ল্যাম্পপোস্টের হলুদ বাতির নিচে বসে, সব
ধূসর লাগা রঙের মধ্যেও সীমাকে সুন্দর
লাগছে দেখতে। সামনে দিয়ে একটার পর
একটা গাড়ি চলে যাচ্ছে দ্রুত বেগে।
দেখা সবসময় হয়, তবে সন্ধ্যার পর আজ প্রথম
সীমার সাথে দেখা হল, রাদের। একটু
আলো আঁধারের খেলায় দেখতে বেশ ভালোই
লাগছে।
- চল উঠি এখন।
সীমা রাদের দিকে না তাকিয়েই বলল।
- এখনই উঠে যাবে?
- হ্যাঁ, রাত হয়ে গেছে না?
আমি আসলে সন্ধ্যার পর বাহিরে থাকি না।
- মেয়েদের আসলে সন্ধ্যার পর থাকাও উচিৎ
না বাহিরে। হোস্টেলে চলে যাও।
- আমি একা যাব?
- আমি আবার গিয়ে কি করব?
সীমা তাকিয়ে আছে রাদের দিকে। রাদ
কপালে জমা ঘাম মুছে মুছেই কথাটা বলল।
এতো গরমেও সীমা ঘামছে না। না ঘামার কোন
কারণ আছে কিনা কে জানে? হয়ত
মেয়েরা অনেক বেশী গরম সহ্য
করতে পারে তাই।
- আমি একা একা যাব নাকি? চল না, গল্প
করতে করতে গেলাম। রাতের বেলা রিকশায়
চড়তে অন্যরকম ভাল লাগে।
রাদ কিছু না বলে নিঃশব্দে তাকাল সীমার
দিকে। কপালে আরও ঘাম জমেছে। ফুল
হাতা জামার হাতা দিয়ে সেই ঘাম আবার
মুছল।
- চল না?
সীমা এবার একটু জোর দিয়েই বলল। রাদ
কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বলল, আচ্ছা চল।
সীমা মিষ্টি একটা হাসি দিল। রিকশা ঠিক
করবে এখন দুজন। সীমার সাথে সম্পর্ক মাস
তিনেক হবে। মাঝে মাঝে রাদের মনে হয়
সীমার সাথে ঠিক
মানিয়ে নিতে পারে না রাদ।
সরে যাওয়া উচিৎ। সীমা যেমন চলে, রাদ তার
বিপরীত। একটু বিলাসিতা যেখানে সীমার
সাধারণ একটা কাজ, রাদের
কাছে তা কিছুটা স্বপ্নের মত। যে স্বপ্ন
ভাবা যায়, বাস্তব হয় না। তবুও মনের ব্যাপার
খুব জটিল। চাইলেই একজনকে মনের ভিতর
থেকে ছুড়ে তাড়িয়ে দেয়া যায় না, যায়
না বুঝিয়ে সুঝিয়ে বের করে দিতে মনের ঘর
থেকে। সীমার যখন তখন ফাস্ট ফুডের
দোকানে গিয়ে খেতে ইচ্ছা করে। রাদের
রাস্তার পাশের ময়লা পানি দিয়ে ধুয়ে, মরিচ
মাখানো লবন ছেটানো, ফুলের মত
বানানো আমড়া খাওয়াতে ইচ্ছা করে। সীমার
ইচ্ছে হয়, রাদ পাশে ঘুরবে নামী ব্র্যান্ডের
শার্ট পরে। রাদ খুঁজে সস্তায়
ফুটপাথে বিক্রি করা শার্ট। যে শার্ট যতই
দেখে শুনে আনা হোক, বাসায় এসে দেখা যায়
কোন না কোন দিক দিয়ে খুঁত আছে। হয় ছোট
একটা ফুঁটা, কিংবা দেখা গেল জামার নিচ
দিয়ে বোতাম নেই, বা বোতাম লাগাবার ছিদ্র
নেই। সীমার আবদার হয়, সারাদিন রিকশায়
করে ঘুরে বেড়াব। রাদ অনুযোগ এনে বলে,
গরমে সারাদিন রিকশায় ঘুরার কোন মানেই
হয় না, এর চেয়ে পাশাপাশি বসে গল্প করায়
অনেক ভাল লাগা আছে। রিকশা ঠিক করে উঠল
দুজন। পাশাপাশি একদম। গায়ে গা ঘেষা।
সীমা হাতের ভিতর হাত বেধে রাদের কাঁধের
উপর মাথা রাখল। নাকটা ঘষে দিল কাঁধের
উপর রাদের। রাদ ঘেমে যাচ্ছে। আবার ঘাম
মুছল। ঘাম মুছেই বলল, এই মামা,
রিকশা থামান। রিকশা থামান।
সীমা চমকে তাকাল, রাদের দিকে।
- কি হল?
রাদ রিকশা থেকে তাড়াহুড়া করে নেমে গেল।
সীমা এখনও অবাক হওয়া চোখে তাকিয়ে।
- আরে বইল না, আমার তো পলাশীর
ওখানে একটা কাজ আছে। আমার সেই বুয়েটের
বন্ধুটা আসবে। একটা টিউশনি পাবার কথা।
এখন তোমার সাথে রিকশায় গেলে, আবার
আসা অনেক সময় লেগে যাবে। তুমি যাও একাই।
সীমা একটা ছোট করে নিঃশ্বাস ছাড়ল।
রিকশা চালককে চলতে বলল।
রাদ পকেটে হাত দিয়ে মানিব্যাগ বের
করে বলল, ভাড়া দিয়ে দিচ্ছি আমি।
- না লাগবে না।
আমি ওখানে গিয়ে দিয়ে দিব। তুমি তোমার
কাজে যাও। যান মামা।
রিকশা রাদের সামনে থেকে চলে গেল।
রিকশার পিছনের ফাঁকা জায়গা দিয়ে সীমার
খোলা চুলগুলো দেখা যাচ্ছে। সেই চুলের
দিকে বেশ কিছুক্ষণ
তাকিয়ে থেকে হাঁটতে লাগলো রাদ। শেষ
বারের মত ঘাম মুছে নিল। এবার আর
ঘামবে না। চিন্তায় মানুষের কপাল ঘামে।
চিন্তার বিষয় সমাধান হয়ে গেছে।
মানিব্যাগটা এখনও হাতে। খুলে অনেক
খুঁজে টুজে একটা ৫ টাকার নোট, একটা ২
টাকার নোট, আর একটা ২ টাকার পয়সা পেল।
আর কিছুই নেই। চিন্তার বিষয় এটাই ছিল।
সীমার সাথে রিকশায় গেলে,
ভাড়াটা দিতে হত। তখন লজ্জায় পড়ে যেত।
একটা প্রেমিকা রিকশা ভাড়া দিবে আর
প্রেমিক দাড়িয়ে দাড়িয়ে তা দেখবে, এটা বড়
আত্মসম্মান বোধের ব্যাপার। গত কয়েক মাস
ধরেই টাকা পয়সার বড়
টানা পোড়নে কাটছে দিন। এই টানা পোড়নের
মধ্যেই সীমার সাথে ভালবাসা হয়ে যায়।
ভালবাসা আসার আর সময় পেল না।
পলাশীতে আসলে কোন কাজ নেই। তবুও রাদ
সেদিকেই যাচ্ছে। বুয়েটের বন্ধু
টিউশনি যোগাড় করে দিতে পারবে না। বেশ
কয়েকবার চেয়েছে বুয়েটে পড়া বন্ধু তামিমের
কাছে একটা টিউশনি যেভাবে হোক যোগাড়
করে দিতে। তামিম অনেক গুলো টিউশনি করায়।
তামিম আশা দিয়েও, প্রতি মাস শেষে বলে,
বন্ধু টিউশনি পাওয়া যায়। তবে যারা আসে,
তারা বুয়েট ছাড়া অন্য জায়গার ছাত্র
দিয়ে পড়াবে না।
- বুয়েট মানেই পড়াতে পারবে, অন্য কোন
জায়গার ছেলেরা পড়াতে পারবে না এটা কোন
কথা না তো। ভাল ছাত্র মানেই ভাল শিক্ষক
না।
- হাহা, এটা তুই আমি বুঝি। তারা বুঝে না।
রাদ প্রতিবার হতাশ হয়। হতাশ হয়েও বার
বার তামিমের কাছেই যায়। কাছের বন্ধু।
বিপদে আপদে আগেই সাহায্য করে। যাবার
পরেই জিজ্ঞেস করে, খেয়েছিস কিছু?
- না রে খাই নি। পকেটে টাকা নেই।
তামিম তখন নীরবে মানিব্যাগ থেকে ২০০,
৩০০ কখনও ৫০০ টাকা হাতের ভিতর
গুঁজে দিয়ে বলে, রাখ।
- টাকা দিয়ে কি হবে?
- কিছুই হবে না। আঙ্কেলের শরীর ভাল?
- না, বেশী একটা ভাল না।
- এই মাসে টাকা পাঠায় নি, না?
- না।
কখনও ছোট, কখনও বড় নিঃশ্বাস বের হয় মনের
অজান্তেই। বন্ধুর কাছ থেকে টাকা নিতে বড়
লজ্জা লাগে। তবুও বেহায়ার মত, সেখানেই
যায়। রাদদের মত ছেলেদের আত্মসম্মান বোধ
অনেক বেশী থাকে, কিন্তু ঘুরে ফিরে কেন যেন,
সেই আত্মসম্মান বোধ নষ্ট হবার মত কাজই
করতে হয়।
পকেটে রাখা মোবাইলটা কেঁপে উঠল। মেসেজ
এসেছে। মোবাইলের কাঁপাকাঁপিরও ধরণ আছে।
কাঁপা দেখেই বলে দেয়া যায়, মেসেজ, মিস কল
না কল। হাতে নিয়ে মেসেজ দেখল।
সীমা পাঠিয়েছে, আমি চলে এসেছি হোস্টেলে।
তুমি কোথায়? রাদ, তোমার একটা মোটর
সাইকেল থাকলে ভাল হত। সারাদিন দুজন
ঘুরতে পারতাম। আমার সব বান্ধবীর
বয়ফ্রেন্ডদের বাইক আছে না হয় গাড়ি। অবশ্য
এটা নিয়ে আমার কোন আফসোস নেই।
মেসেজটা দেখে একটু হাসল রাদ। কিছু
কান্না সুখের, আর রাদের এই হাসি হয়ত
কষ্টের, কিংবা উপহাসের। নিজেকে নিজের
উপহাস করার। মানিব্যাগটার দিকে আর
একবার তাকাল রাদ। হাসিটা আরও বিস্তৃত হল,
সে দিকে তাকিয়ে।
----------
এই ফুটপাথের সিঙ্গারা অনেক ভাল। ছোট ছোট
সিঙ্গারা, ৩ টাকা দাম। তবে খেতে বেশ
সুস্বাদু। রাদ
ফুটপাথে দাড়িয়ে সিঙ্গারা খাচ্ছে। ৩
টাকা দিয়ে সিঙ্গারা কিনে সাথে আবার
সালাদও পেল ফ্রি, শসার সালাদ। উপরে আবার
লবণ ছিটিয়ে দেয়া। আর একটু সালাদ খেতে মন
চাচ্ছে। তবে দোকানদারের কাছে চাইতে বড়
লজ্জা লাগছে। যদি চিৎকার করে বলে দেয়, ৩
টাকা দিয়া আপনারে তো দোকান
সুদ্ধা দিয়া দিব,না?
থাক সালাদ খেতে হবে না।
স্বাদে স্বাদে খাচ্ছে আর
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষ দেখছে।
রাস্তার গাড়ি গুলো জ্যামে পড়ে বড়
ধীরে ধীরে চলছে। চোখ না চাইতেও
আঁটকে গেল এক জায়গায়। একটা মোটর
সাইকেলের পিছনে সীমা বসা।
সামনে হেলমেট ছাড়া একটা ছেলে।
ছেলেটাকে জড়িয়ে নেই যদিও, তবুও এক হাত
দিয়ে আলতো করে কাঁধে হাত
দিয়ে ধরে রেখেছে সীমা। দৃশ্যটা দেখে,
মাথার ভিতর হঠাৎ করে ঝিম মেরে উঠল
রাদের। না চাইলেও বুকের ভিতর কিছু
বিঁধে গেল মনে হয়। সিঙ্গারার দাম
দিয়ে একটু আড়ালে লুকিয়ে গেল রাদ।
সীমাকে দেখছে এটা বড় কথা না।
রাদকে সীমা না দেখুক। মোটর সাইকেল
কিছুক্ষণের মধ্যেই দ্রুত
বেগে চলতে লাগলো জ্যাম ছাড়িয়ে। রাদ
রাস্তার পাশে এসে, তাকিয়ে রইল সে দিকে।
দূরে চলে যাচ্ছে দুজন। মনে হচ্ছে, বুকের
ভিতরের একটা সুতো টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মোটর
সাইকেল যত দূরে যাচ্ছে, সেই সুতোয় তত টান
লাগছে। ব্যথা তত বাড়ছে।
- তুমি আজ কার পিছনে ছিলে মোটর সাইকেলে?
- ও ও ও, সিহাব। আমার ভার্সিটির বন্ধু। অনেক
করে বলল, তাছাড়া ওর বাসায় আমাদের
হোস্টেলের ওখানে। তাই আমাকে পৌঁছে দিল।
- আচ্ছা। বুঝলাম।
- তুমি দেখলে কোথায় আমাদের?
মোবাইলে মেসেজ দেয়া নেয়া এইটুকুই। শেষ
মেসেজের কোন রিপ্লাই দিল না, রাদ।
ইচ্ছা করল না। কিংবা মন থেকেই বলল, থাক
না, আর কি দরকার? আসলেই মনে হচ্ছে রাদের
দরকার নেই কোন। কেন
মনে হচ্ছে জানে না রাদ। যোগাযোগ কেন যেন
বন্ধ করে দিল সীমার সাথে। ৩-৪ দিন রাদের
সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করল সীমা।
কি হয়েছে, সমস্যা কি? অনেক মেসেজ পাঠাল।
রাদ উত্তর দেয় নি। উত্তর দেয় নি, এই ৩-৪
দিনে করা ১০-১৫ বার কলের। এরপর কেন
যেন সীমাও যোগাযোগ বন্ধ করে দিল। হয়ত
রাগ করে রাদের উপর, রাদ যেমন করেছে। সময়
যায় চলে। চুপিসারে বুকের ভিতর কষ্ট
গুলো বাড়ে। মাঝে মাঝেই সীমার নাম্বারে কল
করে দু এক মিনিট কথা বলতে ইচ্ছা করে।
হয়ে উঠে না। কষ্ট গুলো জমিয়ে জমিয়ে এক সময়
থাকতে শিখে যায় একা রাদ। হয়ত সীমাও
শিখে গেছে। তবুও সেই সিঙ্গারার দোকানের
ওখানে মাঝে মাঝেই দাড়িয়ে থাকে রাদ।
সীমাকে দেখার আশায় হয়ত। হয়ত দেখার আশায়
আবার সেই ছেলের মোটর সাইকেলের
পিছনে বসে আছে। এবার আর অমন না,
জড়িয়ে ধরে। সেধে সেধে কষ্টের কিছু দেখার
জন্য অনেকটা দিন অপেক্ষা করে সেখানে রাদ।
তবে আর কখনও দেখা হয় না। হয়ত সীমা অন্য
দিক দিয়ে চলে যায়। মাঝে দুই দিন, বিকেল
বেলা দাড়িয়ে ছিল, সীমার হোস্টেলের
ওখানে, লুকিয়ে একটু দেখে কষ্ট পাওয়া।
সেখানেও দেখা হয় না। হয়ত সেই দুই দিন
বাহিরে বের হয় নি। এরপর মাঝে মাঝে শুধু
মনে পড়ে, দেখতে ইচ্ছা করে না।
মনে পড়া কখনও
ফুরিয়ে যাবে কিনা জানে না রাদ।
রাদ এখন বেশ ভাল ২ টা টিউশনি করায়।
তামিমই যোগাড় করে দিল। যে টাকা পায়,
তাতে ভালোই চলে যায়। কিছু টাকা হাতেও
থাকে। বাসা থেকে টাকা আনতে হয় না আর।
বরং বাকি টাকা দিয়ে মাঝে মাঝে একা একা রিকশায়
ঘুরতেও পারে। সীমা ঠিকই বলেছিল, রাতের
বেলা রিকশায় ঘুরতে সত্যি অনেক ভাল লাগে।
আজও ঘুরছে রিকশায়। চারপাশে দেখছে।
হাওয়া বাতাস লাগাচ্ছে গায়ে। রিকশায়
চড়ে আজ কেন যেন সীমার কথা মনে হল।
মনে হল,পাশে থাকলে খারাপ হত না। দুজন গল্প
করা যেত। সীমা আবার অমন হাতের সাথে হাত
বেধে কাঁধে মাথা রাখত। নাকটা ঘষে দিত
কাঁধের উপর। ভাবতে ভাবতেই মনে হল রাদ
সীমার মত কাউকে দেখেছে। পার্কটার সামনে,
একটা প্রাইভেট কার ঘেষে। রাদ
মাথা ঘুরিয়ে তাকাল, সেদিকে। সীমাই ওটা।
সীমার সামনে দাড়িয়ে আছে, মোটর সাইকেলের
সেই ছেলেটা। এবার আর ছেলেটা মোটর
সাইকেল নিয়ে আসেনি। এবার প্রাইভেট কার
এনেছে। সেই প্রাইভেট কারের
সাথে ঘেষে সীমা ছেলেটার কাঁধে দুই হাত
দিয়ে দাড়িয়ে আছে। ছেলেটার হাত সীমার
কোমরে। সীমা হাসছে। হাসছে ছেলেটাও।
সীমা রাদের রিকশার দিকে আড়
চোখে তাকাতেই রাদ, হুড তুলে দিল রিকশার।
আর পিছন ফিরে তাকাল না। তাকাবার কিছু
নেই। দেখার কিছু নেই। হারিয়ে যাওয়া কিছু
কার হাতে পড়ল, না পড়ল সেসব ভেবে কি লাভ?
একটা সময় রাদের রিকশায় চড়াবার সামর্থ্য
ছিল না। তখন সীমার মোটর
সাইকেলে চড়তে ইচ্ছা করত। এখন রাদের
রিকশায় করে ঘুরবার সামর্থ্য আছে, মোটর
সাইকেলে চড়ে চালাবার না। এখন
সীমা প্রাইভেট কারের কারও
সাথে ঘুরে বেড়ায়। রাদের যা সামর্থ্য নেই,
সীমার চাওয়া তা থাকত না। তার চেয়েও
বেশী। স্বাভাবিক ছিল এটা অস্বাভাবিক কিছু
না। সীমার চাওয়া থাকবে, তা পরিবর্তন হবে।
রাদের কিছু সামর্থ্য থাকবে না, একটা সময়
পর তা থাকবে। কিন্তু সময়ের
সাথে যা না পাওয়ার তা না পাওয়াই
রয়ে যাবে।
সময়ে সময়ে চাওয়া গুলো বদলায় পাওয়ার
অদ্ভুত হিসেবে। কেউ চাওয়া পাওয়ার হিসেব
কষে, পুরাতন নিয়মে। পুরাতন নিয়ম বদলে যায়,
চাওয়া পাওয়ার প্রবাহে। কারও সামর্থ্য
রিকশা না চড়া থেকে চড়া পর্যন্ত পৌঁছায়,
আবার কারও চাওয়া, তখন মোটর সাইকেলের
পিছনে চড়া থেকে, প্রাইভেট
কারে করে ঘুরে বেড়ানো পর্যন্ত চলে যায়। এই
দূরত্ব গুলো হয়ত ঘুচে যাবার না, ঘুচবে না।
না পাওয়া জিনিস না পাওয়া থাকে হয়ত কারও
জীবনে অনন্ত কাল। কোন নিয়ম
কষে বদলে ফেলা যায় না, সেই
চাওয়া পাওয়ার অদ্ভুত সমীকরণ। তবুও রাত
শেষে আলো আসবার স্বপ্ন দেখে সবাই। কেউ
সেই স্বপ্ন দেখা শুরু করে সন্ধ্যে বেলা, কেউ
কেউ সূর্য ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে। বুকের
কোণে চুপিচুপি লুকিয়ে রাখা ভালবাসা ঘিরে সেই
স্বপ্ন গুলো বাড়ে। বাঁচতে শিখায়।
চলতে শেখায়। কখনও একা ভাল থাকতেও
শেখায়। —

0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন