মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

ভালোবাসা হল একটা ম্যাজিকাল শক্তি

ভালোবাসা হল একটা ম্যাজিকাল শক্তি

- ইরমান সাহেব, এই ইমরান সাহেব..
- জ জ জ্বি... ডাঃ সাহেব..
- এত টেনশন করছেন কেন? আল্লাহকে ডাকুন..
- ডাঃ সাহেব ওর কিছু হবে না তো..
- দেখুন ইমরান সাহেব, কিছুটা risk
তো আছে সত্যি, তবে আমরা যথাসাধ্য
চেষ্টা করবো যাতে মা ও বাচ্চা দুজনই
ভালো থাকে, বাকিটা আল্লাহ ভরসা..
- হুম..
- কি ব্যাপার ইমরান সাহেব কাঁদছেন
কেন?
- না এমনিই...
- সাহস রাখুন, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন..
আমি ভিতরে গেলাম.. আর রক্ত
লাগতে পারে..
- সমস্যা নেই ডাক্তার সাহেব, রক্তের
ব্যবস্থা করা আছে..
- ওকেজ.. একদুম টেনশন করবেন না..
৮ বছর আগে...
- ঝুমা দেখ সেই ছেলেটা প্রতিদিন
বিকেলে আমাদের স্কুল ছুটির পর এই
রাস্তা দিয়ে হাটা-হাটি করে..
- হুম..
- কেমন অগোছালো দেখেছিস, ছিঃ, চুল
গুলো এলোমেলো, মুখে উচা-খোচা দাড়ি..
- হুম..
- মনে হয় আমাদের follow করে...
- হুম...
- কি তখন থেকে হুম, হুম শুরু করছিস..
- তো আর কি বলবো দীপা..
- তর কিছু বলতে হবে না, দেখ আজ
কি করি এই ছেলের...
- এই কি করবি তুই দীপা..
এই যে শুনছেন, এই আপনাকে বলছি...
- জ.. জ.. জ.. জ্বি আমাকে বলছেন..
- হ্যাঁ আপনাকে বলছি.. দেখছিস ঝুমা কেমন
ভ্যাবলার মত করে কথা বলছে। মনে হয় কিছু
বুঝে না.. গত ৬ মাস
ধরে দেখতেছি আমাদের follow করেন।
ঠিক আমাদের যখন স্কুল ছুটি হয়, তখনি এই
রাস্তায় দেখি.. কখনো নিজের
চেহেরা দেখছেন আয়নায়,
ছিঃ কি নোংরা অগোছালো, লজ্জা লাগে না..
- দে দে দে দেখুন..
- এই কি দেখবো, কোন দেখা দেখি নাই, আর
যেন এই রাস্তায় না দেখি, আর আমাদের
ডিস্টার্ব করবেন না.. বাজে, ফালতু
ছেলে কোথাকার। বলেই হন হন
করে হাটা ধরলো ওরা..
- ইমরান মাথা নিচু করে হাটা ধরলো, ওর
চোখ ভিজে উঠছিল...
কিছুদিন পর...
- দীপা একটা জিনিস ভুল ভাবছিলাম
আমরা ইমরান ভাইয়ের ব্যাপারে..
- ইমরান ভাইটা আবার কে...?
- আরে ঐ দিন রাস্তায়
দাড়িয়ে বকাঝকা করলি না..
- ও ঐ ভ্যাবলাটার নাম ইমরান, দেখছিস
ঐটারে একদিন ধোলাই দেওয়ার পরই ঠিক
হয়ে গেছে..
- আসলে ইমরান ভাই প্রতিদিন
টিউশনিতে যেত এই রাস্তা দিয়ে,
আরেকটা জিনিস উনার না মা নেইরে, খুব
ছোট বেলায় মা কে হারিয়েছে, ঘরে সৎ মা,
হয়তো এজন্য একটু অগোছালো..
তবে উনি নাকি খুব ভালো স্টুডেন্ট..
- তুই এত কিছু কিভাবে জানলি...
- ২ দিন ধরে উনি আমার ছোট
ভাইটাকে পড়াচ্ছে, বড় ভাইয়ার ফ্রেন্ড
উনি, ভাইয়ার কাছ থেকে শুনলাম। খুব লাজুক
এবং অনেক কম কথা বলেন উনি....
- হুম...
- গতকাল আমার সামনে পড়ে গিয়েছিল,
আমাকে দেখে লজ্জা পেয়েছে, আমি বললাম
ভাইয়া sorry, আমরা বুঝতে পারিনি,
উনি মাথা নিচু করে বললেন, its ok.
- হুম..
- কি হুম, হুম করছিস, কিরে কাঁদছিস কেন..?
- তো কি করবো.. না জেনে এটা কি করলাম..
তার কিছুদিন পর ঝুমাদের বাড়িতে...
- sorry
- its ok..
- দীপা একটা গোলাপ বাড়িয়ে দিল
ইমরানের দিকে..
- ইমরান মাথা নিচু করে আছে... লজ্জায়
মাথা তুলতে পারছে না...
- ফুলটা ধরুন প্লিজ..
- ইমরান মাথা নিচু করে ফুলটা নিল..
- আর আপনার নাম্বারটা একটু লিখে দেন..
- নাম্বার কেন..?
- আপনার কাছে আমি পড়বো তাই..
- আমি তো কোন মেয়েকে পড়াই না..
- আমাকে পড়াবেন, নাম্বার দেন..
- ইমরান নাম্বার লিখে দিল.. কিন্তু
আমি আপনাকে কি পড়াবো...?
- আমাকে কি পড়াবেন, সেটা কিছুদিন
পড়ে বুঝবেন...
............... ............... ............... ...............
...............
ইমরানকে বদলে দিল দীপা। ইমরানের
অগোছালো জীবনটাকে গোছাতে শুরু করলো।
ইমরান জীবনে দরকার ছিল একটু আদর, একটু
ভালোবাসা, যেটার কাঙ্গাল ছিল ইমরান। এ
যেন ভিন্ন এক ইমরান। ওদের সম্পর্কের
তিন বছরের মাথায় ইমরানের
ভালো একটা চাকুরী হয়ে গেল। তার দুই বছর
পর ওদের বিয়ে হল।
আজ ইমরান বাবা হতে যাচ্ছে। ডাক্তার
বলেছে কিছুটা risk আছে। সেই
নিয়ে ইমরান খুব ভেঙ্গে পড়েছে... খুব
টেনশনের ভিতর আছে...
- Congratulations মিস্টার ইমরান
সাহেব.. আপনার একটি মেয়ে হয়েছে...
- দীপার কি খরব..?
- মা, মেয়ে দুজনই সুস্থ আছে...
- আল-হামদুলিল্লাহ ... আমি কি ওদের
দেখতে যেতে পারি..
- অবশ্যই...
মেয়েকে কোলে নিয়ে দীপার মাথায় হাত
রাখলো ইমরান..
- কাঁদছো কেন..?
- খুশীতে..
- কি ভেবেছিলে... তোমাকে ছেড়ে এই
পেত্নী পালাবে... এত সহজে এই
পেত্নী তোমার ঘাড় থেকে নামবে না...হুম
- হা... হা.. হা...
তখনি ওদের মেয়ে ওয়া,
ওয়া করে কেঁদে উঠলো...
( ভালোবাসা হল একটা ম্যাজিকাল শক্তি।
এই ভালোবাসাই কখনো আপনার
জীবনটা গড়ে দিবে, আবার কখনো ব্লাক ম্যাজিকের রূপ নিয়ে সব ভেঙ্গে ঘুরে দিবে।) —

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।