শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১৮

স্বপ্নযাত্রা


 <b><fg.b00000ff>সমুদ্রিকা ,এই
সাতসকালে ঘন্টা লাগিয়ে এতো গোসল
করছ... ঠান্ডা লেগে যাবেতোরে পাগলী! --
আআসছিতো....!
-- বাথরুমের ভেতর থেকে আসছি.. আসছি...
না করে তাড়াতাড়ি বের হও।আমার খুব ঘুম
পাচ্ছে, আমি আবার ঘুমুতে গেলাম...।
-- যাওও! আর বকবক কইরোনা!
এতো কেয়ারিং ভাল্লাগেনা!
******
-- আকাশ .... এই আকাশ...!
--- মমমম.... কীইই...
-- ওঠোনা! দেখো আজকের
সকালটা কী ঝলমলে স্নিগ্ধ ,ফুরফুরে মিষ্টি ফাগুনের
হাওয়া বইছে! ওঠো,আমার খুব
ক্ষুধা লেগেছে ,ব্যালকনিতে বসে দুজন
মিলে চোখে চোখ ছুঁয়ে সকালের
নাস্তা করব.. পরটা,মাংস রেঁধেছি।
আকাশ ঘুম জড়ানো চোখ
মেলে দেখে প্রসাধনসামগ্রীর স্পর্শ
বিহীন এক মায়াবী পরী ভেজা চুল
এলিয়ে ওর শিয়রের পাশেই বসে আছে।
কতো চেনা এই পরীটা ,কতো বছর হয়ে গেল
বিয়ের...তবু কেন এই পরীটাকে দেখার আঁশ
মেটেনা! আকাশ সমুদ্রিকার হাতটা নিজের
হাতের মুঠোয় জাপটে... কপালে ছোট্ট
একটা ভালোবাসার চিহ্ন
এঁকে দিয়ে প্রতিদিনকার মতো করে আজকের
সুপ্রভাতটাও শুরু করে। সমুদ্রিকার চোখ
থেকে ঠিকরে পড়ে ইলশেগুঁড়ি ভালোবাসার
দুষ্টুমি মায়া। জীবনটা এতো সুন্দর কেনো?
****
-- কি হলো,চায়ে চিনি কম হয়েছে?
-- নাহ কই!
-- তাহলে চায়ের দিকে এমন মুখ
বাঁকিয়ে তাকাও কেন?
-- ভাবছিলাম আমার সমুদ্রিকার কাছ
থেকে চায়ের মিষ্টি রঙটার
মতো মিষ্টি আদর পেয়েইতো আমার
প্রতিটা সকাল শুরু হয়। যতকাল চায়ে চুমুক
দেব,ততকাল তোমাকে কাছ
থেকে ভালোবাসার ইচ্ছা জাগবে..
সামুদ্রিকার চুলগুলো ভোরের বাতাসে উষ্ণ
শীতল এক মিহি সুবাস ছড়াচ্ছে... হঠাৎ
হঠাৎ বয়ে যাওয়া স্নিগ্ধ হাওয়ায়
সমুদ্রে সমুদ্রিকার সবুজ শাড়ির আঁচলের
ওড়াওড়ি .....এই দৃশ্য দেখার জন্যই বোধহয়
প্রতিটা সকালের প্রতি এতোবেশী আকর্ষণ
বোধ হয় আকাশের। এই মূহুর্তে সমুদ্রিকার
ঠোঁটের হাসিটুকু একটু একটু
করে উপচে পড়ছে আকাশের দৃষ্টির শহর
জুড়ে.......... ..........
****
--এই আকাশ ,অনেক বেলা হইসে,আজ না তোর
ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার কথা?
-- সমুদ্রিকা....!
-- আরে ওঠ শালা,সমুদ্রিকার ে দিন রাত
খালি ঘুমায়া ঘুমায়া স্বপ্ন
দেখলে কী হবে,স্বপ্ন পূরন
করতে হইলে আগে ভালো একটা চাকরি নেয়ার
ব্যবস্থা কর!
আকাশ বিছানা ছেড়েই বারান্দায়
গিয়ে দাড়ালো। এই ফাল্গুন মাসেও
ঝিরিঝিরি ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে...। কিন্তু
এর চেয়ে অনেক সুন্দর ছিল
স্বপ্নে সমুদ্রিকার চোখের
মায়াবী ইলশেগুঁড়ি ভালোবাসার বৃষ্টি!
মানুষ কতোকিছুইনা স্বপ্নে দেখে,অথচ সেই
সহজ সুন্দর জীবনের স্বপ্ন পূরণ
যে কতোটা অধ্যাবসায়ের
কাজ,তা তো স্বপ্নযাত্রার বাঁকে বাঁকেই
বোঝা যায়,খুব কম মানুষই
পারে ভালোবেসে ভবিষ্যতে ভালো থাকতে।
অনেক দেরী হয়ে গেছে । নাস্তা না করেই
রেডী হয়ে ইন্টারভিউ
দিতে যাচ্ছে আকাশ... আজ আকাশে এক ঝাঁক
ধূসর মেঘ।সাথে আছে কিছু সবুজ
হাওয়া,স্বপ্নে দেখা সমুদ্রিকার সবুজ
শাড়ির আঁচলের মতোই। আকাশের
হাতে একটা নেভি ব্লু রঙের ছাতা।
কোনমতো বেশী দাম দিয়েই
একটা রিকশা ঠিক
করে তড়িঘড়ি করে রিকশায়
উঠে বসেছে আকাশ। চলন্ত রিকশায়
নিশ্চিন্তে সামুদ্রিকার ফোন রিসিভ
করতেই.. এক ঝাঁক সমুদ্রের ঢেউয়ের
মতো আবেগ আঁছড়ে পড়ল আকাশের কানের
সুরঙ্গ পেরিয়ে হৃদয় - অন্দরমহলের
প্রতিটি অনুভূতির কামরা জুড়ে..!এমন কন্ঠ
পৃথিবীতে আর একটাও আছে বলে বিশ্বাস
হয়না আকাশের।
-- আকাশ... দেখোনা কী বৃষ্টি আজ!
ভার্সিটিতে যাচ্ছি, খুব লেইট হয়ে গেছে।
সেই ভোর থেকে তোমাকে নিয়ে পুরোনো সেই
স্বপ্নটা দেখতে দেখতে কিভাবে যে ঘুম
থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেল!
-- আচ্ছা, সমুদ্র আর আকাশ এতো স্বপ্ন
দেখে কেন,বলতো সমুদ্রিকা?
-- .....
-- হ্যালো.. সমুদ্রিকা... হ্যালো...! অপর
প্রান্ত থেকে হঠাৎ করেই চিৎকার, তারপর
লাইন ডিসকানেক্টেড ।
আকাশ বার বার কল দিয়ে সমুদ্রিকার ফোন
বন্ধ পেয়ে ক্রমে ক্রমেই অস্থির
হয়ে উঠছে। মানুষ যতই পজিটিভ
ভাবনা ভাবার চেষ্টা করুক,শেষমেষ
নেগেটিভ ভাবনা মানুষের
মনে কড়া নাড়বেই, এটাই বুঝি বেশীরভাগ
মানুষের চিরায়ত ধর্ম।
আসল ঘটনা হলো.. সমুদ্রিকা যেই
গলিতে হাঁটতে হাঁটতে ,ফোনে কথা বলতে বলতে রিকশা খুঁজছিলো...
সেই গলিতেই এক ছ্যাচড়া চোর ওর ফোন
ছোঁ মেরে নিয়ে রাম দৌড়... দিয়েছে।
চিল্লাচিল্লিতে আশেপাশের এক দুজন লোক
চোরের পিছে দৌড় দিয়েও চোরকে আর
ধরতে পারলনা শেষ পর্যন্ত !
সমুদ্রিকা বেচারী বৃষ্টিভেজা কান্নায়
ছলোছলো চোখ আর ঝুম রাগ
নিয়ে কাঁদামাখা রাস্তায়
জোড়ে জোড়ে পা ফেলেই বাড়ি ফিরল। মনের
দুঃখে দুপুরে কিছু মুখেও দেয়নি মেয়েটা।
এদিকে চরম অস্থিরতায়
ছাতামাথা কোনমতো ইন্টারভিউ
দিয়ে সামুদ্রিকার ভার্সিটির
সামনে এসেছে চিন্তিত আকাশ।এমন সময়
সমুদ্রিকার বাসার নম্বর থেকে কল
দেখে বেশ ভালোমতোই চমকে যায় আকাশ...
-- হ্যালো, স্লামালাইকুম..!
-- ওয়ালাইকুম সালাম..
-- ওফফ,
সমুদ্রিকা,কি হয়েছে ,তাড়াতাড়ি বলো...!
-- তোমার ইন্টারভিউ এর কী খবর?
মোবাইলটা তো পুরাই গেল!
আচ্ছা আকাশ,আমাকে নিয়ে তুমি এতো চিন্তা করো কেন?
আমি  কিন্তু তোমাকে খুব কমই ভালোবাসি।
-- কিভাবে কী হলো,প্লিজ বলোনা! আমার
ইন্টারভিউ তো যাচ্ছেতাই হলো!
-- ইন্টারভিউ আগামীবারেরটা যে করেই
হোক
ভালো দেবা,তোমাকে অনুপ্রেরনা দিতে তোমার
সাহস হয়ে সবসময়ই পাশে আছে তোমার
সমুদ্রিকা। খুব কান্না পাচ্ছে আকাশ।
তোমার আর আমার সব ছবি,মেসেজগুলো ছিল
মোবাইলটায়। কিন্তু থ্যাংক গড!
তুমি তো আমার কাছে আছো।
তোমাকে তো চাইলেও কেউ ছিনতাই
করে নিয়ে যেতে পারবেনা আমার থেকে,
এজন্যই আমার মনে হয়,তুমি আমার এমন এক
সম্পদ
যা নিয়ে গর্বিতা আমি হাসিমুখে বাঁচতে পারি বহুকাল।
আকাশ দাড়িয়ে আছে মধ্যদুপুরের তপ্ত রোডে।
ক্লান্ত চোখে বড্ড
তীর্যকভাবে লাগছে হলদে রোদ্দুরের
জেদী পরশ....
এই মূহুর্তে আকাশের ইচ্ছে হচ্ছে, নিজের
পাগলীটার নরম হাতে দুপুরমনি ফুলের নম্র
গুচ্ছ গুঁজে দিয়ে ক্ষীণ
স্বরে কয়েকটি লাইনই উচ্চারণ করতে..... "
আজ - কাল -পরশু অথবা আগামীদিনের
যাত্রা পথে কাছে থাকি,
দূরে থাকি..যেখানেই থাকি.. স্বপ্নযাত্রার
ধ্রুপদী সুরে... আচানক বাতাসে হৃদয়ের
বাতিঘর দুলে ওঠার মতো তড়িৎ
চাহনিতে একবার নাহয় তোমার
কালো চোখের পাপড়ির মায়া - মহল
পেরিয়ে পলক ঝাপটে দেখে যেও এই
আমাকে.. "

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।