✍️ Waiting byতানভীর ইসলাম |
---
সেই রাতের কথা আমি কখনো ভুলতে পারব না। শুধু আমি না, আমাদের পুরো গ্রাম এখনো ভুলতে পারেনি — শিউরে ওঠে। আমি তানভীর, পেশায় স্কুলশিক্ষক। আমাদের গ্রাম গাংনী উপজেলার একদম শেষ প্রান্তে। ২০২১ সালের মে মাসে বিয়ে হয় আমার — রুকাইয়া নামের এক মেয়ে, যাকে আমি চিনি না, জানি না। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তাকে বিয়ে করে এনেছিলাম, আর তারপর যা ঘটেছিল, সেটা এমনকি সিনেমাতেও দেখা যায় না।
ঘটনাটা মনে হলেই শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়।
---
১. পছন্দের বাইরে এক বিয়ে
আমার পরিবার চাইছিল আমার দ্রুত বিয়ে হোক। মা বলল, “রুকাইয়া নামের মেয়ে, খুব সুন্দরী, শান্তশিষ্ট। পাশের গ্রামেই থাকে। এক দিদিমার পালিত মেয়ে।”
মেয়ে দেখতে গিয়ে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। তার চেহারা যেন পরির মতো — ফর্সা গায়ের রং, গভীর চোখ, চুপচাপ বসে থাকা। কথা কম, কিন্তু মুখে রহস্যময় এক টান ছিল। আমি আর না করতে পারলাম না।
বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় অস্বাভাবিকতা।
---
২. নতুন বউয়ের অদ্ভুত আচরণ
বিয়ের প্রথম রাতেই আমি খেয়াল করলাম, রুকাইয়ার হাত বরফের মতো ঠান্ডা। সে একদম চুপচাপ বসে থাকে, চোখ একদৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি যত কথা বলি, সে শুধু ছোট করে ‘হুম’ অথবা ‘না’ বলে।
তারপর এক রাতে আমি ঘুম ভেঙে দেখি, সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কিছু বলছে। কাছে গিয়ে শুনি,
“আমি ফিরে যাবো... আমি ফিরতেই এসেছি...”
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। পরদিন জিজ্ঞেস করলে সে বলে কিছুই মনে নেই।
---
৩. গ্রামের গুজব
গ্রামের লোকজনের মুখে মুখে রুকাইয়ার বিষয়ে কথা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলল, মেয়েটাকে নাকি আগে কেউ কোনোদিন দেখেইনি! পাশের গ্রামের সেই দিদিমা, যিনি মেয়েটাকে ‘তুলে এনেছিলেন’, তিনিও এক মাস পরে হঠাৎ নিখোঁজ!
আমার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করল, “তোর বউটা রাতে মাঠে যায় কেন?” আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমি তো জানতাম, সে ঘরে থাকে।
একদিন রাতে পিছু নিলাম।
---
৪. মৃতের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে!
আমি রাত ২টার দিকে দেখি, রুকাইয়া ধীরে ধীরে বের হচ্ছে। আমি চুপচাপ তার পেছনে হাঁটতে লাগলাম। গ্রামের কবরস্থানের দিকে সে যাচ্ছে। গিয়ে একটা পুরনো কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগল।
সে বলল,
“তুই কথা রাখিসনি হাশেম... তুই তো বলেছিলি, তুই শুধু আমার!”
আমি হতভম্ব! আমি তো হাশেম না! কে হাশেম?
সে হঠাৎ পেছনে ঘুরে আমাকে দেখে ফেলে। তার চোখ লাল, মুখ থমথমে, ঠোঁট কাঁপছে।
সে বলে,
“তুই হাশেম না... তুই মিথ্যা লোক... আমাকে আবার ফিরতে হবে...”
আমি দৌড়ে বাড়ি ফিরি।
---
৫. মৃত রুকাইয়া?
আমি যা দেখেছি, তা নিয়ে গ্রামের হুজুর ও একজন ওস্তাদ কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে যা বললেন, তা শুনে আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল।
“তোর বউটা মানুষ না। যাকে বিয়ে করেছিস, সে সেই রুকাইয়া না। রুকাইয়া তিন বছর আগে মারা গিয়েছিল। হাশেম নামের এক ছেলের সঙ্গে প্রেম ছিল। ছেলেটা তাকে বিয়ে না করে অন্যত্র বিয়ে করায়, রুকাইয়া আত্মহত্যা করে। কবর দেয় পাশের জঙ্গলে।”
“তারপর থেকে সে ফিরে আসে প্রতিশোধ নিতে। পুরুষের মুখোশে যাকেই দেখে হাশেম মনে করে, তার সাথেই বিয়ে করে, তারপর শেষ করে...”
আমি বিশ্বাস করছিলাম না। কিন্তু এতকিছু ঘটনার পর আর অস্বীকার করতে পারলাম না।
---
৬. সত্যের মুখোমুখি
রাতে আমি রুকাইয়ার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করি,
“তুমি কে? তুমি রুকাইয়া না, তাই না?”
সে হাসে। ঠাণ্ডা এক হাসি।
“তুই তো নিজেই বেছে নিয়েছিস আমাকে... তুইও পালাতে পারবি না।”
আমি হুজুরদের তাবিজ দিয়ে দরজায় ঝুলিয়ে রাখি। হঠাৎ সে চিৎকার করে ওঠে — তার শরীর কাঁপে, ঘরের বাতি নিভে যায়, দেয়ালের ছবিগুলো পড়ে যায়।
আমি জানি, তার ভেতর একটা আত্মা বাস করে।
---
৭. শেষ রাত
সেই রাতে তার শরীর থেকে ধোঁয়ার মতো কিছু বেরিয়ে আসছিল। সে কেঁদে বলছিল,
“তুই যদি হাশেম না হোস, তবে তুই বাঁচবি না।”
আমি তেলাওয়াত করতে লাগলাম। হুজুররা এসে পানি ছিটাল। ভোরবেলা সে ধীরে ধীরে মাটিতে গলে যেতে থাকল, ঠিক যেন কাদার পুতুল।
সে চলে গেল। কোথায়, জানি না।
---
!

1 coment rios:
📛অপার্থিব বউ📛
✍️পাঠিয়েছেন: তানভীর ইসলাম | গাংনী, মেহেরপুর✍️
---
সেই রাতের কথা আমি কখনো ভুলতে পারব না। শুধু আমি না, আমাদের পুরো গ্রাম এখনো ভুলতে পারেনি — শিউরে ওঠে। আমি তানভীর, পেশায় স্কুলশিক্ষক। আমাদের গ্রাম গাংনী উপজেলার একদম শেষ প্রান্তে। ২০২১ সালের মে মাসে বিয়ে হয় আমার — রুকাইয়া নামের এক মেয়ে, যাকে আমি চিনি না, জানি না। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তাকে বিয়ে করে এনেছিলাম, আর তারপর যা ঘটেছিল, সেটা এমনকি সিনেমাতেও দেখা যায় না।
ঘটনাটা মনে হলেই শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়।
---
১. পছন্দের বাইরে এক বিয়ে
আমার পরিবার চাইছিল আমার দ্রুত বিয়ে হোক। মা বলল, “রুকাইয়া নামের মেয়ে, খুব সুন্দরী, শান্তশিষ্ট। পাশের গ্রামেই থাকে। এক দিদিমার পালিত মেয়ে।”
মেয়ে দেখতে গিয়ে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। তার চেহারা যেন পরির মতো — ফর্সা গায়ের রং, গভীর চোখ, চুপচাপ বসে থাকা। কথা কম, কিন্তু মুখে রহস্যময় এক টান ছিল। আমি আর না করতে পারলাম না।
বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় অস্বাভাবিকতা।
---
২. নতুন বউয়ের অদ্ভুত আচরণ
বিয়ের প্রথম রাতেই আমি খেয়াল করলাম, রুকাইয়ার হাত বরফের মতো ঠান্ডা। সে একদম চুপচাপ বসে থাকে, চোখ একদৃষ্টিতে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি যত কথা বলি, সে শুধু ছোট করে ‘হুম’ অথবা ‘না’ বলে।
তারপর এক রাতে আমি ঘুম ভেঙে দেখি, সে বারান্দায় দাঁড়িয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে কিছু বলছে। কাছে গিয়ে শুনি,
“আমি ফিরে যাবো... আমি ফিরতেই এসেছি...”
আমি ভয় পেয়ে গেলাম। পরদিন জিজ্ঞেস করলে সে বলে কিছুই মনে নেই।
---
৩. গ্রামের গুজব
গ্রামের লোকজনের মুখে মুখে রুকাইয়ার বিষয়ে কথা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ বলল, মেয়েটাকে নাকি আগে কেউ কোনোদিন দেখেইনি! পাশের গ্রামের সেই দিদিমা, যিনি মেয়েটাকে ‘তুলে এনেছিলেন’, তিনিও এক মাস পরে হঠাৎ নিখোঁজ!
আমার বন্ধুরা জিজ্ঞেস করল, “তোর বউটা রাতে মাঠে যায় কেন?” আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। আমি তো জানতাম, সে ঘরে থাকে।
একদিন রাতে পিছু নিলাম।
---
৪. মৃতের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে!
আমি রাত ২টার দিকে দেখি, রুকাইয়া ধীরে ধীরে বের হচ্ছে। আমি চুপচাপ তার পেছনে হাঁটতে লাগলাম। গ্রামের কবরস্থানের দিকে সে যাচ্ছে। গিয়ে একটা পুরনো কবরের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগল।
সে বলল,
“তুই কথা রাখিসনি হাশেম... তুই তো বলেছিলি, তুই শুধু আমার!”
আমি হতভম্ব! আমি তো হাশেম না! কে হাশেম?
সে হঠাৎ পেছনে ঘুরে আমাকে দেখে ফেলে। তার চোখ লাল, মুখ থমথমে, ঠোঁট কাঁপছে।
সে বলে,
“তুই হাশেম না... তুই মিথ্যা লোক... আমাকে আবার ফিরতে হবে...”
আমি দৌড়ে বাড়ি ফিরি।
---
৫. মৃত রুকাইয়া?
আমি যা দেখেছি, তা নিয়ে গ্রামের হুজুর ও একজন ওস্তাদ কবিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে যা বললেন, তা শুনে আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল।
“তোর বউটা মানুষ না। যাকে বিয়ে করেছিস, সে সেই রুকাইয়া না। রুকাইয়া তিন বছর আগে মারা গিয়েছিল। হাশেম নামের এক ছেলের সঙ্গে প্রেম ছিল। ছেলেটা তাকে বিয়ে না করে অন্যত্র বিয়ে করায়, রুকাইয়া আত্মহত্যা করে। কবর দেয় পাশের জঙ্গলে।”
“তারপর থেকে সে ফিরে আসে প্রতিশোধ নিতে। পুরুষের মুখোশে যাকেই দেখে হাশেম মনে করে, তার সাথেই বিয়ে করে, তারপর শেষ করে...”
আমি বিশ্বাস করছিলাম না। কিন্তু এতকিছু ঘটনার পর আর অস্বীকার করতে পারলাম না।
---
৬. সত্যের মুখোমুখি
রাতে আমি রুকাইয়ার সামনে গিয়ে জিজ্ঞেস করি,
“তুমি কে? তুমি রুকাইয়া না, তাই না?”
সে হাসে। ঠাণ্ডা এক হাসি।
“তুই তো নিজেই বেছে নিয়েছিস আমাকে... তুইও পালাতে পারবি না।”
আমি হুজুরদের তাবিজ দিয়ে দরজায় ঝুলিয়ে রাখি। হঠাৎ সে চিৎকার করে ওঠে — তার শরীর কাঁপে, ঘরের বাতি নিভে যায়, দেয়ালের ছবিগুলো পড়ে যায়।
আমি জানি, তার ভেতর একটা আত্মা বাস করে।
---
৭. শেষ রাত
সেই রাতে তার শরীর থেকে ধোঁয়ার মতো কিছু বেরিয়ে আসছিল। সে কেঁদে বলছিল,
“তুই যদি হাশেম না হোস, তবে তুই বাঁচবি না।”
আমি তেলাওয়াত করতে লাগলাম। হুজুররা এসে পানি ছিটাল। ভোরবেলা সে ধীরে ধীরে মাটিতে গলে যেতে থাকল, ঠিক যেন কাদার পুতুল।
সে চলে গেল। কোথায়, জানি না।
---
📛
[Copyright Warning]
এই গল্পটি একান্তভাবে "ভয়ংকর সব ভূতের গল্প" পেজের জন্য তৈরি।
এটি কপি করে অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
---
📣👇
👰 যদি “অপার্থিব বউ” গল্পটি আপনার হৃদয়ে কাঁপন তোলে, তাহলে —
👍 লাইক দিন, 💬 কমেন্ট করুন, 📤 শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে।
📮 নিজের দেখা কোনও ভৌতিক ঘটনা ইনবক্সে পাঠিয়ে দিন, গল্প করে প্রকাশ করব!
📥 ইনবক্স করুন আজই!
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন