( খন্ড ৬ )
রুবেল নীলার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে এখনপ্রায় প্রতিদিনই সে সকালবেলা ঘুম থেকে
উঠে রাস্তার মোড়ে দাড়িয়ে থাকে নীলার
সাথে কথা বলতে বলতে গার্মেন্টস প্রযন্ত
যায় আবার ছুটির সময় তাকে সাথে করে
নিয়ে আসে ।এভাবে কিছুদিন চলার পর
একদিন নীলা বলছে আপনারতো অনেক
নামডাক একটু আমাদের সুপারভাইজারকে
বলে দিননা আমাকে যেন আগামী মাস থেকে
মেশিন দিয়ে দেয় ।
রুবেল তার মানে কি তুমি হেলপার । নীলা
হ্যা । রুবেল বেতন পাও কত? নীলা ১৬০০
টাকার মত । রুবেল মাত্র ১৬০০ টাকা
দিয়ে বাসার খরচ মিটিয়ে তারপরও এত ভুং
ভাং ভাবে চল কিভাবে? নীলা চলি
কোনভাবে আপনার না জানলেও হবে বলেন
তাকে বলবেন কিনা?
রুবেল ওকে আজই বলব তুমি দুপুরে খাবার
টাইমে তাকে বলবা আমি আসব বলে রুবেল
চলে আসলো তখন । দুপুরে গেল গার্মেন্টসের
নিচে নীলা সুপারভাইজারকে নিয়ে নিচে
আসলো । তারপর নীলাকে বলল তুমি উপরে
যাও যা বলার আমি বলছি ।
রুবেল সুপারভাইজারটার নাম ছিল নওসাদ
তাকে সব বলল । নওসাদ এবার বলছে আরে
ভাই কার সুপারিস করছেন ওতো ঠিকমত
মেশিন চালাতে পারে না । রুবেল ঐ মিয়া
পারে না শিখাইয়া দিবা মাসের যেই
কদিন আছে । আগামী ১ তারিখ থেকে যেন
শুনি সে অপারেটর হয়ে গেছে বুঝলা নইলে
তোমার চাকরি নাই । নওশাদ এবার ভয়ে
বলছে ঠিক আছে ভাই রুবেল চলে আসলো ।
রাতে নীলার সাথে দেখা হওয়ার পর নীলা
বলছে নওশাদ ভাইকে কি বলছেন যে সে ১
ঘন্টায় সম্পূর্ন বদলে গেল । রুবেল তোমার
সেটা জেনে কাজ নেই শুনলাম তুমি নাকি
ঠিকমত মেশিন চালাতে পারনা তাকে
বলেছি এ মাসের মধ্যেই শিখিয়ে দিবে
মনোযোগ দিয়ে কাজ শিখবা বলে আচ্ছা
তারপর বাসায় চলে গেল ।
কিছুদিন এভাবে যাওয়ার পর নীলা আবার
বলছে একটা সমস্যা হয়েছে । রুবেল কি বল
সেটা । নীলা একটা ছেলে কিছুদিন ধরে
আমাকে ডিস্ট্রাব করে গার্মেন্টসের নিচে
দাড়িয়ে থাকে প্রতিদিন । রুবেল বলে
আচ্ছা আজ তোমার ছুটির সময় আসছি । রাত
৮টার একটু আগে রুবেল এলাকার কয়েকজন
বন্ধু ও গার্মেন্টস যে এলাকার সেখানের
কয়জন বন্ধুকে সাথে নিয়ে নিচে দাড়িয়ে
রইল ।
ছুটি হলো নীলা দেখল রুবেল বন্ধুদের সাথে
দাড়িয়ে আছে সে না দেখার ভান করে চলে
আসল । রুবেল চেয়ে আছে দেখে একটা ছেলে
পাশেই দাড়িয়ে ছিল সে নীলাকে ডাকছে
নীলা শুনছে না । রুবেল বন্ধুদের সাথে
নিয়ে ওটাকে ধরে এক সাইটে পাঠিয়ে
নীলাকে বলল তুমি বাসায় যাও বলে গিয়ে
দেখে ওটাকে এমন মার মেরেছে বন্ধুরা যে
মাটিতে পরে আছে । কেউ ধরছেও না কারন
রুবেলের সাথের ওরা খুব ভয়ংকর মানুষ
জানে তারপর আবার মেয়ে মানুষের কেস
তাই কেউ ধরেনি ।
রুবেল গার্মেন্টসে গিয়ে নওশাদকে বলে
আসলো নীলার দিকে যেন খেয়াল রাখে ।
নওশাদ রুবেলকে অনেক ভয় পেত তারপরও
বলে ভাই নীলার দিকে কেউ খেয়াল না
করলেও হয় সে নিজেই তার খেয়াল রাখতে
পারে । রুবেল মানে কি ? নওশাদ না ভাই
কিছুনা আপনাকে হাজার মানে বুঝালেও
বুঝবেন না তবে কিছুদিন গেলে হয়তো
বুঝবেন ।রুবেল ঐ মিয়া মজা লন যা বলবেন
সরাসরি বলেন এত তেনা প্যাচান ক্যা ।
নওশাদ নীলার চরিত্রের কিছু বর্ননা দিল
রুবেল বিশ্বাস না করে চলে আসলো ।
পরেরদিন গার্মেন্টসের নিচে রুবেল
দাড়িয়ে আছে শীতের রাত একটা ছেলে
চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে রুবেলের সামনে
আসলো মুখ সরাতেই দেখে যেটাকে গত রাতে
মেরেছে সেই ছেলেটা । রুবেলকে এসে
বলছে ভাই গতকাল আমাকে মারলেন কেন
মারলেন একটু জানবেনও না ।
রুবেল ক্ষেপে গিয়ে ঐ ব্যাটা তুই এমন কি
তোকে মারলে আমার জিজ্ঞেস করতে হবে
আমার কাউকে মারতে জিজ্ঞেস করা লাগেনা
।
ভাই আমার কথা শুনেন একটু দাড়ান আপনার
জন্য সিগারেট নিয়ে আসি বলে গিয়ে এক
প্যাকেট বেনসন নিয়ে আসলো । এনে
রুবেলকে দিল রুবেল আমি বেনসন খাইনা
গোল্ডলিফ খাই । ঐ ছেলে আবার দৌড়ে গিয়ে
এক প্যাকেট গোল্ডলিফ নিয়ে এলো । এবার
বলছে ভাই আপনি মানুষ ভাল তবে একটু
ত্যাড়া টাইপের । ভাই আপনার সাথে একটু
ব্যাক্তিগত আলাপ আছে যদি একটু পাশে
আসতেন ।
রুবেল গেল তারপর ছেলেটা বলছে ভাই যেই
নীলার জন্য আপনি আমাকে মারলেন ওকে
আমি ভালবাসতাম আমরা একসাথে চাকরিও
করেছি । গতমাসে আমি অন্য গার্মেন্টসে
বেশি বেতনে চাকরির জন্য চলে যাই ।
এরপর থেকেই সে আমার সাথে আর কথা বলে
না আমার কাছ থেকে সে অনেক টাকা
নিয়েছে প্রতিমাসে এই সমস্যা ঐ সমস্যা
বলে । এখন আবার আপনার সাথে প্রেম করে
আমি আরও শুনছি ওর আরও কয়েকজনের সাথেও
সম্পর্ক আছে । আমার কথা আপনার বিশ্বাস
নাহলে ওর যে বান্ধবী উর্মি যে সাথে আসে
তাকে জিজ্ঞেস করে দেখেন । আমার নাম
নাহিদ বললেই চিনবে বলে চলে গেল ।
রুবেল তখন খুবই আপসেট এক মাঠে বসে
১৮টা সিগারেট একাই খেল তারপর
সিদ্ধান্ত নিল সকালে উর্মিকে জিজ্ঞেস
করবে । সকালে উর্মি ৭:১৫ মিনিটে
কাজের জন্য তারাতারী চলে আসে আগে
দুইজন একসাথে মাঝেমধ্যে আসতো রুবেলকে
ভয় পেত তাই এখন আসে না । রুবেল দেখল
পরেরদিন ৭টা থেকে দাড়িয়ে আছে উর্মির
জন্য সে আসলো আরে রুবেল ভাই এত সকালে
রুবেল আমি তোমার অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছি
। উর্মি কি বলেন কেন? রুবেল কথা আছে
তোমার সাথে বলে দুজন হাটছে ।
রুবেল বলছে উর্মি তুমিতো আমার সম্পর্কে
তোমার ভাল করে জানা আছে যা জিজ্ঞেস
করব সব সত্য করে জবাব দিবা মিথ্যা কথা
বলবা না । আচ্ছা নাহিদ কে চিনো তাকে?
উর্মি হ্যা আমাদের লাইনের অপারেটর ছিল
। রুবেল তার সাথে কি নীলার সম্পর্ক ছিল?
উর্মি নীলা নাহিদ ভাইয়ের মেশিনের
হেলপার ছিল তখন থেকেই তাদের সম্পর্ক ।
সে ওখান থেকে আসার পর আপনার সাথে
করেছে আরো কয়েকজনের সাথে করেছে ।
আসলে ভাইয়া আমি ওকে দেখতে পারিনা ওর
বাজে কিছু স্বভাবের জন্য । নীলা ওর
স্বার্থের জন্য সবার সাথে প্রেম করে
ওদের সাথে করেছে টাকার জন্য প্রতি
মাসে ওদের কাছ থেকে মায়ের অসুখ এইটা
ঐটা হয়েছে বলে টাকা নিত । আর আপনার
সাথে করেছে যাতে এলাকায় বা
গার্মেন্টসে ওকে কেউ ডিস্ট্রাব না করতে
পারে ও আপনাকে ব্যাবহার করছে ।
ভাইয়া ওর সাথে আমি এমনিতেও কম চলি
তারপর যেদিন আমি ওর সাথে আপনাকে
দেখলাম বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভয়ে
বলিনি যদি বিশ্বাস না করেন ।
রুবেল এবার উর্মিকে বলছে সালার মানুষ
চরাই আমি এতো দেখি আমার চেয়েও বড়টা ।
আচ্ছা উর্মি ভালো থাকে ভাই যখন বলেছো
কোন সমস্যা হলে জানাইবা বলে রুবেল অন্য
রাস্তা দিয়ে চলে আসলো ।
রাতে নীলাকে ধরলো মাঠের পাশে ডেকে
সব বলল জবাব দাও কেন এই নাটক করছো
আমার সাথে নীলা হতভম্ব কথা বলছে
রুবেলের বন্ধুগুলো দূড়ে দাড়িয়ে । কি
ব্যাপার কথা বলনা কেন? তুমি একটা মেয়ে
সেটা আমি ভাবতেই পারছি না ।
মুনমুনের ঘটনা সব বলছি তারপরও আমার
হৃদয় নিয়ে খেললে এখন যদি বন্ধুদের বলি
তোমাকে চিড়ে খাবে । দরকার নেই
মুনমুনের হাসির সামনে যেমন পরব না
তোমার সামনেও না কালকের পর আমাদের
এলাকা দিয়া আর আসবে না আর মাসের এক
তারিখে এলাকা ছাড়বা নয়তো এমন কিছু
হয়ে যাবে জীবনেও কারও ঘর করতে পারবা
না ।
আমি ভালোর ভাল খারাপের সাথে বেশি
খারাপ ভুলে গেলাম তোমার মত ফালতু
মেয়েকে বলে চলে আসলো ।
রুবেলের বন্ধুরা দেখে রুবেল জোরে কথা
বলছে বলে কি হয়েছে বন্ধু বলে না কিছুনা
দোস্তরা । আসলে সলিড প্রেম বোধহয়
মেয়েরা পছন্দ করে না তাই আমি শুধু ধোকা
আর কষ্টই পাই ।
লিমন তুই তিনটা মেয়ের সাথে প্রেম করিস
কাল থেকে আমিও তোর মত হবো । এরপর
রুবেল ছেলেটা মেয়েদের আতংক হয়ে কি কি
করে জানবেন পরের লেখায় ।

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন