বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৮

love storis-ভালোবাসার গল্প


রোজ বিকেলে ছাদে ওঠে অনামিকা আজও উঠেছে চারতলা বিল্ডিংআটটা ফ্ল্যাট অনামিকারা থাকে তিনতলায়
সে যখন ছাদে ওঠে, পিচ্চিপাচ্চারা যেন কীভাবে টের পেয়ে যায়ওরাও তখন তরতর করে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠে
পিচ্চিরা সব অনামিকার ভক্ত
ভক্তদের মধ্যে দুষ্ট এক পিচ্চি আছেসে অনামিকার নাম সংক্ষেপ করেছে প্রথম বলত অনাপু এখন সে বলে মিকাপু বাকিরাও মিকাপুই মেনে নিয়েছে অনামিকার তাতে কোনো আপত্তি নেই
পিচ্চিটার নাম দিহান
দিহান, ওই দেখ ঝাল মুড়িওয়ালা যাচ্ছে ছাদে ডেকে আনতে পারবি?’ মিকার কথায় দিহান রাজি হয়ে যায়সে তরতর করে নিচে নামেপাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঝালমুড়িওয়ালা ছাদে উঠে আসে
সবার জন্য ঝালমুড়ি বানানো হচ্ছে পিচ্চির সংখ্যা ১১তারা সবাই ঝালমুড়িওয়ালাকে ঘিরে ধরে
হঠাৎ ছাদে ওঠে দিহানের মামা রবিন অস্ট্রেলিয়াতে পড়াশোনা করেএক সপ্তাহ আগে ঢাকায় এসেছে
দিহান বলে, ‘মামা, ঝালমুড়ি খাবে?’
মিকাপু হেসে বলে, ‘মামা, ঝালমুড়ি খাবেন?’
মিকা দিহানের মামার ঢাকা আসার কথা শুনেছে তবে আজই সামনাসামনি দেখারবিন ধীরে ধীরে মিকার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে, ‘এরা তো ছোটএরা মামা বলুকআপনি আমাকে ভাইয়া বলতে পারেন!’
কথা শুনে মিকা হাসবে, না কাঁদবে, কিছুই বুঝতে পারে নাহাঁ করে তাকিয়ে থাকে
রবিন বলে, ‘এই, আমাকেও ঝালমুড়ি দিনখুব ঝাল করে বানাবেনচোখ দিয়ে যেন পানি বের হয়ে যায়’
সত্যি সত্যি ঝালমুড়ি খেয়ে রবিন যেন কাঁদতে থাকেতার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে
সেই দিন থেকে রোজই রবিন ছাদে ওঠে১১ জনের মধ্যে রবিন যোগ দেয়মিকা বোনকে বলে বড় পিচ্চি
‘আপনি অস্ট্রেলিয়াতে কী করেন?’
মিকার এ প্রশ্নে রবিন বলে, ‘হোটেলে ওয়েটারের কাজ করিআর আপু অন্যদের বলে আমি কম্পিউটারের ওপর পড়াশোনা করছি’ রবিনের এ সত্যবাদিতায় কেমন যেন অনুভূতি হয় মিকার
রোববার দুপুরবেলা মিকার ছাদে ওঠার কথা পিচ্চিরা টের পেয়েছে গেছেমিকা ধমকের সুরে বলল, ‘এই ছোট পিচ্চিরাসবাই চলে যাওশুধু বড় পিচ্চি থাকুক’ সত্যি সত্যি সবাই চলে গেল
মিকা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেবুড়ো আঙুলে হোঁচট খেয়েছে হঠাৎ কেঁপে উঠল বিল্ডিংআশপাশে হইচই, চিৎকারহ্যাঁভূমিকম্প হচ্ছে সবাই বাসা থেকে দৌড়ে নামছে নিচে মিকা দৌড়াতে পারছে নারবিন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
‘বড় পিচ্চি, তুমি যাও দৌড়াও’
‘কী যে বলো নাতা কি হয়? আমার গায়ে অনেক শক্তিচলো তোমাকে কোলে নিয়ে দৌড়াই’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে রবিন মিকাকে কোলে তুলে নেয় দৌড়ে নিচে নামতে থাকে
হায়! সিঁড়ির কয়েক ধাপ বাকি থাকতেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে রবিন ও মিকাএই দৃশ্যের দিকে সবার চোখ আটকে যায়নিচের দিকে পড়েছে মিকা সেদিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে রবিন
রবিনের বড় আপা রাগে খটমট করে এগিয়ে যায় সেদিকে
ঠাস করে একটি চড় বসিয়ে দেয় রবিনের গালে
‘ফাজিল কোথাকার অস্ট্রেলিয়া পাইছিস?’
ততক্ষণে ভূমিকম্প শেষ হয়ে যায়

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।