সোমবার, ৩ জুন, ২০২৪

অনু গল্প

 








Writing By.জুনেদ আল রহমান
ফ্রেঞ্চঞ্চাম প্রকাশ, দুইটাকার বাদ দেন।উনি দিতে বললেন, ভাতিজা কি বাংলা। বৈধ, হায় চাচা।

বললেন, কতদিন থেকে ফাঁস। উত্তর, তিন বছর রাস্তা। আপনি বললেন, নাটা বছর দীর্ঘ হয়ে গেছে, কাগজ পাইনি এখনো যেতে পারি না।


বাদাম নিলেন পর টাকা দিতে,

বললেন, কাজ না থাকলে চলো ভাতিজা গল্প করি।

অনুমতি, কাজ আছে, তবে সতর্ক পর পর।


জিগাইলেন, দেশের খোঁজ,বিয়ে করছি কি'না,মা বাপ আছেন কি'না এক জন বয়স্ক মানুষ, আমাদের মতো ছেলের ছেলের বাড়ির ছেলে যা জিগেস করেন ঐগুলাই জিগাইলেন৷


বেশ মোটা মানুষ তারউপর বয়স্ক, এর মধ্যে ইলিগ্যাল, বুঝলাম এই জন্য উনারে কেউ বলতে পারে না।


পকেট থেকে সামং ফোন বের করে, স্ক্রিনে একটা মেয়ের ছবি দেখা যায়, মেয়েটা সুন্দর কি'না?


একটা মেয়ে মেয়ের বাড়ন্ত পুরনো যে' সুন্দরী থাকে ও পছন্দ করে। আমি আপনাকে ঐ কুমিল্লায় গিয়ে বিয়ে করব, বেটা থামালেন, কাস্টমার বিদায় করি সিগারেট খাইলে একটা ব্যাপার।


সিগারেট নামলাম, চাচায় কাস্টমার বিদায় বিদায় তার পর বললেন, এটা আমার মেয়েকে মুচকি মুচকি হাসতে শুরু করবে।


চাওয়া কথা বলে থামেন, মুচকি হাসেন, লংটাইম আবার বলেন, আমার এই মেয়েটি এইটে গোল্ডেন। চাচা গোল্ডেন কি চাচা বললেন, এটা কি আর আমি জানি। আমার মেয়েটা পড়ায় খুব ভালো। আমার দুই মেয়ে,এটাই বড়।


আমি ঠিক নিয়ে এগোচ,কে চাও বলে উটেন, আমার মেয়ে বিয়ে করবে?


বলেছে, মনে কর ত্রিশ পয়ত্র, চল্লিশ চাচাবলাম, অনেক কম। রুমাভাড়া, শান্তর বিলা'তো আর ঘরতে পাটাশ দিতে দিতে ডেবলে, টাইটুনা ঘামাশ দেই তোমার চাচের ডিসকাউন্ট। 


বললেন, ভাতিজা নিয়োগ করছি, নতুন ডাক্তার পর ভালো বেতনে কাজ করছি। আর মনে কর, কুৃমিল্লা নেতা বাসার কিন পাওয়ার পচিশ দীর্ঘ দিয়ে, এখন পাশাশ জায়গাম লাগানো হবে।আল্লাহ নাফ দিয়ে ভাতিজাবল, চাচাচালক যান। এই পুরানো আর বিদেশলেন, আগামী বছর পাবো তারপর যাবো। থাকলে, অটোমেটিক লিগ্যাল কার্ড দেয়।


চরিত্রহোক,বললাম চাচা যাচ্ছেন, গোসলের তারপরে বলতে হবে,অন্য দিন কথা হবে।ছাড়লেন,বললেন বিশ মিনিট দাড়াও গল্প করি, তোমার সাথে করতে পারলাম 


বললেন, আমার এই মেয়ে মেট্রিকে এ প্লাস কথা। পড়ায় খুব ভালো। আমার তো মনে কর, আশা, মেয়েরা টাকা পয়সা খারছ কইরা পড়ুন, ডাক্তার বানামো, রুজি করতে হবে না।গরীব মানষের চিকিৎসা কর।


আমি কিছু চেষ্টা করতে পারোনা, আমার বাড়ির মালিকের বাড়ি উনার মেয়ের গল্প দেখলাম কেন, আমি ফেসবুকে ভিডিও দেখলাম, এক ছেলে হেলিকপ্টারে বিয়ে করতেছে, আমি ও খবর নিয়া দেখলাম পাঁচলাখের খরছ হেলিপ্টার চড়াইয়া মেয়ের শশুড় পাটাতে পারবো। চা, তোমার মেয়ে নিয়া'তো চানা স্বপ্ন।


বললেন,ভাতিজা আমাদের এই বয়সে এসে নিজের আর কিচ্ছু আশা আকাঙ্ক্ষার থাকেনা। সবগুলো স্বপ্ন থাকে শিশু কাচ্চা নিয়া। 


রুম তো ছিলই। আমার মেয়ের একলা রুম ভিডিও কলে দেখুন, শুধু খাট আর পড়ার টেবিল আর কিছু নাই।


মেয়েটি খুব করেছিল সোফায় মনের ব্যাখ্যায়। তার অনেক প্রস্তাব শুরু করে, ভাল ভালো প্রস্তাব, ছেলে ব্যাসায়ী, বিদেশ সেটেল্ড, আরো কত'কি। বলবেন, তোমার ছেলের মতো পাইলে দিবো।


চাচা বললেন, এই বছর আমার মেয়ের আইএ (এইচসিএসএস পরিদর্শন, পরিস্থিতির প্রশ্নে) পিছিয়ে পড়েছি।শুন ভাতিজা, এক দিন রাতে আমার শরীরের মাথা থেকে সবজাগায় আমার সব চুল কাটাচ্ছে,পড়েছে। পড়ে সীমাহীন হয়ে গেছে। আমি মহারাজ দিয়ে,মানুষ আমাকে হাসেহাটে ঘুম ঘুম ভেঙ্গে কথা, রাত বাচারটা, বাংলাদেশ সময় সকাল আটটা। , ও ফোন ধরেনা। ভাবলাম ঘুমাতে হবে।


তোর চাচীব কামাল কমবন চশমা ব্যাহার করেছে। ফেটে পড়লেন।


তো ফোন কর, তোর মেয়ে চাচির ফোনে ফোন রিসিভ। 🙂🙂🙂


চাচা বাকি আছে,মুচকি হেসেই যাচ্ছেন আর বাদাম নাড়ছেন।বললাম, বলেন কি চাচা?বললেন, ভাতিজা মেয়েটা মরার আজ সাইত্রিশদিনের কথা। আমি মনে কর কর্লো দেশ, গিয়া, তোর চাচিরে নিয়া হজ্ব কইরা আইসা,মরার জন্য শুইয়া পড়মু। মরছি আর কনবোনা।আরে ব্যাটা,কার জন্য বাচবো কষ্টটা।


কত কষ্টের মেয়ে,কত আদরের মেয়েটা, স্বপ্নের মেয়ে আমার মরে জোরে,কোন পোলার জন্য। 


বিলিভ মি- চাচা তবু ও হাসছিলেন। আমি পুরাই হ্যাং হয়ে গেছি কতক্ষণের জন্য। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দিয়ে, চাচা আসি আজ।আবার আসবো শিওর। ফোন নম্বর দিয়ে, যখন ইচ্ছা কল দিয়ে, আপনার সাথে গল্প করতে।


মানুষ মনে হয় কৌতূহলকে বিরক্ত করতে হাসে অথবা, কান্নাকে অৌক্তিক মনে করে বা ভয় পায়, কান্না করতে যদি নিজেকে খুইয়ে দেয়, ভালো থাকার আনন্দে জগৎ থেকে।






শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।