বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০

ক্রুসেড সিরিজ- ১৯. খুনী চক্রের আস্তানায়(পর্ব-8)


১৯. খুনী চক্রের আস্তানায়(পর্ব-8)
আমি তােমার মুখে নতুন কোন সংবাদ শুনছি না।' সিরিয়ার কাছে হলবের অনতিদূরে ভ্রাম্যমান হেড কোয়ার্টারে বসে তকিউদ্দিনের কথা শুনে সুলতান আইয়ুবী বললেন, 'আমি বলতে পারি না জাতির মধ্যে যে গাদ্দারী ও বিশ্বাসুঘাতকতার ‘রােগ ছড়িয়ে পড়ছে, তার চিকিৎসা কেমন করে হবে। আমার দৃষ্টি এখন বায়তুল মুকাদ্দাসে নয়, ইউরােপের ওপর পড়ে আছে। কিন্তু আমার গাদ্দার ও বিশ্বাসঘাতক ভাইয়েরা আমাকে মিশর থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তুমি এই রক্ষীদেরকে এখানে নিয়ন্ত্রণ করাে। আমি দামেশকে যাচ্ছি, সেখান থেকে মিশরে চলে যাব।' 
সুলতান আইয়ুবী তকিউদ্দিনকে রণাঙ্গনের সমস্ত খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দিয়ে বললেন, আমার গােয়েন্দারা ওদের এত ভেতরে প্রবেশ করেছে যে, ক্রুসেড বাহিনীর যে কোন আক্রমণের খবর কমপক্ষে দু’তিন দিন আগেই তুমি জানতে পারবে। আমাদের কমাণ্ডা বাহিনী প্রতি মুহূর্তে সক্রিয় রয়েছে। আমি তাদেরকে শক্র আক্রমণের সম্ভাব্য রাস্তার আশেপাশে লুকিয়ে রেখেছি। বর্তমান সংবাদ হলাে, ক্রুসেড বাহিনী আক্রমণ করবে না। যদি তারা আমার অনুপস্থিতির সুযােগ নিতে চায় তবে তুমি ভয় পেও না। তুমি এক জায়াগায় আবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করবে না। শত্রুদেরকে সামনে অগ্রসর হতে দেবে আর প্রথম আঘাত ওদেরকেই করতে দেবে। এ জন্য প্রয়ােজন হলে তােমরা পিছু হটে যাবে। 
এখানে যুদ্ধের অনুকূল পরিবেশ আছে। সব সময় উঁচু স্থানে অবস্থান নেবে। বিশেষ ভাবে স্মরণ রাখবে, আল মালেকুস সালেহ, সাইফুদ্দিন ও যেসব আমীররা আমাদের আনুগত্য স্বীকার করে নিয়েছে, যুদ্ধের সময় তাদের কাছে অতিরিক্ত আশা করবে না। কারণ তাদের মগজে ক্ষমতা ও গদীর নেশা যে কোন সময় চেপে বসতে পারে। আমাদের সাথে তাদের যে চুক্তি হয়েছে, তাতে তারা কোন নিজস্ব বাহিনী রাখতে পারবে না । আমি তাদের মহলেও গােয়েন্দা বসিয়ে রেখেছি। আমি তােমাকে এই নসীহত করে যাচ্ছি, যদি দেখাে আমাদের এই মুসলমান ভাইয়েরা যুদ্ধের সময় সামান্য গড়িমসি ও ষড়যন্ত্র করছে, তবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিষয়টি ফায়সালা করে ফেলবে। দ্বিতীয়বারের মত তাদের প্রতি অনুকম্পা দেখানাের কোন প্রয়ােজন নেই।' 
কাজী বাহাউদ্দিন শাদ্দাদ তাঁর বইতে এই নির্দেশনামা প্রদানের সময় ৫৭২ হিজরী মুতাবেক ১১৭৬ খৃস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাস উল্লেখ করেছেন। 
সুলতান আইয়ুবী তার ভাই তকিউদ্দিনকে সেক্টরের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে দামেশকে চলে যান। এ সময় তার আরেক ভাই শামসুদ্দৌলা তুরান শাহ ইয়েমেন থেকে ফিরে এলেন । ইয়েমেনেও যুদ্ধবাজ খৃস্টানদের তৎপরতা বেড়ে গিয়েছিল । সেখানেও মুসলমানরা তাদের ষড়যন্ত্রে পড়ে ইসলামী হুকুমাতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। শামসুদ্দৌলা তাদেরকে শক্ত হাতে দমন করে তবেই সেখান থেকে এসেছেন। 
সুলতান আইয়ুবী দামেশকে যাওয়ার পথে তাকেও সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন। ইয়েমেন থেকে তিনি সফলতা নিয়েই ফিরে এসেছিলেন। সুলতান আইয়ুবী তাকে দামেশকের গভর্ণর নিযুক্ত করে ১১৭৬ সালের অক্টোবর মাসে মিশর যাত্রা করলেন। 
কায়রাে উপস্থিত হয়েই তিনি গােয়েন্দাদের দেয়া তালিকাটি গভীর মনযােগ দিয়ে পড়লেন। তালিকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ লােকের নাম ছিল। ছিল একাধিক সামরিক অফিসারের নাম। তিনি তালিকাভুক্ত সবাইকে গ্রেফতার করার আদেশ জারি করলেন। 
এই গ্রেফতারীর বেলায় কারাে পদমর্যাদা বা সামাজিক সম্মানের দিকে তাকালেন না তিনি। গাদ্দারের পদমর্যাদা বা সামাজিক সম্মান যাই হােক, সে একজন গাদ্দার ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই তিনি নির্বিচারে গােয়েন্দাদের দেয়া তালিকা অনুসারে সবাইকে গ্রেফতার করলেন। 
গ্রেফতারের পর দিন। তিনি গ্রেফতারকৃতদের সব ধনরত্ন, সােনার বার, মূল্যবান তৈজষপত্র যেগুলাে গাদ্দারদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সব এনে প্যারেড ময়দানে জমা করার হুকুম দিলেন। সঙ্গে সঙ্গে এ হুকুম তামিল করা হলাে। এরপর তিনি এ যাবত খৃস্টানদের যত গােয়েন্দা ও গাদ্দারকে ধরা হয়েছিল, সেই মেয়ে কয়টিসহ, সবাইকে এ ধনরত্নের পাশে এনে দাঁড় করালেন। 
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিল সেই হেকিম। ছিল একাধিক সেনাপতি ও কমাণ্ডার। এদের সবাইকে শিকলে বেঁধে সেখানে হাজির করা হল। 
সুলতান, এদের সবাইকে মিশরের সেনাবাহিনীর সদস্যদের সামনে দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দিলেন । লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল সেনাবাহিনী। তাদের সামনে দিয়ে ওদেরকে শিকলে বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি তাদেরকে শহর ঘুরিয়ে প্যারেড ময়দানে হাজির করতে বললেন। তাই করা হলাে। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদেরকে শহর ঘুরিয়ে এনে প্যারেড গ্রাউণ্ডের সেই স্তুপীকৃত ধন-সম্পদের সামনে দাঁড় করানাে হলাে। 
সুলতান আইয়ুৰী অশ্বপৃষ্ঠে আরােহন করে আসামীদের সামনে এসে থামলেন। তারপর দরাজ কণ্ঠে বললেন, ‘আমাকে। সংবাদ দেয়া হয়েছে, তােমরা নাকি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য জনগণ ও সৈনিকদেরকে উস্কানী দিচ্ছ। সুলতান আইয়ুবী গম্ভীর ও উচ্চ কণ্ঠে বললেন, যদি তােমাদের মধ্যে এমন কেউ থেকে থাকো, যে আমাকে আশ্বাস দিতে পারবে, ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের মহব্বতে তােমরা আমার বিরুদ্ধে, আমার সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের উস্কানী দিচ্ছ, তবে আমি আমার ক্ষমতা ত্যাগ করতে প্রস্তুত আছি। যদি তােমরা আমাকে এই নিশ্চয়তা দিতে পারাে, তােমরা মুসলমানের প্রথম কেবলা কাফেরদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত, স্পেনের মাটিতে আবার ইসলামী শাসন কায়েমের সংকল্প নিয়ে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাও, তবে তাকে আমি আমার সামনে আসার আহবান জানাচ্ছি।' 
