বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ৭ )


 ( খন্ড ৭ )

রুবেল সে রাতে বন্ধুদের নিয়ে বাংলা মদ
খোলে পরের দিন লিমনকে বলল দোস্ত তোর
প্রেমিকার সুন্দর বান্ধবী নেই । লিমন
আছেতো কেন প্রেম করবি ?
রুবেল হ্যা আমি এখন থেকে প্রেম করব
প্রেমে পড়ব না ।
লিমন বলল আচ্ছা আমি ওর বন্ধবী সুমিকে
ডেকে কথা বলব আমার জানা মতে ও কারও
সাথে প্রেম করেনা ।
জয়নাল যেটা রুবেলের সাথে ছোটবেলায়
মিশতো- তাকে মামা বাড়ি থেকে এসে
একদিন তুমি করে বলার অপরাধে তারা
বন্ধুরা মিলে রুবেলকে মেরেছিল । রুবেল
সুযোগের অপেক্ষায় ছিল কখন বাটে পাবে ।
একদিন রুবেলের বন্ধু মনিরকে জয়নাল তার
সামনে সিগারেট খাওয়ার কারনে চড়
মেরেছে ।
আবার রুবেলের কার্যক্রমে এলাকায় ওদের
ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছিল কেউ ওদের ডাকে
না এই ক্ষোভও ছিল ।
রুবেল শুনে দলবল সহ ওদের এলাকায় গিয়ে
জয়নালের বন্ধু চারজন যারা রুবেলকে
মেরেছিল সেদিন । ওদেরকে পেয়ে ইচ্ছামত
হকিস্টিক দিয়ে পিটালো এই পিটানোর সময়
আবার সেই ঘটনা সুমি দেখে ফেলল ।
সুমি প্রেমের প্রস্তাব সরাসরি
প্রত্যাক্ষান করলো বলে একটা গুন্ডার সাথে
আমার কোন সম্পর্ক হতে পারে না ।
এদিকে জয়নাল এলাকার সিনিয়রদের
অনুমতি চেয়েও পেল না সে প্রতিশোধ
নেওয়ার অপেক্ষায় ছিল আর রুবেলের
টার্গেট জয়নাল সহ ওর বাকি বন্ধুগুলো ।
একদিন এলাকার এক ওয়ার্ড নেতা রুবেলকে
ডেকে নিয়ে বলল দেখ তুই যে দলবল নিয়ে
ওদের মারলি ওরা যদি মামলা করত কি
অবস্তা হতো আমি ওদের ২ হাজার টাকা
দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছি । তা নাহলে
ওরা তোদের নামে মামলা করতো দেখ সব
কিছুর পিছনে একটা বড় হাত লাগে তা
নাহলে অকালে পরে যেতে হয় । বল এবার
তুই কি চাস তোকে আমি সব ধরনের
সহযোগিতা করব । রুবেল ভাবলো কথাটা
ঠিক বলছে এলাকার এই চারটা গ্রুপকে
টপকাতে হলে তার সাপোর্ট দরকার । বলল
বড়ভাই আমি রাজি আপনি শুধু থানাটা
ম্যানেজ করবেন বাকি আমি দেখব ।
এরপর থেকে রুবেল যাকে মনে চায় তাকে
মারে বিচার বসে সেখানে ঐ বড়ভাইয়ের
হুকুমে বিচার হয় । রুবেলের এমন বেপরোয়া
আচরন হলো যে সে কাউকে মানে না
সিনিয়ররা ক্ষেপে ছিল । একটা একটা
গ্রুপের মূল মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিল রুবেল শুধু
এলাকায় মারামারির মধ্যে সিমাবদ্ধ
ছিলনা অন্য এলাকার বন্ধুরা ডাকলেও দৌড়ে
যেত আবার বিশেষ প্রয়োজনে ওদেরকেও
এলাকায় নিয়ে আসতো ।
নিজ এলাকায় আশেপাশের এলাকায় রুবেল
নাম বললে অনেকে চিনে । রুবেল নিজ
এলাকার মুরুব্বিদের সাথে কখনো বেয়াদবি
করতো না সে এলাকায় রুলস জারি করলো যে
মুরুব্বিদের অসন্মান হোক এমনভাবে কেউ
এলাকা দিয়ে ওপেন সিগারেট খেতে পারবে
না । ২/১ জন করলেও তাদের ডেকে নিয়ে
প্রথমে বুঝাতো না শুনলে মারতো ।
তারপর লুঙ্গি হাটুর উপর উঠিয়ে হাটা এক
সময় ফ্যাশন ছিল ওদের কে ডেকে ডেকেও
মারতো এভাবে চলছে দিন । এলাকার
নিয়ন্ত্রন এখন রুবেলের গ্রুপের হাতে সবাই
ভয় পায় ।
তবে ও রুবেলের গুনের মধ্যে এটা ছিল ও
অন্যায় না করলে কাউকে মারত না ।
এলাকার দোকান ব্যাবসায়ী কিছু ছিল বাকি
টাকা উঠাতে না পারলে রুবেলকে বলার পর
উঠিয়ে দিত। আবার কোথাও কেউ অন্যায়
করছে সেখানেও সে প্রতিবাদ করেছে ।
মহল্লার এক মেয়ে নাম ইশিতা ওকে একদিন
দেখে স্কুলে যাওয়ার সময় রুবেল ওর
চেহারায় মুনমুনকে কিছুটা খুঁজে পেল বন্ধু
লিমনকে পাঠালো যা বল আমার ওকে
ভাললেগেছে । লিমন গেল বলল মেয়েটা
রাজি হয়না এমন করে আরও কিছুদিন গেল
লিমন প্রতিবারই প্রত্যাক্ষান করে ।
একদিন রুবেল সরাসরি গেল গিয়ে বলছে
আমার মধ্যে কি নেই যে তুমি আমাকে পছন্দ
করোনা ।
ইশিতা আপনাকে দেখলে আমার ভয় হয় প্লিজ
আমাকে ডিস্ট্রাব করবেন না । রুবেল ফিরে
আসলো ।
ওর পিছনে আর যায়না একদিন দেখে ইশিতা
একটা ছেলের সাথে স্কুলে যায় গিয়ে
জিজ্ঞেস করলো ছেলেটা কে?
বলে ভাই রুবেল কেমন ভাই বলে মামাতো
ভাই ও আচ্ছা সালা সাহেব এইদিকে আসুন
লিমন সাথে ছিল বুঝল ব্যাপারটা সে
মামাতো ভাইকে সাইডে নিয়ে চড় মেরে
বিদায় করে দিল । পরে রুবেল ইশিতাকে
বলল দেখ ভয় লাগে সেটা মানলাম কিন্তু
সাথে লোকজন এনে আমাকে ভয় দেখাবা এটা
মানব না ।
এরপর থেকে কেউ তোমাকে ডিস্ট্রাব করবে
না । রুবেল লিমনকে নিয়ে চলে আসলো ।
কিছুদিন পর রুবেলদের বাসার পাশে একটা
মেয়ে পরিবার সহ ভাড়া থাকতো সেটা
রুবেল জানতো না । একদিন হটাৎ রুবেল
একনজর শুধু মেয়েটাকে দেখছে দেখেই
ভাললেগেছে । মেয়েটা গারমেন্টসে চাকরি
করতো অপারেটর পদে মেয়েটার ভাইয়র
লন্ড্রি দোকান ছিল । লিমনকে দেখালো
বলল ওর খবর নে ।
লিমন আর রুবেল দুইজন গিয়ে লন্ড্রি
দোকানে ওরা ভাইয়ের কাছে জিজ্ঞাসা
করলো ফ্যামিলিতে কে কে আছে । নানান
কথায় মেয়েটার ভাইয়ের সাথে বন্ধুত্ব
করলো মাঝে মধ্যে রুবেল সেখানে আড্ডা
দেয় । লন্ড্রিওয়ালা ছেলেটার নাম ছিল
মিলন ওর বোন যাকে রুবেলের ভাললেগেছে
ওর নাম ছিল জুই ।
সে মাঝেমধ্যে ওর ভাইয়ের দোকানে নিজের
কাপড় দিতে আসতো । রুবেলের দিকে ঠিকমত
খেয়াল করতো না ।
রুবেল মেয়েটা কাজে যাওয়া-আসার সময়
পিছন পিছন যেত আসত মেয়েটা সামনে
রুবেল মেয়েটার পিছনে হাটছে রুবেল মনে
মনে সব বলে ফেলছে কিন্তু কখনো মুখ থেকে
বলার সাহস পেত না । রুবেল বলতে না
পেরে ভাবে এতবড় গুন্ডা নাকি আমি লোকে
আমাকে দেখলে ভয়ে কাঁপে অথচ একটা
মেয়েকে মুখফুটে কিছু বলতে পারছি না ।
এটা যদি কাউকে বলি মানসন্মান থাকবে ?
এভাবে বেশ কিছুদিন জুঁইয়ের পিছনে গিয়ে
ফিরত আসলো কারন সাথে গারমেন্টসের
মেয়েরাও থাকত ।
একদিন রুবেল বাসার সামনে বসে আছে
সেদিন ছিল শুক্রবার মেয়েটার অফিস ছুটি
সেদিন বিকাল বেলা একটা মহিলাকে সাথে
নিয়ে বের হলো ।
রুবেল আজ বলবই মেয়েটা সামনে রুবেল
পিছে কিছুদুর গিয়ে লিমনকে পেল সে
সাইকেল নিয়ে বাকি বন্ধুদের সাথে আড্ডা
মারছে । রুবেল ঐ লিমন আয় আমার সাথে,
লিমন তাকিয়ে মেয়েটাকে দেখল ও বুঝছি
চল । ওরা মেয়েটার ভাইয়ের দোকান ক্রস
করে অন্য একটা এলাকায় গেল ।
সেখানে ঢাল থেকে নেমে একটা ক্ষেত ছিল
মেয়েটা একা পার দিয়ে হাটছে । লিমন
রুবেলকে খুচাচ্ছে যা দোস্ত এই সুযোগ আর
কবে পাবি কে জানে আজকেই বলে ফেল
ভালবাসার কথা ।
রুবেল লিমন তুই দেখিস না ওর সাথের
মহিলাটা ঢালের উপর দাড়িয়ে ওকে ফলো
করছে কিভাবে বলি বল ?
লিমন ক্ষেপে গিয়ে বলল তোরে দিয়া
ভালবাসা হবে না আমি চ্যালেন্জ দিয়ে
বলতে পারি । রুবেল কি বললি যদি আমি
বলতে পারি তাহলে ? লিমন তাহলে তুই যা
খেতে চাইবি তাই খাওয়াবো ।
রুবেল দেখ আজ আমি কি করি । মেয়েটা উঠে
এসে রুবেলদের সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছে
ঐ মূহুর্তে রুবেল সমস্ত মানষিক শক্তি সঞ্চয়
করেও বলতে পারল না । ও বলতে যাবে মনে
হলো ও বোবা হয়ে গেছে ।
লিমন বল বল বল দোস্ত না হচ্ছেই না
মেয়েটা হেটে কিছুটা দূড়ে চলে গেল ।
লিমন থ্যাত ব্যাটা বলেছিলাম তোকে দিয়ে
হবে না ।
রুবেল না দোস্ত আসলে কিছু বলতে গেলে ভয়
লাগে শরীর কাঁপে । লিমন আরে ব্যাটা
মানুষ মারার সময় কই থাকে এই ভয়?
লিমন এমন আরও অনেক টিটকারি মারা কথা
বলে রুবেলকে ক্ষেপিয়ে তুলল । রুবেল
লিমনকে দেখতো দোস্ত কতটুকু গেল? তুই ওকে
দাড়া করা আমি আসছি ।
লিমন সাইকেল টান দিয়ে কিছুদুর যাওয়ার
পর রুবেল শক্তি সঞ্চার করে মারলো এক দৌড়
দৌড়াচ্ছ, দৌড়াচ্ছে, লিমনকে বলল তুই আয়
আমি ওকে থামাচ্ছি বলে এক দৌড়ে
অনেকখানি গিয়ে সরাসরি মেয়েটাকে
দেখে হাত ধরে ভরা রাস্তার মধ্যে টান
দিয়ে বলল তোমার সাথে আমার কথা আছে ।
মেয়েটা আর সাথে মহিলাটা হচকচিয়ে
গেল, আর লিমন এসে দূড়ে এসে দাড়িয়ে আছে

মহিলা বরিসালের ভাষায় এই ছেমরা আমার
ননদের সাথে তোমার কি কথা কম্মে থাহো
হায়, যা বলবা আমারে কও ।
রুবেল হাপাতে হাপাতে ও আচ্ছা আপনার
ননদ তাহলে ভাবি আপনি একটু পাশে থাকেন
আমার কথা ওর সাথে । লিমন এই যে ভাবি
পাশে আসেন বড়ভাইরে কথা বলার সুযোগ
দিন ।
জুঁই বলছে আমার সাথে কি কথা ?
রুবেল দেখো বলি বলি করে বলা হয়না আজ
সরাসরি বলি যখন সাহস হয়েছে । আমি
তোমাকে ভালবাসি ।
এ কথা শুনে ভাবি ক্ষেপে উঠলো জুঁই কিছু
বলার আগেই বলে ঐ ছেমরা মোরে চিনে
কাইট্টা গাঙ্গে ভাসাই দিমু মূহুর্তের মধ্যে

রুবেলের আবার হটাৎ মাথা গরম হয়ে যায়
বড় বড় কথা তার একদম পছন্দ নয় । বলে
আপনি বোধহয় আমার নাম জানেন না , আমি
রুবেল এলাকার যে কারও কাছে জিজ্ঞেস
করেন চিনবে ।
আর একটা কথা ও যদি আমাকে ভাল না বাসে
তাহলে ও আর কারও হবেনা ।
জুঁইকে বলল তোমার মতামত কালকে বিকালে
৫টায় যখন ছুটি হয় তখন জানাইবা ।
বলে চলে আসলো । এরপর আরও এক ট্রাজেডি
আছে জানতে অবস্যই সাথে থাকুন ।

চলবে.......



শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।