( খন্ড ১৪ )
রুবেল সেখান থেকে চলে আসলো সোহেল
ভাইকে সাথে নিয়ে চোঁখে মুখে রাজ্যের
হতাশা এলাকায় পৌছে মিজানকে সব খুলে
বলল । মিজান শুনে ভেঙ্গে পরলো
রুবেল মিজানকে বলছে আমার জীবনেই শুধু
এমন হবে কেন বলতে পারিস দোস্ত !
মিজানের মুখে কোন কথা নেই ।
রুবেল কিছুতেই মানতে পারছে না কিভাবে
কি হয়ে গেল । মিজান বলছে দোস্ত আমি
একটা জিনিস বুঝলাম না যে মেয়ে তোর
ভালবাসা পাবার জন্য বিষ খেতেও রাজি
ছিল । সে বিয়ের সময় একটা ফোন দিতে
পারলো না । রুবেল গেল ফোনের দোকানে
গিয়ে দোকানদারকে বলল সুমি কোন ফোন
দিয়েছিল?
দোকানদার ঐ নাম্বার থেকে কোন ফোন
আসেনি তবে একটা নাম্বারে ২২টা মিসকল
উঠে ছিল আমি তখন দুপুরে জুম্মার নামাজে
ছিলাম ৩টার দিকে খেয়ে দোকানে এসে
দেখি তারপর ফোন ব্যাক করি পরে ওপাশ
থেকে বলে সে ফোন দেয়নি ।
রুবেল নাম্বারটা দেন আর ঐ নাম্বারে কল
দিয়ে জিজ্ঞাসা করুন কোথায় থাকে আর নাম
কি । দোকানদার ফোন দিল ওপাশ থেকে
বলছে ফার্মগেট অমুক এলাকা সে ড্রাইভার
নামঃ. সাইফুল ।
রুবেল এবার সিউর হলো এটা ওর স্বামীর
নাম্বার সুমি হয়তো তার কাছ থেকে
কোনভাবে নিয়ে ফোন দিয়েছে ।
মিজান দোস্ত দেখছস আমার কপাল জানিনা
উপরওয়ালা কেন খেলছে আমার সাথে ।
মিজান দোস্ত মুনমুনকে ভুলতে পারতাম না
ওর হাসি আমার চোঁখে সবসময় ভাসতো আর
সুমিকে ভুলতে পারব না ঐ ঠোট যেটা দিয়ে
আমাকে চুমু খেয়েছে সেই ঠোটে অন্যকেউ চুমু
করছে যখনই ভাবছি কষ্টই পাচ্ছি ।
দোস্ত মদ নিয়ে আয় যা আজ ননষ্টপ খাব
দেখি মরতে পারি কিনা । রুবেল এবার
কঠিনভাবে নেশায় আসক্ত হয়ে গেল ।
এভাবে এক মাস চলে গেল একদিন সুমি তার
স্বামীকে নিয়ে এলাকায় আসলো বোনের
বাড়ী । মুলত সুমির উদ্দেশ্য রুবেল কিভাবে
আছে সেটা জানা তাই সে স্বামীকে বোনের
বাসায় রেখে রুবেলের বাসায় গেল । গিয়ে
ভাবির কাছে শুনল তার নেশায় আসক্তির
কথা ।
সুমি পাগলামী সে করে কেন জীবনতো ধংস
হয়েছে আমার, ভাবি কোথায় সে ? ভাবি
বলতে পারিনা তবে অমুক যায়গায় সে বসে
বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয় সেখানে খবর
নাও ।
সুমি গেল গিয়ে দেখে রুবেল- লিমন সহ
বন্ধুরা অনেকেই মদ খাচ্ছে । রুবেল
মাটিতে শুয়ে আছে । সুমি রুবেলের কাছে
গিয়ে ডাকছে এই রুবেল এই রুবেল রুবেল আ্যা
কে তুমি আরে সুমি তুমি এখানে, কেন এসেছ
বলো ।
সুমি তোমাকে দেখতে এসেছি চল বাসায়
চলো মিজান ভাই ওকে বাসায় পৌছে দিন আর
ঘুম ভাঙ্গলে বলবেন আপার বাসায় আসতে ।
রুবেল পরের দিন গেল আপার বাসায় গিয়ে
দেখে ওর স্বামী খাটে বসা সোহেল ভাই
পরিচয় করিয়ে দিল । ওর স্বামী কি কারনে
যেন বাহিরে গেছে পরে সুমির কাছ থেকে
সব ঘটনা শুনলো ওর স্বামীও মদ গাজা খায়
ড্রাইভার মানুষ মেয়েদের নেশাও আছে সুমি
প্রতিবাদ করলে ওকে মারধর করে কয়েকটা
আঘাতও দেখালো রুবেলকে । রুবেল শুনে
ক্ষ্রিপ্ত হয়ে গেল সালাকে আজ জন্মের মত
শিক্ষা দিবে ।
রুবেল বন্ধুদের খবর দিল বাহিরে গিয়ে
দেখে সে এক দোকানের সামনে দাড়িয়ে
সিগারেট টানছে । রুবেল চলেন দুলাভাই
আজ আপনাকে আমাদের এলাকা দেখাবো বলে
রওনা দিবে কিছুক্ষনের মধ্যে দৌড়ে চলে
আসলো ।
রুবেল মিজানকে বলল যা ভাল দেখে গাজা
নিয়ে আয় দুলাভাই আবার এগুলো ভাল খায় কি
দুলাভাই ঠিক বলছি না । সাইফুল হ্যা
নিশ্চয় সুমি আপনাকে বলছে?
রুবেল হ্যা ওতো আমার বোন ভাইকে বলবে না
দুলাভাই কি কি পছন্দ করে রুবেল বন্ধুদের
নিয়ে নৌকায় গিয়ে নদীর মাঝখানে গিয়ে
গাজা বানিয়ে দুলাভাইকে ইচ্ছামত খাইয়ে
তারপর পানিতে ফেলে দিল ।
দুলাভাই বহু কষ্টে সাতরে ডাঙ্গায় উঠে
এলো রুবেল চলেন দুলাভাই একটু মজা করলাম
আপনার সাথে সালারা একটু মজা করতে
পারি না বলেন ।
রুবেল তাকে আপার বাসায় দিয়ে আসলো সে
সাইফুল সুমিকে বলছে তোমার ভাইরা
মানুষের মৃত্যু নিয়েও মজা করে বলে শরীর
ক্লান্ত থাকায় সে বিছানায় গা এলিয়ে
দিয়ে ঘুমিয়ে গেল ।
সুমি রুবেলকে জিজ্ঞাসা করলো কি করেছেন
তার সাথে । রুবেল কিছুই করি নাই তবে আজ
তাকে মেরে ফেলার নিয়ত ছিল । পরে
তোমার মুখটা ভেসে উঠলো চোঁখের সামনে
আমি কিভাবে পারি তোমাকে বিধবা
বানাতে বল । তাই এবারের মত ওকে ছেড়ে
দিলাম আর তোমাদের বাসার ঠিকানা বল
আমি মাঝে মধ্যে গিয়ে খবর নিব । রুবেল
ঠিকানা নিয়ে চলে আসলো ।
পরেরদিন সুমিরা চলে গেল । রুবেল ৫ দিন
পর মিজানকে নিয়ে সুমির বাসায় গেল
রুমের সামনে গিয়ে দেখে ভিতরে ওর
স্বামী সুমিকে ধরে মারধর করছে আর বলছে
তোমার প্রেমিক তার বন্ধুদের নিয়ে আমাকে
মেরে ফেলতে চেয়েছিল কপাল ভাল বেঁচে
গেছি ।
সুমি বলছে এই একটা নতুন অযুহাত পেয়ে কোন
কারন ছাড়াই আমাকে মারেন । আর আপনার
কপাল ভাল ছিল না রুবেল ভাই ভাল মানুষ
এতকিছুর পরও শুধু আমার মুখের দিকে
তাকিয়ে আপনাকে কিছু বলেনি । আর আমিও
তাকে বলিনি যে কিভাবে আপনি আমাকে ঐ
দিন বিয়ে করেছিলেন ।
আপনি একটা বেঈমাণ রুবেল ভাইয়ের
ব্যাপারে সব বলেছি চাইলে আপনি বিয়ে
ভেঙ্গে দিতে পারতেন । আপনি তা করেননি
আপনি আমার শরীরটাকে শুধু দেখেছিলেন
মনটাকে দেখেননি ।
আপনি এই জীবনে আমার মন পাবেন না আমি
মনেপ্রানে রুবেল ভাইকে ভালবেসেছি
সারাজীবন ভালবাসবো । এ কথা শোনার পর
ওর স্বামী আরও মারধর করছে ।
রুবেল মিজানকে বলে চল আমরা চলে যাই
এখানে ওরা দেখলে বেচারি আরও মার
খাবে । সুমি যা বলেছিল আজ বুঝলাম আসলেই
সে সুখে নাই চাইলে এই দোজখ থেকে সুমিকে
নিয়ে যেতে পারি কিন্তু সুমিতো কখনো সে
কথা আমাকে বলেনি ।
রুবেল এলাকায় এসেছে নেতা খবর পাঠাইছে
দেখা করার জন্য রুবেল বন্ধুদের নিয়ে গেল
নেতার সাথে দেখা করতে । নেতা আসলো
রুবেল কি ব্যাপার তোমার কোন পাত্তা নাই
এভাবে হলে এলাকা হাতছাড়া হয়ে যাবে ।
কোন খোঁজ খবর রাখো এলাকায় কি হয় ।
রুবেল না ভাই আমি একটা ব্যাপারে একটু
বিজি ছিলাম কেনো লিমন ওরাতো আছে
ওদেরকে বললেই তো সব করে দিত । নেতা
ওরা তোমার অডার ছাড়া চলে না আর
মোবাইলের যুগ একটা মোবাইল কিনলে কি
এমন ক্ষতি হয় । রুবেল ভাই মোবাইল কিনব
আচ্ছা আজকেই এখন বলেন কি হয়েছে ।
গতরাতে ছোটগুলো নিজেরা নিজেরা ঝগড়া
করছে ওটা ম্যানেজ করার কথাও কি আমাকে
বলে দিতে হবে ।
লিমন বলছে ভাই ওদেরকে আমি গ্যান্জাম
আর না করতে বলছি । নেতা কাল বিশাল
সম্মেলন আছে সেখানে ২০০ পোলাপাইন
লাগবে ওদের সবাইকে সকাল ১০টার মধ্যে
রেডি করে নিয়ে যাইবা । ১৫০০০ টাকা
দিলাম খরচের জন্য যাও এখান থেকে
মোবাইল কিনে নিবা ।
রুবেল ওকে ভাই বলে চলে আসলো । রুবেল
লিমন,আর মমিনকে বললো
রাজন,শিশির,শাহী ন,আর
মালেক,জুয়েল,হায় দার,মাইকেল ওদের ধরে
নিয়ে আয় ওদের জন্য ভাই আজকে বড়ভাই
কতবড় কথা বললো । কিছুক্ষন পর ওরা গিয়ে
ওদেরকে নিয়ে এলো ।
রুবেল ওদের দুইগ্রুপের দুইজনকে বলল কিরে
শিশির ও হায়দার কি শুরু করেছিস তোরা
শুনলাম তোরা নিজেরা মারামারি করেছিস
কেন?
শিশির বলছে রুবেল ভাই হায়দার রাজনকে
বলে আমরা নাকি ওদের জুনিয়র-ছোটভাই
এগুলো শুনলে মেজাজ খারাপ হয় না বলেন ।
রুবেল খাইছেরে আপনারা তলে তলে এতদুর
দেখ তোরা দুই সাইটের দেখে আমি নিজেই
তোগো ইউনিট ভাগ করে দিছি । আর সিনিয়র
জুনিয়র কিরে আমাদের গ্রুপে আছে এগুলো
আমরাওতো চলি নাকি?
এলাকায় যা ধান্দা হয় সমান ভাগ তোদের
পাঠিয়ে দেই আমি যেমন হয়ছি তোরা এমন
হবি না তোদেরকে কোন মারামারিতে নেই
না শুধু মিটিং মিছিলে যাস । আমি আজকের
পর থেকে যেন না শুনি কোন গ্যান্জাম
করেছিস দুই গ্রুপে বুঝলি । ওরা মাথা নিচু
করে জ্বি ভাই ঐ লিমন ওদেরকে মিলিয়ে দে
আর হোটেলে নিয়ে কিছু খাওয়া ।
আর শোন তোরা দুই ইউনিট হলেও আজ থেকে
একসাথে চলবি বুঝলি আর কালকে সম্মেলন
আছে বিকালে খরচা পাঠায় দিব ২০০ লোক
আমরা এলাকা থেকে যাব । আবারও জ্বি ভাই
বলে লিমনের সাথে চলে গেল ।
পরেরদিন রুবেল ৩০০ এর বেশি লোক জরো
করে ফেলছে নেতা এসে দেখে মহাখুশি
রুবেলের কাঁধে হাত রেখে বলল সাবাস ।
মিটিং থেকে এসে সবাইকে টাকা দিয়ে
বিদায় করে বাসায় চলে গেল ।
রুবেল মোবাইল কেনার জন্য ৬৫০০ টাকা
রেখে দিয়েছিল পরের দিন মিজানকে নিয়ে
গেল ঐ টাকা দিয়ে সিম সহ সেট কিনে
নিয়ে আসলো । ভালোই চলছে রুবেলের
রাজত্ব-দিনকাল ইভটিজিং সহ সব ২ মাস
পর সুমি এলাকায় চলে এসেছে বোনের বাড়ি
রুবেল খবর পেয়ে গেল
গিয়ে সুমির কাছে যা শুনলো রীতিমত
ভয়াবহ সাইফুল সুমির স্বামী বিয়ের রাতে
মদ খেয়ে সুমিকে জোরপুর্বক ধর্ষন করে তার
ইচ্ছার বিরুদ্ধে । এর পর যে কয়বার
যৌনমিলন করেছে মদ খেয়ে জোর করে
মাঝেমধ্যে সে অন্য মেয়েকে বাসায় নিয়ে
এসে ফুর্তি করে সুমি প্রতিবাদ করলে সে
তাকে অমানষিক নির্যাতন করতো । সুমি
অনেকটা বাধ্য হয়ে তার সংসার করছে
কয়েকবার নাকি আত্তহত্যা করতে গিয়েছিল
সাহস হয়নি ।
ঐ লোকটা নাকি মেয়েদের মিন্সের সময়ও
জোর করে সুমিকে ধর্ষন করতো তার পেটে ৩
মাসের বাচ্চা বলে আত্তহত্যা যখনও করতে
যাই পারিনা নিশ্পাপ শিশুর কথা মনে হলে
পরে ফিরে আসি ।
এখন অনেকটা বাধ্য হয়ে মুখ বুজে তার
সংসার করি ।
নানি আমার এত বড় ক্ষতি করলো কি ক্ষতি
করেছিলাম তার ।
রুবেলকে বলছে আমার ভাগ্য আমি মেনে
নিয়েছি আপনি নতুন করে শুরু করেন ।
রুবেল সুমিকে বলছে সাইফুলকে একটা শিক্ষা
দিব । সুমি না রুবেল ভাই এমন কিছু আপনি
নিশ্চয় চাইবেন না যাতে আমার উপর আরও
নির্যাতন হোক । রুবেল সুমি তোমার
স্বামীকে তালাক দাও দিয়ে চলে আসো
এখানে থাক লাগে সমস্ত খরচ আমি দিব তাও
চাই তুমি সুখে থাকো । সুমি বলছে রুবেল
ভাই মেয়েদের বিয়ে একবারই হয় আর
বিয়ের পর স্বামীর ঘর তার ঘর সে চাইলেও
সেখান থেকে আসতে পারেনা যদিও পারতাম
বাচ্চা পেটে এখন এটাকে কি করব । কার
পরিচয় দিব যখন সে দুনিয়ার আলো দেখবে ।
আমি আমার কষ্ট মুখ বুজে মেনে নিয়েছি
হয়তো সে একদিন বুঝবে । রুবেল আচ্ছা যেটা
তুমি ভাল মনে করো আর নতুন মোবাইল
নিয়েছি নাম্বার লিখে নাও কখনো আমাকে
প্রয়োজন হলে ফোন দিবা বলে নাম্বার
দিয়ে চলে আসলো ।
মিজান বলছে দোস্ত যা হওয়ার হয়েছে তুই
সুমিকে ভুলে যা কাউকে আর মন দিয়ে
ভালবাসিস না । তুইও বিয়ে করে ফেল
দেখবি সব ঠিক হয়ে গেছে । রুবেল বিয়ে
করব ভালো মেয়ে কোথায় পাব । মিজান
আমার খোঁজে ভালো ও খুব ভদ্র একটা মেয়ে
আছে । তারপর ?

1 coment rios:
Joo
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন