আমার দাদা ছিলেন একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষক। খুবই সম্মানী, শিক্ষিত, সোজা-সাপ্টা মানুষ। জীবনের শেষদিকে এসে স্কুল থেকে অবসর নেন। অবসরের পরে প্রথম কয়েক মাস স্বাভাবিকই ছিলেন, কিন্তু ধীরে ধীরে তার আচরণ পাল্টাতে শুরু করে। তিনি মাঝেমাঝে এমন সব কথা বলতেন, যা আমাদের পরিবারের কারো কাছেই স্বাভাবিক মনে হতো না।
প্রথম ঘটনা ঘটে এক বিকেলে। আমার চাচী রান্নাঘরে ছিল। দাদা উঠানে বসে রোদ পোহাচ্ছিল। চাচী দাদাকে বলেছিল, “খাবার বানাইতেছি, একটু পরেই আসতেছি।” কিন্তু যখন খাবার নিয়ে আসলো, তখন দাদাকে উঠানে খুঁজে পেলো না। প্রথমে ভাবলো, হয়তো ঘরে গেছেন। কিন্তু ঘরেও নেই, গোয়ালঘর, পুকুরপাড়, আশেপাশে সব জায়গায় খুঁজেও দাদার হদিস মিললো না।
প্রায় আধা ঘণ্টা খোঁজার পর, এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে চাচীর। বাড়ির পেছনের ধানখেতের দিকে দাদা হেঁটে যাচ্ছেন— একদম মন্ত্রমুগ্ধের মত, পা টানতে টানতে। চাচী চিৎকার করে ডাকতে থাকলেও দাদা থামেন না। শেষমেশ দৌড়ে সামনে গিয়ে চাচী দাদাকে জাপটে ধরে জিজ্ঞেস করলো, “আপনি এইখানে আসছেন ক্যামনে?”
দাদা তখন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে বলে, “আমি তো উঠানে আছিলাম, হঠাৎ কে যেন ডাইছে... তারপর কিছুই মনে নাই।”
চাচী কাঁপা কণ্ঠে দাদাকে বাড়ি নিয়ে আসে। দাদী, যিনি কিছু ঝাড়ফুঁকের কাজ জানতেন, তখন দাদার গায়ে পানি পড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু এটা ছিল শুরু মাত্র।
পরের কয়েক মাসে এমন অনেক ঘটনা ঘটতে লাগলো। দাদাকে প্রায়ই বাড়ির বাইরে খুঁজে পাওয়া যেত, কখনও ধানখেতের মাঝখানে, কখনও জঙ্গল ঘেঁষা পুকুরপাড়ে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো— তিনি নিজে জানতেন না, কীভাবে সেখানে গেলেন।
প্রতিবার একই কথা বলতেন, “কেউ ডাইছিল… ও বলছিল, তাড়াতাড়ি আসো।”
এরপর হঠাৎ একদিন দাদা উঠানের মেঝেতে পা পিছলে পড়ে যান। সেই দিন থেকেই তার দেহের ডান পাশ অবশ হয়ে যায়— ডাক্তার বলেন স্ট্রোক। দাদা তখন পুরোপুরি প্যারালাইজড। একা একা চলাফেরা তো দূরের কথা, নড়াচড়াই করতে পারতেন না।
চাচী ও দাদী মিলে খুব যত্ন করতেন দাদাকে। খাইয়ে দিতেন, পরিস্কার করতেন, এক মুহূর্তের জন্যও ছেড়ে যেতেন না।
ঘটনাটা ঘটে এক রাত ১২টার দিকে। সবাই খেয়ে দেয়ে ঘুমাতে গেছেন। দাদী, যথারীতি দাদাকে ঘুম পাড়িয়ে দরজা লাগিয়ে রেখে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। খাবার শেষে সবাই নিজেদের রুমে চলে যায়।
কিছুক্ষণ পর দাদী যখন দাদার ঘরে গেলেন, দেখেন দরজাটা হাট করে খোলা।
ভেতরে গিয়ে দেখে দাদা নেই।
দাদী হতবাক! যে মানুষটা এক বিন্দুও নড়তে পারে না, সে গেল কোথায়? দাদীর বুঝতে বাকি রইলো না দাদার সাথে আজকে খারাপ কিছু হবেই। কারণ যে মানুষ আরেকজনের সাহায্য ছাড়া এক দন্ড ও নড়তে পারে না। টয়লেট পর্যন্ত যেতে পারে না সেই মানুষ কি না বিছানা ছেড়ে যাবে? চিৎকার চেঁচামেচি তে পুরো বাড়ি তোলপাড় হয়ে গেলো। গ্রামের সবাই মিলে আমার দাদাকে খুজতে লাগল। আমার চাচী সেই ধানের মাঠের দিকে গেলো। কিন্তু পেলো না। দাদী বাড়ি আর মাঠ এর মাঝখানে আমদের পুকুর। তো চাচী যখন খুজতে খুজতে পুকুরের দিকে এলো। টর্চ টা যেই পুকুর পাড়ে ধরলো চাচীর ভয়ে অজ্ঞান হবার মত অবস্থা..
দ্রষ্টব্য: গল্পের লেখায় ছোটখাটো ভুল থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। যদি সম্ভব হয়, মেসেজের মাধ্যমে জানাবেন। সবশেষে কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না, আজকের গল্পটি আপনার কেমন লেগেছে।
Note: This AI-generated image portrays a fictional scenario designed for creative and storytelling purposes. It may include elements that could be unsettling to some viewers. Please exercise discretion when viewing. The content aims to delve into themes of suspense and mystery and does not endorse or encourage any form of violence.
#fyp #viral #highlights #photochallenge #Amazing #trending #ভূতেরগল্প

2 coment rios:
Nice
Mnnm
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন