শুক্রবার, ৩০ মার্চ, ২০১৮

...হানিমুন.. লিখেছেন- অনুরাগের স্পর্শ


এই মা....... অশী........পানি
তে পরে যাবা বলতে বলতেই মেয়ের
পেছনে ছুটতে থাকে পাপড়ী। সাগরের
কাকড়াগুলার পেছনে ছুটতে ছুটতে পানির
দিকে এগিয়ে যায় অশী।যেই সাগরের
ঢেউয়ের
ঝাপ্টা এসে ভিজিয়ে দেবে অশীকে তখনি পাপড়ী দৌড়ে এসে অশীকে কোলে তুলে নেয়।
মেয়েটা একদম বাবার মতন হয়েছে।
একজায়গা চুপচাপ থাকতেই
পারেনা খালি দৌড়-ঝাপ করে বেড়ায় ।
অশীকে কোলে তুলে নিয়ে কথাগুলো বলতে থাকে পাপড়ী।
তোমাকে নিষেধ করছিলাম শুনছিলেনা কেন
দুষ্ট মেয়েটা আমার? ওগুলো ধরতে নেই
কামড় দেয় বলেই মেয়ের গালে একটা চুমু
দেয়।আর হাত দিয়ে অশীর অন্য
গালে লেগে থাকা কাঁদা পরিষ্কার
করে দেয়।
অশীর পুরো নাম অস্পৃতা হোসেন। ছোট
করে আর আদড় করে সবাই অশী বলেই ডাকে।
নামটা পাপড়ী নিজেই পছন্দ করে রেখেছে।
ওর বাবার নামের সাথে একটু মিল রেখে।
আবির হোসেনের মেয়ের নাম অস্পৃতা হোসেন
। ডাক্তার যেদিন প্রথম বলেছিল
যে আপনাদের মেয়ে হবে সেদিন পাপড়ী আর
আবির
দুজনে কতইনা খুশী হয়েছিল ।অশী যখন
গর্ভে তখন আবির আর পাপড়ী কত কিছুই
যে ভাবতো তাদের মেয়েটাকে নিয়ে!
দেখতে কার মতন হবে,মেয়ের নাম
কি রাখবে,তারপর মেয়েকে কোথায়
পড়াবে,কিভাবে মানুষ করবে এইসব কত
চিন্তাইনা মাথায় ঘুড়পাক খেত সারাদিন।
অশী'র বয়স এখন ৩ বছর।
দেখতে দেখতে মেয়েটা বড় হয়ে যাচ্ছে।
মেয়েকে কোলে নিয়ে বসে থাকতে থাকতে পুরানো কথাগুলো মনে পড়ছিল
পাপড়ী'র।আর তখনি আবির
দৌড়ে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে পাপড়ী'র
পেছন থেকে ডেকে বলে এই যে ম্যাডাম
আপনার ডাব নিন ।পাপড়ী ঘুড়ে বসেই
অভিমানের
সুরে বলে ২টা ডাব আনতে এতো সময়
লাগে এদিকে তোমার
মেয়ে যে পানিতে নেমে যাচ্ছিল।
সামালাওএখন তোমার মেয়েকে আমি আর
পারবোনা।বাপ- মেয়ে ২টা একইরকম। আবির
ডাবগুল
পাপড়ীকে দিয়ে মেয়েকে কোলে তুলে নিয়ে চুমু
দেয় আর বলে আম্মুকে খুব
যন্ত্রনা দিয়েছো বুঝি? পাপড়ী স্ট্র
দিয়ে ডাবের পানি খাচ্ছিল।বাপ- মেয়ের
কথা শুনে স্ট্র থেকে মুখ
তুলে মুচকি হাসতে হাসতে বললো যন্ত্রনা দেবেনা আবার-----
দেখতে হবেতো কেমন বাপের মেয়ে!যেমন
দুষ্ট বাপ তেমন দুষ্ট তার মেয়ে । আবির
তার উত্তরে বলে মেয়ের বাবা আবার
কি করলো এখন?আর মেয়েতো তোমার মতনই
হয়েছে। তোমার মতন চোখ,নাক,কপাল,গা
ল----- আর স্বভাবটা কার মতন
হয়েছে আবিরের কথা শেষ হওয়ার আগেই
পাপড়ী জবাব দেয়। এটা শুনে আবির
হাসে আর বলে মেয়ের স্বাভাবতো বাবার
মতন হবেই বলে অশীকে একটা চুমু দেয় ।
পাপড়ী একটা ডাব
খেয়ে অন্যটা আবিরকে দিয়ে অশীকে নিজের
কাছে টেনে নেয়। তারপর আবিরের ডাব
খাওয়া শেষ হলে বাবা-
মা দুজনে মিলে মেয়ের ২ হাত
ধরে সাগরের কূল
ধরে পা ভিজিয়ে হাঁটতে থাকে।এটা ওদের
দ্বিতীয় হানিমুন।বিয়ের কিছুদিন পরেই
ওরা একবার এসেছিল হানিমুনে এই সাগড়
পাড়ে আর ভেবেছিল এটাই ওদের জীবনের
সবচেয়ে সেরা মুহূর্ত।এবার
ওরা এসেছে ওদের ৩ বছরের
মেয়েকে সাথে নিয়ে ।আর এইবারো ওদের
মনে হচ্ছে এই সময়টা ওদের জীবনের
সবচেয়ে সেরা সময় ।আসলে ভালোবাসার
মানুষ পাশে থাকলে একেকটা সেরা মুহূর্ত
অন্যগুলোর কাছে হেরে যায়।এ যেন নতুন
নতুন রেকর্ড গড়ার মতন ব্যাপার ।
সন্ধ্যা নেমে আসে--------
পাপড়ী মেয়ের হাতটা আবিরের
হাতে সোপে দেয়,আর আবিরের হাতটা শক্ত
করে ধরে কাঁধের উপর
মাথা রেখে হাঁটতে থাকে।দূর
থেকে দেখে যে কেউ
ধারণা করে নেবে যে এই ধরার
৩টা সুখী মানুষ
পাশাপাশি হেঁটে যাচ্ছে----
আসলেইতো ওরা অনেক সুখী----অনেক সুখী--
অনেক সুখী----- —

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।