সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত ছেলের আত্নজীবনী …..!!! ( খন্ড ১০ )


             ( খন্ড ১০ )

এরপর রুবেল কোন কারন ছাড়াই বিপক্ষ
গ্রুপের যাকেই পাচ্ছে একটা একটা করে
মারছে ।
দুইগ্রুপের ওরা টিকতে না পেরে কেউ
এলাকা ছেড়ে দিছে আবার কেউ ভাল হয়ে
গেছে ।
একদিন আমান যেই বন্ধুটা মুনমুনদের
এলাকায় থাকতো সে এসে বলল এক এলাকায়
রেড মারতে যাবে দোস্ত তোরা বন্ধুরা সব
সন্ধার দিকে আসবি । রুবেল ঠিক আছে বন্ধু
বলে ওকে নাস্তা খাইয়ে বিদায় করে দিল ।
সন্ধায় ওদের এলাকায় গিয়ে অন্য এলাকায়
গিয়ে কয়েকটাকে মেরে হাসপাতালে
পাঠিয়ে আমানদের এলাকায় বসে আড্ডা
মারছে ।
কিছুক্ষন পর যাদের মেরেছিল ওরা পুলিশ
সাথে করে নিয়ে এসে আমানদের এলাকায়
আসামী ধরতে রেড মারল । আমানের বন্ধুরা
সব দৌড় রুবেল লিমনদের বলল তোরা এদিক
দিক দিয়ে পলা । দোস্ত তুই যাবি না লিমন
বলল । রুবেল দোস্ত আমি পরিস্থিতি দেখে
তারপর আসছি বলে ওদের বিদায় করে দেয় ।
এদিকে পুলিশ প্রতিটা ঘর ওরা দেখিয়ে
দেয় আর তল্লাসি চালায় আমানদের দুইজনকে
ইতিমধ্যে ধরেছেও ।
পুলিশ রুবেলের দিকে আসছে দেখে সে
মুনমুনদের বাসায় দৌড়ে ঢুকে গেল । ওরা
জানত এলাকায় পুলিশ ঢুকছে । রুবেলকে
মুনমুন বলল আপনিও ওদের সাথে চলে কেন
মারামারি করেন । দেখেন এখনও সময় আছে
ফিরে আসেন । রুবেল না এ পথে ঢোকা সহজ
ফিরে আসা অনেক কঠিন । আমিতো এমন
ছিলাম না পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে

এর মধ্যে কয়েকটা পুলিশ মুনমুনদের বাসার
এক রুমে ঢুকছে দেখে মুনমুন রুবেলকে বলছে
আপনি খাটে শুয়ে থাকেন আমি দেখছি ।
মুনমুনের মা পুলিশদের বলল কি চান
আপনারা আমাদের বাসায়?
পুলিশ আপনাদের বাসায় আমান নামের কেউ
আছে কি ? মুনমুনের আম্মা না এই নামে কেউ
নেই । পুলিশ ফিতরের রুমে ঢুকল ইনি কে
রুবেল ধতমত খেয়ে বসে গেল ।
মুনমুনের আম্মা আমার ভাতিজা বেড়াতে
এসেছে গতকাল । পুলিশ ও আচ্ছা বলে চলে
গেল কপাল ভাল রুবেলের যে পুলিশের সাথে
বিপক্ষ দলের কেউ আসেনি নাহলে ধরা খেত

রুবেলকে মুনমুনের আম্মা বলছে দেখ বাবা
তোমাকে চিনিনা মুনমুন এসে বলল তোমাকে
চিনে তাই তোমাকে আজ পুলিশের হাত থেকে
বাঁচালাম । বাবা তুমি এ রাস্তা ছেড়ে দাও
। রুবেল বলছে হে ছেড়ে খালাম্মা ছেড়ে
দিতাম হয়তোবা এ রাস্তা আমি চিনতামও
না, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আমাকে
এখানে নিয়ে এসেছে । তাই এখন চাইলেও
ছেড়ে দিতে পারব না, তাহলে ওরা আমাকে
ছাড়বে না বলে রুবেল ওখান থেকে চলে
আসলো ।
রুবেল অন্য এলাকা দিয়ে নিজের এলাকায়
আসবে বিপক্ষ শত্রুরা জানত যে এদিক দিয়ে
যাবে ।
রুবেলকে রাস্তায় পেয়ে আটকালো তারপর
রশি দিয়ে হাত পিঠমোড়া করে বেধে ফেলল
।এরমধ্যে কয়েকজন চড় থাপ্পড় মেরেছেও
রুবেল শুধু বলছে যদি আমি ছাড়া পাই তবে
তোরা কেউ বাঁচবি না ।
ওরা রুবেলকে মেরে ফেলবে এমন কথাও
নিজেদের মধ্যে চলছে । ওরা কয়েকজনকে
পাঠালো যা জিনিষ নিয়ে আয় ।
এর মধ্যেই এক বড়ভাই এসে ওদের বলল দেখি
কাকে আটকিয়েছিস বলে রুবেলের সামনে
এসে বলল ওকে একটু আলোর মধ্যে নিয়ে আয় ।
রুবেলকে ওরা ধরে আলোর মধ্যে নিতেই
বড়ভাই অবাক ওদের বলছে ঐ সালারা কাকে
ধরেছিস চিনস ওরে তারাতারি ওর বাধন
খোল আল্লারে তোগো বুঝি এলাকায় থাকার
ইচ্ছা নাই । ঐ জামাল ওর গায়ে কেউ হাত
দিসনাই তো আবার?
রুবেলের বাধন খুলে দিল ঐ বড়ভাই বলল
জামাল একটা চেয়ার নিয়ে আয় । জামাল
তাকে পাশে ডেকে জিজ্ঞাসা করছে কে সে
বড়ভাই বলছে অমুক নেতার ক্লোজ ছোটভাই ও
যদি তার কাছে কিছু বলে তোরাতো এলাকা
ছাড়া হবিই সাথে আমিও ।
রড়ভাই এবার রুবেলকে বলছে তুমি আমার
ছোটভাই ওরা তোমারে চিনে নাই না বুঝেই
আটকাইছে ভাই তুমি কিছু মনে করো না । ঐ
জামাল কিছু নিয়ে আয় রুবেলকে ওরা চা-
নাস্তা খাইয়ে রিকসায় তুলে দিল ।
আমান ওরা এলাকায় অপেক্ষা করছে রুবেল
এসে বলল সব । আমান থাক ওদের এখন কিছু
বলব না ওরা ইজতেমায় যাবে তো আমাদের
এলাকা দিয়েই তখন ছোটগুলোকে দিয়ে মার
দিয়ে দিব । রুবেল ঘুমাতে চলে গেল ।
পরেরদিন নেতার সাথে মিটিংয়ে গেল
নেতা রুবেলকে খুব পছন্দ করতো সব যায়গায়
নিজের ছোটভাই বলে পরিচয় করিয়ে দিত ।
গতরাতের ঐ বড়ভাইকেও মিটিংয়ে
পেয়েছিল সে রুবেলকে বলছে ভাইকে কিছু
বলছে নাকি আবার । রুবেল না এখনও বলিনি
। ভাই অনুরোধ আমার কিছু বইল না । রুবেল
মনে মনে আমার গায়ে হাত দিছে এর
প্রতিশোধ আমি নিব অবস্যই ।
এর মধ্যে একদিন এলাকায় জয়নাল গ্রুপের
সাথে আর শান্ত,জুলহাস,মম িন, ওদের দুই
গ্রুপের তুমুল মারামারি হলো । ওদের মধ্যে
শান্তই রুবেলকে সবসময় অপমান করতো মামা
বাড়ি থেকে যখন রুবেল ওদের সাথে মিশতে
চাইতো । ওরা তখন ছিল এলাকার বড় গুন্ডা
তাই ।
রুবেল সবসময় চাইতো ওদেরকে একদিন নিচে
নামাবে বাধ্য করবে ওদের ভুল ভাঙ্গাতে ।
লিমন বলছে রুবেল শান্ত,জুলহাস,মম িন,
ওরাতো মার খেল চল আমরা এখন ওদের
সাপোর্ট দিয়ে জয়নালকে জন্মের মত শিক্ষা
দেই । রুবেল বন্ধু অপেক্ষা করে আমরা ওদের
কাছে যাব না ওরাই নত হয়ে আমাদের কাছে
আসবে ।
শান্তরা বাহিরের লোকজন এনে জয়নালদের
সাথে মারামারি করে ওরা ওদের মারে
আবার জুলহাসরা পাল্টা মার দেয় ।
রুবেল বসে বসে মজা নেয় শান্তরা
জয়নালদের সাথে না পেরে একদিন রুবেলকে
এসে বলছে দেখরে সবইতো শুনলি আমাদের
অহংকার এখন মাটিতে মিলিয়ে যেতে
বাকি, আগে আমাদের যেই বন্ধুগুলোকে নিয়ে
গ্যান্জাম করতাম এখন অনেকেই কাজে ঢুকে
গেছে । আমরা এখন দূর্বল তোরা আমাদের
সহযোগিতা কর আর আগে যা হয়েছে আমি ভুল
করছি যেহুতু আমরা একই এলাকার তোরা এখন
এলাকার মানসন্মান বাঁচা । আমরা এখন
থেকে একসাথে চলব যা করব একসাথে কি
বলিস তুই ।
রুবেল বলছে দেখি ওদের সাথে আলাপ করে
জানাব ।
রুবেলের বন্ধুরা বলল এই সূযোগ পুরো
এলাকার নিয়ন্ত্রন নেওয়ার ভালোই হবে
ওরা আমাদের সাথে থাকলে । রুবেল ভেবে
দেখল জয়নালরা এলাকার সিনিয়রদের
লিডে লাফায় । ওদের সাথে এখন ঝগড়া করা
মানে সিনিয়রদের শত্রু হওয়া আবার
জয়নালদের শিক্ষাও দিতে হবে । রুবেল
এলাকার নিজেদের সিনিয়র ভাইদের সাথে
কথা বলল তারপর শান্ত,জুলহাস,মম িন,
ওদের ডেকে মিলে গেল ওরাও ওদের সবার
সাথে পরিচয় করিয়ে দিল ।
ঐ দিন বিকালে জয়নাল শান্তদের একটা
বন্ধুকে আবার মারল রুবেল আর শান্ত জুলহাস
সবাই মিলে ওদের মহল্লায় ঢুকে ওদের
যাকে পেয়েছে তাকেই মেরেছে রুবেলের
হাতে রামদা ছিল সে জুলহাসকে পেল
সামনে রুবেলকে দেখেই জয়নাল দৌড় রুবেল
দৌড়ে ধরে ফেলল রামদা দিয়ে প্রথম কোপ
মেরেছে জুলহাস হাত দিয়ে ঠেকাতে গেছে
। রামদার কোনার কোপে হাতের আঙুলের
মাঝ দিয়ে ভাগ হয়ে গেছে । আবার যেইনা
কোপ মারবে অমনি এলাকার সিনিয়ররা এসে
বলছে ঐ তোরে কুপাইতে কইছিলাম কি?
রুবেল জয়নালকে গালাগালি করে বলছে তোর
জন্য আমি গুন্ডা হয়েছি । খুবতো বাহাদুরি
দেখিয়েছিলি সেদিন আজ এত ভয় কেন । আমি
তোকে ছাড়ব না বলে রামদা এক বন্ধুর হাতে
দিয়ে কয়েকটা কিল খুশি মারছে সিনিয়ররা
বলছে ছাড় ওরে ডাক্তার খানায় নিতে হবে
। রুবেল হুমকী দিয়ে বলল জয়নালকে এটা
সেদিনের মারের প্রতিশোধ আর কোনদিন
যদি দেখছি তুই এলাকার মধ্যে গুন্ডামী
করছিস সেদিন তোকে মেরে ফেলব জানের
ভয় থাকলে আজকের পর কারও সাথে চলবি না
। আজ বড়ভাইদের জন্য ছেড়ে দিলাম বলে
ওখান থেকে চলে আসল ।
গায়ে হালকা রক্ত লাগানো কিছুদুর এসে
দেখল লিমন, শান্ত,জুলহাস মিলে এক
সিনিয়রকে মারছে সেখানে গিয়ে সে
তাকেও মারলো আর বলল আজকের মার আপনার
জন্য শিক্ষা এরপর থেকে ওদের আর সাপোর্ট
দিবেন না যদি ছোটদের হাতে মার
খাওয়ার লজ্জা থেকে থাকে ।
সেই ঘটনার জন্য জয়নাল মামলা করেছিল
যেহুতু অনেক আহত তারপর জয়নাল ঢাকা
মেডিক্যাল থেকে সার্টিফিকেট এনে নিজে
মামলা করেছে ৩০ জনের নামে প্রধান
আসামী রুবেল তারপর লিমন, শান্ত,জুলহাস
গং ।
মামলার কারনে সব বন্ধু পলাতক শুধু রুবেল
যায়নি সে এলাকায়ই ছিল সে ছিল
ঘাড়ত্যারা টাইপের । সে যেই এলাকায়
গ্যান্জাম করতো ২ ঘন্টা পর তাদের এলাকা
দিয়ে ঘুরতো কারন তার মধ্যে এতটাই
অহমিকা কাজ করতো যে মারছি পারলে
এবার মেরে দে যদি মারস তাহলে
এলাকায়ই রাখবনা ।
সেদিন এ ঘটনায় পুরো এলাকা থমথম অবস্তা
বিরাজ করছে । পুলিশ এলাকা
য় যাকে পাবে
তাকেই ধরবে এরমধ্যে কয়েকবার এলাকায়
এসেছিলও কাউকে পায়নি ।রুবেল এই
অবস্তাও রাতে জয়নালদের এলাকায় গেল ।
রুবেলের মা বারন করেছে সে শুনেনি সে
গিয়ে ওদের এলাকায় সিগারেট টানছে এ
দৃশ্য ওদের এলাকার অনেকে দেখে থ মেরে
গেল ।
জুলহাসদের এলাকার সিনিয়রদের একজন
রুবেলকে দেখে পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দিল ।
রুবেল তখন সিনিয়রদের উদ্দেশ্য করে পুলিশ
আমার একটা লোমও ছিড়তেও পারবে না ।
কালই আসছি এলাকা ছাড়েন নাহলে খবর
আছে ।
পুলিশ রুবেলকে নিয়ে গেল পরেরদিন মা
গিয়ে কোর্ট যদিও এর আগে যায়নি কখনো
এলাকার একজনকে নিয়ে জামিনে বের করে
নিয়ে আসলো । পরে এলাকায় এই ঘটনার
বিচার বসলো সবাইকে ২০০০০ টাকা
জরিমানা করেছিল । রুবেল বিচারে যায়নি
কারন ওর ঘাড়ের রগ একটু ত্যারা টাইপের
তাই সে বিচারে যায়না ।
নেতা রুবেলকে ডেকে নিয়ে খুব প্রসংশা
করলো বলল পুরো এলাকা এখন থেকে তোরা
নিয়ন্ত্রন করবি বলে ১০০০০ টাকা দিল
নে রেখে দে কাজে দিবে রুবেল নিয়ে চলে
আসলো ।
রুবেল শান্তদের গ্রুপের মমিন ওরসাথে
ছোটবেলা থেকে ভাল সম্পর্ক এলাকার থেকে
দূড়ে একটা বস্তির মধ্যে ঐ মহল্লার
সবচেয়ে বড় মুদি দোকান ছিল ।
ওখানে গিয়ে ওর সাথে আড্ডা মারতো ওর
দোকানে অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে আসতো
মাল কিনতে আর এর মধ্যে একজনকে মমিন
আবার বিয়াইন বলে ডাকতো খুব মজা করতো
ওরা বিয়াইনটা ছিল খুব সেক্সি এমন এমন
কাপড় পড়তো রুবেলের দেখেই মাথা নষ্ট
অবস্য মমিনও লুইচ্চা টাইপের ছিল ।
বিয়াইনকে কি বিস্রি বিস্রি কথা বলত
বিয়াইন শুনে হেসে উড়িয়ে দিত । এখান
থেকেই রুবেলের নতুন জীবনের সুচনা ঘটবে
। কিন্তু কিভাবে জানতে সাথেই থাকুন |

চলবে......



শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।