মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ২ )


 ( খন্ড ২ )

রুবেল নিচে নেমে সোজা ব্যাগভর্তি বড়ই
মামির কাছে নিয়ে গেল ! মামিঃ.. রুবেল
একি করেছিস এত বড়ই তোকে কে আনতে
বলছে, এখন এত বড়ই দিয়ে আমি কি করব ।
রুবেলঃ.. মামি ভাল কিছু রেখে কিছু ভর্তা
করেন আর বাকিগুলো প্রতিবেশীদের দিয়ে
দেই । রুবেল ভয়ে ছিল মামি বকে কিনা
অবস্য মনে মনে আবার ভেবেছিল যে নাহ
মামি কখনোই বকবে না ।
কারন মামির যে রুবেলকে ছাড়া বিশ্বাস
করার মত কেউ নেই ।
মামাদের থ্রিপিছ এর ব্যাবসা ছিল
গাউসিয়া ও লালবাগ হালিমা মার্কেটে
দুটো শোরুম ছিল আর তাদের বিভিন্ন
কারখানা থেকে লোকজন কাজ নিয়ে এসে
জমা দিত তাদের বাসায় সেই লোকগুলোকে
চা বিস্কুট খেতে দিত ।
মামির একটা আলাদা ইনকাম ছিল সেখানে
মামা চাঁ পাতা,চিনি সহ বিভিন্ন জিনিষ
কেনার টাকা দিত । মামি কিছুদিন পর পর
রুবেলকে দিয়ে এটা লাগবে ওটা লাগবে
বলে টাকা নিত । আসলে তার কাছে ড্রামে
ভর্তি করা ছিল যখনই যা প্রয়োজন হতো ঐ
গোডাউন থেকে বের করতো আর রুবেলকে
দিয়ে টাকাটা হালাল করতো ।
মামা ব্যাস্ত থাকতো কারিগরদের নিয়ে আর
মামি রুবেলকে বলতো ১০ টাকা নিয়ে
ভিডিও গেমস খেলে বাজার থেকে সময়
কাটিয়ে আসবি যাতে তোর মামা বুঝে যে তুই
চাঁ পাতা,চিনি কিনতে গিয়েছিস ।
রুবেলও টাকা আর ভিডিও গেমস খেলার
সুযোগ পেয়ে খুশিতে এই কাজগুলো করতো ।
ঘরের স্ত্রীরা এমন টুকটাক টাকা মারেই
স্বামীর কাছ থেকে কারন স্বামীরা
সারাদিন কাজে ব্যাস্ত থাকে যখন তখন
টাকার আবদার করলে বেচারা ক্ষেপে গিয়ে
টাকা নাও দিতে পারে তাই এই পন্থা অনেক
স্ত্রীই অবলম্বন করে ।
মামির ৩ ছেলে দুটো সেয়ানা আর একটা
বয়স ১২ স্কুলে পরে ওদের মাঝে মধ্যে হাত
খরচের লাগে সব টাকা মামি দেয় !
ছেলেরা যখন প্রয়োজন হয় মায়ের কাছেই
খুচরা টাকা চায় বাবার কাছে বেশি টাকা
প্রয়োজন হলে খুঁজে । রুবেল এগুলোও জানতো
তাই কখনো মামার কাছে বলেনি কিছু ।
রুবেল মাঝে মধ্যে মামাতো ভাইকে স্কুলে
নিয়ে যেত তাই ওর সাথে সবচেয়ে বেশি
ঘনিষ্ট ওকে সবকথা বলতো ।
১৯৯৯ সালে যেইদিন বাংলাদেশ
ক্রিকেটে আইসিসি ট্রফি জিতল সেইদিল
সারা বাংলাদেশে রং ছিটানো হয়েছিল ।
রুবেল মামার সাথে ইসলামপুর কাপড় কিনতে
গিয়েছিল । আসার পথে একদল অতি উৎসাহি
ব্যাক্তিরা তখন বেবিট্যাক্সি চলতো
জ্যামের মধ্যে একমগ রং গায়ে মেরে দৌড়
রুবেল সবার সামনে ছিল তাই রং বেশি তার
গায়ে পরেছে কি বলবে খুশির মূহুর্ত কাউকে
কিছু না বলে সে রংমাখা অবস্তায় বাসায়
সামনে বেবিট্যাক্সি নিয়ে থামলো ।
তখন বাড়ির বাহিরে মুনমুন দাড়িয়ে ছিল
রুবেলকে ভূতের মত দেখাচ্ছে দেখে সেকি
হাসি হাসছে তো হাসছেই রুবেলের প্রথমে
রাগ হয়েছিল কিন্তু ও এমন হাসি দেখে সেও
খুশি হচ্ছে। আহারে কি মায়ার হাসি এই
হাসিটাই রুবেলকে মুনমুনের প্রতি আরও
দূর্বল করে দিল সে সারাদিন শুধু ঐ
হাসিমাখা মুখ কল্পনা করে আর মুনমুন এরপর
থেকে যখনই রুবেলকে দেখে তার চোঁখে সেই
রংমাখা কমেডিয়ান রুবেলকে দেখে বোধহয়
আর শুধুই হাসে ।
রুবেল একদিন ছোট মামাতো ভাইকে বলল
আমিতো ওর প্রেমে পরে গেছি ভাই ।
মামাতো ভাই বলল আম্মা যদি জানতে পারে
তোমাকে প্রেম করা শিখাবে ভালমত ।
রুবেল আবার ভালো কার্টুন আকতে পারতো
একদিন পেন্ছিল দিয়ে বে-খেয়ালে আকতে
আকতে মুনমুনের সেই হাসিমাখা মুখটা একে
ফেলল ।
পরক্ষনে সে তাকিয়ে দেখল অনেক সুন্দর
হয়েছে মামাতো ভাইটাকে ডেকে একটা
খামে ভরে বলল যা ওকে দিয়ে আয় ।
মামাতো ভাই বলল আচ্ছা আমি দিয়ে দিব
বলে খামটা নিয়ে বলদার মত তার পড়ার
টেবিলে রাখল । মামি খামটা খুলে দেখে
সেখানে ভালবাসার কথা লেখা ইতি রুবেল
সে ওইটা নিজের কাছে রেখেদিল আর
মামাতো ভাইটাকে রুবেলের অবর্তমানে
শাসালো বলল কোথাকার কোন ভাড়াটিয়া
মেয়ে তার সাথে কিনা রুবেল প্রেম করে ওর
রুচি এত নিচে নামল কিভাবে ঐ ওর বয়স
হইছে কত এই বয়সে প্রেম ব্লা ব্লা ব্লা ।
রুবেলকে এ ব্যাপারে কিছু বলবিনা বরঞ্চ
ওকে বলবি ওটা তাকে দিয়ে দিয়েছিস
ভাইটা বলল আচ্ছা ।
এর মধ্যে মুনমুন গ্রামের বাড়িতে গেল আর
হটাৎ মামাদের ব্যাবসা খারাপ হয়ে গেল
অনেকের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা পেত তা
আটকে গেল মামারা নিদারুন কষ্টে দিন
কাটাতে লাগল । এভাবে কিছুদিন চলার পর
রুবেলের আর ওখানে ভাল লাগেনা ।
মুনমুন নেই কিভাবে জানবে কবে আসবে সে
নাকি আর ফিরবে না । এদিকে আবার
মুনমুনের মা,ভাই, বাড়িতে গেছে তারাও
আসছে না দেখে রুবেল ভাবলো ওরা বোধহয়
আর আসবে না । তাই সে একদিন মামা বাড়ি
থেকে নিজের বাড়িতে চলে আসলো । মাঝে
মধ্যে সে মামা বাড়ি গিয়ে মামাতো
ভাইয়ের কাছে খোঁজ নিত মুনমুন আসছে
কিনা?
প্রতিবারই না শুনে ফিরে আসে তারপরও
বারবার যায় ওখানে যদি ফিরে আসে এই
আসায় । একদিন মামাতো ভাই বলল ভাই
আপনার ভালবাসার কথা লেখা খামটা তাকে
দেওয়া হয়নি । সেতো জানেইনা যে আপনি
তাকে ভালবাসেন পরে মূল ঘটনা খুলে বলল ।
রুবেলের আর সাহস হলো না মামিকে
জিজ্ঞাসা করবে কেন এই কাজ করলেন ।
তারপর সেই যে মামা বাড়ি থেকে আসলো
এরপর আর তাদের বাড়ির সামনেও যায়নি
সে । তারপর কি হলো ?

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! 


শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।