বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ১১ )

       (খন্ড ১১ )


রুবেল একদিন মমিনের দোকানে বসে আছে ঐ
বস্তি এলাকার নেতার ভাই মমিনের চোঁখে
একটা সানগ্লাস পড়া ছিল ।
এসে বলল দেখি সানগ্লাসটা বলে সে চোঁখে
দিল একজনকে আবার বলছে দেখতো আমাকে
কেমন লাগছে ।
বস্তির একজন বলছে ভালোই লাগছে সে
সানগ্লাসটা নিয়ে হাটা দিছে মমিন পিছন
থেকে ডেকে বলল ঐ আমি এক যায়গায় যাব
সানগ্লাসটা নিস না ।
এখন নেতার ভাই বলছে ঐ মাদারচোদ-
খা..কি র পোলা কয় টাকা দাম তোর
সানগ্লাসের?
গালি শুনে রুবেলের মাথা গেল গরম হয়ে
রুবেল ওটাকে ডেকে কাছে নিয়ে এসে মারল
এক চড় ।
পরে পাশের লাকড়ির দোকান থেকে কাঠের
টুকরা একটা এনে ইচ্ছামত পিটালো ।
এদিকে মমিন ছাড়াতে গিয়েও ছাড়াতে
পারছে না পরে ঐ এলাকার কয়েকটা বড়ভাই
এসে বলল ছাড়েন ওরে কি হয়েছে সে
আমাদের নেতার ভাই ।
পরে মমিন বলল আরে রুবেল তুই ঘটনা আগে
শুনবি তো তারপর নইলে মারতি । পরে বলছে
ঐ নেতার ভাই মমিনরে মামা বলে ডাকে
সেই হিসাবে মমিনের মা নানি হয় ও
এমনভাবে গালি দিয়ে একটু ফাজলামো করে
। রুবেল ও এই ব্যাপার তাইতো বলি এত বড়
গালি দেওয়ার পরও তুই চুপ কেন । কিন্তু
দোস্ত আমার মাইন্ডে লেগেছে । রুবেল
নেতার ভাইকে সরি বলে বসে রইল ।
কিছুক্ষন পর নেতা দুলাল দৌড়ে এসেছে
আমার ভাইকে কে মেরেছে । মমিন নেতাকে
সাইটে নিয়ে সব খুলে বলল নেতা শুধু
রুবেলের দিকে চেয়ে আছে । নেতা কিছুই
বলল না যখন শুনল ও রুবেল চুপ হয়ে গেল
কারন বস্তির সব লোক বাজারে যায়
রুবেলদের এলাকা দিয়ে যদি কিছু বলে
তাহলে সমস্যা হবে ।
এরপর থেকে রুবেল কোমরে করে একটা ১৬
ইন্চি ছুড়ি নিয়ে ঘুরত ।
মমিনের সেই বিয়াইন আবার ঘটনা শুনে
রুবেলকে পাত্তা দিত না সে রুবেলকে
শুনিয়ে শুনিয়ে বলত দোকানে কি সব
গুন্ডাপান্ডা বসিয়ে রাখেন ।
রুবেল কিছু বলেনা এরকম অনেকদিন ইঙ্গিত
করে বলার পর রুবেল যখন উঠাইয়া নিয়া
কিছু করে দিব ভাই-ব্যাদার তখন বুঝবা
গুন্ডাপান্ডা কারে কয় । বিয়াইন বলে
আমার এইটা করবেন বলে রুবেলকে ক্ষেপিয়ে
তুলল ।
রুবেল মমিনকে বলছে তোর বিয়াইন কিন্তু
বারতাছে কিন্তু মমিন ধুর ব্যাটা ওর
মাথায় মনে হয় সিট আছে ।
একদিন সন্ধার দিকে রুবেল বস্তিতে ঢুকে
দেখে বিয়াইন এমন সর্ট একটা জামা পরছে
যে সেলোয়ারের রশি দুটো ঝুলছে । দেখে
রুবেলের মাধায় শয়তান ভর করলো সে
বিয়াইনকে আজই একটা শিক্ষা দিবে বলে
সামনে এসেই রশি একটা ধরেই একটান
মারলো সাথে সাথে সোলোয়ার খুলে যাওয়ার
অবস্তা রাস্তায় যদিও কয়েকজন ছিল ।
বিয়াইন সাথে সাথে বসে পরে সেলোয়ার
গিট্টু দিচ্ছে আর রুবেলকে বকছে ।
রুবেল হাসছে বলে গুন্ডামী দেখলাতো এরপর
কখনো আমাকে বারতি কিছু বললে তোমার
কপালে আরও খারাপ কিছু আছে । বিয়াইন
দৌড়ে মমিনের কাছে বিচার দিল মমিন
হেসে উড়িয়ে দিল বলল হয়তো তোমার সাথে
ফাজলামো করছে ।
ওর মাথাগরম থাকে সবসময় তুমি ওকে আর
কখনো উল্টাপাল্টা কিছু বলবা না ।
এক কুরবানির ঈদে বিয়াইন এমন একটা
ড্রেস পরছে পিঠ প্রায় খোলা রুবেল গলির
মোড়ে দাড়িয়ে লিমনদের সাথে সিগারেট
খাচ্ছে । বিয়াইন সামনে দিয়ে হেটে
যাচ্ছে রুবেল ও বিয়াইন কই যাও কথা বলে
না রুবেল লিমনকে সাথে নিয়ে চলতো দেখি
শালি কেন কথা বলল না এবারও জিজ্ঞেস
করলো । বিয়াইন বলে কোন গান্জাখোরদের
সাথে আমি কথা বলি না ।
রুবেলের মাথা গরম হয়ে গেল কি আমি
গান্জাখোর দাড়া শালি বলে হাতে
সিগারেট ছিল সেটা পিঠের কাপড় একটু
আলগা করে দিলো ভিতরে ছেড়ে বিয়াইনের
ছিল টাইট ফিটিং জামা ছিল না পারছে
কাউকে বলতে না পারছে জলন্ত সিগারেট
পিছন থেকে বের করতে লাফাচ্ছে বিয়াইন
রাস্তায় শেষে জামা পুরে তারপর সেটা
বের হইছে । রুবেল হাসছে দেখে কয়েকটা
গালি দিয়ে শেষে বলল তুমি একটা পাগল ।
রুবেল বুঝলাতো এইবার পাগল ক্ষেপালে কি
হয় ।
এরপর আর ঐ বিয়াইন ঐ রকম ড্রেস পড়েনি
আর সে কখনো রুবেলের সামনেও পড়েনি ।
এরমধ্যে রুবেলের লিমন একটা মেয়ের সাথে
প্রেম করতো নাম সুমি সেই মেয়েটা আবার
নিলার বান্ধবী ছিল ওরা নাকি কোন এক
সময় এক বাড়িতে ভাড়া ছিল । নীলার
চরিত্র খারাপ জানার পর থেকে ওর সাথে
চলতো না । লিমন কাছ থেকে কোন কথায়
নীলার কথা বলার পর জেনেছে ।
লিমন বলছে রুবেল অনেক ভাল ছেলে তোমার
বান্ধবী থাকলে একটা ওর জন্য ঠিক করে
দিও ।রুবেল মাঝে মধ্যে লিমনের সাথে
যেত মেয়েটার সাথে লিমন প্রেম করতো আর
রুবেল দূড়ে দাড়িয়ে থাকতো ।
মেয়েটা রুবেলকে ভাই বলে ডাকত একদিন
স্টুডিও যাবে লিমনের সাথে ফটো তুলতে
মেয়েটা কিছুদিন পর নানির বাড়ি চলে
যাবে তাই সৃতি হিসাবে ফটো নিয়ে যাবে ।
লিমন রুবেলকে নিয়ে এক রিকসায় গেল
স্টুডিওতো কয়েকটা ফটো তুলল আসার পথে
সুমি লিমনকে বলছে কি ব্যাপার দূড়ে দূড়ে
হাটছো কেন স্টুডিওতে তো এমন ছিলে না ।
লিমন বলছে একটু আগে আমার খালু সামনে
দিয়ে গেছে তোমার সাথে দেখলে বাসায়
গিয়ে আম্মাকে বলে দিত । সুমি বললো
সমস্যা কি তুমিতো আমাকে বিয়েই করবে
পাশে আসো একসাথে হাটি । লিমন না তুমি
রুবেলের সাথে হাটো । সুমি আমি কি রুবেল
ভাইয়ের সাথে প্রেম করি?
রুবেল ভাই আপনিও দূড়ে সেও দূড়ে ভাই সাথে
আসুন কিছু কথা বলে হাটি এবার রুবেল আসলো
হটাৎ সুমি লিমনকে চেতানোর উদ্দেশ্য
নিয়ে রুবেলকে ইঙ্গিত দিয়ে বলছে দেখোতো
লিমন কেমন লাগছে আমাদের দুইজনকে ।
লিমন হুম নাইস জোড়ি ।
এবার রাস্তা দিয়ে একজন যাচ্ছে তাকে
বলছে ভাই দেখেনতো কেমন লাগে আমাদের
দুইজনকে ?
ঐ লোকটা থতমত হয়ে না ভালোই তো লাগছে

লিমন বুঝে গেল শুরু হইছে সুমির পাগলামী
সে এবার পাশাপাশি হাটছে ।
এক সপ্তাহ পর রুবেল বাসায় নাই সুমি
রুবেলদের বাসায় গিয়ে বলছে রুবেলের
মাকে রুবেল আমাকে বোন ডাকে সে হিসাবে
আমি আপনার মেয়ের মত । রুবেল দুপুরে খেতে
এসেছে দেখে সুমি মায়ের সাথে হাসি
ঠাট্টা করছে ।
রুবেলকে সাইটে নিয়ে মা জিজ্ঞেস করলো
মেয়েটা খুব ভাল আমার ভাললেগেছে তোরে
কি পছন্দ করে মেয়েটা ।
রুবেল আরে মা ও লিমনের গার্লফ্রেন্ড কোন
কারনে হয়তো আমার কাছে এসেছে আর তুমি
বুঝ উল্টোটা ।
মা আচ্ছা বুঝলাম তোরা কথা বল । রুবেল
সুমিকে বলল কি ব্যাপার কি জন্য এসেছ ?
সুমি বলছে ভাই আমার মা নেই বাবা
ভান্ডারী পীরের মুরিদ সে কখন কোথায়
থাকে ঠিক নেই । নানি আমাকে ছোটবেলা
থেকে মানুষ করেছে । সে নাকি একটা
ছেলেকে আমার জন্য পছন্দ করেছে । তাই ১
সপ্তাহের মধ্যে আমাকে খালার বাড়িতে
চলে যেতে হবে আপনি লিমনকে জিজ্ঞেস
করুন সে আমাকে বিয়ে করতে পারবে কিনা ?
কারন আমি যে কয়বার লিমনকে জিজ্ঞাসা
করি এড়িয়ে যায় আজ শেষবারের মত
জিজ্ঞেস করুন যদি না বলে আমি আর কখনো
তাকে নিয়ে ভাববো না ।
রুবেল গেল লিমনের কাছে গিয়ে সব বলল
লিমন বলছে ধুর ব্যাটা পাগল হয়েছিস ওকে
বিয়ে করার প্রশ্নই উঠোনা । যা গিয়ে বলে
দে নানি যাকে পছন্দ করছে তাকে বিয়ে
করতে বলছে ।
রুবেল দেখ লিমন মেয়েটার মধ্যে তোর জন্য
সত্যিকারের ভালবাসা দেখেছি তুই এর আগে
যতগুলো মেয়ের সাথে প্রেম করেছিস ওরা
কেউ তোকে ভালবাসতো না । দোস্ত
সত্যিকারের ভালবাসা সবসময় সবাই
পায়না আবার পেলে সেটাকে ধরে রাখতে
হয় ।
লিমন ওলে আমার প্রেমিকরে খুব
দার্শনিকের মত কথা বলছেন তাহলে আপনিই
জনাব ওর সাথে প্রেম করেন । আপনারতো
আবার সলিড ভালবাসা চাই । ওগুলো আমার
চাইনা আমি যেমন তেমন থাকতে চাই ।
দরকার নেই আমার সত্যিকারের ভালবাসা
যাহ বলে দে আমাকে ভুলে যেতে ।
রুবেল দেখ তুই কাজটা ঠিক করছিস না তুই
এভাবে একটা মেয়ের জীবন ধংস করতে
পারিস না । লিমন আচ্ছা খুব ভাল মানুষ
আপনি আপনি কি করেছেন এতদিন তাহলে
১০/১২টা মেয়ের সাথে একসাথে সম্পর্ক
যে করে তার মুখে এইসব কথা মানায় না ।
রুবেল হ্যা আমি সেটা করেছিও তুই সবসময়
সাথে ছিলি আমিতো তোর মতন মেয়েদের
সাথে চুম্মাচাটি করিনাই । তুইতো লুইচ্চা
দ্যা গ্রেট আরও অনেক কিছুই করেছিস । তুই
আর আমি এক হলাম কবে?
লিমন বলছে দেখ দোস্ত সত্যি কথা হলো আমি
এ মেয়েকে বিয়ে করলে মা-বাবা আমাকে
ঘর থেকে বের করে দিবে আর ও আমাদের
সোসাইটির সাথেও যায়না কোনভাবে ।
রুবেল ও আচ্ছা তাই নাকি তা সম্পর্ক করার
আগে সেটা মেয়েদের বলে নিলেইতো হয় যে
আমি তোমার সাথে একটু সময় কাটাবো
যতদিন ভাল লাগবে ততদিন ।
আবারও লিমন বলছে তুই যে মেয়েদের সাথে
সম্পর্ক করলি তাদের মধ্যে কাউকে বিয়ে
করলি না কেন? রুবেল ওরা কেউ আমাকে
ভালবাসেনি ওরা আমার ক্ষমতা আর টাকাকে
ভালবেসেছিল । লিমন মিলিতো তোকে
ভালবাসতো সেতো পরে বিয়ে করেছে তুই
মিলিকে কেন ধরে রাখলি না ।
রুবেল মিলি আমাকে ভালবাসতো কিন্তু প্রকৃত
ভালবাসা ওর মধ্যে ছিলনা কারন ও আমার
বাহিরের রুপ দেখে আমাকে বিচার করেছে
কখনো ভিতরের মানুষটাকে চিনেনি । আমি
ওদের সাথে প্রেম করতাম আর সত্যিকারের
ভালবাসা খুঁজতাম ওদের কোনটার মধ্যে
পাইনি । তাই কারো সাথেই তেমনভাবে
কথা বলিনি । এখন তুই যা করছিস অন্যায়
করছিস ।
লিমন অন্যায়ের কথা অন্তত তোর মুখে
মানায় না রুবেল । যা আমি যা বলেছি তা
ওকে বলে দে । রুবেল ঐ ব্যাটা আমি কি
তোদের চাকর নাকি তোর কথা তুই বল গিয়ে
আমি কারও মন এভাবে ভেঙ্গে দিতে পারব
না মন ভাঙ্গার বেদনা আমি বুঝি । লিমন
যা দোস্ত না ভাল আর তোদের বাসায়
খালাম্মা আছে ও যদি কোন সিনক্রিয়েট
করে আমার মানসন্মান থাকবে না তোর মা
ঠিকই শুনলে বিয়ে করিয়ে দিবে ।
রুবেল চলে আসলো বাসায় কিন্তু কিভাবে
বলবে সুমিতো ভাল খবর শোনার জন্য ব্যাকুল
। তারপরও বলেছে লিমন এগুলো বলেছে শুনে
রুবেলের রুমে গিয়ে অনেকক্ষন কান্না করলো
রুবেল ১৫ মিনিট পরে গিয়ে সুমিকে
সান্তনা দিল । কিছুক্ষন পর সুমি চলে গেল ।
পরেরদিন সুমি এসে যা বলল তা শোনার জন্য
রুবেলও প্রস্তত ছিল না….



চলবে......




শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।