তিনি বললেন, এই মুহুর্তে যারা অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকো, তার বিরুদ্ধে যে অভিযােগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবে, তবে তাকে আমি অপরাধীর সারি থেকে সরে দাঁড়ানােরও সুযােগ দিচ্ছি। আমার এই তলােয়ার আমার ক্ষমতার মসনদ রক্ষা করার জন্য নয়, এ তলােয়ার আমি হাতে নিয়েছি ইসলামের জন্য। যদি কেউ মনে করাে আমার চাইতে তুমি এ তলােয়ার হাতে পেলে ইসলামের অধিক সেবা করতে পারবে, তাহলে এগিয়ে এসাে, নিয়ে যাও আমার তলােয়ার। নিয়ে যাও আমার অশ্ব, আমি তােমার পক্ষে শাসন ক্ষমতা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।' 
চারদিকে টু শব্দটিও নেই। মাঠের চারদিক লােকে লােকারণ্য হয়ে আছে। সুলতান থামতেই পিনপতন নিরবতা যেন গ্রাস করে নিল প্যারেড ময়দান। খানিক বিরতির পর আবার ভেসে এল সুলতান আইয়ুবীর কণ্ঠ। তিনি অপরাধীদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তােমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছাে, যে আমার শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করবে? থাকলে সামনে এসাে। কাবার প্রভূর কসম! আমি সত্যি তাকে শাসন ভার অর্পণ করে তার অধীনস্ত সৈনিক হয়ে থাকবাে।' 
কোন সাড়াশব্দ নেই! গভীর নীরবতা মাঠের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত আচ্ছন্ন করে রাখলো! 
‘আল্লাহর পথের বীর মুজাহিদবৃন্দ’ সুলতান আইয়ুবী সৈন্যদের লক্ষ্য করে বললেন, “তােমাদের বিদ্রোহের পথে এগিয়ে দিয়ে এরা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বকেই ম্লান করতে চেয়েছিল । তােমাদের সামনে এই যে ধন-রত্নের স্তুপ, এই সম্পদ ওরা ব্যবহার করছিল ইসলামের অগ্রযাত্রা স্তব্ধ করে দিতে। তােমাদের সামনে এই যে সুন্দরী মেয়েরা দাড়িয়ে আছে, এদের পাঠানাে হয়েছে ইসলামের বিরুদ্ধে তােমাদের উস্কানি দিতে। এ সম্পদ ও নারী সবই পাঠানাে হয়েছে তােমাদের জন্য। জাতির সাথে গাদ্দারীর পুরস্কার হিসাবে এ সম্পদ ও নারী তােমাদের দান করা হবে। তােমাদের মধ্যে এমন কেউ কি আছাে, যে তার ঈমানের বিনিময়ে এই সম্পদ ও নারী পেতে চাও? থাকলে এগিয়ে এসাে! নিয়ে যাও এসব।' 
আবারও নিরবতায় ছেয়ে গেল সমগ্র প্যারেড গ্রাউণ্ড। কেউ এগিয়ে এল না। কেউ টু শব্দটিও করল না। আইয়ুবী তখন অভিযুক্তদের দিকে ফিরে বললেন, তােমরা কি অস্বীকার করতে পারবে, এই সম্পদ ও নারী তােমরা বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য হিসাবে পেয়েছিলে? আমি সবাইকে বলছি, যদি আমি মিথ্যে বলে থাকি তবে সবার সামনে এসে বলে যাও, আমি যা বলছি তা মিথ্যে!’ 
কেউ এগিয়ে এলাে না। কেউ সুলতানের কথার কোন প্রতিবাদ করলাে না। তখন সুলতান আইয়ুবী ঘােড়া থেকে নামলেন। অপরাধীদের মধ্য থেকে হেকিমের বাহু ধরে টেনে তাকে নিজের ঘােড়র কাছে নিয়ে এলেন। তিনিই ছিলেন অভিযুক্তদের মধ্যে সবচে বয়স্ক ও মুরুব্বী। তাকে তিনি বললেন, “আমার অশ্ব পৃষ্ঠে আরােহণ করাে আর বলল, সুলতান আইয়ুবী যা বলেছে সব মিথ্যে কথা। 
হেকিম অশ্ব পৃষ্ঠে আরােহণ করলাে বটে, কিন্তু মাথা নত করে রইলাে। সুলতান আইয়ুবী ধমকের সুরে বললেন, বলাে, সুলতান আইয়ুবী মিথ্যা বলেছেন।' 
হেকিম মাথা উঠালাে এবং স্পষ্ট স্বরে বললাে, ‘সুলতান আইয়ুবী যে কথাগুলাে বলেছন, সম্পূর্ণ সত্য বলেছেন। এ কথা বলেই হেকিম ঘােড়ার পিঠ থেকে নেমে পড়লাে। 
হেকিম অশ্বপৃষ্ঠ থেকে নেমে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে ছিল। সুলতান আইয়ুবী তাকালেন উপস্থিত জনতার দিকে। বললেন, ‘তােমরা সবাই শুনেছাে হেকিম কি বলেছেন। এবার তােমরাই বলাে এই গাদ্দারদের কি শাস্তি হতে পারে? 
চতুর্দিক থেকে গগনবিদারী রব উঠলাে, গাদ্দারদের কল্লা চাই, বিশ্বাসঘাতকের ক্ষমা নাই।' 
কিছুক্ষণ এভাবেই কাটলাে। মুহুর্মুহু শ্লোগানে মুখরিত হচ্ছে প্যারেড ময়দান। উত্তেজিত জনতা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ছুটে আসতে চাইছে বন্দীদের দিকে। সুলতান আইয়ুবী দুই হাত উপরে তুলে জনতাকে শান্ত হওয়ার আহবান জানালেন। আস্তে আস্তে কমে এলাে কলরব। জনতা থামলে তিনি তলােয়ার বের করলেন এবং এক আঘাতেই হেকিমের শির ভূলুণ্ঠিত করে দিলেন। 
এরপর তিনি তার অশ্বপৃষ্ঠে আবার আরােহণ করে উচ্চস্বরে বললেন, হে আল্লাহর সৈনিকগণ, যদি আমি সঠিক বিচার না করে থাকি, তবে আমার তলােয়ার নিয়ে নাও। তারপর আমার তলােয়ার দিয়েই আমার শিরচ্ছেদ করাে।' 
তিনি তার তলােয়ার বর্শার ‘মত মাটিতে ছুঁড়ে মারলেন। তলােয়ারের মাথা মাটিতে বিদ্ধ হয়ে গেল। বাটসহ তলােয়ারটি দুলতে লাগলাে।
সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর এক সেনাপতি ঘােড়ার পিঠ থেকে লাফিয়ে নেমে তলােয়ারটি মাটি থেকে উঠিয়ে দুই হাতের তালুতে রেখে সুলতানের সামনে হাজির হয়ে বললাে, মুহতারাম সুলতান! এত বেশী আবেগময় হওয়ার প্রয়ােজন নেই। আপনি যা করেছেন, ঠিকই করেছেন। 
সৈন্যদের মাঝেও এ সময় ভীষণ শােরগােল উঠলাে। সেনাপতির কথা সেই শোরগােলের মাঝে হারিয়ে গেল। সৈন্যরা জনতার সাথে একাত্ম হয়ে গগনবিদারী আওয়াজে অপরাধীদের নিশ্চিহ্ন করার দাবী জানাচ্ছিল। 
সুলতান আইয়ুবী আবার হাত উঠিয়ে সৈন্যদলকে শান্ত হওয়ার আহবান জানালেন। সৈন্য এবং জনগণ শান্ত হলে তিনি ঘােষণা করলেন, ‘গাদ্দারী এক অমার্জনীয় অপরাধ। যাদের অপরাধ প্রমাণিত হবে তাদেরকে যথাযথ শাস্তি দেয়া হবে।' 
এই ঘােষণা সকলকে শুনিয়ে তিনি অপরাধীদের আদালতে হাজির করার হুকুম দিলেন। পুলিশ কড়া নিরাপত্তায় অপরাধীদের আদালতের দিকে নিয়ে চলল। জনগণ তাদের শাস্তি দাবী করতে করতে চলল তাদের পিছু পিছু। কিন্তু আদালতের গেটে তাদের বাঁধা দিল পুলিশ। জনগণ তখন তাদের শাস্তি দাবী করে মিছিল করতে করতে শহরময় ছড়িয়ে পড়লাে।
সেদিনই সুলতান আইয়ুবী সুদানে দূত মারফত এক লিখিত চরমপত্র পাঠালেন। তাতে তিনি লিখলেন, যদি মিশর সীমান্তে সুদানী সেনাদের সামান্য তৎপরতাও পরিলক্ষিত হয় এবং তাতে সীমান্তে অশান্তি দেখা যায়, তবে তা মিশরের উপর আক্রমণ বলে গণ্য করা হবে। আর সে আক্রমণের সমুচিত জওয়াব দেয়া হবে সুদানের উপর সেনা অভিযান চালিয়ে । আর এমনটি হলে, সুদান জয় করে সেখানে ইসলামী রাজ্যের পতাকা উড্ডীন না করে কোন মুজাহিদ ঘরে ফিরবে না।
সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর তলােয়ার থেকে যে রক্ত ঝরছিল, সে রক্ত পরিষ্কার না করেই তিনি তলােয়ার খাপে আবদ্ধ করেন। এ রক্ত সেই বিশ্বাসঘাতক হেকিমের, যে ক্রুসেড বাহিনীর চর হিসাবে ইসলামী রাষ্ট্রের সংহতি ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়েছিল। 
হেকিম ছাড়া আর যেসব অপরাধীদের গাদ্দারী ও শত্রুর সাথে যােগসাজশ করার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদেরকে দ্রুত আদালতের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সুলতান আইয়ুবী সেনাপতি, কমাণ্ডার ও সেনাবাহিনী পরিবেষ্টিত অবস্থায় অস্থির হয়ে এদিক-ওদিক পায়চারী করছিলেন। তখনও তার চোখের ওপর ভাসছে বিশ্বাসঘাতকের রক্তের লালিমা। 
তিনি অনেক কিছুই বলে ফেলেছেন। আবার অনেক কিছু বলতে বলতে থেমে গেছেন। এই বিশাল সমাবেশে উপস্থিত সর্বস্তরের লােক তার আবেগ ও মনােভাব ভাল মতই বুঝতে পেরেছিল। কেউ সুলতান আইয়ুবীর সাথে কথা বলতে ও চোখে চোখ রেখে তাকাতে সাহস পাচ্ছিল না।
মাননীয় সুলতান!' এক সেনাপতি সাহসে ভর করে বললেন, ‘আমরা ক্রুসেড বাহিনীর কোন ষড়যন্ত্রই সফল হতে দেবাে না।' 
সুলতান আইয়ুবী তার দিকে তাকালেন। সে চোখে সীমাহীন বেদনার ছাপ। তিনি নিজের রক্তাক্ত তলােয়ার কোষমুক্ত করে তার চোখের সামনে মেলে ধরে বললেন ‘এ রক্ত কার? এ রক্ত আমার, তােমার তােমাদের সকলের! এ রক্ত আমার ভাইয়ের, আমার সন্তানের! যারা আমাদের পাশে পঁড়িয়ে মসজিদে জামায়াতে নামাজ আদায় করেছে, এ রক্ত তাদের! এদের ঘরে রয়েছে পবিত্র কুরআন, রয়েছে নবীর হাদীস। যদি এ রক্তই বিশ্বাসঘাতক ও গাদ্দার হয়ে যায়, তবে মনে করবাে, ক্রুসেড বাহিনীর সকল ষড়যন্ত্রই সফল হয়েছে। তারা ইসলামের সেই সৈনিকদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ ও সংঘর্ষ বাঁধিয়ে দিয়েছে, যারা খৃস্টানদের কবল থেকে ফিলিস্তিন উদ্ধার করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তারা আমাদের শক্তি এত দুর্বল করে দিয়েছে যে, আমরা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আর ফিলিস্তিন উদ্ধার করতে সমর্থ হবাে না । আমাদের গন্তব্যস্থান ছিল বায়তুল মুকাদ্দাস । আজ এই সময় আমাদের কায়রাে থাকার কথা নয়, জেরুজালেম থাকার কথা। কিন্তু এত রক্ত ঝরানাের পরও তারা আমাদেরকে কায়রাে বসিয়ে রাখতে সমর্থ হয়েছে।' 
সুলতান আইয়ুবী তার তলােয়ার প্রহরীর কাছে দিয়ে বললেন, যদি এ রক্ত কোন কাফেরের হতাে তবে আমি তা পরিষ্কার করতাম না। কিন্তু এ রক্ত এক গাদ্দারের! এ রক্তের কোন
(চলবে)




শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।