত আমার কপালে বোধহয় প্রেম
নেই । একটা মেয়েকে জীবনে প্রথম মুখফুটে
ভালবাসার কথা জানালাম তারও
আরেকজনের সাথে প্রেম ।
লিমন দোস্ত এত কবির ভাব ধরিস না খুলে
বল কি হয়েছে । রুবেল সব বলল । একটা
প্রবাদ আছে অভাগা যেইদিকে চায় সাগর
শুখিয়ে যায় । লিমন দোস্ত অনেক হয়েছে
এবার ভন্ডামী শুরু করব । সত্যিকারের
ভালবাসলে ছ্যাকা খেতে হয় ।
তাই আর কোন মেয়েকে সত্যি ভালবাসবো না


চলবে......



বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ৭ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ৭ )


 ( খন্ড ৭ )

রুবেল সে রাতে বন্ধুদের নিয়ে বাংলা মদ
খোলে পরের দিন লিমনকে বলল দোস্ত তোর
প্রেমিকার সুন্দর বান্ধবী নেই । লিমন
আছেতো কেন প্রেম করবি ?
রুবেল হ্যা আমি এখন থেকে প্রেম করব
প্রেমে পড়ব না ।
লিমন বলল আচ্ছা আমি ওর বন্ধবী সুমিকে
ডেকে কথা বলব আমার জানা মতে ও কারও
সাথে প্রেম করেনা ।
জয়নাল যেটা রুবেলের সাথে ছোটবেলায়
মিশতো- তাকে মামা বাড়ি থেকে এসে
একদিন তুমি করে বলার অপরাধে তারা
বন্ধুরা মিলে রুবেলকে মেরেছিল । রুবেল
সুযোগের অপেক্ষায় ছিল কখন বাটে পাবে ।
একদিন রুবেলের বন্ধু মনিরকে জয়নাল তার
সামনে সিগারেট খাওয়ার কারনে চড়
মেরেছে ।
আবার রুবেলের কার্যক্রমে এলাকায় ওদের
ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছিল কেউ ওদের ডাকে
না এই ক্ষোভও ছিল ।
রুবেল শুনে দলবল সহ ওদের এলাকায় গিয়ে
জয়নালের বন্ধু চারজন যারা রুবেলকে
মেরেছিল সেদিন । ওদেরকে পেয়ে ইচ্ছামত
হকিস্টিক দিয়ে পিটালো এই পিটানোর সময়
আবার সেই ঘটনা সুমি দেখে ফেলল ।
সুমি প্রেমের প্রস্তাব সরাসরি
প্রত্যাক্ষান করলো বলে একটা গুন্ডার সাথে
আমার কোন সম্পর্ক হতে পারে না ।
এদিকে জয়নাল এলাকার সিনিয়রদের
অনুমতি চেয়েও পেল না সে প্রতিশোধ
নেওয়ার অপেক্ষায় ছিল আর রুবেলের
টার্গেট জয়নাল সহ ওর বাকি বন্ধুগুলো ।
একদিন এলাকার এক ওয়ার্ড নেতা রুবেলকে
ডেকে নিয়ে বলল দেখ তুই যে দলবল নিয়ে
ওদের মারলি ওরা যদি মামলা করত কি
অবস্তা হতো আমি ওদের ২ হাজার টাকা
দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি । তা নাহলে
ওরা তোদের নামে মামলা করতো দেখ সব
কিছুর পিছনে একটা বড় হাত লাগে তা
নাহলে অকালে পরে যেতে হয় । বল এবার
তুই কি চাস তোকে আমি সব ধরনের
সহযোগিতা করব । রুবেল ভাবলো কথাটা
ঠিক বলছে এলাকার এই চারটা গ্রুপকে
টপকাতে হলে তার সাপোর্ট দরকার । বলল
বড়ভাই আমি রাজি আপনি শুধু থানাটা
ম্যানেজ করবেন বাকি আমি দেখব ।
এরপর থেকে রুবেল যাকে মনে চায় তাকে
মারে বিচার বসে সেখানে ঐ বড়ভাইয়ের
হুকুমে বিচার হয় । রুবেলের এমন বেপরোয়া
আচরন হলো যে সে কাউকে মানে না
সিনিয়ররা ক্ষেপে ছিল । একটা একটা
গ্রুপের মূল মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিল রুবেল শুধু
এলাকায় মারামারির মধ্যে সিমাবদ্ধ
ছিলনা অন্য এলাকার বন্ধুরা ডাকলেও দৌড়ে
যেত আবার বিশেষ প্রয়োজনে ওদেরকেও
এলাকায় নিয়ে আসতো ।
নিজ এলাকায় আশেপাশের এলাকায় রুবেল
নাম বললে অনেকে চিনে । রুবেল নিজ
এলাকার মুরুব্বিদের সাথে কখনো বেয়াদবি
করতো না সে এলাকায় রুলস জারি করলো যে
মুরুব্বিদের অসন্মান হোক এমনভাবে কেউ
এলাকা দিয়ে ওপেন সিগারেট খেতে পারবে
না । ২/১ জন করলেও তাদের ডেকে নিয়ে
প্রথমে বুঝাতো না শুনলে মারতো ।
তারপর লুঙ্গি হাটুর উপর উঠিয়ে হাটা এক
সময় ফ্যাশন ছিল ওদের কে ডেকে ডেকেও
মারতো এভাবে চলছে দিন । এলাকার
নিয়ন্ত্রন এখন রুবেলের গ্রুপের হাতে সবাই
ভয় পায় ।
তবে ও রুবেলের গুনের মধ্যে এটা ছিল ও
অন্যায় না করলে কাউকে মারত না ।
এলাকার দোকান ব্যাবসায়ী কিছু ছিল বাকি
টাকা উঠাতে না পারলে রুবেলকে বলার পর
উঠিয়ে দিত। আবার কোথাও কেউ অন্যায়
করছে সেখানেও সে প্রতিবাদ করেছে ।
মহল্লার এক মেয়ে নাম ইশিতা ওকে একদিন
দেখে স্কুলে যাওয়ার সময় রুবেল ওর
চেহারায় মুনমুনকে কিছুটা খুঁজে পেল বন্ধু
লিমনকে পাঠালো যা বল আমার ওকে
ভাললেগেছে । লিমন গেল বলল মেয়েটা
রাজি হয়না এমন করে আরও কিছুদিন গেল
লিমন প্রতিবারই প্রত্যাক্ষান করে ।
একদিন রুবেল সরাসরি গেল গিয়ে বলছে
আমার মধ্যে কি নেই যে তুমি আমাকে পছন্দ
করোনা ।
ইশিতা আপনাকে দেখলে আমার ভয় হয় প্লিজ
আমাকে ডিস্ট্রাব করবেন না । রুবেল ফিরে
আসলো ।
ওর পিছনে আর যায়না একদিন দেখে ইশিতা
একটা ছেলের সাথে স্কুলে যায় গিয়ে
জিজ্ঞেস করলো ছেলেটা কে?
বলে ভাই রুবেল কেমন ভাই বলে মামাতো
ভাই ও আচ্ছা সালা সাহেব এইদিকে আসুন
লিমন সাথে ছিল বুঝল ব্যাপারটা সে
মামাতো ভাইকে সাইডে নিয়ে চড় মেরে
বিদায় করে দিল । পরে রুবেল ইশিতাকে
বলল দেখ ভয় লাগে সেটা মানলাম কিন্তু
সাথে লোকজন এনে আমাকে ভয় দেখাবা এটা
মানব না ।
এরপর থেকে কেউ তোমাকে ডিস্ট্রাব করবে
না । রুবেল লিমনকে নিয়ে চলে আসলো ।
কিছুদিন পর রুবেলদের বাসার পাশে একটা
মেয়ে পরিবার সহ ভাড়া থাকতো সেটা
রুবেল জানতো না । একদিন হটাৎ রুবেল
একনজর শুধু মেয়েটাকে দেখছে দেখেই
ভাললেগেছে । মেয়েটা গারমেন্টসে চাকরি
করতো অপারেটর পদে মেয়েটার ভাইয়র
লন্ড্রি দোকান ছিল । লিমনকে দেখালো
বলল ওর খবর নে ।
লিমন আর রুবেল দুইজন গিয়ে লন্ড্রি
দোকানে ওরা ভাইয়ের কাছে জিজ্ঞাসা
করলো ফ্যামিলিতে কে কে আছে । নানান
কথায় মেয়েটার ভাইয়ের সাথে বন্ধুত্ব
করলো মাঝে মধ্যে রুবেল সেখানে আড্ডা
দেয় । লন্ড্রিওয়ালা ছেলেটার নাম ছিল
মিলন ওর বোন যাকে রুবেলের ভাললেগেছে
ওর নাম ছিল জুই ।
সে মাঝেমধ্যে ওর ভাইয়ের দোকানে নিজের
কাপড় দিতে আসতো । রুবেলের দিকে ঠিকমত
খেয়াল করতো না ।
রুবেল মেয়েটা কাজে যাওয়া-আসার সময়
পিছন পিছন যেত আসত মেয়েটা সামনে
রুবেল মেয়েটার পিছনে হাটছে রুবেল মনে
মনে সব বলে ফেলছে কিন্তু কখনো মুখ থেকে
বলার সাহস পেত না । রুবেল বলতে না
পেরে ভাবে এতবড় গুন্ডা নাকি আমি লোকে
আমাকে দেখলে ভয়ে কাঁপে অথচ একটা
মেয়েকে মুখফুটে কিছু বলতে পারছি না ।
এটা যদি কাউকে বলি মানসন্মান থাকবে ?
এভাবে বেশ কিছুদিন জুঁইয়ের পিছনে গিয়ে
ফিরত আসলো কারন সাথে গারমেন্টসের
মেয়েরাও থাকত ।
একদিন রুবেল বাসার সামনে বসে আছে
সেদিন ছিল শুক্রবার মেয়েটার অফিস ছুটি
সেদিন বিকাল বেলা একটা মহিলাকে সাথে
নিয়ে বের হলো ।
রুবেল আজ বলবই মেয়েটা সামনে রুবেল
পিছে কিছুদুর গিয়ে লিমনকে পেল সে
সাইকেল নিয়ে বাকি বন্ধুদের সাথে আড্ডা
মারছে । রুবেল ঐ লিমন আয় আমার সাথে,
লিমন তাকিয়ে মেয়েটাকে দেখল ও বুঝছি
চল । ওরা মেয়েটার ভাইয়ের দোকান ক্রস
করে অন্য একটা এলাকায় গেল ।
সেখানে ঢাল থেকে নেমে একটা ক্ষেত ছিল
মেয়েটা একা পার দিয়ে হাটছে । লিমন
রুবেলকে খুচাচ্ছে যা দোস্ত এই সুযোগ আর
কবে পাবি কে জানে আজকেই বলে ফেল
ভালবাসার কথা ।
রুবেল লিমন তুই দেখিস না ওর সাথের
মহিলাটা ঢালের উপর দাড়িয়ে ওকে ফলো
করছে কিভাবে বলি বল ?
লিমন ক্ষেপে গিয়ে বলল তোরে দিয়া
ভালবাসা হবে না আমি চ্যালেন্জ দিয়ে
বলতে পারি । রুবেল কি বললি যদি আমি
বলতে পারি তাহলে ? লিমন তাহলে তুই যা
খেতে চাইবি তাই খাওয়াবো ।
রুবেল দেখ আজ আমি কি করি । মেয়েটা উঠে
এসে রুবেলদের সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছে
ঐ মূহুর্তে রুবেল সমস্ত মানষিক শক্তি সঞ্চয়
করেও বলতে পারল না । ও বলতে যাবে মনে
হলো ও বোবা হয়ে গেছে ।
লিমন বল বল বল দোস্ত না হচ্ছেই না
মেয়েটা হেটে কিছুটা দূড়ে চলে গেল ।
লিমন থ্যাত ব্যাটা বলেছিলাম তোকে দিয়ে
হবে না ।
রুবেল না দোস্ত আসলে কিছু বলতে গেলে ভয়
লাগে শরীর কাঁপে । লিমন আরে ব্যাটা
মানুষ মারার সময় কই থাকে এই ভয়?
লিমন এমন আরও অনেক টিটকারি মারা কথা
বলে রুবেলকে ক্ষেপিয়ে তুলল । রুবেল
লিমনকে দেখতো দোস্ত কতটুকু গেল? তুই ওকে
দাড়া করা আমি আসছি ।
লিমন সাইকেল টান দিয়ে কিছুদুর যাওয়ার
পর রুবেল শক্তি সঞ্চার করে মারলো এক দৌড়
দৌড়াচ্ছ, দৌড়াচ্ছে, লিমনকে বলল তুই আয়
আমি ওকে থামাচ্ছি বলে এক দৌড়ে
অনেকখানি গিয়ে সরাসরি মেয়েটাকে
দেখে হাত ধরে ভরা রাস্তার মধ্যে টান
দিয়ে বলল তোমার সাথে আমার কথা আছে ।
মেয়েটা আর সাথে মহিলাটা হচকচিয়ে
গেল, আর লিমন এসে দূড়ে এসে দাড়িয়ে আছে

মহিলা বরিসালের ভাষায় এই ছেমরা আমার
ননদের সাথে তোমার কি কথা কম্মে থাহো
হায়, যা বলবা আমারে কও ।
রুবেল হাপাতে হাপাতে ও আচ্ছা আপনার
ননদ তাহলে ভাবি আপনি একটু পাশে থাকেন
আমার কথা ওর সাথে । লিমন এই যে ভাবি
পাশে আসেন বড়ভাইরে কথা বলার সুযোগ
দিন ।
জুঁই বলছে আমার সাথে কি কথা ?
রুবেল দেখো বলি বলি করে বলা হয়না আজ
সরাসরি বলি যখন সাহস হয়েছে । আমি
তোমাকে ভালবাসি ।
এ কথা শুনে ভাবি ক্ষেপে উঠলো জুঁই কিছু
বলার আগেই বলে ঐ ছেমরা মোরে চিনে
কাইট্টা গাঙ্গে ভাসাই দিমু মূহুর্তের মধ্যে

রুবেলের আবার হটাৎ মাথা গরম হয়ে যায়
বড় বড় কথা তার একদম পছন্দ নয় । বলে
আপনি বোধহয় আমার নাম জানেন না , আমি
রুবেল এলাকার যে কারও কাছে জিজ্ঞেস
করেন চিনবে ।
আর একটা কথা ও যদি আমাকে ভাল না বাসে
তাহলে ও আর কারও হবেনা ।
জুঁইকে বলল তোমার মতামত কালকে বিকালে
৫টায় যখন ছুটি হয় তখন জানাইবা ।
বলে চলে আসলো । এরপর আরও এক ট্রাজেডি
আছে জানতে অবস্যই সাথে থাকুন ।

চলবে.......


মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ৩ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ৩ )


( খন্ড ৩ )

রুবেল অতিরিক্ত ভিডিও গেমস খেলত
সেইজন্য সে ঠিকমত পড়াশোনা করতো না!
আর ভিডিও গেমসের বাজে নেশায় তার
টাকার প্রয়োজন হতো সে বাড়ি থেকে টাকা
চুরি করত কখনো কখনো ধরা পরে বাবা-
মায়ের হাতে মাইরও খেত ।
পঞ্চম শ্রেনীর পরীক্ষার পর স্কুল থেকে ১
মাসের ছুটি পেল রুবেলদের বাসার
ভাড়াটিয়া ছিল গারমেন্টস এর সুপার
ভাইজার সে একদিন রুবেলকে বলল । একমাস
ছুটি পেয়েছ চলো এই ১মাস আমার সাথে
আমি তোমাকে মাসে ৮০০টাকা বেতন
ধরিয়ে দিব ১৯৯৬ সালে তখন গার্মেন্সে
হেলপার পাওয়া যেত না ।
রুবেল ভাবলো মা-বাবার কাছে টাকা
চাইলে তারা দেয়না সমস্যা কি ১ মাসই
তো ৮০০ টাকা নিয়ে আরামে ভিডিও গেমস
খেলা যাবে সে রাজি হয়ে গেল । বলল
তাকে যেন সকাল বেলা সাথে করে নিয়ে
যায় ।
রুবেলের মা কথাটা জানতে পেরে রুবেলকে
নিষেধ করলো বাবা জাসনে ঐ রাস্তায়
গেলে তুই আর ফিরতে পারবি না । রুবেল
মার কথা শুনল না বলল মা একমাসই তো
তারপর আবার স্কুলে যাব । সকাল বেলা
ভাড়াটিয়ার সাথে গারমেন্টসে যাওয়ার
সময় মা কাঁদছে হয়তো সে বুঝে গিয়েছিল যে
আমি আমার রুবেলকে হারালাম ।
তখন অনেকের নতুন বই কেনার সামর্থ ছিল
না ! অথচ রুবেল আবদার করলো মা আমাকে
নতুন বই কিনে দিবা ক্লাস সিক্সের নতুন বই
কিনে দিয়েছিল মা । রুবেলের একটা
বিশেষ গুন ছিল প্রতিবার নতুন বই পাওয়ার
পর সে একটা করে বই ধরতো একাধারে পরে
শেষ করে দিত ওর সৃতিশক্তি এত প্রখর ছিল
যে পরবর্তিতে সে আর ঐ বইগুলো স্কুলে নিত
না এমন কি পরীক্ষার সময়ও সে পড়তো না
। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যা আসতো সে তার
মেধা দিয়ে সেগুলোর সমাধান দিত । এবার
আর সে পড়েনি বইগুলো সেগুলো ফেলেই সে
গারমেন্টসে চলে গেল ।
ওখানে যাওয়ার পর সবাই ছোট দেখে খুব
আগ্রহ নিয়ে তার সাথে কথা বলে রুবেলকে
বিভিন্ন মেসিনে বসিয়ে দ্রুত কাজ শিখিয়ে
তাকে ২৫০০টাকা বেতন পাইয়ে দেওয়ার
লোভ দেখায় তারপর ঐ গারমেন্টসের পি,এম
রুবেলের কাজে আর মেধায় মুগ্ধ হয়ে একদিন
রুবেলকে বলছে এম,ডি স্যার তোমার সাথে
কথা বলবে চলো । রুবেল এর আগে কখনো
টেলিফোন দেখেনি সে এম,ডি স্যারকে
দেখে কার সাথে যেন একটা বস্তু নিয়ে কথা
বলছে রুবেল সাথে সাথে জিজ্ঞেষ করলো
স্যার এটা কি ?
স্যার শূনে হাসলো বলে তুমি টেলিফোনও
চিননা ।
দাড়াও তোমাকে একজনের সাথে কথা বলিয়ে
দিচ্ছি বলে স্যার তার মিসেস কে ফোন দিল
বলল একটা আজব ছেলে আসছে ও কখনো
টেলিফোনে কথ বলেনি তুমি কিছু বলো ।
রুবেল কাঁপা কাঁপা হাতে জীবনে প্রথম
কারও সাথে ফোনে কথা বলল ।
যখনও এমন নিত্বনতুন আজব ঘটনাগুলো যা
রুবেলের সাথে ঘটে সে তার মাকে রাতে
খুশিতে বলে মা বুঝতে পারে ঘুড়ি এখন আমার
কন্টোলের বাহিরে যাচ্ছে । মা কাঁদে
রুবেল সে কান্না বুঝে না ১২/১৩ বছরের
বাচ্চার বোঝার কথাও না তখন তার চোঁখে
তখন যা দেখে তাই ভাল লাগে স্কুলে পড়া
ভুল হলে মাষ্টারের বেতের বাড়ি খেত আর
এখানে ভুল হলেও সবাই খুব সুন্দরভাবে
বোঝায় । এই কিছু কিছু ব্যাপার রুবেলকে
পড়াশোনা থেকে দূড়ে নিয়ে গেল ।
রুবেল ২ বছর গারমেন্টসের এমন কোন
মেসিন নেই যার কাজ জানেনা । রুবেলের
এখন আর গারমেন্টস ভাললাগেনা । সে
গারমেন্টসে কন্টাকে মাঝে মধ্যে কাজে
যায় মনে হলে না হলে না এলাকার কিছু
ছেলের সাথে বাজে আড্ডা দেওয়ার কারনে
মা তাকে মামার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল

সেখান থেকেও প্রেমে বিদ্ধস্ত রুবেল
এলাকার সেই বন্ধু যাদের সাথে আড্ডা দিত
তারা আর রুবেলকে তাদের সাথে মিশতে
দেয়না কারন ওরা তখন ঐ এলাকার নামকরা
গুন্ডা গ্রুপ রুবেলকে মফিজ মনে করে তাই
রুবেল তাদের সাথে মিশতে চাইলেও তাকে
বিভিন্নভাবে অপমান করে ।
রুবেল ওদের সাথে মিশতে না পেরে
এলাকায় ওদেরও মত আরেক গ্রুপের ছেলেদের
সাথে মিশতো এলাকায় তখন ৪গ্রুপে বিভক্ত
যা সে মামা বাড়ি যাওয়ার আগেও ছিলনা ।
একদিন রুবেল জয়নাল নামের এক বন্ধুকে
নাম ধরে ডেকেছিল ঐ ছেলেটা খুব মাইন্ড
করেছিল রুবেলের একটা গুন ছিল সেটা ও
সবাইকে আপন ভেবে সবার সাথে মিশতে
চাইতো ও বুঝতো না যে এখানে এখন
সিনিয়র-জুনিয়র নিয়েও লড়াই হয় ।
রুবেলকে একদিন জয়নালের লোকজন যদিও
ওখানে ওর ছোটবেলার কয়েকটা বন্ধু ছিল
তারপরও রুবেলকে ডেকে নিয়ে নাম ধরে
ডাকার অপরাধে ৮/১০ জন মিলে মারলো
রুবেল একা ছিল সে কিছুই করতে পারেনি ।
আর সে তখন যাদের সাথে চলতো তারাও
ওদের শক্তির কাছে দূর্বল ছিল । মার খেয়ে
রুবেল এবার প্রতিজ্ঞা করলো যে সে একাই
আলাদা গ্রুপ গঠন করবে ওদেরকে শিক্ষা
দিবে ।
সেই থেকে রুবেল খুঁজলো ঐ ৪ গ্রুপের
অত্যাচারকে কারা ঘৃনা করে ওদের মধ্যে
থেকে ৪/৫ জন নিয়ে রুবেল একটা নতুন গ্রুপ
গঠন করে আগাতে থাকলো রুবেলের টার্গেট
পুরো এলাকা তার কথামত যেন চলে । এভাবে
আজ ওকে মারেতো কাল আরেকজনকে অবস্য
রুবেলের হিসাবটা খুব সুন্দর ছিল ও যারা
অন্যায় করতো তাদের ধরে মারতো বিনা
কারনে কাউকে আঘাত করতো না । তাই
এলাকার মুরুব্বিরা কখনো রুবেলকে
বিচারের মুখোমুখি করতে পারেনি ।
রুবেলের নতুন বন্ধুরা জানতো যে সে মুনমুন
নামের একটি মেয়েকে পছন্দ করতো । তখন
সানমুন নামের একটা নতুন সিগারেট পাওয়া
যেত রুবেলের টাকার যদিও কমতি ছিলনা
তারপরও সে শুধুমাত্র সিগারেটের গায়ে মুন
লেখা এ কারনেই ওটা খেত এইজন্য অবস্য
বন্ধুরা তাকে ক্ষেপাতো । একদিন বন্ধুরা
বলল দোস্ত আমাদের বন্ধু প্রতিটা এলাকাই
আছে তুই ওদেরকে বললেই তো পারিস যে এই
নামের কোন মেয়ে এলাকায় আছে কি না ?
তুই মামা বাড়ি যাসনা রাগ করে চল আমরা
ঐ এলাকায় যে বন্ধুগুলো থাকে ওদের কাছে
গিয়ে খবর নিয়ে আসি । বলে একদিন সে
বন্ধুদের নিয়ে গেল মামা বাড়ির পাশের
এলাকায় গেল ।
দুইজন বন্ধুকে পেল এলাকায় ওদের জিজ্ঞাসা
করতেই বলল একটু বস আমরা খবর নিয়ে যে
ওরা এখনও তোর মামাদের পাশের বাসায়
থাকে কিনা বলে রওনা হলো কিছুক্ষন পর
হতাসা নিয়ে ফিরে এসে বলল দোস্ত এরা
মাসখানেক আগে এসেছিল আবার চলে গেছে
নতুন বাসা নিছে হয়তো আশে পাশের কোন
এলাকায় কিন্তু পাশের বাড়ির
ভাড়াটিয়ারা বলতে পারছে না সঠিক
ঠিকানা ।
রুবেল ঐ দিন ওখান থেকে আসার পর মামা
বাড়ির আশে পাশে যত এলাকা ছিল সব
যায়গায় মুনমুনকে খুঁজলো না পেয়ে এক
বিকালে ঐ বন্ধুদের এলাকায় গেল । গিয়েই
দেখে ওখানে অন্য এলাকার একগ্রুপ হামলা
করতে এসেছে । হামলাকারীরা দৌড়ানী
খেয়ে পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে এবার
রুবেলের সেই বন্ধুদের দেখল রামদা-
চাপাটি হকিস্টিক নিয়ে দৌড়ে আসছে ।
এরমধ্যে আমান বলছে আর বলিস না ঐ
সালাদের একজন আমাদের এলাকার মেয়েকে
ইভটিজিং করেছে । আমরা ওদের একটাকে
পেয়ে মেরেছি তাই ওরা দল নিয়ে এসেছে
হামলা করতে । আয় চল কোথাও গিয়ে বসে
আড্ডা দিই নাকি তোর কাজ আছে?
রুবেল নারে দোস্ত সারাদিন মুনমুনকে
খুঁজলাম কোথাও পেলাম না । আমান দোস্ত
তুইতো পাগল হয়ে যাবি ওকে খুঁজতে খুঁজতে তুই
ওকে আর পাবিনা তাই বৃথা চেষ্টা না করে
ওকে ভুলে যা । রুবেল দোস্ত ওকে ভুলে থাকা
আমার পক্ষে সম্ভব না প্রথম প্রেম তারপর
ওর সেই হাসি,ওর সে মায়া ভরা মুখ যা ভুলে
যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না ।
আমান বলে সবই সম্ভব আজ তোকে এমন জিনিষ
খাওয়াবো যে তোর মনে থাকবে না মুনমুন কে
তুই নিজেকে রাজা-বাদশা ভাববি আর
দেখবি তোর পাশে কত মেয়ে ব্লা ব্লা ব্লা
বলে এক বন্ধুকে বলল যা ঝুটপট্টি থেকে
একটা পোটলা নিয়া আয় আমার কথা বলবি আর
বলবি বিশেষ মেহমান এসেছে কিছু টাকা
দিতে । রুবেল বন্ধুদের সাথে চাঁ দোকানে
গেল সিগারেট খেতে বন্ধুরা বলল
দোকানদারকে ঐ ১০টা গোল্ডলিফ দে…
রুবেল আমি গোল্ডলিফ খাইনা সানমুন খাই
আছে কি ? দোকানদার হ আছে বন্ধুরা হাসছে
দাঁত কেলিয়ে বলে আহারে প্রেমিক বেচারা
ভালবাসার নামের মানুষের নামের
সিগারেট মিলিয়ে খায় বলে ওরাও
ক্ষেপাতে লাগল ।
সন্ধার আযান হয়ে একটু অন্ধকার এমন
টাইমে সেই পোটলা আর কিছু টাকা নিয়ে
আসলো বন্ধুটা । বাকি বন্ধু যারা খায়না
তারা আড়ালে এসে দাড়ালো আর ওরা বড়
কালভার্টের উপর অন্ধকারে বসে ওগুলো
বানাচ্ছে । সিগারেটের মত ৫টা বানিয়ে
তারপর রুবেলকে ডাকলো সবাই গোল হয়ে
বসলো ।
রুবেল এর আগে কখনো খায়নি ঐ সব
ছাইপাশ ! তখন দেখলো ঐ বন্ধুদের যারা
খায়না তারাও একটান করে দিচ্ছে । রুবেল
খাবেনা ওরা অনেকটা জোর করে তাকে
খাওয়ালো ।
রুবেল কিছুক্ষন পর পুরো ঘোড়ে তখন পাশের
রাস্তার দিকে খেয়াল করলো কি যেন মনে
করে দেখে একটা মেয়ে সাদা স্কাট পরে
হেটে গেল পুরো চেহারা টা দেখতে
পারেনি কারন সে এতটাই নেশাগস্ত ছিল
মাথাটাও উপরের দিকে উঠাতে পারল না ।
তবে তার ঠিকই সন্দেহ হয়েছে এটা মুনমুনই
হবে মনের মধ্যে হটাৎ কেমন যেন একটা
ঢেউ খেলে গেল।
রুবেল বলল আমানকে দেখতো দোস্ত ঐ
মেয়েটা কেরে ?
আমান পিছন থেকে দেখে বলছে দোস্ত ওর
নাম তো মুনমুনই ওরা এই বাসায় থাকে তবে
মেয়েটার বোধহয় বিয়ে হয়ে গিয়েছে । ওর
এক ভাই, আর মা, ভাইটা গার্মেন্সে চাকরি
করে, রুবেল দেখল সব মিলে যাচ্ছে ।
কিছুক্ষন পর মুনমুন আবার আসছে দোকানে
গিয়েছিল বিস্কুট কিনতে । রুবেল এই নেশা
করা অবস্তায় ওর সামনে কিভাবে দাড়াবে
তাই সে অন্ধকার গলির মধ্যে দাড়িয়ে রইল
। মুনমুন তার সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছে
অথচ এতদিন ধরে যাকে পাগলের মত খুঁজলো
তার সাথে একটু কথাও বলতে পারল না হয়তো
নিয়তির লিখন এমনই ছিল…………


চলবে....,.


একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ৪ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ২ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!!  ( খন্ড ২ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ২ )


 ( খন্ড ২ )

রুবেল নিচে নেমে সোজা ব্যাগভর্তি বড়ই
মামির কাছে নিয়ে গেল ! মামিঃ.. রুবেল
একি করেছিস এত বড়ই তোকে কে আনতে
বলছে, এখন এত বড়ই দিয়ে আমি কি করব ।
রুবেলঃ.. মামি ভাল কিছু রেখে কিছু ভর্তা
করেন আর বাকিগুলো প্রতিবেশীদের দিয়ে
দেই । রুবেল ভয়ে ছিল মামি বকে কিনা
অবস্য মনে মনে আবার ভেবেছিল যে নাহ
মামি কখনোই বকবে না ।
কারন মামির যে রুবেলকে ছাড়া বিশ্বাস
করার মত কেউ নেই ।
মামাদের থ্রিপিছ এর ব্যাবসা ছিল
গাউসিয়া ও লালবাগ হালিমা মার্কেটে
দুটো শোরুম ছিল আর তাদের বিভিন্ন
কারখানা থেকে লোকজন কাজ নিয়ে এসে
জমা দিত তাদের বাসায় সেই লোকগুলোকে
চা বিস্কুট খেতে দিত ।
মামির একটা আলাদা ইনকাম ছিল সেখানে
মামা চাঁ পাতা,চিনি সহ বিভিন্ন জিনিষ
কেনার টাকা দিত । মামি কিছুদিন পর পর
রুবেলকে দিয়ে এটা লাগবে ওটা লাগবে
বলে টাকা নিত । আসলে তার কাছে ড্রামে
ভর্তি করা ছিল যখনই যা প্রয়োজন হতো ঐ
গোডাউন থেকে বের করতো আর রুবেলকে
দিয়ে টাকাটা হালাল করতো ।
মামা ব্যাস্ত থাকতো কারিগরদের নিয়ে আর
মামি রুবেলকে বলতো ১০ টাকা নিয়ে
ভিডিও গেমস খেলে বাজার থেকে সময়
কাটিয়ে আসবি যাতে তোর মামা বুঝে যে তুই
চাঁ পাতা,চিনি কিনতে গিয়েছিস ।
রুবেলও টাকা আর ভিডিও গেমস খেলার
সুযোগ পেয়ে খুশিতে এই কাজগুলো করতো ।
ঘরের স্ত্রীরা এমন টুকটাক টাকা মারেই
স্বামীর কাছ থেকে কারন স্বামীরা
সারাদিন কাজে ব্যাস্ত থাকে যখন তখন
টাকার আবদার করলে বেচারা ক্ষেপে গিয়ে
টাকা নাও দিতে পারে তাই এই পন্থা অনেক
স্ত্রীই অবলম্বন করে ।
মামির ৩ ছেলে দুটো সেয়ানা আর একটা
বয়স ১২ স্কুলে পরে ওদের মাঝে মধ্যে হাত
খরচের লাগে সব টাকা মামি দেয় !
ছেলেরা যখন প্রয়োজন হয় মায়ের কাছেই
খুচরা টাকা চায় বাবার কাছে বেশি টাকা
প্রয়োজন হলে খুঁজে । রুবেল এগুলোও জানতো
তাই কখনো মামার কাছে বলেনি কিছু ।
রুবেল মাঝে মধ্যে মামাতো ভাইকে স্কুলে
নিয়ে যেত তাই ওর সাথে সবচেয়ে বেশি
ঘনিষ্ট ওকে সবকথা বলতো ।
১৯৯৯ সালে যেইদিন বাংলাদেশ
ক্রিকেটে আইসিসি ট্রফি জিতল সেইদিল
সারা বাংলাদেশে রং ছিটানো হয়েছিল ।
রুবেল মামার সাথে ইসলামপুর কাপড় কিনতে
গিয়েছিল । আসার পথে একদল অতি উৎসাহি
ব্যাক্তিরা তখন বেবিট্যাক্সি চলতো
জ্যামের মধ্যে একমগ রং গায়ে মেরে দৌড়
রুবেল সবার সামনে ছিল তাই রং বেশি তার
গায়ে পরেছে কি বলবে খুশির মূহুর্ত কাউকে
কিছু না বলে সে রংমাখা অবস্তায় বাসায়
সামনে বেবিট্যাক্সি নিয়ে থামলো ।
তখন বাড়ির বাহিরে মুনমুন দাড়িয়ে ছিল
রুবেলকে ভূতের মত দেখাচ্ছে দেখে সেকি
হাসি হাসছে তো হাসছেই রুবেলের প্রথমে
রাগ হয়েছিল কিন্তু ও এমন হাসি দেখে সেও
খুশি হচ্ছে। আহারে কি মায়ার হাসি এই
হাসিটাই রুবেলকে মুনমুনের প্রতি আরও
দূর্বল করে দিল সে সারাদিন শুধু ঐ
হাসিমাখা মুখ কল্পনা করে আর মুনমুন এরপর
থেকে যখনই রুবেলকে দেখে তার চোঁখে সেই
রংমাখা কমেডিয়ান রুবেলকে দেখে বোধহয়
আর শুধুই হাসে ।
রুবেল একদিন ছোট মামাতো ভাইকে বলল
আমিতো ওর প্রেমে পরে গেছি ভাই ।
মামাতো ভাই বলল আম্মা যদি জানতে পারে
তোমাকে প্রেম করা শিখাবে ভালমত ।
রুবেল আবার ভালো কার্টুন আকতে পারতো
একদিন পেন্ছিল দিয়ে বে-খেয়ালে আকতে
আকতে মুনমুনের সেই হাসিমাখা মুখটা একে
ফেলল ।
পরক্ষনে সে তাকিয়ে দেখল অনেক সুন্দর
হয়েছে মামাতো ভাইটাকে ডেকে একটা
খামে ভরে বলল যা ওকে দিয়ে আয় ।
মামাতো ভাই বলল আচ্ছা আমি দিয়ে দিব
বলে খামটা নিয়ে বলদার মত তার পড়ার
টেবিলে রাখল । মামি খামটা খুলে দেখে
সেখানে ভালবাসার কথা লেখা ইতি রুবেল
সে ওইটা নিজের কাছে রেখেদিল আর
মামাতো ভাইটাকে রুবেলের অবর্তমানে
শাসালো বলল কোথাকার কোন ভাড়াটিয়া
মেয়ে তার সাথে কিনা রুবেল প্রেম করে ওর
রুচি এত নিচে নামল কিভাবে ঐ ওর বয়স
হইছে কত এই বয়সে প্রেম ব্লা ব্লা ব্লা ।
রুবেলকে এ ব্যাপারে কিছু বলবিনা বরঞ্চ
ওকে বলবি ওটা তাকে দিয়ে দিয়েছিস
ভাইটা বলল আচ্ছা ।
এর মধ্যে মুনমুন গ্রামের বাড়িতে গেল আর
হটাৎ মামাদের ব্যাবসা খারাপ হয়ে গেল
অনেকের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা পেত তা
আটকে গেল মামারা নিদারুন কষ্টে দিন
কাটাতে লাগল । এভাবে কিছুদিন চলার পর
রুবেলের আর ওখানে ভাল লাগেনা ।
মুনমুন নেই কিভাবে জানবে কবে আসবে সে
নাকি আর ফিরবে না । এদিকে আবার
মুনমুনের মা,ভাই, বাড়িতে গেছে তারাও
আসছে না দেখে রুবেল ভাবলো ওরা বোধহয়
আর আসবে না । তাই সে একদিন মামা বাড়ি
থেকে নিজের বাড়িতে চলে আসলো । মাঝে
মধ্যে সে মামা বাড়ি গিয়ে মামাতো
ভাইয়ের কাছে খোঁজ নিত মুনমুন আসছে
কিনা?
প্রতিবারই না শুনে ফিরে আসে তারপরও
বারবার যায় ওখানে যদি ফিরে আসে এই
আসায় । একদিন মামাতো ভাই বলল ভাই
আপনার ভালবাসার কথা লেখা খামটা তাকে
দেওয়া হয়নি । সেতো জানেইনা যে আপনি
তাকে ভালবাসেন পরে মূল ঘটনা খুলে বলল ।
রুবেলের আর সাহস হলো না মামিকে
জিজ্ঞাসা করবে কেন এই কাজ করলেন ।
তারপর সেই যে মামা বাড়ি থেকে আসলো
এরপর আর তাদের বাড়ির সামনেও যায়নি
সে । তারপর কি হলো ?

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! 

শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১৮

ভালবাসার লাল রং

ভালবাসার লাল রং


টিএসসি জনতা ব্যাংকের সামনে৷আবিরের
জন্য একঘন্টা হল ঠায় দাড়িয়ে সিথি ৷
মনে মনে দুনিয়ার সব
গালি দিচ্ছে বান্দরটাকে৷ আবির
আসছে এখানে এমবিএ এডমিশনের ফরম
জমা দিতে ৷ ওকে বললো পনেরো মিনিটেই
ফিরতেছে৷ কিন্তু এতক্ষনেও না ফেরায় এত
গালি খাচ্ছে বেচারা আবির ৷যদিও
হন্তদন্ত হয়ে এখন আসার পথে ও৷ না শুনলেও
বুঝতে পারছে যে ওর চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার
করছে দাড়িয়ে দাড়িয়ে সিথি৷
আবির আর সিথি সেই স্কুলের বন্ধু৷ অনেক
ভাল বন্ধু দুজন৷। আবির গ্রাজুয়েশন শেষ
করে এমবিএ করার জন্য চেষ্টা করছে আর
এজন্যই টিএসসিতে আসছে। সিথি আবিরকে এ
ব্যাপারে হেল্প করার জন্য আসছিল এখানে৷
কিন্তু ওকে কষ্ট না দেয়ার জন্য আবির একাই
সব করে ফিরছে। তবে ও
বুঝতে পারেনি কারো জন্য অপেক্ষা করাও
বিশাল কষ্টের ব্যাপার৷ ঢাবিতে পড়ায় হল
থেকে সোজা চলে আসছিলো সিথি৷ আবিরের
সাথে আরেকটা বিষয় শেয়ার করার ছিল ওর

দৌড়াতে দৌড়াত্ অবশেষে ফিরলো আবির৷
-এতক্ষনে তোর আসার সময় হল বান্দর?
-সরি সরি, কি করবো বল,ওএমআর ফরম ফিলাপ
করতে করতেই আমি শেষ,তাও আবার
তিনজনের ৷
-ও
তুমি এখানে বন্ধুসেবা করছিলা আমাকে দাড়া করাই
রেখে,গালটা সামনে আনতো সোনা, একটু লাল
করে দেই পাজিটা ,মেজাজ
তিরিক্ষি রেখেই বললো সিথি৷
-এই নে কর,তাও যদি তোর লাল মেজাজের
তিরিক্ষি ভাবটা কমে৷
-যা,আজ থাক ,আমার
ক্যাম্পাসে আসছিস,মানুষজন কি বলবে!,চল
ক্যাফেটেরিয়ায়,ক থা আছে অনেক
-হুম চল,ওহ আজ তোকে তো সেই লাগছে রে!
-এখন কিন্ত সত্যিই মাইর খাবি হারামি
- আচ্ছা বাপু, আর কমু না, অক্কে চল৷
ক্যাফেটেরিয়ায় এসে এক কোনে বসলো দুজন৷
কিন্তু এক কোনে বসলে কি হবে! দুজনের
খুনসুটি লেগেই রইলো৷
কথায় কথায় আবির জিজ্ঞেস করলো, তারপর
বল তোর নতুন প্রেমের খবর কি?
শিথি প্রেমের প্রসংগ উঠতেই পুরা লাল
হয়ে গেলো৷
"থাক থাক আর লাল হতে হবে না, জল কতদূর
গড়াইছে সেটা বল"
-ও দেখা করবে বলছে
-কসকি! কবে? কখন? কোথায়? আমারে কিন্তু
নিবি লগে!
-শুক্রবার,পরশু এহহ,ওনারে নিবে লগে,করমু
ডেটিং ,তোরে নিমু কা?
-আচ্ছা ঠিক আছে, নিতে হবে না,তোদের
প্রাইভেসিতে আমি হাত দিমু না৷
শিথি ভাবছিলো আবির জোর
করে বলবে হয়তো যে ও আসবেই কিন্তু ওর
এমন রিপ্লাই আশা করেনি৷ তবে এ
বিষয়ে আর কিছু বললো না দুজন৷
একটা ছেলে মেয়ের ক্লোজ বন্ধুত্বে তৃতীয়
পক্ষ আসায় যা হয়, তাই হচ্ছে ওদের
কিছুদিন ধরে৷ আগে অনেক চ্যাট হত
ফেবুতে দুজনার৷ তবে কমা শুরু করলো যেদিন
থেকে শিথির সাথে রিফাতের কথা শুরু
হয়েছে ৷ রিফাতের সাথে সিথির
ফোনে পরিচয়৷ কোন এক বড় ভাইর
কাছে দিয়ে নাকি রিফাত নম্বর পেয়েছে৷
কোন বড় ভাই দিছে এ
ব্যাপারে শিথি কয়েকদিন
জোরাজুরি করলেও রিফাত ঘুরিয়ে নিত
বলে পরে আর শিথি জানতে চায়নি ৷ কারন
ও শুধু অবাক হত যে রিফাত ওর সম্পর্কে এত
কিছু জানে কেমনে! মাঝেমাঝে মনে হয় ও
নিজেও নিজেরে জানে না যতটা রিফাত
জানে৷ এগিয়ে চলে ওদের বন্ধুত্ব৷ কথার
ফুলঝুড়ি মেলে বসতো সারারাত৷ এর
মাঝে কখন যে ওদের বন্ধুত্বের
গাঢ়তা কোনদিকে চলে গেছে তা ওরা নিজেরাই
জানতো না ৷ মাঝে মাঝে এ
ব্যাপারে আবিরের সাথে কথা হত,আবির
ওকে উৎসাহ দিত বেশ ৷ আবিরের
সাথে মোবাইলে কথা হত না, যা কথা সব
ফেসবুকে হত ৷
পরদিন শুক্রবার৷দেখা হবে প্রথম শিথি আর
রিফাতের ৷ শিথি ঠিক করে রেখেছে ওই
দিনই ওর মনের কথা বলে ওদের ভালবাসার
সূচনা করবে৷সারারাত ঘুম হল
না সিথির৷রাতে চ্যাটে বললো আবিরকে রিফাতের
সাথে প্রথম দেখা হবার কথা৷বললো ও
আশা করছে রিফাতও মনে মনে হয়তো ওর মতই
মনের কথা বলার জন্য এ
দিনটি বেছে নিবে ৷ ইস ও
যদি সাদা গোলাপ নিয়ে আসতো ! মনের
গোপন কথাটা আবিরকে বলে দিল৷৷আবির
বললো যে,দেখ আসবে হয়তো,এত যখন মনের
টান,টেলিপেথি না হয়ে যায়ই না৷"ধ্যাৎ !
বললেও মনে মনে খুশি হয়ে গেলো সিথি৷
ভদ্রতা করে আবিরকে একবার আসতেও
বললো সকালে৷আবির
জানালো সকালে এমবিএ এডমিশন টেস্ট
আছে৷
যদিও সিথি বললো যে ওদের দেখা হবার
সময় বিকেলে ,বিকেলে আয় না হলে,তবু
এড়িয়ে গেলো আবির৷
পরদিন বিকেল তিনটা৷
কলা ভবনের সামনে বটতলা৷
আধাঘন্টা আগেই
এসে বসে আছে সিথি৷শুক্রবার
দুপুরবেলা,আশেপা শে তরুন তরুনী তেমন
নেই৷অপেক্ষা প্রহর যেনো কাটছে না৷
হঠাৎ পিঠে টোকা পড়তেই
চমকে ফিরে তাকালো সিথি৷যতটা আশা নিয়ে তাকালো ততটাই
নিরাশ হল সিথি৷ সেই বান্দরটা৷ আবির৷
-কিরে তুই ?আসবি না বললি?
-না ভাবলাম কোন গুন্ডাপান্ডার
খপ্পরে পড়িস একটা দায়িত্ব আছে না!বন্ধুই
তো বন্ধুরে দেখবে, না?
-হৈছে আর দেখন লাগবো না,তুই একটু
দূরে যা না, প্লিজ৷তোর
সাথে দেখলে তো আমার
ভালবাসা তীরে এসে তরী ডুববার মত
অবস্থা হবেরে!
সিথির কাঁদো কাঁদো অবস্থা দেখে আবির
বললো
-ঠিক আছে ঠিক আছে,আমি দূরেই
যাচ্ছি,একদম দৃষ্টিসীমার বাইরে৷
-থ্যাংকু দোস্ত৷
আবির চলে গেলো ৷ রিফাতের আসার সময়
পনেরো মিনিট পেড়িয়ে গেলো৷ ফোন
দিবে কিনা ভাবতেছে৷ আরো পনেরো মিনিট
পর দিবে ভাবলো৷ কিছুক্ষন পর
ফোনটা হাতে নিয়ে রিফাতের
নম্বরে ডায়াল করলো৷ রিং বাজছে৷সিথির
মনে হল কাছেই কোথাও কল
বাজতেছে,পিছনে ফিরে তাকাতেই
শুনলো কবিতার সেই
লাইনগুলো যা মাঝে মাঝে রিফাত বলতো
"হবে কি আমার তুমি ?
নিবে কি হাতদুটি আমার?
পারবে কি সইতে ঝড় কালবৈশাখী
যা প্রেমের পথে আসে বারবার
হবে কি তুমি আমার ?
ভালবাসি বড় ভালবাসি
তবে বলবে কি এবার"?
কবিতা শেষ হলেও সামনে দেখলো আবার
সেই আবির বান্দরটা৷ সিথির মুখ
ফসকে বেড়ুলো,তুই আবার আইছস বান্দর? তুই
তো আমার তরী… ……বলতে বলতে সিথির
মনে পড়লো এইমাত্র আবিরের
আওড়ানো কবিতা খানা আর যখন
দেখলো আবিরের
হাতে কতগুলো সাদাগোলাপ৷
বিস্ময়ে হা হয়ে গেলো ৷
কি বলবে বুঝতে পারছে না সিথি! তাই
আবির আবার বললো, "কি ভালবাসিস
কিনা বলবি না? "সিথি বিষ্ময়ে তবু কিছু
বললো না৷ এবার আবির বিরক্ত
ভাবে বললো কিছু তো বল,রিফুজ
না হলে একসেপ্ট!! এভাবে কতক্ষন দাড়াই
থাকুম৷
এবার সিথি মুখ
খুললো,বললো দাড়া বলমুনে ভালবাসি কিনা তার
আগে তোর কান দুইটারে ভালবাসা শিখাই
নেই! !!!!এভাবেই কানের মত আচানক
ভালবাসা হয়ে গেলো লাল!!


লিখেছেন- Tariq Islam

বুধবার, ২১ মার্চ, ২০১৮

ভালোবাসার গল্প- নিরুপমার ভ্যালেন্টাইন

ভালোবাসার গল্প- নিরুপমার ভ্যালেন্টাইন


রাত ৯টা.....
অফিস থেকে বাসায় এসে দরজায় নক করতেই নিরুপমা দরজা খুলে দিল গোমরা মুখে।
বুঝলাম আজকেও দেরি করে আসাতে ম্যাডামের বেশ রাগ হয়েছে। তাই আমি কিছু না বলে তারাতারি চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে ডায়নিং এ আসতেই দেখি খাবার সাজিয়ে রাখছে নিরুপমা।
আমি চুপ চাপ খেতে বসলাম।কিন্তু নিরুপমা খেতে বসছে না। বুঝতে পারলাম আজকে রাগ টা একটু বেশি ই হয়েছে আমার উপর.....
হবেই বা না কেন?
প্রতিদিন যার স্বামী কাজের অজুহাত দিয়ে দেরি করে বাসায় আসে তার বউয়ের তো একটু রাগ হবেই....
..
...
আমি এবার খাবার টেবিল থেকে উঠে নিরুপমা কে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে আলতো করে আমার নাক টা নিরুপমার ঘাড়ে ঘসতে ঘসতে আমার কোলের উপর বসিয়ে বললাম হা করো আমি তোমাকে খাইয়ে দিচ্ছি।
নিরুপমার চোখের দিকে তাকাতেই দেখলাম জলে ছল ছল করছে। আমি এক নেওলা ভাত নিরুপমার মুখে তুলে দিয়ে নিরুপমার কপালে একটা চুমু দিতেই ভ্যা করে কেঁদে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো ভালই যদি এত বাসো তাহলে এত কষ্ট দাও কেন?
আমি কিছু না বলে কিছুক্ষন বুকে জরিয়ে রেখে খাওয়া শেষ করলাম দুজনে দুজনকে খাইয়ে দিতে দিতেই।
আমি অবশ্য দু একবার নিরুপমার আঙুলে কামর ও দিয়েছি।তখন কপট রাগ দেখিয়েছে আমাকে সে যদিও মনে মনে সে অনেক খুশি হয় আমি এটা করলে।
..
...
খাওয়া শেষ করে নিরুপমা বললো কাল তো পহেলা ফাল্গুন... তাই তোমার ডিউটিতে যেতে হবে না।কাল তোমার পুরোটা দিন আমার চাই।কাল আমি তোমার হাত ধরে সারা শহর হাটবো।কতদিন তোমার হাত ধরে হাটিনি।
আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে কাল সারা টা দিন তোমাকেই দিবো....
বলেই আমি বেডরুমে আসলাম...
কিছুক্ষন পর নিরুপমা আসলো, এসে আমার পাশে শুয়ে আমার বুকে মাথা রেখে বললো শুনো আমি কিন্তু তোমার উপর এখনো রেগে আছি...
আমার রাগ ভাঙাও।
আমি তখন নিরুপমা কে বুকে চেপে ধরে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললাম তো কি করলে ম্যাডামের রাগ ভাঙবে শুনি?
নিরুপমা বললো আমার সাথে সারা রাত গল্প করো...
আমাকে গল্প শুনাও তাহলেই হবে....
আমি বললাম যথা আজ্ঞা ম্যাডাম কিন্তু আপনি তো ঘুম পাগলী.... ঘুমাই গেলে???
..
...
নিরুপমা বললো,
আচ্ছা দাড়াও এক মগ কফি বানিয়ে নিয়ে আসি তারপর তোমার গল্প শুনবো তবু আজকে তোমাকে ছাড়ছি না...
বলেই উঠে গিয়ে এক মগ কফি বানিয়ে নিয়ে আসলো তারপর দুজনে মিলে সেটা শেষ করলাম...
তারপর গল্প বলতে বললো...
..
...
...
পহেলা ফাল্গুন....
সকাল সকাল নিরুপমা ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সব কাজ শেষ করে ৯টায় আমাকে গোছলে পাঠিয়ে রেডি হতে বসে যায়।
আমি গোছল শেষ করে এসে দেখি বিছানার উপর ফাল্গুনের গিফট, ফাল্গুনী পাঞ্জাবী।
আমি পাঞ্জাবী পড়ে রেডি হতেই দেখি নিরুপমা আসলো পাঞ্জাবীর সাথে ম্যাচিং ফাল্গুনী শাড়ি পড়ে। আমি নিরুপমাকে দেখেই ক্রাশট....
নিরুপমা বললো রেডি হলে আসো হালকা নাস্তা করেই বের হই।
আমি বললাম নাস্তা পরে করলেও চলবে আসো আগে মিষ্টি খাওয়াও বলেই নিরুপমার হাত টা ধরে একটা হেচকা টান দিয়ে বুকের আমার বুকে টেনে নিয়ে নিরুপমার ঠোটে একটু ভালবাসা দিতেই নিরুপমা বললো
দিলা তো দিলাই আমার সাজ টা নষ্ট করে।
বলেই আঁচল দিয়ে আমার ঠোটে লেগে থাকা লিপস্টিক মুছে দিয়ে টেনে নাস্তার টেবিলে বসিয়ে দিল।
দুজন একসাথে নাস্তা শেষ করে বেরিয়ে পড়লাম।
বাসার সামনে একটা রিক্সা নিয়ে সোজা টি এস সি।
..
...
টি এস সি তে নেমে নিরুপমা আমার হাতটা জড়িয়ে ধরে হাটতে শুরু করলো...
সারাদিন নাকি হাটবে।পুরো টি এস সি, শাহবাগ, বাংলা একাডেমি, কলা ভবন সব এলাকায় সারাদিন হাটবে।
শেষে বিকেলের দিকে গেলাম বই মেলায়।
বই মেলাতে গিয়ে নিরুপমার কবিতার বই কেনার ইচ্ছা হল।
আসলে নিরুপমা কবিতা অনেক পছন্দ করে।আগে আমি নিজেই লিখে পড়ে শুনাতাম আর নিরুপমা মুগ্ধ হয়ে শুনতো।
এখন আর লিখা হয় না।
তাই বিকেলের গোধুলী যখন শুরু হচ্ছে তখন হাটতে হাটতে বই মেলার ভিতরে গেলাম।
সে কি ভীর বই মেলায়...
.
অবশেষে বইমেলার ১২০ নং স্টল থেকে
এবাবের বইমেলার কবি #ইমরান_রহমানের পাঠক সমাদৃত কবিতার বই #এই_মাহেন্দ্রক্ষণে বই টা
.
কিনে আর একটু ঘুরে বাইরে ডিনার করে রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরলাম....
নিরুপমা বললো তুমি চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে আসো তার আমি তোমার কফি রেডি করে ফ্রেস হবো।
..
..
আমি শুয়ে আছি বিছানায়,
রাতে ১০টার দিকে নিরুপমা আসলো এসে আমার পাশে শুয়ে আমার বুকে মাথা রেখে বললো
আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি নিলয়।
আর আমার কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো আমার পছন্দের দিন টাকে রঙিন করে দেবার গিফট এটা।
..
নিরুপমা এক মগ কফি খাওয়াবে?
মাথা টা ধরেছে....
নিরুপমা বললো রাত অনেক হয়েছে এখন কফি খাবা?
আমি বললাম খেতে ইচ্ছে করছে।
তখন নিরুপমা কফি বানাতে উঠে গেলে
আমি ঝটপট করে গত রাতে কিনে আনা ক্যান্ডেল গুলো ফ্লোরে লাভ শেপ বানিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে রুমের সব লাইট বন্ধ করে দিয়ে দরজা ভেজিয়ে দিলাম....
..
রাত ১২:০৩

  1. নিরুপমা কফি হাতে দরজা খুলে দেখে রুম অন্ধকার আর ক্যান্ডেল গুলো দিয়ে লাভ শেপ এর ভিতরে

HAPPY VALENTINE DAY লিখা
নিরুপমা আকস্মিক সারপ্রাইজে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।তখন আমি নিরুপমার হাত থেকে কফি টা নিয়ে টেবিলে রেখে নিরুপমার হাত টেনে লাভ শেপের ভিতরে আনলাম
আর গতকাল নিরুপমার জন্য যে হীরার আংটি টা এনেছিলাম সেটা পকেট থেকে বের করে নিরুপমার সামনে হাটু গেড়ে বললাম,
.
"পুনর্জন্মে বিস্বাসী নই, তবুও মৃত্যুর পরেও যদি আবার কখনো জন্মানোর সুযোগ পাই তবে সেখানেও জন্ম জন্মান্তরে সহধর্মীনি রুপে তোমাকেই চাই নিরুপমা..."
.
"তুমি কি আমার জন্ম জন্মান্তরের সঙী হবে নিরুপমা?
.
নিরুপমা হাত বাড়িয়ে দিলো,
আমি আংটি টা পড়িয়ে দিতেই নিরুপমা আমাকে অনেক জোরে বুকে চেপে ধরে আমার কানে কানে বললো,
"জন্ম জন্মান্তরে ৭জনমেও আমি সৃষ্টি কর্তার কাছে শুধু তোমাকেই চাই নিলয়".....
..
...
:আমি কোন গিফট পাবো না?
:পেতে পারো কিন্তু সেটাকে গিফট বলা নাও যেতে পারে....
:কারন সেটা তোমার প্রাপ্য নীল....
:আমার প্রাপ্য? কি গো সেটা?
:চোখ বন্ধ করো...
:করলাম.....
তারপর অনুভুব করলাম আমার নিরুপমা আস্তে করে আমাকে তার বুকে টেনে নিল আর আমার হাত টা টেনে নিয়ে নিরুপমার পেটের উপর রেখে বললো এখানে ২মাস থেকে তোমার গিফট টা বেড়ে উঠতেছে....
বলেই আমাকে শক্ত করে বুকে চেপে ধরলো....
ব্যাপার বুঝে উঠতে আমার ২মিনিট সময় লেগেছিল....
আপনাদের কতক্ষন লাগলো জানাবেন....