শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১৮

অসমাপ্ত ভালোবাসা


মিম বসে আছে পার্কের এক
কোণায়!
অনেকটা উত্তেজনা কাজ
করছে তার মাঝে।করবে নাই
বা কেনো! আজ তার
আবিরের সাথে প্রথম
দেখা হবার কথা।দুই বছর
ধরে প্রেম
করে যাচ্ছে তারা কিন্তু
এখন পর্যন্ত সামনাসামনি হয়
নি তারা।পথের দূরত্ব
ছিলো অনেক। কিন্তু পথের
দূরত্ব মনের দূরত্ব করে নি।
বরং আরো কাছে এনেছে তাদের
ভালোবাসা! দুই
বছরে ফেসবুকে মিমের
গুটিকয়েক ছবি প্রদান
করা ছাড়া সামনাসামনি দেখার
সুযোগ
হয়ে ওঠে নি আবিরের।
আবিরের গল্পের নায়িকার
মতোই
আজকে সে সেজেছে।
পরনে লাল শাড়ি,
হাতে রেশমি চুড়ি,
কপালে ছোট্ট একটা লাল
টিপ,
চোখে আলতো কাজলের
পরশ,
ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক
আর
খোলা চুলে সাধারনে অসাধারন
হয়ে উঠেছে মেয়েটা!
হাতে মুঠো ফোনে চ্যাটিং করছে সে আবিরের
সাথে।খুব বেশি দূরে নেই
বলেই আবির জানায়!
হঠাত পিছন থেকে মিমু
বলে কেউ একজন ডেকে উঠে।
মিম জানে আবির ছাড়া আর
কেউ নয়।কারন এই নামে আর
কেউ তাকে ডাকে না।
বুকের
মধ্যে ধুকধুকানি টা আরো বেড়ে যায়।
আস্তে আস্তে পাশ
ফেরে সে।মাথার
মধ্যে হাজারো চিন্তা,
যদি আবিরের তাকে পছন্দ
না হয়, যদি বলে না তোমার
সাথে রিলেশন
রাখতে পারছি না,
যদি তার কল্পনার আর ছবির
মিমুর সাথে বাস্তবের মিমুর
মিল খুঁজে না পায়!
আবির চোখ
সরাতে পারছে না।
এতোটা সুন্দর
মেয়ে আগে কখনো দেখে নি।
তার পিচ্চি পরীটা আসলেই
দেখতে অনেক সুন্দর।ছবির
মিমুর
চোখে যে মায়া সেটা আরো অনেকগুণ
বেশি বাস্তবের মিমুর
সাথে।
কথা না বলে হাঁ করে তাকিয়ে আছে আবির।
এতোদিনের জমানো সব
কথা আজ
যেনো হারিয়ে ফেলেছে সে।
মিমকে সেটা বড্ড
অসস্তিতে ফেলেছে।
হাতের গোলাপ
ফুলগুলো মিমের
চুলে গুঁজে দেবার কথা পযন্ত
ভুলে গেছে সে।
স্বল্পভাষী, আর চুপচাপ
মেয়েটাকে এবার চঞ্চল
না হলে চলবে না সেটা খুব
ভালোই বুঝতে পারছে মিম।
বাধ্য
হয়ে লজ্জা ভেঙে বলে উঠলো,
"ঐ কিছু বলবা? এই দুই বছর
তো ফোনে হাজারটা কথা বলতে।
আর এখন
সামনাসামনি দাঁড়িয়ে একদম
চুপ!"
আবির, "ভাবছি!"
-"কি ভাবছো?"
-ভাবছি যে আমার
পিচ্চি পরীটাকে ছবিতে যতোটা বেশি সুন্দর
লাগে তার
চাইতে হাজারগুণ
বেশি সুন্দর লাগে বাস্তবে!"
-"যা! আর তোষামোদ
করতে হবে না।
আমি জানি আমি দেখতে কেমন!
একদম পেত্নীর মতো!"
-ওমা! তাই নাকি! আমার
যেনো আবার ঘাড়
মটকিয়ো না!"
-"আবির! তুমি যে কিনা!
এতোদিন ধরে এই বলদটার
সাথে প্রেম
করে গেছি আমি!"
-বাহ!তোমায়
কতো ভালো ভালো কথা বললাম
আর
তুমি কিনা আমাকে প্রথমেই
বলদ বলে সম্মোধন করলে! "
-আমার
কাছে তোমাকে ভালো বোঝানোর
জন্য বলদ বলা ছাড়া আর কোন
ভালো উপাধি নেই।
তোমার মতো কবি, লেখক
তো আমি নই তাই আমার
কাছে এর বেশি কিছু
আশা করাটা হয়তো অপরাধ!"
-"নাও শুরু হয়ে গেলো মন
খারাপ করা কথা বলা।
আচ্ছা যাও আমি তোমার বলদ
হয়েই সারাজীবন
কাটাতে চাই!"
-"আর আমি তোমার
পরী হয়ে!"
-"হুম জানি তো!
চলো আইসক্রিম খাবো!"
-"এই দেখো পেটুকের
খাওয়ার কথা মনে হয়েছে।
চলো।"
-"হুম্ম।ওয়েট!"
আর কোন কথা বলার সুযোগ
না দিয়ে মিমের চুলে লাল
গোলাপ গুলো গুঁজে দেয়
সে।লাল শাড়ি আর
গোলাপে একদম লাল পরির
মতো দেখাচ্ছে তাকে।মিম
কি বলবে বুঝে উঠতো পারছে না।
তবে চোখে পানি চিকচিক
করছে।
-"এই
বোকা মেয়ে কাঁদছো কেনো?"
-কৈই? না তো চলো!"
একসাথে আইসক্রিম
খাওয়া ঘুরে বেড়ানো শেষে আবিরের
হঠাত
করে ইচ্ছা হলো মিমের এই
শহরটা দেখবে রিকশায়
চড়ে দুজনে।
দুজন রিকশায়
বসে খুনসুটি করে চলছে।
আবিরের
যে শহরটা ঘুরে দেখার
কথা ছিলো সেটা বেমালুম
ভুলেই গেছে।হঠাত
একটা দ্রুত গামী বাস
ধাক্কা দেয় রিকশায়। দুজন
ছিটকে পড়ে যায়।আবিরের
কিছুটা চোট পেলেও ঠিক
থাকে সে।কিন্তু মিমের
পাশে যেতে গিয়ে যেটা দেখে সেটা বিশ্বাসই
করতে পারছে না।লাল
রক্তে ভেসে গেছে রাস্তাটা।
মিমের লাল
শাড়ি আরো লাল বর্ন ধারণ
করেছে।তাড়াতাড়
ি মিমের কাছে ছুটে যায়
সে।কোলের উপর
নিয়ে বারবার মিমু, মিমু
বলে চিৎকার
করে ডাকতে থাকে! কিন্তু
তার মিমু উত্তর
দিবে কিভাবে!
সে যে অজানার
দেশে পাড়ি দিয়েছে........
......
এরপরে কেটে গেছে অনেকগুলো বছর।
এখনো আবির মিমের জন্য
অপেক্ষা করে।
ভাবে হয়তো সেটা দুঃস্বপ্ন
ছিলো।মিম ঠিক আবার ফোন
করবে তাকে।
বকা দিবে এতোক্ষন ফোন
না করার জন্য।কিন্তু
সেটা আর হবার নয়.......মিম
যে চলে গেছে না ফেরার
দেশে.....

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।