সোমবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৮


মেলার পূর্বপাশের সানগ্লাস আর ঘড়ির
দোকানটায় সানগ্লাস দেখছিলাম। হঠাৎ এক
সুনয়নার আগমন। বাহ দারুনতো মেয়েটা।
তার উপর আমার প্রিয় কালার
কালো ড্রেসের সাথে ম্যাচিং করা সুয়েটার
পরা। ফর্সা মেয়েদের
কালো ড্রেসে এমনিতেই দারুন লাগে।
দোকানে ঢুকতেই ওর সাথে চোখাচোখি হল।
মেয়েটা মুছকি একটা হাসি দিল
পাশে এসে নিজ থেকেই বলল
"কেমন আছেন?"
একটু বিব্রত হয়েই বলি
"জি ভালো। আপনি?"
"ভালো। আপনি জানেন আপনি কত্ত কিউট!"
(খোদা এই মাইয়া কয় কি?)
"জানতাম না। কেউ আগে বলেনি।"
"ফান করছেন? আমি কিন্তু আপনাকে দুলাভাই
ডাকবো। আমার আপিটাও আপনার মতই কিউট।
আপনার সাথে দারুন মানাবে"।
(খোদা কয় কি? ওরে দেখেই
মনে হইতাছে এক বাচ্চার মা। আবার বড়
বোন!)
"কিযে বলেন না?"
হঠাৎ ওর ফোন বেজে উঠল
"হ্যালো আব্বু আমিতো হোষ্টেলেই। তুমি কোন
চিন্তা করোনা"। ফোনটা রেখে দিল।
"আচ্ছা দুলা ভাই এই গ্লাসটা দারুন না?"
"হুম সুন্দর। দেখতে পারেন"।
"আর এই ঘড়িটা?"
" সুন্দর। আপনাকে মানাবে"।
"ধন্যবাদ"।
আবার ফোন বেজে উঠল। রিসিভ করেই,
"হ্যালো বাবা। আমিতো আমাদের বাড়িতেই।
আপনি কোন টেনশান কইরেন না"।
ভাবনায় পড়ে গেলাম।এই মাইয়ার বাপ
কয়জন। হুট করে বলেই ফেললাম,
"ফোনগুলো কার ছিল?"
" প্রথমটা আমার বাপের। পরেরটা বরের
বাবার"।
কিছু বলার আগেই তাড়াহুড়া করে বিদায়
নিচ্ছে হাত নাড়তে নাড়তে বলছে
"আসি দুলাভাই"।
এত মানুষের সামনে বিয়া ছাড়াই দুলাভাই
শুনতে চরম আনইজি লাগছিল। তবুও হাত
নেড়ে বিদায় দিলাম।
বিশ ত্রিশটা গ্লাস
চোখে দিতে দিতে নাকের উপরের অংশ
ব্যথা হয়ে গেল।অবশেষে একটা চয়েজ হল।
দাম দুইশত টাকা।
টাকা পেইড করে বেরুতেই পিছন থেকে ডাক
পড়ল...
"ভাই বিলতো আরেকটা আছে"।
"কিসের?"
"আপনার শালিকার"।
কি আর কমু। বিল নাকি ১১৫০ টাকা।
মানিব্যাগের
আনাছে কানাছে খুঁজিয়া ১১২০টাকা পাইলাম।
দোকানি আমার অবস্থা বুঝতে পেরে বললো,
"দেন ভাই।এতেই হবে"।
এত্তবড় দুর্ঘটনার পরও আমি ভাবতাছি "যাক
বাবা ৩০টাকা বাইছা গেছে"!!

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।