বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২০

ক্রুসেড সিরিজ-২২. হেমসের যোদ্ধা(পর্ব-6)

২২. হেমসের যোদ্ধা(পর্ব-6)



এভাবে দেড়-দু'মাস অতীত হয়ে গেল। এক সন্ধ্যায় জাভীরা তানভীরের বাড়ী চলে এলাে। সে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে লাগলাে। এক সময় সে সুযোেগ পেয়ে তানভীরকে ইশারায় কিছু বললাে। তানভীর বুঝতে পারলাে তার ইশারা। তারপর মেয়েটি তানভীরের আম্মাকে বললাে, রাত হয়ে যাচ্ছে খালা। আমি এখন যাই।' 
মেয়েটি চলে গেলে তানভীরের আম্মা সান্ধ্য ব্যস্ততা ও মাগরিবের নামাজের জন্য ঘরে চলে গেলেন। তানভীরও মসজিদের জন্য পা বাড়াল। 
সন্ধ্যার অন্ধকার একটু গভীর হতেই তানভীর সেই স্থানে চলে গেল, যেখানে তারা প্রতি রাতে মিলিত হয়। জাভীরাও ঠিক তখনই সেখানে গিয়ে হাজির হলাে। 
জায়গাটা ছিল লােকালয় থেকে দূরে। তানভীর লক্ষ্য করলাে, জাতীরাকে খুব ভীত দেখাচ্ছে। তানভীর বললাে, কি ব্যাপার জাভী! তােমাকে এত ভীত দেখাচ্ছে কেন? 
জাভীরা এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ইশারায় তাকে চুপ থাকতে বললাে। জাভীরা ভয়ের কারণ কিছু না বললেও একটু পরেই তানভীর বুঝতে পারলাে, তার ভয় অমূলক নয়। সে নিজেই স্পষ্ট শুনতে পেলাে, কে যেন জাভীরাকে খুঁজছে এবং তাকে ডাকছে। 
এবার তানভীরও খানিকটা ভয় পেল। আস্তে করে জাভীরাকে জিজ্ঞেস করলাে, এ লােক কে? কে তােমাকে ডাকছে? 
জাভীরা ঠোটে আঙুল দিয়ে তাকে সাবধান করে ভীত কন্ঠে বললাে, চুপ, মনে হয় আমাকে কেউ দেখে ফেলেছে। হয়তাে আমি আসার পথে কেউ আমাকে আসতে দেখে আমার পিছু নিয়েছিল, এখন হারিয়ে ফেলে আমাকে খুঁজছে। চলাে আমরা আরও দূরে সরে যাই।' 
তারা দুজন অন্ধকারের আড়াল নিয়ে সংগােপনে সেখানে থেকে সরে পড়লাে এবং গ্রাম থেকে আরও অনেক দূরে চলে গেল। কিন্তু তখনও তারা শুনতে পাচ্ছিল, কে যেন ব্যাকুল কণ্ঠে বার বার ডাকছে, জাভীরা, জাভীরা...!' 
‘এ শব্দে কান দিও না তানভীর। জাভীরা বললাে, 'আমি তােমাকে এমন জায়গায় নিয়ে যাবাে, যেখানে অন্য কারাে আওয়াজ পৌছবে না।' 
সামনে একটি ছােট পাহাড় ছিল। জাভীরা তানভীরকে দ্রুত টানতে টানতে সেই পাহাড়ের আড়ালে নিয়ে গেল। তানভীর বিস্মিত হয়ে তার সাথে সাথে চলছিল। তারা এমন এক স্থানে গিয়ে থেমে গেল, যেখানে বাইরের আওয়াজ সহজে পৌঁছে না। ওখানে পৌঁছে জাভীরা বলল, এবার আর কেউ আমাদের খুঁজে পাবে না।' 
সহসা তানভীর চমকে উঠে বললাে, বাইরে খুব শোরগােল শােনা যাচ্ছে। তুমিও শুনতে চেষ্টা করাে। মনে হচ্ছে কোথাও যেন ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। বহু মানুষের চিৎকার ও আর্তনাদ আর অশ্বের ছুটাছুটি শােনা যাচ্ছে। 
“তােমার কানে এরকমই শােনা যাচ্ছে হয়তাে। জাভীরা হেসে বললাে, বাতাসের বেগ পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে এমন শব্দ বের হচ্ছে। এটা চতুর্মুখী বাতাসের আওয়াজ, তুমি অযথাই অন্য রকম ভাবছাে।
‘কি জানি, হতে পারে!' চিন্তিত মনে বললাে তানভীর। 
জাভীরা তাকে তার বাহু বন্ধনে নিয়ে নিল। তার সুবাসিত কোমল চুলের স্পর্শ আর ঘ্রাণ তানভীরের চোখ, কান ও বিবেকের উপর আধিপত্য বিস্তার করে নিল। তানভীর শেষে মেনে নিতে বাধ্য হলাে, এ শব্দ বাতাসেরই সৃষ্টি। নইলে এমন ভূতুড়ে চিৎকারের শব্দ কোখেকে আসবে? সে জাভীরার চুলের অরণ্যে মুখ বুজে অনেক দূর থেকে ভেসে আসা চিৎকারের শব্দ ও ছুটন্ত ঘােড়ার পদধ্বনি শুনতে লাগল। 
কিন্তু সে জানতে পারলাে না, এ আওয়াজ তারই গ্রামের লােকদের করুণ আর্তনাদ, তারই আপনজনদের মর্মভেদী চিৎকারের আওয়াজ। সেখানে তখন সেই ধ্বংসলীলা শুরু হয়ে গিয়েছিল, যে ধ্বংসলীলা চালানাের আহবান নিয়ে ইহুদী বণিক গিয়েছিল সম্রাট বিলডনের বাহিনীর কাছে। জাভীরা এ ষড়যন্ত্রের সবকিছুই জানতাে। সে চাচ্ছিল না, এ শব্দ তানভীরের কানে পৌছুক। 
এ ব্যবস্থাটা হয়েছিল খুবই গােপনে। ইহুদী বণিক আর একবার সম্রাট বিলডনের কাছে গিয়েছিল। তখন সম্রাট বিলডনের সাথে তার সাক্ষাত হয়। এ সাক্ষাতেই হেমসের ধ্বংসের ব্যবস্থা পাকা করে এসেছিল ইহুদী। সে বিলডনকে মুসলমানরা কিভাবে সেখানে যুদ্ধের প্রস্তুতি চালাচ্ছে তার বিবরণ দিয়ে বলেছিল, যদি আপনি সেখানে অভিযান চালান তবে আমরা আপনাকে বলে দেবাে, কিভাবে হামলা করলে আপনি সহজে বিজয় লাভ করতে পারবেন। কোথায় আপনি কেমন মােকাবেলার সম্মুখীন হবেন সে তথ্য আমরা আপনাকে সরবরাহ করবে, যাতে আপনি তার যথােপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন। সম্রাট বিলডনের এ প্রস্তাব খুবই পছন্দ হলাে। তিনি ইহুদী বণিককে বললেন, “আমি অভিযান চালাবো। 
তিনি তার সৈন্য বাহিনী কোন রাতে গােপনে হেমসে উপর আক্রমণ চালাবে বলে দিয়ে তাকে বললেন, এ কথা ইহুদী বা খৃস্টান বাসিন্দাদেরও বলার দরকার নেই। তবে তােমাকে এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে কোন খৃস্টান বা ইহুদী বাসিন্দা সে রাতে হেমসের গ্রামে না থাকে। যেন সন্ধ্যার পরপরই তারা গ্রাম থেকে সরে যায়। তারা দিনের বেলায় সরে গেলে মুসলমানরা সন্দেহ করবে। 
‘আপনি এ নিয়ে ভাববেন না। সে রাতে আমরা পাহাড়ের পাদদেশে ইহুদীদের জন্য নৈশ এবাদতের ব্যবস্থা করবাে। আর খৃষ্টানদের প্রতিটি বাড়ীর গেটে ক্রুশ ঝুলিয়ে রাখবাে, যাতে আপনারা চিনতে পারেন ওটা খৃস্টানের ঘর। আর আমাদের যুবকদের একটা দল আপনাদের পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবে।' 
এভাবেই তিনি হেমসের মুসলমানদের ধ্বংসের পথ তৈরী করেন। ইহুদী ফিরে এলে তার পরিকল্পনা শুনে জাভীরা বললাে, আমি তানভীর ও তার পরিবারকে বাঁচাতে চাই। 
‘একে আমরা জাতির সাথে গাদ্দারী করা বলবাে।' বৃদ্ধ খৃষ্টান বললাে, সাপের বাচ্চাকে বাঁচানাে কি কোন বুদ্ধিমানের কাজ।' 
ইহুদী বণিক বললাে, এখানে মুসলমানদের দুটি বাড়ী আছে, যাদের সাথে আমার খুবই আন্তরিক সম্পর্ক। তােমার মত চিন্তা করলে তাদের বাঁচানাে আবদার করতে হয় আমাকে। 
তুমি কি চাও, আমি তাদের আবেদন জানাই?'
এক খৃস্টান বললো, ‘এমন বন্ধুত্ব তো আমাদেরো আছে। কিন্তু আমি তাদের কাউকেই বাচানোর চিন্তা করছি না। যদি আমরা মুস্লমানদের রক্ত চাই, তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা ভুলে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোন কোন মুসলমান আমার ব্যক্তিগত বন্ধু হতে পারে কিন্তু তারা আমাদের ধর্মীয় এবং জাতীয় শত্রু। যে কোন মূল্যে তাদের বিনাশই আমাদের সবার কাম্য। 
জাভীরা জেদের সঙ্গে বললাে, কিন্তু আমি তাকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই এ জন্য যে, সে আমার জীবন বাঁচিয়েছিল। জীবনের বদলে সে জীবনই পাওনা। সে ওই দিন আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে না আনলে এখন আমি তােমাদের সাথে তর্ক করার জন্য বেঁচে থাকতাম না।' জাভীরার কন্ঠে উত্তাপ। 
সে তােমাকে বাঁচিয়েছে বলে আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ। এ জন্য আমরা তাকে উপযুক্ত পুরস্কার দিতে অস্বীকার করিনি। তুমি নিজেও জানাে, তাকে আমরা এমন পুরষ্কার দিতে চেয়েছিলাম, যা সে কল্পনাও করেনি। কিন্তু তাই বলে সাপকে তো মুক্তার মালা বানাতে পারি না!' 
ইহুদী বণিক বললাে, আমাদের দায়িত্ব আমাদের পালন করতেই হবে। এখন সে আমাদের শত্রু, আমরাও তাদের শত্রু। যখন তার পুরস্কার পাওনা ছিল, তাই দিয়েছি। এখন আঘাত পাওনা হয়েছে, আঘাত পাবে, এ নিয়ে বিতর্কের কি আছে?” 
‘আমি তাকে শত্রু মনে করি না।' জাভীরা বিরক্ত হয়ে বললাে, ‘আমার কাছে একটাই পুরুষ এসেছে, যে আমার দেহের প্রতি সামান্য লােভও করেনি। তােমরা তাে সবাই পাপিষ্ঠা। তোমাদের মধ্যে এমন কে আছাে যে আমার কাছে পবিত্র বলে দাবী করতে পারাে? কিন্তু সে পারে। তার নিয়ত পবিত্র। আচরণ পবিত্র। সে শুদ্ধতম এক পবিত্র পুরুষ। এমন পুরুষকে আমি পূজা করতে পারি, আঘাত করতে পারি না।' তুমি শুধু তানভীরকেই বাঁচাতে পারাে। জাভীরার ক্রোধ ও জেদ দেখে ইহুদী বণিক বললাে, কিন্তু কি করে তাকে বাঁচাবে? কি ঘটতে যাচ্ছে যদি তুমি তাকে তা বলে দাও, সে কি তখন চুপচাপ বসে থাকবে? সে কি সমস্ত লােককে তা বলে দেবে না?' 
বৃদ্ধ খৃস্টান বললাে, আর তার সমস্ত পরিবারকে সরে যেতে বললে তারা কি এর কারণ জিজ্ঞেস করবে না? ‘হ্যা, তাই।' অন্য একজন বললাে, এক মুসলমানের বদলা আদায় করতে গিয়ে কি তুমি সমস্ত মুসলমানকে সতর্ক করতে চাও? যারা আমাদের জন্য বিপদের কারণ তাদের বাঁচিয়ে দিতে চাও?'। 
‘আমাকে অত বােকা মনে করাে না। জাভীরা বললাে, আমি কি আমার জাতিকে, ভালবাসি না? জাতির জন্য আমি কি কোনই ত্যাগ ও কোরবানী করিনি? বিষয়টা আমার ওপর ছেড়ে দাও, আমাকে দিয়ে কখনও খৃষ্টান ও ইহুদীদের ক্ষতি হবে না ।
আক্রমণের দিন সন্ধ্যায় জাভীরা তানভীরের বাড়ী গেল। সে তাকে বাড়ীর বাইরে নিয়ে এলাে। তানভীর জানতেই পারল না, সারা রাত তার গ্রামে কি ঘটলাে। কি তুফান বয়ে গেল তার বাড়ীর ওপর দিয়ে। 
রাতের অধিকাংশ সময় জাভীরা কোথায় থাকে, কোথায় যায়, তার লােকেরা সব জানতাে। জাভীরা তার লােকদের জানিয়েছিল, তানভীরের সাথে ভালবাসার ভান করে সে তার কাছ থেকে অনেক গােপন তথ্য আদায় করছে। 
ওই রাতে সে যখন তানভীরকে বাইরে নিয়ে গেল তখন গ্রামের এক ইহুদী যুবক গােপনে তাকে লােকালয়ের বাইরে বেরিয়ে যেতে দেখলাে। যুবকটি একাকী তাকে গ্রামের বাইরে যেতে দেখে তার পিছু নিয়েছিল। কিন্তু কিছু দূর যাওয়ার পর অন্ধকারে তাকে হারিয়ে ফেলল। তাঁই যুবকটি জাভীরার নাম ধরে বার বার ডাকছিল। 
জাভীরা সে ডাক শুনে তানভীরকে নিয়ে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছিল। সে তাকে এতটা দূরে নিয়ে যেতে চাচ্ছিল, যেখানে তাদের কানে গ্রামের লােকদের শােরগােল শােনা না যায়। জাভীরার অনুসন্ধানে যে যুবক বেরিয়েছিল, পাহাড় পর্যন্ত গিয়ে তাকে না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে এলাে যুবক। 
গ্রামের লােকজন এশার নামাজের পর খেয়েদেয়ে শােয়ার উদ্যোগ করছিল। শিশুরা অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েছিল। খৃস্টান পদাতিক সৈন্য ও অশ্বারােহী বাহিনী গােপনে নিঃশব্দ বিড়ালের মত পা টিপে টিপে লােকালয়ের কাছে পৌছে গেল ।
সে এলাকার লােক সংখ্যায় কয়েকগুণ বেশী ছিল সৈন্যদের সংখ্যা। পদাতিক বাহিনী যখন গ্রামের কাছে এসে ঘিরে ফেলল সারা গ্রাম, তখন অশ্বারোহী বাহিনী পিছন থেকে ছুটে এলাে তীব্র বেগে। | এসেই ঘুমন্ত মানুষের উপর তুফানের বেগে আক্রমণ করলো। অশ্বারোহীরা মশাল হাতে ছুটে গেল মুসলমানদের বাড়ী ঘরের দিকে। তারা কয়েকটি বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিল যাতে সারা গ্রাম আলােকিত হয়ে যায়। 
খৃষ্টান পদাতিক সেনারা বাড়ীর দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করলাে। বেশীর ভাগ মুসলমান জেগে উঠার আগেই নিহত হলাে। যারা শোরগােল শুনে জেগে উঠে হাতিয়ার নেয়ার সুযােগ পেল, বাঁচতে পারলাে না তারাও। বরং অস্ত্র হাতে লড়াই করে শহীদ হয়ে গেলাে তারা। 
খৃস্টান অশ্বারােহীরা গ্রাম ঘিরে রেখেছিল। কেউ পালিয়ে যেতে চেষ্টা করলে তার ভাগ্যে জুটতাে বর্শা ও তলােয়ারের আঘাত। আর সেই আঘাত তাকে এনে দিত শহীদের মর্যাদা। 
লাঞ্ছিত হচ্ছিল মেয়েরা। যারা বাঁধা দিত তারা ঢলে পড়তাে মৃত্যুর কোলে। এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রেহাই পায়নি শিশুরাও। মায়ের কোল থেকে শিশুকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকেও ওরা নির্মমভাবে হত্যা করতাে। এই ছিল সেই চিৎকার ও আর্তনাদ, যে আর্তনাদের শব্দ পাহাড়ের পিছন থেকে তানভীর শুনতে পাচ্ছিল। 
তার বাড়ীঘর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পরিবারের সবাই নিহত হয়েছিল সেই নির্মম হত্যাযজ্ঞে। সম্রাট বিলডন এভাবেই তার হিম্মতের পরাজয়ের প্রতিশােধ নিল। গ্রামের নিরীহ ও ঘুমন্ত মানুষগুলােকে হত্যা করে পুষিয়ে নিল তার ক্ষোভ ও ক্ষতির সিংহভাগ। 
‘তুমি আজ আমাকে এত দূর কেন নিয়ে এলো তানভীর জাভীরাকে জিজ্ঞেস করলো, আজ তুমি কিছুই বলছো না যে? তুমি ভয় পায় কেন? 
‘এই কারণে যে, তুমি আমার সাথে থাকবে কিনা জানি না। জাভীরা খুব চালাক মেয়ে। সে বলতে লাগলাে, আমি তােমাকে নিয়ে এক জায়গায় যেতে চাই। তুমি যদি আমার সাথে না যাও তাহলে আমি একা এই অন্ধকার রাতে কেমন করে সেখানে যাবাে? 
‘কোথায় যাবে? কেন যাবে? 
কেন, তােমার কি আমার উপর বিশ্বাস নেই?' জাভীরা তাকে বাহু বেষ্টনীতে নিয়ে বললাে, আমরা কালকেই আবার ফিরে আসবাে।' 
তানভীর স্তম্ভিত বিস্ময় নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল। জাভীরার কথার মাথামুণ্ডু সে কিছুই বুঝতে পারছিল না। 
জাভীরার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা টের পাচ্ছিল তানভীর। তার মুখে কাঁধে ছড়িয়েছিল জাভীরার রেশম কোমল চুল। এটা সেই চুল, গুহায় হাত-মুখ ধুয়ে আসার পর যে চুল দেখে তানভীর প্রথম নিজের মধ্যে বিস্ময় বােধ করেছিল। 
এখন তাে জাভীরা তার ভালবাসা দিয়ে তানভীরকে পুরােপুরি জয় করে নিয়েছে। তানভীর তার অন্তরের গভীরে এখন সর্বদাই জাভীরার ভালবাসা টের পায়। এ ভালবাসা এখন তার কাছে নেশার মত হয়ে গেছে। যার জন্য সব সময় তার মন উন্মুখ হয়ে থাকে। মনে হয়, এ ভালবাসার নামই জীবন। যেখানে এ ভালবাসা নেই, সেখানে জীবনেরও কোন দরকার নেই। তানভীর আকাশের তারকারাজির দিকে তাকিয়ে জীবনের এই উষ্ণ মধুর কথাই ভাবছিল। 
‘আমরা আর কতকাল এভাবে চোরের মত মেলামেশা করতে থাকবাে?' জাভীরার প্রশ্নে ধ্যান ভাঙল তানভীরের। সেও স্বগতােক্তির মত উচ্চারণ করলাে, তাইতাে! আমরা আর কতকাল এভাবে চোরের মত মেলামেশা করবাে?' 
জাভীরা নিজেকে তানভীরের কোলে সঁপে দিয়ে বলল, এখন যে আমি তােমাকে ছাড়া আর চলতে পারি না। যদি তােমার অন্তরে আমার জন্য ভালবাসা থেকে থাকে তবে কেন এ কথা জিজ্ঞেস করছাে, আমি তােমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি? তুমি কি আমার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখাে না?' 
‘জাভীরা, বিশ্বাসের কথা যদি বলাে তবে বলতে হয়, আমি নিজেকে যতােটা বিশ্বাস করি, তােমাকে বিশ্বাস করি তারচে বেশী। বিশ্বাসের জন্য নয়, এমনি জানতে চাচ্ছিলাম, তুমি কোথায় যেতে চাও? ‘ধরাে, তােমাকে আমি এমন জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যেখানে আমাদের মাঝে ধর্মের কোন প্রাচীর খাঁড়া থাকবে না।' 
‘ধর্মের কথা তুলছাে কেন?-ধর্ম তাে আমাদের মিলনের পথে কোন অন্তরায় নয়। আমার ধর্ম আহলে কিতাবদের মধ্যে বিয়ে বৈধ গণ্য করে। ধর্ম নয়, বলাে সমাজ এটা ভাল চোখে দেখবে না।'

(চলবে)

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।