প্রেম করছি। এখন বসে আছি সংসদ ভবনের
সামনের একটি ফুসকার দোকানে। বসে বসে
চারদিকের কাপল গুলোকে দেখছি। অনেক
খুশি সবাই।
আমিও অনেক খুশি। কারন আমার প্রেমিকা
অনেক ভাল। যদিও ও অন্যদের মত এত ফর্সা
নয়। তবুও আমার কাছে ও সবার থেকে সুন্দর।
রাজকুমারের স্বপ্নের রাজকন্যা সে। এখানে
তার জন্যই অপেক্ষা করছি। সে বিকেলে
ফোন করে বলেছে আসার জন্য। টাইম ও
জায়গা সেই ফিক্সড করেছিল। তবুও লেইট
করছে আসতে। এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়।
প্রতিদিন ই দেখা করার সময় লেইট করবে
আর এসেই সরি বলবে। সাথে মুচকি হাসি
ফ্রি।
আমি ওর থেকে এক বছরের সিনিয়র। আমি
অনার্স শেষ করে একটি কোম্পানি তে
চাকরী করছি। আর ও শেষ বর্ষে। তখন
দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ক্লাশ শেষ করে
ভার্সিটির গেট দিয়ে বের হচ্ছি আমি আর
শিহান। হঠাৎ পিছন থেকে একটি মেয়েলি
কন্ঠের ডাক.........
— এইযে শুনুন। ৩৩৫ নম্বর কক্ষটা কোন
বিল্ডিংয়ে?
_ পিছনের বিল্ডিংয়ের তিন তলায় গিয়ে
সিড়ির বাম দিকের সাইডে। (শিহান উত্তর
দিল)
— ঠিক আছে। ধন্যবাদ।
আমি কোন কথা বলতে পারিনি। শুধু এক
দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম।
— কিরে আরিয়ান?একদম ঠাষ্কি খেয়ে
গেলি নাকি?
_ হুম
— শালা, এভাবে তাকিয়ে থাকলে
মেয়েটার মুখ ঝলসে যাবে।
তারপর সেখান থেকে চলে আসলাম। পরে
খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম সে নতুন ভর্তি
হয়েছে। তারপর খোঁজে বের করলাম তাকে।
প্রথম প্রথম বেশি মিশতো না। এখন ঠিক
হয়ে গেছে। সেখান থেকেই সায়মার সাথে
পরিচয়। তারপর বন্ধুত্ব, কাছে আসা,
ভালবাসা। কিন্তু একটি জিনিস আমি বুঝতে
পারি। সায়মা খুব আনইজি থাকে সবসময়।
কারন সে মনে করে সে কালো। তাই।
ঐ তো সায়মা আসছে। আজকে কি যেন বলবে
আমাকে। দেখি কি বলে।
— সরি, আরিয়ান। আজকেও লেইট হয়ে গেল।
_ হুম। কিন্তু আজকে মুখ কালো করে বসে আছ
কেন??
— মুখ তো কালো থাকবেই। আমি নিজেই তো
কালো।
_ আমি কি তোমাকে কোনদিন বলছি যে তুমি
কালো!!!! কি হয়েছে সেইটা বল ক্লিয়ার
করে।
— একটা কালো মেয়ে সমাজে খুব কমই
স্থান পায়। যখন ছোট ছিলাম তখন সবাই
বিভিন্ন কথা বলত। নানা ভাবে কটুক্তি
করত। কোন দোষ আমার ছিলনা। শুধু একটা
দোষ ই ছিল। তারপর প্রায়মারী স্কুল ও হাই
স্কুলের গন্ডি শেষ করলাম। সবার কত শত
ফ্রেন্ড কিন্তু আমার শুধু হাতে গোনা
কয়েকটা ফ্রেন্ড ছিল। কেউ আমার সাথে
মিশতে চাইতো না। আমার দোষটা আর কিছুই
না। আমি কালো বলে সবাই এরকম করতো।
কালকে আমাকে দেখতে আসছিল। কিন্তু
বিয়েটা হবে না। কারন আমি জানি, তাদের
পছন্দ হয়নি আমাকে। এই নিয়ে তিন জায়গা
থেকে দেখতে এসেছে আমাকে। কিন্তু কোন
বিয়েই হয়নি। কালকে মা বাবার চোখে
আমি হতাশা দেখেছি। যদিও এটা আমাকে
বুঝতে দেয়না তারা। কিন্তু আমি বুঝতে
পারি। আমাকে নিয়ে তাদের চিন্তার শেষ
নেই। কিন্তু এখানে আমার দোষ টা কি?
_ তোমার কোন দোষ নেই। তুমি এখন বাড়িতে
যাও। রাতে কথা বলব।
সায়মাকে বিদায় দিয়ে বাসায় আসলাম। মা
বাবাকে সবকিছু বললাম। বাবা সায়মার
বাবার নাম্বার চেয়ে নিল। হয়তো কথা
বলবে এই ব্যাপারে।
রাতে সায়মা ফোন করল......
— অই আরিয়ান। আমাকে নাকি কালকে
আবার দেখতে আসবে বর পক্ষ !!!!
_ দেখতে আসবে তো কি হয়েছে। তুমি
নিশ্চিন্তে থাক। এবার বর পক্ষ তোমাকে
পছন্দ করবে।
ফোনটা রেখে দিলাম। আমি জানি সায়মা
আমার কথা শুনে অবাক হয়েছে। মেয়েটা
ছোট বেলা থেকেই অনেক অপমানিত হয়েছে।
এবার তার সুখের পালা। শুধুই সুখ আর সুখ।
মনে মনে একটা গান গাইতে থাকলাম.....
"আমি কালো বলে,
মনটা আমার কালো নয়।
সাদা গোলাপের চেয়ে,
কালো গোলাপের ঘ্রান
ভিন্ন হয় নাকি অভিন্ন হয়?"
∞°°°°°°∞
উপড়ের গল্পটা কাল্পনিক। কিন্তু বাস্তব
সত্য এটাই। এই সমাজ কালো মেয়েদেরকে
দাম দেয়না। কিন্তু তারাও তো মানুষ।
আজকাল মেয়ে কালো বলে বিয়ে ও ভেঙ্গে
যাচ্ছে। কিন্তু সুন্দর মানেই তো ফর্সা নয়।
সকলই মানুষ একজনের হাতেই বানানো।
মানুষের রঙ ও তিনিই দিয়েছেন।
অনেকে ইনবক্সে বলেন গল্পের নায়িকারা
নাকি সবসময় সুন্দর হয়। কথাটি একদম ভুল।
নায়িকারা কালো হয়। কিন্তু সে যতই কালো
হোক না কেন, নায়কের চোখে সে ই সবচেয়ে
সুন্দর।
ভালবাসা এমনই একটি জিনিস, যা সকল
অসুন্দরকে সুন্দর বানিয়ে দেয়। প্রত্যেকটি
মানুষই তার ভালবাসার মানুষের চোখে
অসম্ভব সুন্দর।
শেষ করছি একটি গানের দুটি লাইন
দিয়ে....
"আমায় কালো কালো বলিস না লো,
ও গোয়ালের ঝি।
আমায় বিধাতা করেছে কালো,
আমি করবো কি!!!!!?"

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন