মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!!


বাউন্ডুলে ছেলিটির
ছদ্দনামঃ রুবেল
প্রথম প্রেমে পরার কাহিনী.. ঘটনা যখন
তখন বয়স ১৬/১৭ হবে সে তখন তার
দূঃসম্পর্কের মামা বাড়িতে থাকতো ,
তাদের একতলা মামার বাড়ীর পিছনদিকে
একটা বড়ইগাছ ছিল ।
সেইগাছে খুব মিষ্টি বড়ই ধরতো কাঁচা বড়ই
থাকতো না গাছে আশেপাশের বাড়ীর
লোকগুলো ছাদে উঠে পেরে নিত ।একদিন
মামি বলল রুবেল বড়ইগাছে পাকা বড়ই
দেখা যাচ্ছে পলিথিন ব্যাগ নিয়ে কিছু
বড়ই পেড়ে নিয়ে আয় । রুবেল মাথা নাড়িয়ে
আচ্ছা মামি এখনি যাচ্ছি ।
বলে পলিথিন ব্যাগ পকেটে ভরে বাড়ির
সামনের জানালায় পা রেখে দেয়াল বেয়ে
ছাদে উঠল বড়ই পারছে দেখে আশেপাশের
অনেক ছোটবাচ্চারা নিচে থেকে বলছে
রুবেল ভাইয়া দেন না কয়টা বড়ই । রুবেল
খুশি মনে সবাইকে বড়ই ছিটিয়ে দিচ্ছে যে
যার মত বড়ই পেয়ে তাদের রুমে চলে গেল ।
কিছুক্ষন পর পাশের বাড়ির একটি মেয়ে
বলছে পিছন থেকে এই যে শুনছেন হ্যালো
শুনছেন রুবেল ডাক শুনতে পায়নি । সে আপন
মনে পাকা বড়ইগুলো গাছ থেকে পারছে
পুনরায় ডাক দেওয়ার পর রুবেল কি মনে করে
পিছন ঘুরে দেখে মেয়েটা নিচে তার দিকে
তাকিয়ে আছে ।
রুবেল জ্বি আমাকে বলছেন? মেয়ে জ্বি
জনাব আপনাকেই বলছি তিনবার ডাক
দেওয়ার পর তাকালেন আপনি । রুবেল ও সরি
আচ্ছা কেন ডাকছিলেন বলুনতো ? মেয়ে
আমাকে কয়টা পাকা পাকা ভাল বড়ই দিন না
। রুবেল ব্যাগ থেকে কয়েকটা বড়ই বেছে
হাতের মুঠে নিয়ে বলল কিভাবে নিবেন
নিচে ফেলব কি? মেয়ে না,না,না বলে তার
উড়নাটা মেলে ধরল। রুবেল হাটুগেড়ে বসে
মেয়েটাকে বড়ই দিতে গিয়ে ভাল করে তার
দিকে খেয়াল করলো । প্রথম দর্শনে
রুবেলের কি যেন হয়ে গেল ।
মেয়েটা কই বড়ই দিন । রুবেল ঘোরোর মধ্যে
ছিল ও দিচ্ছি দিচ্ছি বলে মেয়েটার
উড়নার মধ্যে বড়ই ফেলল । মেয়েটা
ধন্যবাদ বলে খুশি হয়ে বড়ই নিয়ে বাড়ির
মধ্যে চলে গেল । আবার রুবেল বড়ই পাড়ছে
আর মেয়েটার কথা ভাবছে । কিছুক্ষন পর
মেয়েটা আবার আসলো বলে কি বড়ই
দিয়েছেন সব দেখি পোকায় ভরা বললাম
কয়টা ভাল বড়ই দিতে তা না দিলেন পোকায়
ধরা বড়ই ।
রুবেল দেখেন আপনার কপাল খারাপ তাই
পোকায় ধরা বড়ই আপনার ভাগ্যে পড়েছে
অবস্য ফাও খেলে এমনই হয় বলে রুবেল
হাসছে । মেয়েটা রুবেলের উপর ক্ষেপে
গিয়ে বলল কি আমি ফাও খাই দাড়ান!! আমি
উপরে আসছি বড়ই পাড়া আজ ছুটাবো আপনার
বলে বাড়ির মধ্যে গেল পরক্ষনেই একটা মই
নিয়ে আসলো । মই বেয়ে মেয়েটা ছাদে উঠে
রুবেলের কাছে এসে বলে এই গাছে
আমাদেরও হক আছে ।
কারন গাছটা আপনারা লাগাননি দেখেন
গাছের অর্ধেক আমাদের বাড়িতে পরেছে
তাই এইপাশ আমাদের । রুবেল ও আচ্ছা তাই
নাকি ঐ বাড়ী তাহলে আপনাদের? মেয়েটা
বলে না তা হবে কেন আমরা ওখানে ভাড়া
থাকি । যেহুতু বাড়িওয়ালা থাকেনা তাই
বাড়ির সব দায়িত্ব আমাদের বুঝলেন? রুবেল
হ্যা বুঝেছি মেয়েটা এখন বলছে আজ সব বড়ই
পেড়ে নিয়ে যাব ।
আপনি বলছেন না ফাও খাই একটা বড়ই
রাখবনা এ পাশের । রুবেল সেটা আপনার
ইচ্ছা তবে এইপাশের বড়ই ধরবেন না এই
থেকে এই প্রযন্ত আমাদের বুঝলেন । মেয়ে
কয়টা বড়ই পেড়েছেন এতক্ষনে দেখিতো বলে
ব্যাগ চেক করলো দেখে হাসছে বলে এই
কয়টা বড়ই পেড়েছেন মাত্র । রুবেল না আরো
পেড়েছিলাম সবতো আপনারাই নিয়ে নিলেন

মেয়েটা বড়ই পারছে আর উড়নায় রাখছে
রুবেল শুধু মেয়েটাকেই দেখছে মেয়েটা বড়ই
পারতে পারতে একসময় গাছের কিছুটা
ভিতরে চলে গেল ওখান থেকে কয়েকটা বড়ই
পেড়ে যেইনা বাহিরে আসতে লাগল বড়ই
গাছের কাটার সাথে উড়না টান খেয়ে সব
বড়ই ছাদ গড়িয়ে নিচে পাশের ড্রেন ছিল
সেখানে পরে গেল । রুবেল দেখে হাসছে ।
মেয়েটা আবারও বিরক্ত হলো বলে আপনি
আমার বিপদে হাসছেন ।
রুবেল আবারও হেসে বলে ম্যাডাম এটা
মেয়েদের কাজ নয় এটা ছেলেদের কাজ ।
মেয়েটা হা,হা,হা,আপনি ছেলে হয়ে বড়ই
দিয়ে ব্যাগ ভরে ফেলছেন তাতো দেখতেই
পাচ্ছি ।রুবেল আমি অনেক বড়ই পেড়েছিলাম
পাশের বাড়ির বাচ্চাদের দেওয়ার কারনে
এখন বড়ই কম । মেয়েটা আপনি জানেন
গ্রামে যখন আমরা থাকতাম তখন আমি বড়ই
গাছের মগডালে উঠে বড়ই পারতাম । এই
মুনমুনের সাথে বড়ই পেড়ে কেউ পারেনি
আপনিও পারবেন না বাজি ধরলাম ।
রুবেল ও আচ্ছা তাহলে আপনার নাম মুনমুন খুব
সুন্দর নাম দেখেন আমরা ছেলেরা বড়ই
গাছের কাঁটা লাগলেও বড়ই ঠিকই পারতে
পারব কিন্তু আপনারা মেয়েরা কাঁটার আঘাত
সস্হ করতে পারবেন না । মুনমুন বাজি
আপনার সাথে বললাম তো আপনি আমার সাথে
বড়ই ছিড়তে পারবেন না । রুবেল যদি পারি
হু বলেন কি বাজি ধরবেন । মুনমুন আপনি
যদি জিতেন তাহলে আপনি আমার কাছে যা
চান দিব আপনি কি দিবেন? রুবেল আমি
যতগুলো বড়ই পারব তার থেকে একটা বড়ইও
যদি আপনার বেশি হয় তাহলে সব বড়ই
আপনার ।
মুনমুন ঠিক আছে আপনার পারা বড়ইগুলো
একপাশে রাখুন আর আমি ব্যাগ নিয়ে আসছি ।
বলে মুনমুন নিচে বাসায় গেল ব্যাগ আনতে
মামি এরমধ্যে একবার ডাকলো কিরে রুবেল
গাছের সব বড়ই কি পেড়ে ফেলছিস নাকি ?
রুবেল না মামি এইতো হয়ে গেছে আসছি
এখনই । মুনমুন আসলো ব্যাগ নিয়ে বলল রেডি
আপনার ঐ পাশ আর আমার এইপাশ সময় ১০
মিনিট বলে দুইজনে বড়ই পাড়ার
প্রতিযোগিতায় নামলো ! রুবেল হাতে
কাটার আঘাত পাচ্ছে থামছে না ওদিকে
মুনমুন  একটু আঘাত পেলেই বলছে ওমাগো
রুবেল ১০মিনিটেই ব্যাগ ভরে ফেলল আর
কাটার কারনে মুনমুন হেরে গেল ।
এবার রুবেলের কাছে মাথা নত করে বলল
হেরে গেলাম আসলে গাছটায় অনেক কাঁটা !
মুনমুন হাত দেখাল সেখানে কয়েক যায়গায়
রুবেল দেখলো আঁচরের দাগ ফর্সা হাত রক্ত
বের হবে বোধহয় । মুনমুন রুবেলকে বলছে
কিভাবে পারলেন ১০ মিনিটে এত বড়ই
দেখি আপনার হাত দিনতো । রুবেল দেখেন
ম্যাডাম ছেলেদের সাথে বাজি ধরলে
পারবেন না । ছেলেরা খুব জেদি স্বভাবের
হয় । মুনমুন হাতটা দেখান না ।
রুবেল হাত বাড়াল মুনমুন দেখে হাতের
কয়েক যায়গায় কাঁটার আঘাতে চিড়ে রক্ত
বের হচ্ছে । মুনমুন গরুর মত বড়ই গাছের
উপর ঝাপিয়ে পরেছিলেন । ইস হাতটার কি
অবস্তাই না হয়েছে আপনার কি বোধ শক্তি
নেই ব্যাথা করেনা । রুবেল এগুলো কিছুই না
আরও কাটলেও আমাদের সমস্যা নেই । এখন
আমিতো জিতলাম বলেন কি দিবেন? মুনমুন
বলেন কি চান? যা চান সব পাবেন..রুবেল
সব,,মুনমুন হ্যা আগেই বলেছি যা চান তাই
দিব । রুবেল আমি যদি এখন এমন কিছু চাই
যা বোধহয় আপনার পক্ষে দেওয়া সম্ভব না ।
মুনমুন শুনি আপনি কি চান? রুবেল আমার
গালে একটা চুমু দিন । মুনমুন রাগত স্বরে
কি এইটা কোন সর্তের মধ্যে ছিলনা । আর
আপনি এ ধরনের বাজে কিছু চাইতেও পারেন
না । মুনমুনের রাগ দেখে রুবেল আরে আমিতো
ফান করছিলাম জাষ্ট আপনাকে বুঝানোর জন্য
যে কখনো কারও সাথে বাজি ধরলে বলবেন
না যে যা চান তাই দিব । এতে পরবর্তিতে
সমস্যা হতে পারে । মুনমুন হুম ধন্যবাদ
আপনাকে বুঝানের জন্য আমরা ফ্রেন্ড হতে
পারি কি বলে রুবেলের দিকে হাত বাড়িয়ে
দিল ।
রুবেল তার হাতের সাথে হাত মিলিয়ে
হাসি মুখে চলে আসবে অমনি মুনমুন পিছন
থেকে ডাকলো বন্ধুতো হল কিন্তু আপনার
নামইতো জানলাম না । রুবেল... আমার নাম
রুবেল । মুনমুন খুব সুন্দর নাম বলে হাসি
দিয়ে মই বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে । রুবেল
তাকিয়ে আছে তার দিকে…….বিঃদ্রঃ.
.তাদের হাত মিলানোর দৃশ্যটা মামি
দেখেছিল । চলবে.....

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!! ( খন্ড ২ )


শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।