মুখ ফসকে কথাটা বেরিয়েই গেল রিদিতার।
-দোস্ত, তোরে কতদিন বলছি তোর মুখে শালা
গালিটা মানায় না কারন তুই একটা মেয়ে।
-শোন জ্ঞান দিবিনা। কাজটা তোর অথচ
মাথা ব্যাথা আমার। ডিজগাসটিং।
-আরে মাথা ব্যাথা আছে তো, নাৰ্ভাস তো
তাই এমন মনে হচ্ছে তোর।
রিদিতা আর রাইয়ান দুই বন্ধু, সম্ভবত
দুনিয়ার মজবুত বন্ধুত্ব ওদের; অন্তত ওদের
তাই ধারনা। আজ চতুৰ্থবারের মতো ওদের
'স্পেশাল' মিশনটা ব্যাৰ্থ হলো। এই নিয়েই
রিদিতার মেজাজটা খারাপ।
মিশন আৱ কিছুই না, ডিপাৰ্টমেন্টের এক
জুনিয়র মেয়ের সাথে কথা বলা। অবশ্য ঠিক
কথা বলা না বলে র্যাগ দেয়া বলা ভালো।
র্যাগ দেয়ার একটা উদ্দেশ্যও আছে।
রাইয়ান প্ৰথম দেখাতেই সেই মেয়ের
প্ৰেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। তাই রিদিতার
সাহায্য দরকার ওর।
রিদিতা আর রাইয়ান ঠিক করেছে
মেয়েটাকে র্যাগ দেয়ার নাম করে হালকা
ভয় দেখানো যেন ভালো রেজাল্ট করার
পরামৰ্শের জন্য রাইয়ান ভাইয়াকেই বেছে
নেয়। কিন্তু এখন পৰ্যন্ত কথাই বলতে
পারলো না। যখনই কথা বলতে যায় তখনই
একটা ঝামেলা তৈরি হয়। যেমন আজ- যখন
ওরা মেয়েটির সাথে কথা বলতে যাচ্ছিল
ঠিক তখনই পেছন থেকে সাইফুল ভাই ওদের
ডাক দিলেন। ব্যাস, আজও ওদের মিশনের
বারোটা বাজলো।
-এই শোন এদিকে, নাম কি?
-জ্বী, তনয়া
-বড়দের দেখলে সালাম দিতে হয় জানো?
-স্যরি আপু, আমি আপনাকে খেয়াল করিনি।
আসসালামু আলাইকুম আপু।
-ওয়া লাইকুম আসসালাম। কিন্তু তনয়া আপু,
এখানে আমি ছাড়া তোমার একটা বড়
ভাইয়াও আছে....
-স্যরি আপু। আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।
-আচ্ছা, এখন ক্লাশে যাও।
-জ্বী আপু।
যাক, আজ অন্তত কথা বলা তো গেছে তনয়ার
সাথে। খুশিতে যেই না লাফ দিতে যাবে
অমনি রাইয়ান বলে উঠলো, "ওই বান্দরনী
তুই আমারে তনয়ার সাথে কথা বলতে দিলি
না ক্যান???"
"কারন, কথা বলতে গেলে আপনি সব গুবলেট
করে ফেলতেন মিস্টার রামছাগল"
এই শুরু, এরপর থেকে রাইয়ান আর তনয়া যেন
মানিক জোড় হয়ে গেল।
রিদিতাৱ দিনগুলো ভীষণ একাকিত্বে
কাটতে শুরু করলো। আগে ক্লাশের ফাঁকে যখন
রাইয়ান আর রিদিতা একসাথে চা খেত আর
এখন সেই সময় গুলোতে মানিকজোড় কে দেখা
যেতে লাগলো ক্যাফেটেরিয়া, জহিরের
ক্যান্টিনে। রিদিতার সমুচায় এখন কেউ
ভাগ বসায় না, চায়ের কাপে কেউ পানি
ঢেলে দেয় না। ভীষণ অস্থির লাগে
ৱিদিতার। ফেসবুকেও আর পাওয়া যায় না
রাইয়ানকে। ক্লাশে অমনোযোগ ..
রাইয়ান কে একদিন বলেই ফেললো রিদিতা,
"বুড়ো বয়সে তোর এই ঢং মানায় না রাই"
"আমি আবার কি ঢং করলাম!!!! " -প্ৰশ্ন
করে রাইয়ান
-তনয়ার বাইরেও একটা পৃথিবী আছে তুই
সেটা ভুলে গেছিস !
-কি বলিস? আমি তো ঠিক মতো খাই, ঘুমাই
এমনকি প্ৰতিদিন গোসলও করি।
-খবিশ একটা
রিদিতা বুঝতে পারে রাইয়ান ওদের
বন্ধুত্বটার কথা একদমই ভুলে গেছে। কিন্তু
রিদিতা তো প্ৰতি কদমে মিস করে
রাইয়ানকে। আস্তে আস্তে রিদিতা নিজেৱ
মধ্যে গুটিয়ে যায়। ক্লাশে যায়, কারো
সাথে তেমন কথা বলে না। আবার ক্লাশ
শেষে বাসায় চলে আসে।
এভাবে প্ৰায় তিন মাস কেটে যায়। হঠাৎ
এক রাতে ফোন আসে রাইয়ানের। ঠিক কতো
দিন পর রাইয়ান ফোন করলো তা ভাবতে
ভাবতেই ১ম বার রিসিভ করতে পারে না
রিদিতা। পরের বার রিসিভ করতেই
রাইয়ান বলতে লাগলো, "দোস্ত আমি শ্যাষ,
আমারে বাচাঁ প্লিজ"
-আরে কি হইছে বলবি তো !
-আমি ছ্যাঁকা খাইছি !
- ক্যামনে?!
-তনয়া সাইফুল ভাইয়ের সাথে.....
আর কিছু বলতে পারলো না রাইয়ান, গলা
ধরে এলো ওর।
আবাৱ রাইয়ান আর রিদিতাকে দেখা যেতে
লাগলো পুকুর পাড়ে, জহিরের ক্যান্টিনে।
আবার তার কাড়াকাড়ি করছে সমুচা নিয়ে,
আবার রিদিতার চায়ে পানি ঢেলে দৌড়
লাগায় রাইয়ান।

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন