২২. হেমসের যোদ্ধা (পর্ব-2)
বর্বরতা থেকে রক্ষা করে। এই মােনাজাতের মধ্য দিয়ে তানভীর সেই শক্তিই সঞ্চয় করছিল। সততা ও দায়িত্বশীলতার বর্ম দিয়ে আবৃত করছিল নিজেকে।
দোয়া শেষ করে প্রশান্ত মনে উঠে দাঁড়াল তানভীর। ঘুরে জাভীরার দিকে তাকাতেই দেখলাে, জাভীরা নির্নিমেষ নয়নে তাকিয়ে আছে তার দিকে। তার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু।
কি কারণে মেয়েটি কাঁদছে জানে না তানভীর। সে কি পিতৃ হারানাের শোকে! অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায়! যে কারণেই কাঁদুক, তানভীর ওকে বিরক্ত না করে চুপচাপ থাকার সিদ্ধান্ত নিল।
জাভীরাও তেমনি। অপলক চোখে কেবল তাকিয়েই রইলাে, কোন নড়াচড়া করলাে না। কোন কথাও বললাে না।
একটু পর তানভীর জাভীরাকে বললাে, বাইরে যাও। বাইরে পরিষ্কার পানির ঝরনা আছে, তাতে হাত মুখ ধুয়ে এসাে।
তানভীর তার মাথায় জড়ানাে পাগড়ি খুলে জাভীরার দিকে বাড়িয়ে ধরে বললাে, “এটা নাও। ভাল করে মুখ-হাত ধােও। তােমার চুলে এখনাে কাদামাটি লেগে আছে, ওগুলাে পরিষ্কার করাে। আমি তােমাকে তােমার সাবেক চেহারায় তােমার আত্মীয়দের হাতে তুলে দিতে চাই, যেমনটি তুমি দুর্যোগের আগে ছিলে।
জাভীরা তার হাত থেকে কাপড়টা নিয়ে এমন ভঙ্গিতে বের হয়ে গেল, যেন কোন শিশু গুরুজনের আদেশ পালন করছে।
তানভীরের কাছে খাবার ও পানীয় যা কিছু ছিল সেগুলাে ঘােড়ার জিনের সাথে বাঁধা ছিল। এখন ঘােড়াও নেই, কোন খাবার বা পানীয়ও নেই। তাই সে চুপচাপ জাভীরার ফিরে আসার অপেক্ষায় বসেছিল।
জাভীরা ফিরে এলাে। তানভীরের কথামত ভাল করে মাথা ও মুখমন্ডল ধুয়ে এসেছে সে। একটু আগে জাভীরার চুল মাটি ও কাদায় জট পাকিয়েছিল। চেহারার অবস্থাও ছিল তথৈবচ। এখন শিশির ধােয়া ফুলের মতই সজীব ও প্রাণবন্ত চেহারা নিয়ে ফিরে এসেছে সে।
তানভীর জাভীরার এ রূপের দিকে তাকিয়েই চমকে উঠলাে, যেন তাকে চিনতেই পারছে না।
মনে মনে হোঁচট খেল সে। এ যেন যাদুর চমক। এত তাড়াতাড়ি মেয়েটি শােক ও কষ্ট কাটিয়ে এমন স্বাভাবিক ও পরিপাটি হতে পারবে, ভাবতেই পারেনি তানভীর।
পল্লী গ্রামের মানুষ সাধারণত এমন আকর্ষণীয় রূপ লাবন্যের অধিকারী নারীর দেখাই পায় না। কোন ধনীর দুলালীই কেবল এমন মায়াময় চেহারা ও এত আকর্ষণীয় দেহবল্লরীর অধিকারী হতে পারে। তানভীর জাভীরার এ রূপ দেখে বিস্মিত না হয়ে পারল না।
তানভীর সেদিক থেকে চোখ সরিয়ে বললাে, আমাদের হাতে খাওয়ার মত কিছু নেই। খালি পেটেই আমাদের রওনা করতে হবে। তাই আর দেরী করতে চাই না। চলাে বেরিয়ে পড়া যাক।'
সে উঠার উদ্যোগ করতেই জাভীরা দু'কদম এগিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে বললাে, আর একটু বসাে। আমি কিছু জিজ্ঞেস করতে চাই, কিছু জানতে চাই তােমার কাছে।
তানভীর প্রশ্নবােধক দৃষ্টি নিয়ে মেয়েটির দিকে তাকাল। বলল, বলো, কি জানতে চাও?
তুমি যখন তােমার আল্লাহর সাথে কথা বলছিলে, তখন কি তুমি তাকে দেখতে পেয়েছিলে?
‘আল্লাহকে মানুষের এই সীমিত দৃষ্টি দিয়ে দেখা যায় না। তানভীর বললাে, আমি আলেম নই, এ জন্য বলতে পারছি না, দেখা না দিয়ে আল্লাহ কেমন করে তার অস্তিত্ব প্রকাশ করেন। আমি শুধু এতটুকু জানি, আল্লাহ আমার সব কথাই শুনতে পান। তিনি আমার দোয়া শুনেছেন এবং আমার দোয়া কবুল করেছেন, তার প্রমাণ আমি বহুবার পেয়েছি।'
‘তােমার কি বিশ্বাস, চেষ্টা ও শক্তির বিনিময়ে তুমি ঝড় ও স্রোতের কবল থেকে রক্ষা পাওনি বরং তােমাকে ও আমাকে মহা দুর্যোগ থেকে আল্লাহই বাঁচিয়েছেন?' জাভীরা প্রশ্ন করলাে।
‘একশাে বার। দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তানভীর জবাব দিল, ‘খতিব সাহেব বলেন, যত বড় বিপদই হােক, যদি কেউ মন থেকে আল্লাহর সাহায্য চায় তবে মহা বিপদ থেকেও আল্লাহ মানুষকে রক্ষা করতে পারেন। কিন্তু তার চাওয়া হতে হবে আন্তরিক ও নিষ্কলুষ।' তানভীর বললাে, যদি আমি এই আশায় তােমাকে বাঁচানাের চেষ্টা করতাম যে, তােমার মত সুন্দরীকে নিয়ে কোথাও পালিয়ে যাবাে, তবে কাল সেই প্লাবনের সয়লাবে তােমার সাথে আমিও ডুবে মরতাম।
কিন্তু আমার আত্মা তাে পবিত্র নয়! জাভীরা দুঃখভরা কণ্ঠে বললাে, আমাকে আল্লাহ কেন সাহায্য করবেন? আমাকে কেন বাঁচাবেন?'
‘এই প্রশ্নের জবাব আল্লাহই ভাল জানেন। তবে হেমসে গিয়ে খতিবকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারি তিনি এর কোন জবাব জানেন কিনা?’ তানভীর বললাে, আমার মধ্যে এত এলেম নেই যে, তােমাকে আল্লাহর সব মহিমা বুঝাতে পারব।'
‘এই প্রশ্নের জবাব না হয় খতিবকে জিজ্ঞেস করে জেনে নেবে। কিন্তু এটা তাে বলতে পারবে, আমার মত যুবতীর এমন নজরকাড়া সৌন্দর্য আর লােভনীয় রূপ দেখেও কেমন করে তুমি এমন নির্লিপ্ত থাকতে পারলে? কেন থাকলে জাভীরা প্রশ্ন করলাে।
‘তুমি যা বলতে চাইছাে যদি আমি তাই করতে চাইতাম, তবে আমি তােমার খঞ্জরের আঘাত থেকে বাঁচতে পারতাম না। আল্লাহ আমাকে হেফাজত করার জিম্মা নিতেন না। তানভীর উত্তরে বলল, তুমি আমার কাছে আল্লাহর এক পবিত্র আমানত। মুসলমান রিপুর তাড়নায় আমানতের খেয়ানত করতে পারে না।'
তানভীর মেয়েটির দিকে তাকিয়ে কথা বলছিল। হঠাৎ সে তার চোখ নামিয়ে নিল এবং চুপ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে থাকার পর বলল, তুমি বড় বিপজ্জনক আমানত জাভীরা! তােমাকে নিয়ে আমি বড় ভয়ের মধ্যে আছি। তােমার হেফাজতের চিন্তায় আমি এমনিতেই অস্থির, দয়া করে আমাকে আর পেরেশান করাে না। চলাে এখন যাই।
সে অধীর হয়ে উঠতে চাইলাে কিন্তু জাভীরা তার কাঁধে হাত রেখে বললাে, আরেকটু বসাে। আমাকে বলল, আমাকে নিয়ে তােমার কিসের ভয়? তুমি কি ভাবছে আবার আমি তােমাকে আক্রমণ করবাে?'
‘তাহলে তাে বেঁচে যেতাম। তানভীর বললাে, তােমার শক্রতা আমার জন্য বিপদের নয়, বিপজ্জনক হচ্ছে তােমার বন্ধুত্ব, তােমার সঙ্গ। আমাকে তােমার পাশে আর বেশীক্ষণ এভাবে আটকে রেখাে না । আমি ফেরেশতা নই জাতীরা, আমিও মানুষ। আমাকে এমন কঠিন পরীক্ষায় ফেলাে না, যে পরীক্ষায় ফেল করলে আমার দুনিয়া আখেরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে যাবে। আমাকে আল্লাহর কাছে নতি স্বীকার করতে দাও। তার রহমত থেকে আমাকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করাে না।'
‘তােমার আল্লাহর কসম!' জাভীরা বললাে আমাকেও তােমার মত বানিয়ে নাও। তােমার আল্লাহর কাছে লজ্জিত হওয়ার যােগ্য করে দাও আমাকে। তুমি কোন সাধারণ মানুষ নও, তুমি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক উপরে। তুমি খােদার দূত! আমি জানি আমি ক্ষমার অযােগ্য। কিন্তু যারা মহান তাদের ক্ষমার শক্তি যে আমার পাপের চেয়েও বিশাল। জাভীরা কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলল।
‘তুমি কাঁদছো! কেন জাভীরা, কি জন্য কাঁদছাে তুমি? জাভীরার কান্না দেখে অস্থির কণ্ঠে বলল তানভীর।
‘আমি জঘন্য খারাপ মেয়ে, আমি পাপিষ্ঠা। জাভীরা বললাে, ‘আল্লাহ আমার প্রতি দারুণ অসন্তুষ্ট। যখন স্রোত আমাকে ভাসিয়ে নিচ্ছিল, তখনও আমার অন্তরে আল্লাহর কথা জাগেনি। আমি আমার দেহ-সম্পদের জন্য গর্ব করতাম। জানতাম, আমার দেহে আছে অমূল্য সম্পদ। এই সম্পদ যতক্ষণ আমার সঙ্গে থাকবে ততক্ষণ আমি রাজরাণী। এই দেহটাকে বাঁচাতে গিয়ে যখন আমি ব্যর্থ হলাম তখন তুমি এই দেহের ভার নিলে। আমাকে উদ্ধার করে আনলে সেই দুর্যোগের মধ্য থেকে। তাই ভয় পাচ্ছিলাম, যে কোন সময় এ দেহ তুমি দাবী করে বসতে পারাে। এ ভয়েই আমি তােমাকে ছােরা নিয়ে আক্রমণ করেছিলাম। কারণ এ দেহই ছিল আমার শক্তি ও ক্ষমতার উৎস। কিন্তু আমি ব্যর্থ হলাম। স্বাভাবিকভাবেই এ ব্যর্থতার পর তুমি আমার জীবন ও দেহ চেয়ে বসলে আমার কিছুই করার ছিল না। কিন্তু তােমার আচরণ থেকে জানতে পারলাম, দেহটা মানুষ নয়, মানুষের খােলসমাত্র। আসল মানুষ বিরাজ করে অন্তরে অন্তরের সেই মানুষ মারা গেলে দেহ হয়ে যায় নিথর লাশ। তাহলে যাকে আমি অমূল্য সম্পদ জ্ঞান করতাম তা নিছক লাশ বৈ তাে নয়! আমি কত মুখ দেখাে, সামান্য একটা পচনশীল লাশের গর্বে মাটিতে আমার পা পড়তাে না। কিন্তু যখন তােমার প্রার্থনা শুনলাম, তখন বুঝলাম আমি কত বড় আহাম্মক! বুঝলাম, আমি বা তুমি কিছু নই, আমাদের অতীত আমাদের নয়, বর্তমান আমাদের নয়, ভবিষ্যতও আমাদের নয়। আমরা আমাদের রক্ষা করতে জানি না। এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় নিয়ন্ত্রিত হয় আমাদের জীবন। কিন্তু সেই শক্তি কি? কোথায় এবং কেমন করে সেই শক্তির নাগাল পাব আমি?'
যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনিই আমাদের একমাত্র রক্ষক। এ ক্ষমতা কেবল তার হাতেই নিবদ্ধ। তােমার আত্মাকে পবিত্র করাে, এ শক্তি তােমার হয়ে যাবে।
কিন্তু আমার সারাটা জীবন কেটেছে পাপের মধ্যে, কেমন করে আমি পবিত্র হবাে?'
তানভীর তার দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাে, আমাকে পরিষ্কার করে বলো, তুমি কি নর্তকী? তুমি কি কোন আমীরের হেরেমের রাণী? নাকি তুমি কোন ধনাঢ্য ব্যক্তির আদরের দুলালী, জমিদারের সােহাগী কন্যা? শুনেছি এমন সব মেয়েরা খুব রূপসী হয়। তােমার মত সুন্দরী মেয়ে আমি এ জীবনে কোনদিন দেখিনি।'
জাভীরা চুপচাপ মাথা নিচু করে শুনছিল তার কথা । তানভীরের কথা শুনে তার চোখে অশ্রু এসে গেল। সে তানভীরের আরাে কাছে সরে এলাে। তাকে ঘনিষ্ট হতে দেখে তানভীর একটু দূরে সরে গেল । জাভীরা বললাে, তানভীর, আমার খুব ভয় করছে! তুমি জানাে না, সেদিন ঝড়ের রূপ ধরে আমাকে গ্রাস করতে এসেছিল আমার পাপ! তােমার পবিত্র হাতের ছোঁয়া পেয়েছিলাম বলে সে যাত্রা বেঁচে গেছি। দোহাই তােমার, আমাকে বাঁচাও। তােমার কাছ থেকে আমাকে দূরে ঠেলে দিও না। ঝড়ের সময় যেভাবে আমাকে আগলে রেখেছিলে সেভাবে আমাকে আকড়ে ধরে রাখাে ।
না!' তানভীর সচকিত হয়ে বললাে, তুমি এভাবে আমার ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করাে না। এতে যে কোন সময় আমি বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারি।'
‘অ, বুঝেছি। আমি পাপী বলে তুমি আমার কাছ থেকে দূরে থাকতে চাচ্ছাে, যেন বিপথগামী হয়ে না যাও। স্বীকার করছি, আমি অনেক লােককে বিপথগামী করেছি। কিন্তু তখন পাপ ও পূণ্যের কোন বােধ আমার মধ্যে ছিল না।'
জাভীরা লক্ষ্য করলাে, তানভীরের মধ্যে ঈমানী চেতনা প্রবল পরিমাণেই আছে, কিন্তু তার মধ্যে জ্ঞানের গভীরতা নেই। এ ধরনের লােককে বিভ্রান্ত করা খুব কঠিন কিছু নয়। জাভীরা জানে, যদি এ ধরনের লােককে একবার বিভ্রান্ত করা যায় তবে তারা সহজে সেই বিভ্রান্তি থেকে বেরােতে পারে না। আর যদি তাদেরকে কোন ছাঁচে ঢেলে সাজানাে যায় তবে তারা সে ছাঁচেই চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।
জাভীরা তার সাথে খােলাখুলি কথা বলা শুরু করে দিল। সে বলতে লাগলাে, তানভীর, তুমি জাননা এ জগত সংসারে এখন আমার কেউ নেই। একমাত্র সম্বল বাবাও মারা গেলেন ঝড়ের কবলে পড়ে। এখন আমি এক অসহায়া নারী। বাঁচতে হলে আমার একটি অবলম্বন দরকার । যদি আমি তােমাকে বলি, এসাে আমরা সারা জীবন একসাথে কাটাই, পরম্পর জীবন সঙ্গী হয়ে যাই, তুমি কি উত্তর দেবে?
তানভীর তার মুখের দিকে তাকিয়ে বিজ্ঞের মত একটু হাসলাে। বললাে, সে উত্তর জানার চাইতে আগে তােমার হেমসে পৌঁছা দরকার। চলাে এখন যাওয়া যাক। রােদ বেড়ে গেলে পথ চলা মুশকিল হয়ে যাবে।'
এ জবাব ভাল না মন্দ জাভীরা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাে না।
সে তার সঙ্গে উঠে যাত্রা করলাে।
পাহাড়ী রাস্তা ধরে পথ চলছে ওরা। তানভীরের দৃষ্টি সামনে। জাভীরা বার বার তার দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করছে তাকে। গত রাতে এ তানভীরকেই হত্যা করে হেমসে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেছিল সে। কিন্তু আজ? আজ দিব্বি তার সাথে দ্বিধাহীন চিত্তে হেমসের পথে হেঁটে যাচ্ছে।
তানভীর খুব দ্রুত হাঁটছিল। তার সাথে তাল মিলাতে কষ্ট হচ্ছিল জাভীরার। সে তানভীরের হাত ধরে বললাে, এত তাড়া কেন, ধীরে চলাে।
‘আমার আস্তে চলা উচিত নয়। তানভীর বললাে, নইলে আবার রাত হয়ে যাবে।'
‘তা, রাত আসতে দাও না! জাভীরা বললাে, আমি এত দ্রুত হাঁটতে পারছি না।
‘চেষ্টা করাে। যখন আর হাঁটতে পারবে না তখন আমি তােমাকে আমার কাঁধে উঠিয়ে নেবাে, কিন্তু চলার গতি কমাতে পারবাে না।' তানভীর বললাে, আমার প্রচণ্ড তাড়া আছে।
o
সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর ভাই তকিউদ্দিন খৃস্টান সম্রাট বিলডনকে হিম্মত দুর্গের বাইরে শােচনীয় ভাবে পরাজিত করেন। যার দরুণ হতভম্ব হয়ে বিলডনের সৈন্যেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। খৃস্টান সম্রাট বিলডন তার বিচ্ছিন্ন সেনাদলকে অতি কষ্টে একত্রিত করেন। একত্রিত করার পর তিনি বুঝতে পারলেন, তার কি পরিমাণ সৈন্য ক্ষয় হয়েছে।
তিনি দেখতে পেলেন, তার কাছে তখনাে অর্ধেকের কিছু বেশী সৈন্য অবশিষ্ট আছে। তিনি এ বাহিনী নিয়ে এসেছিলেন দামেশক পর্যন্ত দখল করতে। কিন্তু তার দুর্ভাগ্য, তার প্রায় অর্ধেক সৈন্য তকিউদ্দিনের কমাণ্ডো বাহিনীর আক্রমণে মারা গেছে, নয়তাে পালিয়ে পাহাড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে।
সম্রাট বিলডন পলাতক সৈন্যদের অবস্থা জানতেন না। তারা তখন বিচ্ছিন্ন হয়ে দিকবিদিক ছুটছিল। মুসলিম যাযাবর ও রাখালেরা ধাওয়া করছিল সেই পলাতক সৈন্যদের। এমনকি গ্রামের সাধারণ মুসলমান যুবক বুড়াে এবং ছেলে ছােকরার দল তাদের ধরে ধরে হত্যা করছিল। কেউ ছিনিয়ে নিচ্ছিল তাদের অস্ত্রশস্ত্র, কেউ হস্তগত করছিল তাদের ঘােড়াগুলাে। সম্রাট বিলডন তার অবশিষ্ট সৈন্যদের একত্রিত করে হিম্মত দূর্গ থেকে কিছুটা দূরে এক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান নেয়ার হুকুম দিলেন। সেখানেই তিনি খবর পেলেন তার পলাতক সৈন্যরা বিচ্ছিন্নভাবে পালাতে গিয়ে সাধারণ মুসলমানদের হাতে নিহত হচ্ছে।
পরাজিত বিলডন পরাজয়ের কারণে এমনিতেই কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়েছিলেন। এ সংবাদ পেয়ে তিনি আরাে দিশেহারা হয়ে গেলেন। রাগে উন্মত্ত হয়ে তিনি সৈন্যদের আদেশ দিলেন, যেখানেই মুসলমানদের গ্রাম ও
(চলবে)
0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন