বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০

ক্রুসেড সিরিজ-২২. হেমসের যোদ্ধা(পর্ব-4)

২২. হেমসের যোদ্ধা(পর্ব-4)



যেতে দেবে। অযথা আক্রমণ করে হেমসের জনপদে হামলে পড়ার সুযােগ তাদের দেয়ার দরকার নেই। 
তিনি আমাদের প্রশিক্ষণ ও ট্রেনিং জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, এমনও হতে পারে, সুলতান আইয়ুবী অভিযান শুরু করলে বিলডন গােপনে পিছন থেকে অতর্কিত আক্রমণ চালানাের চেষ্টা করতে পারে। তাই অবস্থার প্রেক্ষিতেই আমাদেরকে বিলডনের বাহিনীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়ােজনে অতর্কিতে গেরিলা আক্রমণ চালিয়ে তাদের গতিরােধ করে সেখানেই আটকে রাখতে হবে যেন কোন দিকে তারা অগ্রসর হতে না পারে। খতিব বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন দিকে পাঠিয়ে দিলেন বিলডন বাহিনীর তালাশে আর অবশিষ্টদের বললেন, ‘পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় তােমাদেরকে মহল্লার চারদিকে পাহারা বসাতে হবে।'
তানভীর ও জাভীরা হেমসের লােকালয়ে প্রবেশ করলাে। জাভীরার তখন হাঁটার মত কোন অবস্থা ছিল না। তানভীর তাকে আহত মানুষের মত কাঁধের উপর তুলে নিয়ে এগুচ্ছিল। রাস্তায় ওরা পান করার মত পানি পেয়েছিল ঠিকই কিন্তু তাদের ভাগ্যে কোন খাবার জুটেনি। ফলে ক্ষুধায় মেয়েটি একেবারেই কাতর হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া মেয়েটি বড় হয়েছে অসম্ভব আদর যত্নে। দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেয়ার কোন অভিজ্ঞতা তার ছিল না। তাই কিছু দূর যাওয়ার পরই সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আস্তে ধীরে চলতে গিয়ে পথেই তাদের রাত হয়ে যায়। মেয়েটি যখন কিছুতেই আর হাঁটতে পারছিল না তখন তানভীর তাকে কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হয়। তানভীর রাত নামার আগেই হেমসে পৌঁছতে চাচ্ছিল। তাই মেয়েটি যখন এক টিলায় চড়তে গিয়ে অপারগতা প্রকাশ করে বসে পড়ল তখন তানভীর তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে এগুতে লাগল। তারপরও পথেই তাদের রাত হয়ে গেল। 
কিন্তু তখন হেমস আর বেশী দূরে ছিল না। তানভীর কোথাও না থেমে সন্ধ্যার একটু পরে হেমসের জনবসতিতে প্রবেশ করলাে। 
নিজের বাড়ীর সামনে এসে সে মেয়েটাকে নিয়ে বাড়ীর ভেতর ঢুকে গেল। সকালেই বাড়ীর সকলে খবর পেয়েছিল, তানভীর মারা গেছে। তারা তার ঘােড়াও পেয়েছিল। ফলে সবাই বিশ্বাসও করেছিল সে আসলেই মারা গেছে। এখন মেয়েটিসহ তাকে পেয়ে সবাই বিস্মিতও হলাে আবার স্বস্তিও পেল। শােকের বদলে সবার চেহারায় আবার ঝলসে উঠল আনন্দের ঝিলিক। তানভীর সবাইকে তার দুর্যোগপূর্ণ সফরের কাহিনী খুলে বলতে লাগল। 
জাভীরা জানতাে, তার ঠিকানা হবে এক ইহুদী বণিকের বাড়ী। সে ওখানে পৌঁছেই সঙ্গে সঙ্গে সে ইহুদীর নাম বলে তাকে সেই বাড়ীতে পৌঁছে দিতে বলল। বাড়ীর লােকজন তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করল। তানভীর বলল, হাত-মুখ ধুয়ে চারটে মুখে দিয়ে নাও, আমি এখুনি তােমাকে সেই বাড়ীতে পৌঁছানাের ব্যবস্থা করছি।'
মেয়েটি খেতে বসে আবার বলল, আমার মন বলছে, সম্ভবতঃ বাবা মারা যাননি। তিনি বেঁচে থাকলে এতক্ষণে ওখানে পৌঁছে গেছেন। আমাকে ওই বাড়ীতে পৌঁছে দাও।' 
তাদের খাওয়া শেষ হলাে। তানভীর তাকে সঙ্গে নিয়ে ইহুদীর বাড়ীর দিকে রওনা হলাে। 
ইহুদীর বাড়ীটি তাদের বাড়ী থেকে বেশী দূরে ছিল না। নাম শুনেই তারা চিনতে পেরেছিল বাড়ীটি। 
পথটি ছিল বেশ অন্ধকার। জাভীরা কিছু দূর এগিয়েই হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। তানভীর বললাে, কি হলাে, থামলে কেন?” 
মেয়েটি এ প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বললাে, তানভীর, আর কখনাে আমাদের দেখা হবে না! 
সে কখনাে তার মুখ তানভীরের বুকের মধ্যে ঘষতে লাগলাে। আবার কখনও সরে গিয়ে তার হাতে চুমু দিতে লাগলাে, আর বলতে লাগলাে, বলো তানভীর, এই কি আমাদের শেষ দেখা। 
তানভীর মেয়েটির এ ধরনের আচরণে হতবুদ্ধি হয়ে পড়লো। শেষে নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বললাে, “দেখো মেয়ে, আমাদের দুজনের পথ ও ঠিকানা সম্পূর্ণ পৃথক। তোমাকে তােমার ঠিকানায় পৌছে দেয়াই আমার এখন একমাত্র কাজ । তারপর ভবিষ্যতে কি হবে না হবে তা নিয়ে আমি ভাবি না। ছাড়াে আমাকে। আমি এসব পছন্দ করি না। 
জাভীরা তাকে আরাে জোরে জড়িয়ে ধরে আবেগে কাঁদো কাঁদো স্বরে বললাে, কিন্তু এমন কি হতে পারে না, দুটি পথ চলতে চলতে আবার এক মােহনায় মিলিত হয়ে গেলাে। সেই মােড়ে আমরা পরষ্পর সাক্ষাৎ করবাে। আবার আমি তােমাকে এমনি করে জড়িয়ে ধরবাে? 
তানভীর জোর করে মেয়েটির বাহুবন্ধন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। বলল, বললাম তাে, ভবিষ্যত সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।' 
আমি জানি। যখন তুমি তােমার প্রভুর কাছে দু'হাত তুলে প্রার্থনা করছিলে, তখন আমার নব জন্ম হয়েছে। তখনই আমি আমার আত্মার সন্ধান পেয়েছি। যতদিন আমি বেঁচে থাকবাে, তােমাকে ভুলতে পারবাে না কোনদিন। 
ভালবাসা কি জিনিস আমার জানা ছিল না। তুমি শুধু এটুকু কথা দাও, আমাকে তুমি ভুলে যাবে না। 
না! জাভীরা, না! কথা দিচ্ছি, কখনও আমি তােমাকে ভুলে যাবাে না। আবেগে তখন কাঁপছিল তানভীরের কণ্ঠও, আমি তােমাকে ভুলতে পারবাে না। তবে বলতে বাঁধা নেই, এখনাে তােমার আর আমার পথ ভিন্ন। যদি কখনাে এমন হয়, ইসলামের সুশীতল ছায়ায় বাস করতে রাজি হয়ে যাও তুমি, তবে তােমার কাঙ্খিত সেই মিলন মােহনায় আমাকে দেখতে পাবে। আমি তােমার জন্য অপেক্ষা করবাে। আমার মনে এতদিন কোন মেয়ে প্রবেশ করেনি। তুমিই সে মেয়ে যে আমার মনে ভালবাসার বীজ ছড়িয়েছে। বিশ্বাস করাে, আর কোন মেয়ে এ মনে প্রবেশ করতে পারবে না।' 
‘তাহলে কথা দাও, আমি তাে এখন থেকে তােমার কাছাকাছিই থাকবাে, মাঝেমধ্যে আমার সাথে দেখা করবে? আমার থেকে দূরে সরে যাবে না!
কথা দিলাম, আমরা পরস্পর সাক্ষাত করবাে। আর এমন জায়গায় আমাদের দেখা হবে, যেখানে তুমি আর আমি ছাড়া কেউ থাকবে না।' 
তানভীর তার আমানতের কোনই খেয়ানত করেনি। এই দীর্ঘ যাত্রা পথে মেয়েটি সত্যি তার ভক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর পরবর্তীতে মেয়েটিও তানভীরের প্রাণে গেঁথে গিয়েছিল । এখন সে তার বুকে পাষাণ চাপা দিয়ে মেয়েটিকে ইহুদীর হাতে তুলে দিয়ে আসতে যাচ্ছে। 
ওরা ইহুদীর বাড়ী পৌঁছে গেল। তানভীর দেখতে পেল, ইহুদীর বাড়ীতে সেই বৃদ্ধ খৃস্টানও আছে যাকে জাভীরা তার বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিল। 
জাভীরাকে পেয়েই বৃদ্ধ তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলাে। 
ইহুদী বণিক তখন বাড়ী ছিল না। সে তখন সম্রাট বিলডনের সেনা ক্যাম্পের দিকে রওনা হয়ে গিয়েছিল। যদিও সেখানে যাওয়ার কথা ছিল বৃদ্ধের কিন্তু ইহুদী বললাে, আপনি এখানে আগন্তুক। স্বাভাবিকভাবেই আপনার পেছনে গােয়েন্দা লেগে যেতে পারে। কিন্তু আমরা স্থানীয় বলে আমাদের চলাচলে কেউ তেমন নজর দেবে না। তাই বলছিলাম কি, সম্রাট বিলডনের ক্যাম্পে আপনি না গিয়ে আমি গেলে কেমন হয়? 
‘আপনি ঠিকই বলেছেন। রাস্তায় বহিরাগতদের কম বেরােনােই ভাল। তাহলে বিলডনের ক্যাম্পে আপনিই যান, আমি আপনার ফিরে আসার অপেক্ষা করবাে।' 
ইহুদী বিলডনের ক্যাম্পের উদ্দেশ্য রওনা দেয়ার খানিক পরই তানভীর জাভীরাকে নিয়ে ওই বাড়ীতে গিয়ে পৌঁছে।
তানভীর জাভীরাকে পৌঁছে দিয়েই বিদায় নিল। বৃদ্ধ খৃষ্টান তাকে বসার অনেক অনুরােধ করলেও সে ওখানে দাঁড়ালাে না, বলল, এখন নয়, আবার আসবাে। 
ওখান থেকে বেরিয়েই সে সােজা মসজিদে চলে গেল। ইমাম সাহেবের কামরার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। সে দরজায় করাঘাত করলাে। ইমাম সাহেব দরজা খুলে তাকে দেখে বিস্মিত কণ্ঠে বলে উঠলেন, “আরে, তুমি! সে এ প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে ভেতরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিল।
o
সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী এক বছরের মধ্যেই তাঁর সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করে নিলেন। তিনি অভিযান পরিচালনার জন্য বেশী দিন অপেক্ষা করা ঠিক মনে করলেন না। যে রাতে হেমসের ইহুদী বণিক সম্রাট বিলডনের কাছে যাচ্ছিল হেমসের মুসলমানদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার আবেদন নিয়ে, সে রাতেই সুলতান আইয়ুবীর সেনাবাহিনী কায়রাে থেকে বের হয়ে পড়ে। 
তাদের প্রথম ঠিকানা ছিল দামেশক। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পথ চলার হুকুম দিয়েছিলেন সুলতান, তাই বাহিনী ক্ষিপ্ত বেগে এগিয়ে যাচ্ছিল। 
যুদ্ধের এ নতুন অভিযানে কোথাও সময় নষ্ট করতে চাচ্ছিলেন না সুলতান। তাঁর পরিকল্পনা ছিল দামেশক পৌঁছে তিনি সুলতান তকিউদ্দিনের সাথে যােগাযােগ করবেন। তারপর কায়রাে ও দামেশকের মিলিত সৈন্য নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন অভিযানে। তার সহযােগিতায় থাকবে তকিউদ্দিনের বাহিনী। কিন্তু দেখা গেল, দামেশক পৌঁছার আগেই তিনি তার গতিপথ পরিবর্তন করে ফেললেন। এই গতিপথ পরিবর্তনের কারণ ছিল এক দূত। 
দূত জানতাে না সুলতান আইয়ুবী অভিযানে বেরিয়েছেন। সে সুলতান আইয়ুবীর নামে এক চিঠি নিয়ে কায়রাে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে সে দেখতে পেলাে একদল সৈন্য এবং সেই বাহিনীর সামনে সুলতানের পতাকা। সুলতানের পতাকা দেখে সে ছুটে সেই বাহিনীর মুখে গিয়ে পড়লাে। 
দূতকে সাথে সাথে সুলতান আইয়ুবীর সামনে হাজির করা হলাে। দূত সুলতান আইয়ুবীর হাতে ইয়াজুদ্দিনের পত্র তুলে দিল । 
ইয়াজুদ্দিন সুলতান নুরুদ্দিন জঙ্গীর একজন উপদেষ্টা ও সহযােগী ছিলেন। তিনি সে সময় এক পরগণার শাসক পদে উন্নীত ছিলেন। ইয়াজুদ্দিন ছিলেন একজন মর্দে মুমীন। সে কারণে সুলতান নুরুদ্দিন জঙ্গী মৃত্যুর আগে তাকে হলবের একটি পরগণা ও কেল্লার দায়িত্ব অর্পণ করেন। সেই কেল্লার অধীনে বিশেষ বিশেষ কিছু অঞ্চল ছিল। তেমনি একটি অঞ্চল ছিল মালহাক। এলাকাটি খৃস্টান সীমান্তের নিকটবর্তী। খৃস্টানরা মাঝে মধ্যেই এ এলাকায় ঢুকে পড়ে তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করতাে। আক্রমণ করে লুটপাট ও নির্যাতন চালাতাে। ইয়াজুদ্দিনের ক্ষমতা ও শক্তি এমন ছিল না যে, একা তাদের মােকাবেলা করে। আবার তিনি হলব এবং মুশেলের কোন সাহায্যও নিতে পারছিলেন না। কারণ যখন থেকে হলব ও মুশেলের সরকার আল মালেকুল সালেহ ও সাইফুদ্দিনেরা সুলতান আইয়ুবীর বিরুদ্ধে জোট গঠন করে, তখন থেকেই ইয়াজুদ্দিন তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। 
তিনি সুলতান আইয়ুবীকে যে চিঠি পাঠান তা এরূপ: মহা সম্মানিত সুলতান, আইয়ুবী বিন নাজমুদ্দিন আইয়ুব! সম্মানিত সুলতানে মিশর ও সিরিয়া! আপনার উপরে ও ইসলামী রাজ্যের উপরে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হােক। আমার আনুগত্য সম্পর্কে আপনার কোন সন্দেহ থাকার কারণ নেই। আমি আল খালিদের দিক থেকে ক্রুসেডদের আক্রমণের পথ প্রতিরােধ করে রেখেছি। এদিকের সমস্ত এলাকার যুদ্ধ অভিযানের পথগুলাে আমার কমান্ডাে বাহিনীর দৃষ্টির গােচরে রয়েছে। তারা সব সময় সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। খৃস্টানরা আমাকে রাস্তা থেকে সরানাের জন্য ইবনে লাউনের সাথে গােপন চুক্তি করে জোট বেঁধেছে। আপনি ভাল করেই জানেন, আমার সীমান্ত সেই এলাকার সাথে মিশেছে, যে এলাকা প্রকৃতপক্ষে আর্মেনীয়দের এলাকা। সেই আর্মেনীয়রা আমার সীমান্ত এলাকায় আক্রমণ শুরু করে দিয়েছে। আপনি ভাল মতই জানেন যে, আমার সৈন্য সংখ্যা নেহায়েতই সামান্য। খৃস্টান ও আর্মেনীয়রা আমার কাছে দু’বার মােটা উপহার দিয়ে দূত পাঠিয়েছিল। তারা আমাকে আহবান জানাচ্ছে তাদের জোটে মিলিত হতে। তারা আমাকে আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দাওয়াত দিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। আমার অস্বীকৃতি তাদেরকে আরাে ক্ষিপ্ত করে তুলেছে। তারা আমাকে আক্রমণের হুমকি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সীমান্তে হামলা করে আমাকে ভড়কে দেয়ার চেষ্টা করছে। 
যদি আমার অন্তরে আল্লাহর ভয় না থাকতাে তবে রাজ্য রক্ষার জন্য আমি তাদের আহবানে সাড়া দিতে দ্বিধা করতাম না। কিন্তু শাহাদাত ছাড়া আমার সামনে এখন আর কোন পথ খােলা নেই। আমি সে পথকেই আমার জন্য বেছে নিয়েছি। আমার জন্য আপনার কাছে কোন আবদার বা দাবী নেই। আমি পেরেশান এ অঞ্চলের সাধারণ মুসলমানদের ভাগ্যের কথা চিন্তা করে। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমি তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নিয়েছি। আমার ক্ষুদ্র বাহিনী তাদের বিশাল বাহিনীর মােকাবেলা সেভাবেই করছে, যেমনটি করা উচিত প্রকৃত মর্দে মুজাহিদদের। আমি সব বিপদকে মাথা পেতে নিয়েছি একমাত্র আল্লাহর ভরসায়। আমি আমার জীবন, এই কেল্লা এবং আমার এলাকা আল্লাহর পথে কুরবান করে দেবাে, তবুও ক্রুসেডদের সঙ্গে জোট বাঁধবাে না। সম্মানিত সুলতান! আমি মরহুম নুরুদ্দিন জঙ্গীর আত্মার সামনে জবাবদিহী করবাে আর আমি তার লক্ষ লক্ষ শহীদের আত্মার কাছেও জবাবদিহী করে বলবাে, মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা মুক্ত করার যে সংগ্রাম আপনি করছেন তাতে বিঘ্ন ঘটাতে চাইনি বলেই আমি আপনাকে বিরক্ত করিনি। আমরা আমাদের রক্ত দিয়ে সেই পথ ধুয়ে মুছে সাফ করার চেষ্টা করেছি। আমি তাদের বলবাে, আপনি আপনার সংকল্প থেকে বিন্দুমাত্র টলেননি, বরং সে জন্য আপনার অবিরাম চেষ্টা জারী রেখেছেন। ' আমি জানি, রমলার ঘটনার পরে আপনি নতুন করে সেনা সংগঠন ও যুদ্ধ প্রস্তুতিতে খুবই ব্যস্ত আছেন। আমার এটাও জানা আছে, সম্মানিত সুলতান তকিউদ্দিনও বাস্তব কারণেই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসতে পারছেন না। আমি আমার অবস্থা জানিয়ে আপনাকে সতর্ক করা প্রয়ােজন বােধ করছি। 
সম্মানিত সুলতান! আপনাকে নেতা মানি বলেই প্রকৃত অবস্থা আপনাকে জানাচ্ছি। আমি জরুরী মনে করেছি। আমার পরিকল্পনা আপনি শুনেছেন, যদি আমার ব্যাপারে আপনার কোন আদেশ থাকে বাহককে জানাবেন। আমার ব্যাপারে আপনি যে ফয়সালা নেবেন সেটাই আমার ফয়সালা। ক্রুসেড বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করা ছাড়া আপনি যে হুকুমই আমাকে দান করবেন আমি তা নির্দ্বিধায় মেনে নেবাে। 
আপনি যদি বলেন আমার সব সৈন্য নিয়ে আপনার কাছে চলে আসতে, তাতেও আমি রাজি। আমার শুধু একটাই শর্ত, আমি কোন মূল্যেই ক্রুসেড ও আর্মেনিয়ানদের সাথে কোন আপােস করবাে না।' 
সুলতান আইয়ুবী চিঠিটি পড়লেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি কাফেলার অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়ে সেনাপতি ও উপদেষ্টাদের জরুরী বৈঠক ডাকলেন। সবাই সমবেত হলে তিনি চিঠিটি এক সেনাপতির হাতে দিয়ে বললেন, সবাইকে পড়ে শােনাও। 
চিঠি পড়া হয়ে গেলে তিনি সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এবার বলাে তােমাদের পরামর্শ কি? এখন আমাদের কি করা উচিত? 
সঙ্গে সঙ্গে জবাব এলাে, ইয়াজুদ্দিনের শাহাদাতের তামান্নার

(চলবে)

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।