বুধবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৯

love storis-ভালোবাসার গল্প


কিছুদিন হলো অপলা'র ফোনে রাত ১২ টা
বাজার পরপরই অপরিচিত একটা নাম্বার
থেকে অদ্ভুত একটা মেসেজ আসে। প্রতি
মেসেজে প্রায় একটা কথা ই লিখা থাকে-
'আমার মুখের উপর এক দলা থু থু দিবেন ??'
.
অপলা প্রতিদিনই সকালে ঘুম থেকে উঠে
বালিশের নিচে হাতরিয়ে ফোন টা হাতে
নিয়ে মেসেজ টা দেখে। অবাক হয় মেয়েটি।
কে দেয় এমন অদ্ভুত মেসেজ ?! মানুষ টা
মানসিক ভাবে অসুস্থ্য না তো ?! মেসেজ টা
সে ভুল করে রং নাম্বারে পাঠাচ্ছে না
তো ?! পাঠালেও প্রতিদিন একই মেসেজ
দিবে কেন ?! আচ্ছা, মানুষ টা কি ছেলে ?!
নাকি মেয়ে ?!
.
অপলা এবার ফোন দেয় সেই অপরিচিত
নাম্বার টা তে। কিন্তু কলিং হওয়ার
পরপরই যান্ত্রিক একটি মেয়ে কন্ঠ বলে
ওঠে, 'দুঃখিত, এই মুহুর্তে মোবাইল সংযোগ
দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনুগ্রহ করে
কিছুক্ষণ পর আবার ডায়াল করুন।'
কথা গুলো আবার ইংলিশে শোনার আগেই
লাইন টা কেটে দেয় অপলা। নাম্বার টা
বন্ধ।
.
অপলা সিদ্ধান্ত নেয়, আজ রাত ১২ টা
পর্যন্ত সে জেগে থাকবে। বিরক্তিকর এই
রহস্য ভেদ করতে হলে তাকে আজ জেগে
থাকতেই হবে। যতক্ষণ না সেই নাম্বার টা
থেকে মেসেজ আসবে ততক্ষণ।
.
ফোন টা হাতে নিয়ে স্ক্রিনের দিকে
তাকিয়ে আছে অপলা। ঘড়ির কাটা ১২ টা
ছুঁই ছুঁই। মেসেজ রিং বেজে ওঠে অপলার
ফোনে। সেই একই নাম্বার থেকে একই
মেসেজ-
'আমার মুখের উপর এক দলা থু থু দিবেন ??'
অপলা সঙ্গে সঙ্গে ডায়াল করে সেই
নাম্বারে। রিং হয়, কিন্তু কেউ রিসিভ করে
না ওপাশ থেকে। অপলা ফিরতি মেসেজ
পাঠায়-
'কে আপনি ? দয়া করে বলবেন প্লিজ ?'
রিপ্লাই ও আসে সাথে সাথে-
'আমি ফিরোজ। চিনতে পেরেছো ??'
.
মেসেজ টা দেখার সঙ্গে সঙ্গে বুকের ভিতর
টা কেঁপে ওঠে অপলা'র। এতগুলো দিন পর...!
কি রিপ্লাই দিবে সে বুঝতে পারে না।
অপলা'র হাতের আঙ্গুল গুলোও কেন যেন স্থির
হয়ে যায়।
.
কিছুক্ষন পর সেই নাম্বার থেকে আরো একটা
মেসেজ-
'প্রতারণার খেলায় তোমাকে হারিয়ে দিয়ে
আজ আমি নিজেই হেরে গেছি। অদৃশ্য ভাবে
জিতে গেছো তুমি'
.
অপলা মেসেজ টা পাওয়া মাত্রই-
"ওয়াক থু !!" মেসেজে লিখে পাঠিয়ে দেয়
ফিরোজের নাম্বারে। আর কোনো প্রতিউত্তর
আসে না পরিচিত মানুষ টার অপরিচিত ওই
নাম্বার থেকে। আর কখনো আসেও নি। তবুও
সেদিনের পর থেকে প্রতি রাতে নিয়ম করে
রাত ১২ টা পর্যন্ত জেগে থাকে অপলা।
আরোও একটি মেসেজ পাওয়ার আশায়। খুব
প্রিয় কোনো কন্ঠস্বর শোনার আশায়।
.
যাকে একবার ভালবাসা যায় তাকে যে
চাইলেই ঘৃণা করা যায় না। বাহ্যিক ভাবে
ঘৃণা দেখালেও মন থেকে ঘৃণা আসে না।
কখনোই আসে না।
.
ওদিকে ফিরোজ ??
অপলা'র শেষ মেসেজ টা পেয়ে মনে মনে
কোনো এক ধরনের শান্তনা খুঁজতে থাকে সে।
সে এখন বুঝতে পারে- কষ্ট পাওয়ার
যন্ত্রণার চেয়ে অনুশোচনায় পোড়ার যন্তণা
গুলো খুব বেশী তীব্র।
সময়ের আবর্তনে কষ্ট গুলো এক সময় ফিঁকে
হয়ে আসে। কিন্তু, অনুশোচনা গুলো কখনো
ফিঁকে হয় না। বরং তা বাড়তেই থাকে তরতর
করে।
.
প্রকৃতির বিচার যে বড়ই মারাত্মক। প্রকৃতি
কখনো কারো উপর অবিচার করে না। একদম
না !!

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।