মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ৩ )


( খন্ড ৩ )

রুবেল অতিরিক্ত ভিডিও গেমস খেলত
সেইজন্য সে ঠিকমত পড়াশোনা করতো না!
আর ভিডিও গেমসের বাজে নেশায় তার
টাকার প্রয়োজন হতো সে বাড়ি থেকে টাকা
চুরি করত কখনো কখনো ধরা পরে বাবা-
মায়ের হাতে মাইরও খেত ।
পঞ্চম শ্রেনীর পরীক্ষার পর স্কুল থেকে ১
মাসের ছুটি পেল রুবেলদের বাসার
ভাড়াটিয়া ছিল গারমেন্টস এর সুপার
ভাইজার সে একদিন রুবেলকে বলল । একমাস
ছুটি পেয়েছ চলো এই ১মাস আমার সাথে
আমি তোমাকে মাসে ৮০০টাকা বেতন
ধরিয়ে দিব ১৯৯৬ সালে তখন গার্মেন্সে
হেলপার পাওয়া যেত না ।
রুবেল ভাবলো মা-বাবার কাছে টাকা
চাইলে তারা দেয়না সমস্যা কি ১ মাসই
তো ৮০০ টাকা নিয়ে আরামে ভিডিও গেমস
খেলা যাবে সে রাজি হয়ে গেল । বলল
তাকে যেন সকাল বেলা সাথে করে নিয়ে
যায় ।
রুবেলের মা কথাটা জানতে পেরে রুবেলকে
নিষেধ করলো বাবা জাসনে ঐ রাস্তায়
গেলে তুই আর ফিরতে পারবি না । রুবেল
মার কথা শুনল না বলল মা একমাসই তো
তারপর আবার স্কুলে যাব । সকাল বেলা
ভাড়াটিয়ার সাথে গারমেন্টসে যাওয়ার
সময় মা কাঁদছে হয়তো সে বুঝে গিয়েছিল যে
আমি আমার রুবেলকে হারালাম ।
তখন অনেকের নতুন বই কেনার সামর্থ ছিল
না ! অথচ রুবেল আবদার করলো মা আমাকে
নতুন বই কিনে দিবা ক্লাস সিক্সের নতুন বই
কিনে দিয়েছিল মা । রুবেলের একটা
বিশেষ গুন ছিল প্রতিবার নতুন বই পাওয়ার
পর সে একটা করে বই ধরতো একাধারে পরে
শেষ করে দিত ওর সৃতিশক্তি এত প্রখর ছিল
যে পরবর্তিতে সে আর ঐ বইগুলো স্কুলে নিত
না এমন কি পরীক্ষার সময়ও সে পড়তো না
। পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যা আসতো সে তার
মেধা দিয়ে সেগুলোর সমাধান দিত । এবার
আর সে পড়েনি বইগুলো সেগুলো ফেলেই সে
গারমেন্টসে চলে গেল ।
ওখানে যাওয়ার পর সবাই ছোট দেখে খুব
আগ্রহ নিয়ে তার সাথে কথা বলে রুবেলকে
বিভিন্ন মেসিনে বসিয়ে দ্রুত কাজ শিখিয়ে
তাকে ২৫০০টাকা বেতন পাইয়ে দেওয়ার
লোভ দেখায় তারপর ঐ গারমেন্টসের পি,এম
রুবেলের কাজে আর মেধায় মুগ্ধ হয়ে একদিন
রুবেলকে বলছে এম,ডি স্যার তোমার সাথে
কথা বলবে চলো । রুবেল এর আগে কখনো
টেলিফোন দেখেনি সে এম,ডি স্যারকে
দেখে কার সাথে যেন একটা বস্তু নিয়ে কথা
বলছে রুবেল সাথে সাথে জিজ্ঞেষ করলো
স্যার এটা কি ?
স্যার শূনে হাসলো বলে তুমি টেলিফোনও
চিননা ।
দাড়াও তোমাকে একজনের সাথে কথা বলিয়ে
দিচ্ছি বলে স্যার তার মিসেস কে ফোন দিল
বলল একটা আজব ছেলে আসছে ও কখনো
টেলিফোনে কথ বলেনি তুমি কিছু বলো ।
রুবেল কাঁপা কাঁপা হাতে জীবনে প্রথম
কারও সাথে ফোনে কথা বলল ।
যখনও এমন নিত্বনতুন আজব ঘটনাগুলো যা
রুবেলের সাথে ঘটে সে তার মাকে রাতে
খুশিতে বলে মা বুঝতে পারে ঘুড়ি এখন আমার
কন্টোলের বাহিরে যাচ্ছে । মা কাঁদে
রুবেল সে কান্না বুঝে না ১২/১৩ বছরের
বাচ্চার বোঝার কথাও না তখন তার চোঁখে
তখন যা দেখে তাই ভাল লাগে স্কুলে পড়া
ভুল হলে মাষ্টারের বেতের বাড়ি খেত আর
এখানে ভুল হলেও সবাই খুব সুন্দরভাবে
বোঝায় । এই কিছু কিছু ব্যাপার রুবেলকে
পড়াশোনা থেকে দূড়ে নিয়ে গেল ।
রুবেল ২ বছর গারমেন্টসের এমন কোন
মেসিন নেই যার কাজ জানেনা । রুবেলের
এখন আর গারমেন্টস ভাললাগেনা । সে
গারমেন্টসে কন্টাকে মাঝে মধ্যে কাজে
যায় মনে হলে না হলে না এলাকার কিছু
ছেলের সাথে বাজে আড্ডা দেওয়ার কারনে
মা তাকে মামার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিল

সেখান থেকেও প্রেমে বিদ্ধস্ত রুবেল
এলাকার সেই বন্ধু যাদের সাথে আড্ডা দিত
তারা আর রুবেলকে তাদের সাথে মিশতে
দেয়না কারন ওরা তখন ঐ এলাকার নামকরা
গুন্ডা গ্রুপ রুবেলকে মফিজ মনে করে তাই
রুবেল তাদের সাথে মিশতে চাইলেও তাকে
বিভিন্নভাবে অপমান করে ।
রুবেল ওদের সাথে মিশতে না পেরে
এলাকায় ওদেরও মত আরেক গ্রুপের ছেলেদের
সাথে মিশতো এলাকায় তখন ৪গ্রুপে বিভক্ত
যা সে মামা বাড়ি যাওয়ার আগেও ছিলনা ।
একদিন রুবেল জয়নাল নামের এক বন্ধুকে
নাম ধরে ডেকেছিল ঐ ছেলেটা খুব মাইন্ড
করেছিল রুবেলের একটা গুন ছিল সেটা ও
সবাইকে আপন ভেবে সবার সাথে মিশতে
চাইতো ও বুঝতো না যে এখানে এখন
সিনিয়র-জুনিয়র নিয়েও লড়াই হয় ।
রুবেলকে একদিন জয়নালের লোকজন যদিও
ওখানে ওর ছোটবেলার কয়েকটা বন্ধু ছিল
তারপরও রুবেলকে ডেকে নিয়ে নাম ধরে
ডাকার অপরাধে ৮/১০ জন মিলে মারলো
রুবেল একা ছিল সে কিছুই করতে পারেনি ।
আর সে তখন যাদের সাথে চলতো তারাও
ওদের শক্তির কাছে দূর্বল ছিল । মার খেয়ে
রুবেল এবার প্রতিজ্ঞা করলো যে সে একাই
আলাদা গ্রুপ গঠন করবে ওদেরকে শিক্ষা
দিবে ।
সেই থেকে রুবেল খুঁজলো ঐ ৪ গ্রুপের
অত্যাচারকে কারা ঘৃনা করে ওদের মধ্যে
থেকে ৪/৫ জন নিয়ে রুবেল একটা নতুন গ্রুপ
গঠন করে আগাতে থাকলো রুবেলের টার্গেট
পুরো এলাকা তার কথামত যেন চলে । এভাবে
আজ ওকে মারেতো কাল আরেকজনকে অবস্য
রুবেলের হিসাবটা খুব সুন্দর ছিল ও যারা
অন্যায় করতো তাদের ধরে মারতো বিনা
কারনে কাউকে আঘাত করতো না । তাই
এলাকার মুরুব্বিরা কখনো রুবেলকে
বিচারের মুখোমুখি করতে পারেনি ।
রুবেলের নতুন বন্ধুরা জানতো যে সে মুনমুন
নামের একটি মেয়েকে পছন্দ করতো । তখন
সানমুন নামের একটা নতুন সিগারেট পাওয়া
যেত রুবেলের টাকার যদিও কমতি ছিলনা
তারপরও সে শুধুমাত্র সিগারেটের গায়ে মুন
লেখা এ কারনেই ওটা খেত এইজন্য অবস্য
বন্ধুরা তাকে ক্ষেপাতো । একদিন বন্ধুরা
বলল দোস্ত আমাদের বন্ধু প্রতিটা এলাকাই
আছে তুই ওদেরকে বললেই তো পারিস যে এই
নামের কোন মেয়ে এলাকায় আছে কি না ?
তুই মামা বাড়ি যাসনা রাগ করে চল আমরা
ঐ এলাকায় যে বন্ধুগুলো থাকে ওদের কাছে
গিয়ে খবর নিয়ে আসি । বলে একদিন সে
বন্ধুদের নিয়ে গেল মামা বাড়ির পাশের
এলাকায় গেল ।
দুইজন বন্ধুকে পেল এলাকায় ওদের জিজ্ঞাসা
করতেই বলল একটু বস আমরা খবর নিয়ে যে
ওরা এখনও তোর মামাদের পাশের বাসায়
থাকে কিনা বলে রওনা হলো কিছুক্ষন পর
হতাসা নিয়ে ফিরে এসে বলল দোস্ত এরা
মাসখানেক আগে এসেছিল আবার চলে গেছে
নতুন বাসা নিছে হয়তো আশে পাশের কোন
এলাকায় কিন্তু পাশের বাড়ির
ভাড়াটিয়ারা বলতে পারছে না সঠিক
ঠিকানা ।
রুবেল ঐ দিন ওখান থেকে আসার পর মামা
বাড়ির আশে পাশে যত এলাকা ছিল সব
যায়গায় মুনমুনকে খুঁজলো না পেয়ে এক
বিকালে ঐ বন্ধুদের এলাকায় গেল । গিয়েই
দেখে ওখানে অন্য এলাকার একগ্রুপ হামলা
করতে এসেছে । হামলাকারীরা দৌড়ানী
খেয়ে পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে এবার
রুবেলের সেই বন্ধুদের দেখল রামদা-
চাপাটি হকিস্টিক নিয়ে দৌড়ে আসছে ।
এরমধ্যে আমান বলছে আর বলিস না ঐ
সালাদের একজন আমাদের এলাকার মেয়েকে
ইভটিজিং করেছে । আমরা ওদের একটাকে
পেয়ে মেরেছি তাই ওরা দল নিয়ে এসেছে
হামলা করতে । আয় চল কোথাও গিয়ে বসে
আড্ডা দিই নাকি তোর কাজ আছে?
রুবেল নারে দোস্ত সারাদিন মুনমুনকে
খুঁজলাম কোথাও পেলাম না । আমান দোস্ত
তুইতো পাগল হয়ে যাবি ওকে খুঁজতে খুঁজতে তুই
ওকে আর পাবিনা তাই বৃথা চেষ্টা না করে
ওকে ভুলে যা । রুবেল দোস্ত ওকে ভুলে থাকা
আমার পক্ষে সম্ভব না প্রথম প্রেম তারপর
ওর সেই হাসি,ওর সে মায়া ভরা মুখ যা ভুলে
যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না ।
আমান বলে সবই সম্ভব আজ তোকে এমন জিনিষ
খাওয়াবো যে তোর মনে থাকবে না মুনমুন কে
তুই নিজেকে রাজা-বাদশা ভাববি আর
দেখবি তোর পাশে কত মেয়ে ব্লা ব্লা ব্লা
বলে এক বন্ধুকে বলল যা ঝুটপট্টি থেকে
একটা পোটলা নিয়া আয় আমার কথা বলবি আর
বলবি বিশেষ মেহমান এসেছে কিছু টাকা
দিতে । রুবেল বন্ধুদের সাথে চাঁ দোকানে
গেল সিগারেট খেতে বন্ধুরা বলল
দোকানদারকে ঐ ১০টা গোল্ডলিফ দে…
রুবেল আমি গোল্ডলিফ খাইনা সানমুন খাই
আছে কি ? দোকানদার হ আছে বন্ধুরা হাসছে
দাঁত কেলিয়ে বলে আহারে প্রেমিক বেচারা
ভালবাসার নামের মানুষের নামের
সিগারেট মিলিয়ে খায় বলে ওরাও
ক্ষেপাতে লাগল ।
সন্ধার আযান হয়ে একটু অন্ধকার এমন
টাইমে সেই পোটলা আর কিছু টাকা নিয়ে
আসলো বন্ধুটা । বাকি বন্ধু যারা খায়না
তারা আড়ালে এসে দাড়ালো আর ওরা বড়
কালভার্টের উপর অন্ধকারে বসে ওগুলো
বানাচ্ছে । সিগারেটের মত ৫টা বানিয়ে
তারপর রুবেলকে ডাকলো সবাই গোল হয়ে
বসলো ।
রুবেল এর আগে কখনো খায়নি ঐ সব
ছাইপাশ ! তখন দেখলো ঐ বন্ধুদের যারা
খায়না তারাও একটান করে দিচ্ছে । রুবেল
খাবেনা ওরা অনেকটা জোর করে তাকে
খাওয়ালো ।
রুবেল কিছুক্ষন পর পুরো ঘোড়ে তখন পাশের
রাস্তার দিকে খেয়াল করলো কি যেন মনে
করে দেখে একটা মেয়ে সাদা স্কাট পরে
হেটে গেল পুরো চেহারা টা দেখতে
পারেনি কারন সে এতটাই নেশাগস্ত ছিল
মাথাটাও উপরের দিকে উঠাতে পারল না ।
তবে তার ঠিকই সন্দেহ হয়েছে এটা মুনমুনই
হবে মনের মধ্যে হটাৎ কেমন যেন একটা
ঢেউ খেলে গেল।
রুবেল বলল আমানকে দেখতো দোস্ত ঐ
মেয়েটা কেরে ?
আমান পিছন থেকে দেখে বলছে দোস্ত ওর
নাম তো মুনমুনই ওরা এই বাসায় থাকে তবে
মেয়েটার বোধহয় বিয়ে হয়ে গিয়েছে । ওর
এক ভাই, আর মা, ভাইটা গার্মেন্সে চাকরি
করে, রুবেল দেখল সব মিলে যাচ্ছে ।
কিছুক্ষন পর মুনমুন আবার আসছে দোকানে
গিয়েছিল বিস্কুট কিনতে । রুবেল এই নেশা
করা অবস্তায় ওর সামনে কিভাবে দাড়াবে
তাই সে অন্ধকার গলির মধ্যে দাড়িয়ে রইল
। মুনমুন তার সামনে দিয়ে হেটে যাচ্ছে
অথচ এতদিন ধরে যাকে পাগলের মত খুঁজলো
তার সাথে একটু কথাও বলতে পারল না হয়তো
নিয়তির লিখন এমনই ছিল…………


চলবে....,.


একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ৪ )

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ২ )


শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।