( খন্ড ১২ )
দুইদিন পর সুমি বাসায় আবার এসেছে রুবেলবন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে তখন রুবেলের
ভাতিজা গিয়ে বলল দাদি ডেকেছে । রুবেল
মিজানকে নিয়ে বাসায় আসলো এসে দেখে
সুমি বসা তার রুমে জিজ্ঞাসা করলো কি
ব্যাপার সুমি কি মনে করে বাসায় আসলা ?
সুমি আপনার সাথে জরুরী একটা বিষয় নিয়ে
কথা বলতে চাই । রুবেল বলো কি বলবা?
সুমি উনার সামনেই বলব । রুবেল হ্যা বল ও
থাকলে সমস্যা কি? আর কি এমন কথা যে ওর
সামনে বলতে লজ্জা পাও ।
বন্ধু মিজান এখন বলছে আমি বুঝছি কি বলবা
তুমি । সুমি বলছে কি বুঝছেন বলেন মিজান
ভাই । মিজান তুমি বলবা এখন রুবেলকে
তোমার খুব ভাল লাগে তুমি তাকে ভালবাসো
তাই নয় কি?
সুমি মাথা নিচু করে কিছুটা লজ্জা চোঁখে
বলল হ্যা ঠিক বলছেন মিজান ভাই । আসলে
আমি ভুল লোককে ভালবেসে ছিলাম সে আমার
ভালবাসা বুঝেনি । আমার চোঁখে রুবেল ভাই
বেষ্ট । রুবেল বলছে
এই তুমি ভাবলে কিভাবে যে লিমন যার
সাথে প্রেম করতো তাকে আমি ভালবাসবো
তুমি এখুনি বাসা থেকে চলে যাও । এটা
আমার পক্ষে সম্ভব নয় আমি তোমার জন্য
লিমনের শত্রু হতে পারব না ।
সুমি দেখেন দুইদিন পর আমি এই এলাকা
থেকে খালার বাসায় চলে যাচ্ছি তারপর
সেখানে আমার জন্য যে ছেলে পছন্দ করে
রেখেছে তাকে আমার বিয়ে করতে হবে ।
আপনি বলুন যাকে আমি চিনিনা তার সাথে
আমি কিভাবে সংসার করব । রুবেল দেখো
সুমি দুনিয়ায় অনেক মেয়েরই বিয়ে হয়
তারা কেউ কাউকে চিনে না বিয়ের পর
মানিয়ে নেয় এটাই দুনিয়ার নীতি ।
সুমি আমি কিচ্ছু শুনতে চাইনা আপনি আমার
সাথে সম্পর্ক করবেন কিনা তা বলেন আর
আমি অনেক ভেবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।
রুবেল প্রশ্নই আসে না ।
সুমি রুবেল ভাই আমি আপনাকে ইতিমধ্যে
নিজের অজান্তে অনেক ভালবেসে ফেলেছি ।
আমি ধারনাও করেছিলাম যে আপনি এ কথা
শুনলে আমাকে ফিরিয়ে দিবেন । তাই সাথে
করে কিটনাশক নিয়ে এসেছি যদি এতেও না
বুঝেন আমি আপনাকে কতটা ভালবাসি তাহলে
সেটা খেয়ে প্রমান করব ।
আপনি রাত ৮টার মধ্যে আমাকে জানাবেন
যদি না জানান তাহলে একটা অঘটন ঘটবে
এবং সেটার জন্য আপনি দায়ী থাকবেন বলে
সুমি চলে গেল ।
রুবেলের মাথায় কিছুই কাজ করছে না কি
করবে এখন সে মিজান বলল প্রেম কর সমস্যা
কি ? মেয়েটার জীবন বাঁচা তাছাড়া ওতো
দুইদিন পর একেবারেই চলে যাচ্ছে
সেক্ষেত্রে ওকে সান্তনার হলেও বলে দে ।
রুবেল বলল জোর করে আমিই যেখানে
ভালবাসা পাইনি সেখানে একটা মেয়ে আজ
আমার উপর জোর খাটায় । জোর করে সব
হলেও দোস্ত ভালবাসা হয় না ।
রুবেল ৮টার একটু আগে একটা মাঠে গেল
মিজানকে সাথে নিয়ে সুমি আসলো তার
ছোটবোনকে নিয়ে মিজান ছোটবোনটার
সাথে কথা বলছে আর সুমি রুবেলকে
জিজ্ঞাসা করছে কি ভাবলেন ?
রুবেল হ্যা ভেবেছি তুমি যা বলেছ তাতে
আমি রাজি আছি । সুমি কিটনাশকের শিশি
বের করে বলছে যদি আজ আমাকে ফিরিয়ে
দিতেন তাহলে এটা আপনার সামনেই আজ
খেতাম । এখন খুশিতে মনে হচ্ছে আপনাকে
জড়িয়ে ধরি ।
রুবেল থাক ওকাজ না করলেও চলবে সুমি আমি
সকালে আপনাদের বাসায় আসছি আমার একটা
আম্মু আছে তার কাজ থেকে বিদায় নিতে হবে
। তাছাড়াও আম্মু আমাকে একটা দায়িত্ব
দিয়েছে সেটাও ঠিকমত পালন করতে হবে ।
রুবেল বল কি আমার আম্মা তোমাকে দায়িত্ব
দিয়েছে কি সেটা? সুমি এখন বলা যাবে না
সকালে এসে বলব বলে বিদায় নিয়ে চলে
গেল ।
পরেরদিন সকাল ৯ টার দিকে সুমি বাসায়
এসে ভাবির সাথে তরকারি কাটছে । রুবেল
তখন ঘুমে আম্মার সাথে কথা বলছে খুব হেসে
হেসে সে শব্দে রুবেলের ঘুম ভেঙ্গে গেল ।
আম্মা সুমিকে বলছে দেখো মা আমার কোন
মেয়ে নাই তুমি যেদিন বললা যে তোমার মা
নেই আর আমাকে বললে আমি আপনাকে আম্মা
ডাকতে পারি সেদিন থেকেই তোমাকে আমার
মেয়ের মত দেখি ।
তুমি যখন মনে চায় নিজ বাসা মনে করে
চলে আসবে । সুমি আম্মাকে সব খুলে বলল ।
আম্মা বলছে কি বল কালকে তুমি চলে যাবে
। সুমি হ্যা আম্মা তবে সময় পেলেই আমার
মা টাকে দেখতে ছুটে আসব ।
সুমি যদিও একটু চন্চল টাইপের মেয়ে তবে
ওর সবচেয়ে বড়গুন হলো সে সহজেও যে কারও
মন জয় করে নিতে পারে । রুবেল জেগে
জেগে রুম থেকে তাদের সব কথা শুনছে ।
আম্মা বলছে বাদরটা রাতে বন্ধুদের সাথে
আড্ডা মেরে তারপর ১২ টা ১ টা প্রযন্ত
ঘুমায় ।
ওদের সাথে চলে ও নষ্ট হয়েছে এত বারণ
করি কথা শুনে না বলে এখন ফিরলে নাকি
ছেলের লাশ পাবে । দিনে অনেকেই ওর
নামে কমপ্লেইন নিয়ে আসে আমি যখন ওকে
জিজ্ঞাসা করি ও বলে কার এত বড় সাহস
নাম বলো । আমি ওর কাছে নাম বলতেও ভয়
পাই তাহলে ওদের আবার গিয়ে মারবে ও
এমন ছিল না প্রথমদিকে অনেক ভালো ছিল ।
আচ্ছা মা তোমাকে যে বললাম সব কি করলে
। সুমি আজ বলব আপনার ছেলেকে ।
আম্মা তাহলে বল আমি ঘুরে আসি নাহলে
ভাববে আমি সব বলেছি পরে চিল্লাচিল্লি
করবে বলে মা চলে গেল । সুমি রুমে ঢুকে
ডাকছে রুবেল শুনেও না শোনার ভান করে
ঘুমিয়ে রইল ।
সুমি ভাবিকে বলল একমগ পানি দেন তো
দেখি এতক্ষন ডাকার পর ঘুম কিভাবে না
ভাঙ্গে । ভাবি খবরদার সে কিন্তু গরম
মাথার মানুষ ভুলেও এ কাজ করবে না অবস্য
এটা ওদের বংসের সবারই একটা সমস্যা ।
রুবেল সব শুনছে আর মনে মনে বলছে মেয়ে
মানুষের স্বভাব হলে কথার ফাঁকে বংস
টেনে আনা । এবার রুবেল চোঁখ মুছতে মুছতে
বলছে আরে সুমি তুমি এত সকালে । সুমি
১১টা বাজে এখন আপনার সকাল কাজকাম আর
পড়ালেখা তো করেন না করলে বুঝতেন সকাল
কয়টায় হয় । যান ফ্রেশ হয়ে আসেন জরুরী
কথা আছে ।
রুবেল ফ্রেস হয়ে নাস্তা খাচ্ছে বল তোমার
কি কথা । ফিসফিস করে বলছে আপনি আমাকে
ভালবাসেন তো নাকি ? রুবেল এত ফিসফিস
করে কথা বলতে হবে কেন আম্মা তো নেই ।
সুমি ভাবি আছে না দরজার সামনে বসে
তরকারি কাটছে ।
ভাবি এবার বলছে বলছে আমি কিন্তু শুনছি
আমার কান খাড়া আছে । রুবেল হায়রে মেয়ে
মানুষ ফিসফিস করে কথা বলছে সেটাও
শুনছে । ভাবি সমস্যা নাই যা বলার জোরে
বলতে পারেন যেহুতু আম্মা বাসায় নেই ।
এখন সুমি বলছে বলেন বাসেন কিনা? রুবেল
হ্যা অবস্যই ।
সুমি তাহলে আপনাকে আমার মাথা ছুঁয়ে
আজকে একটা কথা দিতে হবে বলেন দিবেন
কিনা? রুবেল আগে বলো কি কথা তারপর
বলছি ।
সুমি আপনি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবেন না
তারপর সিগারেট খাবেন না বলেন আর
এগুলো করবেন না ।
রুবেল ২৪ ঘন্টা হলোনা সম্পর্ক আমাদের
এরমধ্যেই এই শর্ত না জানি কপালে আর কি
কি আছে ।
সুমি এগুলো ছেলের হাতের খেলনা নয় যে
মনে চাইলো না খেললাম না বাস্তবতা
অনেক কঠিন এত দ্রুত তা সম্ভব নয় ।
সুমি আমি আপনার আম্মাকে কথা দিয়েছি সে
কথার বিনিময়ে যদি নিজের জীবন দিতে
হয় দিব । বলেন আপনার কি চাই বলেন কি
হলে আপনি ঐ রাস্তা থেকে ফিরে আসবেন ।
ওহ সুমি সব যায়গায় আবেগ চলে না তুমি
বুঝতেছনা কেন ।
সুমি দেখেন সরাসরি বলি হয়তো আপনি
আমাকে বাজে মেয়েও ভাবতেও পারেন আপনি
যে ঠোটে সিগারেট খান ঐ ঠোটে আমি কখনো
চুমু খেতে পারব না । আর যে শরীরে
মানুষের রক্তের গন্ধ সে শরীর স্পর্শ করতে
আমার ঘৃনা লাগবে । আমি আপনাকে আমার
সতীত্ব দিয়ে দিতে রাজি আপনি এর
বিনিময়ে হলেও মায়ের ছেলে মায়ের বুকে
ফিরে আসেন প্লিজ ।
রুবেল কি করবে দেখো আমার পক্ষে এগুলো
এখন একাবারে ছাড়া সম্ভব নয় বার বার
একই কথা বলতে আমার ভাল লাগে না ।
সুমি শুনে কাঁদছে রুবেল কি হলো কাঁদছো
কেন? সুমি বুঝলাম আপনি আমাকে মন থেকে
এখনও ভালবাসেননি যদি বাসতেন তবে এ
কথা এত সহজে বলতে পারতেন না ।
আমি আপনাকে এখন আমার জীবনের চেয়েও
বেশি ভালবাসি বলেই রুবেলের ঘাড়ে হাত
রেখে সরাসরি ঠোটে চুমু বসিয়ে দিল ।
রুবেলের কাছে মনে হলো ঠোটে বিদুৎ এর
একটা সক লাগলো । ভাবি এর মধ্যে গলা
ঝাকানি দিল ।
রুবেল এর আগে কখনো চুমু খায়নি জীবনে
প্রথম ছিল এটা এত মেয়ের সাথে প্রেম
করলো কখনো মেয়েদের শরীরের প্রতি
কামসুধা জাগেনি । রুবেল মূহুর্তেই হাড়িয়ে
গেল এরপর প্রায় দুই মিনিট চুমু খেল
খাওয়ার পর সুমি কাঁদছেতো কাঁদছেই ।
রুবেল এই সুমি কি হয়েছে সুমি বিছানায়
শুয়ে বালিশে মুখ চেপে কাঁদছেই ।
রুবেল ভাবিকে বলছে আরে ভাবি একটু
থামান না যেভাবে কাঁদছে মা আসলেতো
আমার খবর আছে । ভাবি বলে ওটা আপনার
ব্যাপার আপনিই সামলান । রুবেল সুমির
মাথায় হাত রাখলো সুমি উঠে রুবেলকে
জড়িয়ে ধরে আবারও কাঁদছে ।
রুবেল পাশে বসে সুমির কপালে একটা চুমু
দিল । এর পর কি হলো ।

1 coment rios:
ruwo
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন