( খন্ড ১৩ )
সুমি রুবেলের কলার ধরে এক টানে রুবেলকেশরীরের উপর এনে জড়িয়ে ধরে রইল । এরপর
রুবেল সরাসরি সুমির ঠোটে চুমু দিল দুটি
ঠোট একত্রে হয় আর কারেন্টের শক খায়
এভাবে ঘাড়ে,গলায়,কনেকক ্ষন চুমু খেয়ে
পরক্ষনে সরে আসলো । সুমি রুবেলের
বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে আদিম তৃষ্ণায়
সাপের মত ফোঁসফোঁস আর ছটফট করছে ।
রুবেলের আর সাহস হলোনা নিজ বাসায় এমন
কিছু একটা করবে সে সুমিকে রেখে ভাবির
সামনে এসে দাড়িয়ে রইল ।
কিছুক্ষন পর সুমি উঠে রুবেলকে ডাকছে
রুবেল গেল এবার সুমি বলছে দেখেন
আপনাকে ভালবাসি মন থেকে তাই হয়তো
এগুলো হয়েছে আমি আমার জীবনে প্রথম
কাউকে চুমু দিলাম তাও হয়তো দিতাম না
কারন এইসব আমি জানতাম না আপনার এক
সময়ের প্রেমিকা এগুলো আমাকে শিখিয়েছে
।
মানুষ আসলেই সঙ্গ দোষে নষ্ট হয়ে যায় ।
আমি ভুল কিছু করে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন
তবে একটা জিনিষ খুব ভালভাবে বুঝলাম যে
আপনার মনের মধ্যে একটা ভাল মানুষ
লুকিয়ে আছে আমি আজ তাকে দেখলাম ।
আপনি চাইলে পারতেন আজ আমাকে নষ্ট
করতে এবং সেখানে আপনার কোন দোষ হতো
না । কিন্তু আপনার অপরাধের আড়ালে
লুকিয়ে থাকা বিবেক সে কাজে বাধা
দিয়েছে ।
আপনি চেষ্টা করে দেখুন পারবেন আর একটা
কথা আমি যেমন আপনাকে আজকের ঘটনার পর
থেকে সারাজীবন মনে রাখব তেমনি
আপনারও যদি প্রথম হয় তাহলে আপনি
আমাকে ভুলবেন না । কেউ গালে চড় মারলে
আপনার হয়তো মনে হবে এখানে সুমি চুমু
দিয়েছিল ঐ হাতে অস্র্র্ নেওয়ার সময়ও
মনে হবে এ হাতে সুমি হাত রেখেছিল ।
সুমি চলে যাবে ভাবি বলল না আজকে যাওয়া
হবে না দুপুরে খেয়ে তারপর যাইবা ।
মা আসলো কিছু সিঙ্গারা-নিমকি নিয়ে এসে
বলছে সুমি মা আমার আজ তুমি রান্না করবে
।
সুমি জ্বি আম্মা বলে কিছুক্ষন পর রান্না শুরু
করলো রুবেল চলে গেল বন্ধুদের কাছে । এর
মধ্যে লিমন এসে বলল কিরে সালা রুবেল
তোকে খুঁজতে তোর বাসায় গেলাম গিয়ে যা
দেখলাম চোঁখতো কপালে উঠে গেছে দোস্ত
আমার মালটাকে গোপনে আবার বিয়ে করে
রেখে দিসনাইতো ।
রুবেল ধুর ব্যাটা ও আমার মাকে নিজের
মায়ের মত জানে মা হয়তো বলছে তাই
রান্না করছে । রুবেল আর প্রকৃত ঘটনা বলল
না শুধু মিজান জানতো ওর উপড় বিশ্বাস আছে
ও কখনো লিমনকে বলবে না । লিমন বলছে
রুবেলকে সাইটে নিয়ে দোস্ত আসলে সুমি
মেয়েটা এমনে মনের দিক থেকে অনেক ভাল
ওর সাথে যখন ঘুরতে যেতাম হাত ধরা ছাড়া
আর কিছুই করতে পারিনি ।
এইসব মেয়েদের আমার আবার পছন্দ নয় একটু
চুমাচুমি না করতে পারলে মজা লাগে বল
দোস্ত । রুবেল তুই সালা মানুষ হবি কবে ?
রুবেল দুপুরে খেতে আসছে সুমিকে আম্মা
ইশারা করছে । সুমি এসে বলছে এত দেরি
করে খেলে শরীর ভাল থাকে কাল থেকে
তারাতারি খেয়ে যাবেন । রুবেল খাইছেড়ে
পুরো বাড়ি বশ করে ফেলেছ দেখি পারও তুমি
বলে গোসল করে এসে খেতে বসে বলল ।
সুমির রান্নার হাত ভালই তাইনা আম্মা ।
আম্মা এইজন্যই তো বলি ওর মত একটা লক্ষি
মেয়ে ঘরে নিয়ে আয় । রুবেল আহ মা আবার
তাল পেয়ে শুরু করে দিলা আমি এখনই বিয়ে
করব না আরও পরে ।
বিকালে সুমি বাড়ির সবার কাছে বিদায়
নিয়ে রুবেলকে বলল রাতে আপনি আমাদের
বাড়ির পাশের মাঠে একটু আসবেন কথা আছে
। রুবেল আচ্ছা ঠিক আছে বলে রাত ৮টার
দিকে গেল মাঠে সুমি এলো ।
একটা ঠিকানা আর একটা মোবাইল নাম্বার
নিয়ে বলল আপনি এই ঠিকানায় গেলে
আমাকে পাবেন আর এই নাম্বার আমার
নানির, কখনো ফোন দিলে তাকে বলবেন
আমরা একই সাথে পড়তাম তাহলে আমাকে
দিবে । বলে কাঁদলো কতক্ষন বলে আপনাকে
ছেড়ে যেতে আমার ইচ্ছে করছে না । মনে
হচ্ছে আপনাকে আমি হাড়িয়ে ফেলব বলে
হাউমাউ করে কাঁদছে যে কান্না রুবেলের
পাথর মনটাকে ভিজিয়ে দিচ্ছিল ।
রুবেল আচ্ছা আমি যাব দুইদিন পর গিয়ে
তোমার নানিকে বলব যাবে এখনই তোমাকে
বিয়ে না দেয় ।
সুমি চলে যাচ্ছে রুবেলে পিছন থেকে চেয়ে
আছে । রুবেল তখন অনুভব করছে কাছের মানুষ
দূড়ে চলে গেলে কি কষ্টই না লাগে ।
সুমি পিছন দিকে ফিরে তাকিয়ে একটা
হাসি দিয়ে টাটা দিয়ে চোঁখের আড়াল হয়ে
গেল ।
পরের দিন সকালে নানিকে সাথে নিয়ে
সুমি খালার বাড়িতে চলে গেল । রুবেল তখন
গভীর ঘুমে উঠেই গেল সুমিদের ওখানে
সুমিরা ছিল মোট ৪ বোন তার মা মারা
যাওয়ার পর বাবা আরও একটা বিয়ে করে
সেই ঘরে ২ বোন কোন ভাই ছিলনা । এক
বোনের স্বামী আবার এলাকায় থাকতো তাকে
সুমির কথা জিজ্ঞাসা করলো তাকে
বিস্তারিত সব খুলে বলল এবং রুবেল নিজের
পরিচয় দিল ।
রুবেলের পরিচয় পেয়ে দুলাভাই বলে
খাইছেড়ে ভাই আপনি সেই লোক আজ প্রথম
দেখলাম । তবে নানি কিন্তু গুন্ডা ছেলে
পছন্দ করেনা । রুবেল আপনি কবে যাবেন ঐ
বাসায় দুলাভাই । দুলাভাই বলছে ভাই
আমাকে স্বরম দিবেন না । আমি আপনার
বয়সের আমাকে বন্ধু ভাবতে পারেন যদিও
অল্প বয়সে সুমির বড়বোনকে বিয়ে করেছি ।
আপনি আমার বন্ধু হলেই খুশি হব আর আমি
আগামী পরশু ওদের বাড়ীতে যাব যদিও
নানি আমাকে দেখতে পারে না তার বড়
নাতনিকে ভাগিয়ে বিয়ে করার জন্য আমি
সেখানে আপনার জন্যই যাব ।
রুবেল ঠিক আছে বলে চলে আসলো পরশু দিন
সেই দুলাভাইকে সাথে নিয়ে খালার বাড়ী
পীরেরবাগ গেল ।
নানি বাসায় ছিল সুমির ছোটবোন সে
রুবেলকে দেখে চিনে ফেলল । নানি
দুলাভাইকে বলল জামাই সাথে যাকে এনেছে
কে সে দুলাভাই পরিচয় দিল এটা আমার খুব
ঘনিষ্ট বন্ধু । দুলাভাই নানিকে বলছে ও
নানি সুমিকে দেখছি না । নানি ও গোসল
করতে বাথরুমে ঢুকছে তোমরা বসো আমি
তোমাদের জন্য কিছু হালকা নাস্তার
ব্যাবস্তা করি । সুমির ছোটবোন রুমাকে
নিয়ে নাস্তা আনতে নানি চলে গেল ।
রুবেল দুলাভাইকে বলছে সুমিকে একটু ভয়
দেখাব আপনি একটু বাহিরে যান । দুলাভাই
বাহিরে গেল রুবেল বাথরুমের দরজার
আড়ালে দাড়িয়ে রইল । সুমি মাত্রই বাথরুম
থেকে বের হয়ে রুমে ঢুকে গামছা দিয়ে চুল
ঝাকা দিচ্ছে । রুবেল চুপি চুপি পিছন দিয়ে
সুমিকে জড়িয়ে ধরল সুমি হটাৎ ভয়ে পিছন
ফিরে দেখে রুবেল আরে রুবেল ভাই আপনি
বলে বুকে থু থু দিল জানেন কি ভয়টা না
পেয়েছিলাম । আপনি কিভাবে এলেন তাও
সরাসরি বাসায় । রুবেল সুমিকে দেখছে
সুমি কি দেখেন কথা বলেন না কেন?
রুবেল তোমাকে দেখি ভেজা চুলে তোমাকে
অসাধারন লাগছে সুমি । সুমি তাই বুঝি বলে
লজ্জায় লাল হয়ে গিয়ে রুবেলে সামনে
আসলো বলে এখন আরও ভাল করে দেখেন ।
সুমি বললো কার সাথে আসছেন বললেন নাতো
অমনি দুলাভাই ঢুকে বলল আমার সাথে । সুমি
ও সোহেল ভাই খুব ভাল করেছেন দুলাভাই ।
দুলাভাই এই সুমি তোমাকে না বলছি আমাকে
দুলাভাই বলবে না আমাকে সবসময় সোহেল
ভাই বলবে দুলাভাই বললে নিজেকে বুড়ো
বুড়ো লাগে হা,হা,হা ।
সুমি আচ্ছা বোনকে বিয়ে করেও ভাই আবার
বিয়ে করার ইচ্ছে আছে নাকি সোহেল ভাই ।
দুলাভাই আবার জিগায় তুমি হয়তো জানোনা
পুরুষের ভাগে সারে ৩ জন করে ভাগে পরছে
। সুমি হুম বুঝলাম আর আমারজন বিয়ের নাম
শুনলেই ভয় পায় । দুলাভাই কি বলো ভয়
তাড়ানোর ঔষধ দিয়ে দিবা । এর মধ্যে
নানি ঢুকে কে আবার ভয় পায় হে ।
সুমি নানি তোমার নাত জামাই তার বউকে
নাকি ভয় পায় । নানি ভয়তো পাবেই
পিরিতের বিয়াই এইরকম আমি তোর নানাকে
দেখে ভয়ে খাটের তলে লুকাতাম । আর
এখনকার ছেলেমেয়ে কিইবা বয়স মোছ উঠে
নাই বিয়ের জন্য পাগল হয়ে যায় । দুলাভাই
নানি তুমি কিন্তু আমাকে ইঙ্গিত করে
কথাগুলো বলছো । এইজন্যই তোমার এখানে
আসতে চাইনা । রুবেল নানি ঠিক বলছেন
মোছ উঠে নাই কিসের বিয়া বিয়ের নুন্মতম
একটা বয়স লাগে তাইনা নানি । এবার
দুলাভাই ও আমার লগে আইসা এখন এই
বুড়িটার সাথে হাত মিলাইছো সমস্যা নাই
শালি আমার সাথে আছে ।
নাস্তা খেয়ে বলল আচ্ছা আমরা আজ তাহলে
উঠি নানি উঠবি মানে দুপুরে খেয়ে তারপর
যাবি আর সাথে আমার নতুন নাতি এনেছো
ঠিকমত তার সাথে কথা বলতেও পারলাম না
।
তোরা থাক আমি বাজার থেকে কিছু কিনে
নিয়ে আসি বলে আবারও রুমাকে নিয়ে চলে
গেল । দুলাভাই বলল রুবেল ভাই যাবেন
নাকি বাহিরে সিগারেট খেতে । সুমি কি
রুবেল ভাই আপনি এখনও সিগারেট খান ।
রুবেল আরে না দুলাভাই আপনি যান আমি একটু
সুমির সাথে কথা বলি দুলাভাই ওকে আমি
গলির মোড়ে দাড়াই গিয়ে বুড়িটা আসলে
দৌড়ে চলে আসব ।
রুবেল সুমিকে বলল তোমার বিয়ের কোন কথা
বলছে নানি । সুমি হ্যা শুক্রবারে নাকি
ছেলে আমাকে দেখতে আসবে বলেছে । রুবেল
কি বল এত তারাতারি । সুমি হ্যা নানি
বলে ছেলেটা নাকি যে কাজ করে অনেক
টাকা কামায় খুব ভাল ছেলে । রুবেল তুমি
নানিকে বলনি আমাদের কথা । সুমি ওরে
বাপরে নানিকে এমনি ঠান্ডা দেখে কি
মনে হয় সে ঠান্ডা আসলে ভিতরে সে অনেক
কড়া আমি বললে আমার খবর আছে আপনিতো
এসেছেন আজ বলে যান ।
রুবেল দেখি কথাটা তুলব আর তোমাকে
বাসায় গিয়ে যেই নাম্বার থেকে ফোন দিব
কোন ঝামেলা হলে সেই নাম্বারে ফোন
দিবা । সুমি আচ্ছা ঠিক আছে এখন বলেন
আমার আম্মা কেমন আছে । রুবেল হুম সবাই
ভালো আছে শুধু ভালো নেই আমি । সুমি
আপনার আবার কি হয়েছে?
রুবেল তুমি চলে আসার পর থেকে তোমাকেই
শুধু মনে পরে । সুমি এইবার বুঝেন তাহলে
আমি কিভাবে এখানে দিন কাটাই । নানি
বাজার নিয়ে আসলো দুলাভাই আগেও ঠুকেছে
বাসায় । দুলাভাই কথাটা তুলল নানি সুমির
নাকি বিয়া ঠিক করছো । নানি হ শুক্রবারে
সুমিকে দেখতে আসবে । আর ও যেখানে ছিল
ওখানে একটা ছেলের সাথে তাকে কথা
বলতে একদিন দেখছি । ছোটটা কবে বড় হয়
তার বিয়ে দেখে যেতে পারব কিনা ঠিক
নেই । তাই আমি চাইনা আমার এই
নাতনিটাও বড়টার মত পালিয়ে বিয়ে করুক
।
বুঝলাম তবে ছেলেটাকে বিয়ে করতে সুমি
রাজি আছে কিনা সেটাওতো জানা দরকার
সুমির নিজের পছন্দ থাকতে পারে । পরে
দেখা যাবে বিয়ের পর সুখে নাই তখন কি
করবা । নানি দেখো জামাই বেশি বুঝবা না
আমি যখন তোমার নানাকে বিয়ে করি তখন
এরকম ছেলে মেয়ে দেখার চল ছিলনা ।
তোমার নানাকে নিয়া ৬২ বছর কাটাইছি
কোন সমস্যা হয়নি ।
বাদ দেও ঐ সব প্যাচাল ঐ নাতির সাথে
একটু কথা বলি তা নাতি তুমি কি করো ।
রুবেল না নানি আমি এখনও কিছু করিনা
বাপের হোটেলে খাই আর বনের মোষ তাড়াই
। নানি চাকরি বাকরি কিছু করার চেষ্টা
কর এভাবে দিন কাটবে না বিয়ে শাদি
করতে হবে না । রুবেল নানি বউতো আমার
আছে । নানি কি বিয়ে করে তারপরও বাপের
হোটেলে খাও । রুবেল আরে না নানি আমার
বউতো তুমি তোমাকে বিয়ে করে সারাজীবন
পায়ের উপর পা তুলে খাব । নানি যাহ
হত্তোছাড়া আমার কি সেই যৌবন আছে ।
রুবেল নানিকে বলল নানি তোমার মোবাইল
নাম্বারটা দাও কোন প্রয়োজন হলে ফোন
দিব । নানি সুমিকে বলল লিখে দে আর
নাতি তুমি কিন্তু সুমির বিয়ের সময় আসবে
নাতজামাইয়ের সাথে । রুবেল সে দেখা
যাবে নানি এরপর খাওয়া দাওয়া শেষ করে
রুবেল চলে আসলো ।
রাত ৮ টার দিকে রুবেল ফোনের দোকান
থেকে ঐ নাম্বারে ফোন দিলো ধরলো রুমা
তাকে বলল সুমি আছে বলে হ্যা দিচ্ছি ।
সুমি হ্যালো রুবেল বল কি বলবে । রুবেল
আমি তোমাকে ছাড়া এক মূহুর্ত থাকতে
পারছি না ।মনের মধ্যে কেমন আনচাঁন
আনচাঁন করে । সুমি হ্যা দূড়ে গেলেই করে
নানিকে বলার সাহসতো হলো না ।
রুবেল সকাল ১১টার দিকে একটু দেখা করতে
পারবা । তাহলে আমি তোমাদের এলাকায়
আসবো আমি গলির মোড়ে এসে দাড়িয়ে থাকব
। সুমি আচ্ছা আসব । রুবেল ঠিক আছে বলে
ফোন রেখে দিল ।
পরেরদিন রুবেল গেল ঐ এলাকায় সুমি
ছোটবোন রুমাকে নিয়ে আসলো ওরা রিকসায়
ঘুরলো শিশু পার্কে গেল তারপর সুমিকে
এলাকায় পৌছে দিয়ে বাসায় এভাবে
একসপ্তাহে ৩ বার ঘুরলো বৃহসপ্রতিবারে
নানি বুঝলো ওরা কোথাও যায় । নানি ফোনে
নাম্বার পেয়ে সেই নাম্বার থেকে বলল
এটা রুবেলদের এলাকা নানি বুঝল যেই
ছেলের সাথে তাকে দেখছিলো সেই হয়তো
ফোন করে তার তার সাথেই হয়তো ঘুরতে যায়
। রুবেল সুমিকে এলাকায় নামিয়ে দেওয়ার
সময় বলল কালতো শুক্রবার ওরা আসবে
তোমাকে দেখতে সমস্যা হলে ঐ নাম্বার
যেটাতে ফোন দেই আমি দোকানদারকে বলে
দিব নাম্বারটা সেভ করে রাখতে তুমি ফোন
দিবা বলে চলে এলো ।
নানি মোবাইল থেকে নাম্বার ডিলেট করে
দিয়েছে আগেই তারপর ওরা বাসায় আসার
পর বলতেছে কই গেছিলা ঐ সব ফালতু ছেলের
সাথে বিয়ের আছে ঘুরাঘুরি করবা আমি
মেনে নিব । কালকেই তোমার বিয়ে ঘর
থেকে বের হওয়ার কোনরকম চেষ্টা করবে
না । আমি ছেলের মাকে ফোন দিয়ে কথা
বলছি তারা বলেছে ঠিক আছে কালকেই
তোমাকে নিয়ে যাবে । সুমি নানি এরচেয়ে
আমাকে মেরে ফেলো তাও আমি ঐ ছেলেকে
বিয়ে করব না । আমি রুবেল ভাইকে
ভালবাসি ।
নানি কি রুবেল ঐ যে সেদিন এসেছিল
তোমার দুলাভাইয়ের সাথে সেই ছেলেটা ।
সুমি হ্যা । নানি এতবড় চিটিং আমার সাথে
সোহেল আমার এক নাতনিকে নিয়ে পালিয়ে
বিয়ে করে রাখছে বস্তিতে আবার তোমাকেও
সেই রাস্তায় নিয়ে যেতে চেয়েছিল ।
কপাল ভাল আমার কেউ জানেনা তা নাহলে
মানসন্মান সব যেত আমার । সুমি রুবেল ভাই
সেরকম ছেলে না তাদের নিজেদের বাড়ি
আছে ঐ এলাকায় । নানি বাড়ি থাকলে কি
হবে সেতো বেকার তাছাড়া তোমাকে বিয়ে
করলে তাকে বাসায় মেনে নিবে সে
গ্যারান্টি কে দিবে? সুমি তার মা আমাকে
খুব পছন্দ করে । নানি পছন্দ আর ছেলের বউ
হিসাবে মেনে নেওয়া একনয় ।
তুই আমি যেই ছেলেকে পছন্দ করেছি তাকেই
বিয়ে করবি । শুক্রবারে আর সুমির ফোন আসে
না রুবেল ফোনের দোকানে একটু পরপর খোঁজ
নেয় । শনিবারে সোহেল ভাইয়ের সাথে ঐ
এলাকায় গিয়ে শুনে বিয়ে হয়ে গেছে সুমির
। সোহেল ভাই নানির সাথে তুমুল ঝগড়া করে
।
ছোটবোন রুমা রুবেলকে বলে কিভাবে নানি
তার আপাকে জোর করে বিয়ে করতে বাধ্য
করেছে । রুবেল শুনে নানিকে বলে সে কি
ছিল আর সুমি তার জীবনে কতটা মূল্যবান
ছিল ।
নানিকে শুধু আসার সময় একটা কথাই বলেছে
যা হয়েছে আর যা করেছেন যদি দেখি সুমি
সুখে আছে সব ভুলে যাব আর যদি সে তার
স্বামীর কাছে সুখে না থাকে তবে আপনি
যার জন্য দায়ী থাকবেন । কখনো ক্ষমা
পাবেন না বলে চলে এল|

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন