মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

love storis- নির্বাক


ফারিহাকে ছেলেটা প্রপোজ করল ছোট্ট
একটা চিঠি দিয়ে। হলুদ রংয়ের চিঠিটা
দেখেই ফারিহার প্রথমেই মনে প্রশ্ন জাগল
- "একদম অচেনা একটা ছেলে কিভাবে তাকে
প্রপোজ করতে পারল?"
.
চিঠিটাতে ছেলেটার নাম লেখা আছে।
আকাশ।। সম্ভবত ছদ্ননাম।। আর লেখা আছে
ছোট্ট একটা কবিতা।
কবিতাটা ফারিহার বেশ ভালো লেগেছিল
বিধায় কবিতার কবির সাথে পরিচিত
হওয়ার জন্য সে চিঠিটার দিকে আবারো
ভাল করে তাকাল।।
নাহ। যোগাযোগের জন্য কিচ্ছু লিখে দেয়নি
ছেলেটা।। এমনকি চিঠিটা সে হাতে
হাতেও দেয়নি। ফারিহার বেঞ্চে রেখে
দিয়েছিল কোন একসময়।।
হতাশ হলো মেয়েটা। তবুও ভাবল সে-
'ছেলেটা নিশ্চয় তার সাথে আবার
যোগাযোগ করবে'..
.
***
.
সেই আজব ছেলেটাকে একবার দেখার জন্য
এরপর ফারিহা অনেক চেষ্টা করলেও কোন
খোঁজই পাইনি তার। তবে এর মধ্যে
প্রতিদিনই ফারিহা তার বেঞ্চে অথবা
ব্যাগে একটা করে চিঠি পায়।। প্রতিটা
চিঠিই হলুদ রংয়ের এবং একটা করে কবিতা
লেখা থাকে চিঠিগুলোতে।। কবিতাগুলো সব
তাকে নিয়েই লেখা - বুঝতে পারে মেয়েটা।
এই অদ্ভুত কবির পরিচয় উদ্ধারের জন্য
মরিয়া হয়ে উঠল সে। শত চেষ্টা করেও
খোঁজে বের করতে পারল না তবুও।।
.
***
.
টানা তিন মাস ধরে যদি কোন ছেলে কোন
মেয়েকে নিয়ে কবিতা লিখে যায় তবে
ছেলেটার ভালবাসার গভিরতা সহজেই
অনুমান করা সম্ভব। কিন্তু এই তিন মাসেও
ছেলেটার পরিচয় উদ্ধার করতে পারেনি
ফারিহা। ব্যাপারটা অদ্ভুত।। আর এই অদ্ভুত
এবং সম্পূর্ন অচেনা কবিটারই প্রেমে পড়ে
গেল ফারিহা।
.
হাই স্কুল থেকে ভার্সিটি পর্যন্ত কোন
ছেলেই মন গলাতে পারেনি এই মেয়েটার।
তাই আড়ালে প্রেমিকমহল তার নাম
দিয়েছিল "লৌহ কন্যা"।। সেই 'লৌহ কন্যা'
যখন তার প্রিয় বান্ধবীটাকে লজ্জায় মাথা
নিচু করে বলল - "আমি প্রেমে পড়ে গেছি
রে!"
- তখন বিস্ময়ে বান্ধবীর চোখ কপালে উঠে
যাওয়াটা দোষের কিছু নয়।। তবে উক্ত
বান্ধবীটিও যখন পুরো কাহিনী জানলো তখন
তার চোখ বিস্ময়ে মাথা ছাড়িয়ে উঠল বলা
যায়। তিনটা মাস ধরে - ঝড় বৃষ্টি রোদ
উপেক্ষা করে যে ছেলেটা ফারিহাকে
প্রতিদিন কবিতা সংবলিত চিঠি দিয়ে যায়
- তার ছদ্ননাম ছাড়া আর কিছুই জানা হয়নি
ফারিহার;
সেটা জেনে আশ্চর্য হওয়াটাও দোষের কিছু
নয়। কিন্তু, সেই অচেনা কবিকে খোঁজে বের
করার জন্য 'লৌহ কন্যা'-র সাথে যখন
বান্ধবীটিও যোগ দিল তখনও খুব একটা
আশার আলো জাগল না 'লৌহ কন্যা'-র মনে।।
.
তবে তারা যদি জানত সেই অচেনা কবিটা
কে তাহলে বোধহয় বিস্ময়ে চোখ গায়েবই
হয়ে যেত।।
.
***
.
দীর্ঘ তিনমাস পার হয়ে চতুর্থ মাস
অতিক্রান্ত হবার পর কবি তার পরিচয়
প্রকাশ করল। সেদিনও ফারিহা একটা চিঠি
পেল। তবে সব চিঠির চেয়ে ব্যতিক্রম এটা।
হলুদ চিঠিটা লাল হয়ে আছে রক্তে। শুকিয়ে
শক্ত হয়ে যাওয়া রক্তের উপর কোন কবিতা
লেখা নেই। শুধু লেখা আছে - "বিকেল
পাঁচটায় শহীদ মিনারের পেছনের চত্বরের
চতুর্থ বেঞ্চটাতে আমাকে পাবে"...
.
রক্ত দেখে প্রথমে কষ্টে ফারিহার সুন্দর
মুখটা কালো হয়ে গেলেও পর মুহুর্থেই উজ্জল
হয়ে উঠল সেটা। সেই উজ্জলতার পেছনে
ছিল - বহুদিন পর প্রিয় মানুষটাকে দেখার
তীব্র ইচ্ছা।
.
***
.
শহীদ মিনার চত্বরের পেছন দিকটা অত্যন্ত
নির্জন। বিকেল পাঁচটায় সেখানে কাপলদের
রোমাঞ্চ চলাই স্বাভাবিক। তবে, ফারিহা
এতে অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ল। সামনে
এগিয়ে চতুর্থ বেঞ্চটা খোঁজে পেলেও আশে
পাশে কোন ছেলের অস্তিত্ব দেখল না। তবে,
বেঞ্চটার উপর আরেকটা হলুদ চিঠি দেখল
সে। কাছে গিয়ে চিঠিটা খুলতেই বেরিয়ে
পড়ল একটা কাগজ আর একটা ছবি।
.
পাসপোর্ট সাইজ ছবিটাতে হাসি মুখে
দাঁড়িয়ে থাকা একটা ছেলেকে দেখা
যাচ্ছে। ছেলেটাকে ফারিহা চেনে। তাদের
ক্লাসেরই একজন ছাত্র। রাজীব!!
.
বিস্মিত এবং ক্রোধান্বিত হয়ে চিঠিটা
খুলল মেয়েটা। তাতে লেখা -
"তোমার সামনে আসার সাহস আমার নাই।
তাই ছবি দিছি ওয়াদা রক্ষার্থে। আর,
তোমাকে ভালবাসার অধিকারও হয়তো আমার
নাই। তবুও ভালবেসে ফেলেছি। বোবাদের
কাউকে ভালবাসাটা অপরাধ হলে, আমাকে
ক্ষমা করিয়ো।"
.
চিঠিটা পড়েই নিজের উপর প্রচন্ড রাগ
হলো ফারিহার। শেষ পর্যন্ত একটা বোবা
ছেলের প্রেমে পড়েছিল সে, যার এই
ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারা টায় ছিল
একটা মিরাকল!!
.
চিঠিটা এবং ছবিটা ছুড়ে ফেলে দ্রুত
বাসার উদ্দেশ্যে হাঁটা দিল সে। 'এই
ছেলেকে আর প্রশ্রয় দেয়া যাবে না' -
ভাবল সে। তবে মনের ভেতরের খচখচানি
গেলো না।
.
***
.
সেই ঘটনার পর রাজীব ছেলেটাকে টানা
এক সপ্তাহ কোথাও দেখা যায়নি। তারপর
যখন সে এক সপ্তাহ পর ক্যাম্পাসে আসল তখন
তাকে চেনার উপায় খুব একটা ছিলো না।
তবে, এই এক সপ্তাহে ফারিহার মনে অনেক
কিছুই পরিবর্তিত হয়েছে বিধায় রাজীবের
দিকে যখন মেয়েটা তাকাল, তখন রাজীব
সেই চোখ দুটোতে অদ্ভুত এক দৃষ্টি দেখতে
পেল।। মনের ভুল ভেবে বেঞ্চে বসার পর
পরই হলুদ রঙা কাগজটা তার চোখ এড়াল না।
কাগজটা খুলতেই সে দেখল তাতে গাঢ় লাল
কালিতে লেখা -
"ভালবাসি"....

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী…..!!!


শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।