খুব
সস্তামার্কা একটা পাঞ্জাবী পরে পার্কের
বেঞ্চীতে হেলান
দিয়ে একমনে ভাবছে রূদ্র!
কি লেখা যায়।
লেখার কোন ভালো টপিক নেই, সব কেমন
এলোমেলো লাগছে...
.
-- কি করছেন? (আচমকা ১৬ বছর
বয়সী কিশোরীর আকুল আবেদনময়ী প্রশ্ন)
-- এইতো বসে... (রূদ্রর হতাশ গলায় উত্তর)
-- আজকে কোন কবিতা লেখেননি?
-- লিখেছিলাম সব ছিড়ে ফেলেছি।
-- ও... আচ্ছা লেখালেখি ছাড়া আপনার আর
কোন
কাজ নেই?
-- হ্যাঁ আছে... খাওয়া দাওয়া, ঘুমানো!
-- ধুর ! এসব আবার কাজ নাকি?
এসব তো সবাই করে।
-- তো?
--
আমি বলতে চাচ্ছি আপনি লেখালেখি ছাড়া
আর কি করেন...!!!
-- কিছুইনা!!
.
বলেই বেঞ্চ ছেড়ে উঠে গেল রূদ্র!
আসলে অনেক চাকুরীতে আবেদন করার
পর একটুর জন্যেও ফসকে গেছে..
ঐ যে ... মামু লাগে , মামু ছাড়া হয় নাকি?
এক দিক দিয়ে ভালই হয়েছে.। লেখার
জগৎটা
হয়তো চাকুরীর ব্যস্ততায় হারিয়ে যেত
রূদ্রর।
আর সবাই যদি চাকুরী করে লেখক হবে কে?
আসলে বর্তমান সমাজে লেখকের তেমন একটা
অভাব নেই...
কপি পেস্ট করলেই ফেসবুকে লেখক
হওয়া যায়।
কিন্তু যারা খাটি লেখক তারাই পারে
নতুন মৌলিক কিছু সৃষ্টি করা।
আসলে রূদ্রকে দিয়ে যেমন চাকুরী হবেনা,
তেমন কপিবাজ দিয়ে ভালো কিছু করাও
সম্ভব নয়।
.
.
কিছুদিন পর... দৃশ্যপট সেই পার্কের বেঞ্চী।
.
-- আপনাকে কিছু বলতে চাই!
-- হুম।
-- কেবল কি লিখেই যাবেন
বিয়েশাদী করবেন না?
-- হুম!
-- শুধুই কি লিখে যাবেন? এদিকে একটু
তাকিয়ে কথা বলুন!
-- হ্যাঁ বলছি।
-- সব কথা কি মেয়েরাই বলবে,
আপনি আমাকে
দেখে কিছু বুঝেন না?
-- হুম বুঝি, টিপ পরতে ভূলে গেছেন!
-- আমি টিপ পরি না!
-- ও.. তো?
-- আমি কিন্তু সত্যি এবার ক্ষেপে যাবো।
-- এখন কি শান্ত আছেন নাকি?
-- ই ই ই... থাকেন আপনার লেখা নিয়ে
আমি গেলাম।
.
চলে যাচ্ছে রিমি... ওর যাওয়ার পথের
দিকে
অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মুচকি হাসছে রূদ্র!
.
রিমির
সাথে দেখাটা একটা সুসময়ে হয়েছিলো।
সেদিন রিমির এস.এস.সির রেজাল্ট ছিলো।
রেজাল্ট ভালো হওয়ায়
সবাইকে মিষ্টি খাইয়েছিলো।
তবে পার্কের মধ্যে মিষ্টি বন্টনের
দৃশ্যটা দারুণ ছিলো।
সেদিন থেকেই হঠাৎ করেই দুজনের পরিচয়।
তারপর থেকে প্রায় দেখা হয়।
.
.
.
...
রূদ্র অনাথ, অনাথ আশ্রমে থেকেই বড়
হয়েছে।
পার্কের ঐ
বেঞ্চীটা একটা দখলকরা সম্পতিই হয়ে
গেছে ওর কাছে।
যেখানে রিমির সাথে প্রতিদিন দেখা হয়।
যেখানে ও রিমিকে নিয়ে অজস্র
কবিতা লিখে
গিয়েছে।
ভেবেছিলো রিমিকে সব একসাথে উপহার
দিয়ে চমকে
দেবে...
কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে রিমি আসছে না
আর পার্কে।
মেয়েটা ভীষণ জেদী...
.
অবশেষে দিনরাত কবিতার লাইনে শুধুই
রিমির ছায়া দেখতে পেয়ে
চলে গেল রিমিদের বাসা।
ঠিকানাটা অনেক কষ্টে খুজে বের করেছে।
বাড়িতে বিয়ের জন্য গেইট সাজানো..
তবুও এত কান্নার তোড়জোড়,
চারিদিকে রোল পড়ে গেছে কান্নার।
ভিড় টপকে দেখতে পেল নবসাজে রিমি শুয়ে
আছে ।
আসলেই ভীষণ জেদি মেয়েটা।
দেরী না করে চলে এল রূদ্র।
কারণ সে চায়না তার কান্নার
ফোটা রিমির
তাজা আত্নাটাকে কষ্ট দিক।
.
পার্কের বেঞ্চীতে এখনও বসে কবিতা লেখে
রূদ্র।
রিমির আত্না এখনও আসে ওর কাছে।
এভাবেই সারাজীবন রিমির জন্য
কবিতা লিখতে চায়
রূদ্র।
লিখে যাবে...
হয়তো এই লেখাই তার শেষ লেখা! —

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন