love storis-ভালোবাসার গল্প
" শুনো, একটা কাজ করতে পারবা ? "মেয়েটার এইরকম মেসেজ দেখে বেশ অবাক
হলাম আমি। ওর সাথে ঘনিষ্ঠতা ফেসবুকের
মাধ্যমে। কিন্তু কখনোই এইরকম মেসেজ
দেয়নি এর আগে।
" কি ? বলো। "
- কালকে আমার কোচিং আছে। তোমাদের
পাশের কলোনীতে। আমার সাথে দেখা করতে
আসতে পারবা ?
মেয়েটার এমন আচমকা প্রস্তাবে বেশ
অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম আমি। কখনো ভাবিনি
মেয়েটি এমন আবদার করবে। ভাবতে
লাগলাম কি করে এড়ানো যায় !!
" উমমম ... তোমার সাথে না তোমার আম্মু
থাকে ? "
- হ্যা থাকে। কালকেও থাকবে।
- তাইলে কেমনে কি ?
- আরে আমি তোমার সাথে কথা বলতে পারবো
না। জাস্ট দেখবো। তোমাকে কখনো সামনা
সামনি দেখি নাই তো তাই।
- ও কালকে কয়টায় ?
- আমার কোচিং শেষ ১০টায়।
" ১০টা !! " (মনে হলো পাহাড় নেমে গেছে
ওর উপর থেকে।) " ওই সময় তো আমার খেলা
আছে ... আমি পারবো না। সরি ... অন্যদিন
হবে না ? "
- ও আচ্ছা থাক তাইলে ... ( মেয়েটিকে বেশ
আহত মনে হলো। )
পরদিন কেবলই মনে হলো, " ধুর ! দেখা
করতে গেলেই তো পারতাম। কি আর এমন
হতো ! "
কেবলই মনের মধ্যে আফসোস হতে লাগলো
আমার। ভাবলাম পরের বার যাই হোক না
কেন ওর সাথে দেখা করবোই। কিন্তু সে
সুযোগ আর আসে না !
মেয়েটিকে আমি পছন্দ করি । আসলে পছন্দ
হওয়ার মতই একটা মেয়ে সে ! আহামরী
সুন্দরী নয়। কিন্তু চেহারার মধ্যে একটা
মায়াবী ভাব আছে । যে মায়ার জালে পড়ে
যেতে পারে ছট-বড় অনেকেই ।
ফর্সা, গোলগাল চেহারার মধ্যে মায়াবী
ভাবটা চেহারাটাকে এমন লাবণ্য দান
করেছে যে... কিন্তু কথা হচ্ছে আমি তার
চেহারা দেখে পছন্দ করিনি। করেছি তার
ব্যবহার দেখে। পরীক্ষার আগের দিন যে
কোন প্রয়োজনীয় সময় তার পাওয়া সাহায্য
গুলো আমাকে বাধ্য করেছিল তাকে পছন্দ
করতে । আমার মত একজন উড়নচন্ডী টাইপ
ছেলের প্রতি তার অত্যধিক কেয়ারিং আমায়
বাধ্য করেছিল তাকে পছন্দ করতে।
কিন্তু আমি আবার ভালোলাগা কে ভালোবাসা
বলতে নারাজ ছিলাম । কেবল অনলাইনে
পরিচিত একটা মেয়েকে ভালো লেগেছে তাই
বলে তাকে " ভালোবাসি " বলে দেওয়া
আমার পক্ষে কখনই সম্ভব নয়।
অপরদিকে স্কুলে থাকতে এক তিক্ত
অভিজ্ঞতার কারণে মেয়েটিও কখনো আমাকে
বুঝতে দেয়নি তার ভালোলাগার অনুভূতি।
ফলাফল প্রতিনিয়ত আমাদের কথাবার্তায়
ইঙ্গিতাকারে প্রকাশ পেত পরস্পরের প্রতি
অব্যক্ত ভালো লাগার কথাগুলো। কিন্তু
দুইজনেই বেশ যত্ন করে এড়িয়ে যেতাম আর
ভাবতাম " দিস ইজ জাস্ট ফ্রেন্ডশিপ। "
দিনে দিনে তার প্রতি দূর্বলতা বাড়তে
লাগলো। কিন্তু তাও মুখে কুলুপ এটে রইলাম।
কলেজের গন্ডি পেরিয়ে উঠে গেলাম
ভার্সিটিতে। চলে যেতে হলো ঢাকার
বাইরে। যোগাযোগ কমে যাওয়ার কথা
থাকলেও ফেসবুক আর হোয়াটস অ্যাপ -এর
জন্য সেটাও হয়নি। তার জন্য যে অন্য কোন
সম্পর্কে জড়াবো সেটাও সম্ভব হচ্ছিল না।
আমার যে তাকেই চাই ....
বছর খানেক পরের কথা .... আমাদের স্কুলের
সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় এক
মিলন মেলার ...
" রি- ইউনিয়নে আসবা? " মেয়েটার প্রশ্ন।
- নাহ। ইচ্ছা নাই।
- কেন?
- এমনি।
- আরে প্লিজ আস না। তুমি তো ঢাকাতেই আছো
এখন। আসতে সমস্যা কি?
- নাহ। আসলে কোন ক্লোজ ফ্রেন্ডরা যাবে
না। তাই ইচ্ছা নাই। আর একলা গিয়ে
ভালোও লাগবে না।
- আচ্ছা যাও, আমি সারাদিন তোমার সাথে
থাকবো। তাও আসো, প্লিজ।
- সত্যি?
- হুম।
- আচ্ছা, এত করে যখন বলছো তখন কি আর না
এসে পারা যায়!
সে সময়ের বার্তালাপ দেখে হয়তো
অন্তরালে বসে মহা ক্ষমতাধর মুচকি
হেসেছিলেন! কারণ কেবল তিনিই যে
ভবিষ্যৎ জানেন।
দেখা হলো মিলনমেলায়। সেদিনের স্বৃতি
আজও অমলিন। রাতে চ্যাটে তাকে বললাম, "
পরশু আবার সিলেট চলে যাবো। কালকে একটু
দেখা করতে পারবা। জরুরী কথা ছিল,
সামনা সামনি বলতে চাই। "
- আচ্ছা।
পরদিন তাকে জানালাম এত বছরের না বলা
কথাটা ......
পরিশিষ্টঃ
" কিরে, তুই রেডি তো? "
মায়ের কথায় বাস্তবে ফিরে এলাম।
- হুম।
- চল, তাহলে যাওয়া যাক।
- হ্যা চলো।
- বেরনোর আগে তোর দাদীকে সালাম করে
যা।
- আচ্ছা।
আজ আমার বিয়ে সেই মেয়েটির সাথে ... —

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন