শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৮

ভালোবাসার গল্প


এ জায়গাটা বেশ সুন্দর,তাই না শুভ্র?
- হ্যা! কে এনেছে দেখতে হবে না!
- হুহ! আসছে!
- ক্রেডিট দাও?
- বয়েই গিয়েছে আমার! হুহ!
-
শুভ্র আর অর্থি খুব সবুজ একটা গ্রামের মাঝে
রেললাইন ধরে পাশাপাশি হাঁটছে।
আশেপাশে কেউ নেই আর। ওরা দুজন। খুব
ফাঁকা একটা এঁকেবেঁকে যাওয়া রেললাইন আর
মায়াময় সবুজ চারপাশ। হঠাৎ অর্থি আঁতকে
ওঠার মত করে বললো -
- বাবুটা! দেখো দেখো!
- কি?
- ওই যে লম্বা গাছটায় ঝুলছে , ওগুলো কি?
- গাধী একটা! ওটা বাবুই পাখির বাসা!
- কি বললে তুমি! আমি গাধী!
- হ্যা , আর আমি …… গাধা!
- হিহি এবার ঠিক আছে!
- হুম
অর্থি শক্ত করে শুভ্রর হাত আকড়েঁ ধরে
হাঁটছে। কেমন অন্ধকার অন্ধকার হয়ে আসছে
চারপাশ। কেমন যেন গা ছিমছিমে পরিবেশ
একটা। এমন সময় শুভ্র আঙ্গুল দিয়ে কিছু দূর
সামনে দেখিয়ে বললো-
- ওইযে গাছের নিচে ছোট ছোট ফুল , ওগুলো
কি বলতো অর্থি?
- জানি না তো! কি ওগুলো?
- বেলী!
- ওয়াও! আমার ফেভারিট! কুঁড়িয়ে নিই
ওগুলো? যাই?
শুভ্র আস্তে করে হেসে মাথা নাড়ায়। অর্থি
দৌড়ে বেলী ফুল কুঁড়োতে যাচ্ছে , পিছন
থেকে অর্থিকে দেখতে আজ খুব মায়াবী
লাগছে শুভ্রর। কানে হেডফোন গুঁজে আস্তে
করে রেললাইনের মাঝ দিয়ে হেঁটে চলেছে
সে। অর্থি ততক্ষনে অনেকদূর এগিয়ে। বুকটা
কেমন কেমন যেন করছে শুভ্রর আজ!
ওদিকে তাজা বেলী ফুল দেখে অর্থির
উচ্ছ্বাসের কোন সীমা নেই! বেলী ফুলের
গন্ধ ভীষণ ভালো লাগে ওর। কেমন পাগল
করা মোহময় একটা অনুভূতি!
সন্ধ্যা হয়ে আসছে খুব দ্রুত! অর্থি তড়িঘড়ি
করে কিছু ফুল তুলে নিয়ে ওড়নার ভাজে
রাখল। ফুলগুলো ভালোভাবে গুছিয়ে নিয়ে
যেই অর্থি পিছনে ফিরল , অমনি বিস্ফোরিত
চোখে তাকিয়ে দেখল - শুভ্র কানে হেডফোন
গুঁজে রেললাইন ধরে ওর দিকে হাসি হাসি
মুখ করে এগিয়ে আসছে আর ওর ঠিক পিছন
থেকে একটা ট্রেন এগিয়ে আসছে ভীষণ
গতিতে!
অর্থি অমানুষিক শক্তিতে চিৎকার করে
উঠল--
- শুভ্র!!!!!!
ট্রেনটা ততক্ষনে শুভ্রর ঠিক পিছনে চলে
এসেছে! অর্থি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে
আবারো চিৎকার করে উঠল -
- শুভ্র!!
---------
ঝট করে ঘুম ভেঙ্গে গেল অর্থির।
দুঃস্বপ্নের রেশ যেন এখনো রয়ে গিয়েছে।
গাল দুটো তিরতির করে কাঁপছে ওর!
গলাটাও ভীষণ শুকিয়ে উঠেছে। তবে ,
ঘটনাটা দুঃস্বপ্ন দেখে একটু স্বস্তি লাগছে
ওর।
বিছানার পাশ থেকে গ্লাসে রাখা পানি
এক নিঃশ্বাসে খেয়ে নিলো অর্থি। তড়িঘড়ি
করে কাঁপা হাতে ফোনটা খুঁজে নিয়ে শুভ্রর
নাম্বার ডায়াল করে ফোনটা কানে ধরল!
রিং হলো বেশ কিছুক্ষণ কিন্তু রিসিভ করলো
না শুভ্র। অর্থির মনে উৎকন্ঠা বেড়ে
চলেছে! সত্যিই শুভ্রটার কিছু হয়ে যায়নি
তো!
অর্থির চোখ ভরে প্রচন্ড কান্না আসছে!
আবার কল দিলো অর্থি। এবার ফোন রিসিভড
হলো! শুভ্র ঘুমাতুর কন্ঠে বললো -
- হ্যালো!
শুভ্রর কন্ঠ শুনে অর্থির মন থেকে যেন
বিশাল এক কষ্টের বোঝা নেমে গেল। হুহু
শব্দ করে কেঁদে উঠল অর্থি! আনন্দে চোখের
কোনে জমে ওঠা জলগুলো টপটপ করে ঝরে
পড়ছে ওর গাল বেয়ে! বাইরে তখন ভীষণ
বৃষ্টি ঝরছে আজ!
ফোনের এ প্রান্তে প্রিয় জনকে হারিয়ে
ফিরে পাওয়ার আনন্দে কাঁদছে একজন , অপর
প্রান্তে আরেকজন , বোকা চোখে প্রিয় জনের
অবাক কান্না শুনছে!
ভীষন করে বৃষ্টি ঝরুক আজ! বৃষ্টির
শিরশিরে ঠান্ডা জলে সিক্ত হোক সত্যিকার
ভালোবাসা গুলো! পূন্যতায় ছেয়ে যাক আজ
চারপাশ! —

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।