.
✍️আসিফুর রহমান ফারাবী।
"তুই আমার সাথে আর থাকবি না?"
সাদিয়া ব্যাগ গুছাতে গুছাতে আমার দিকে আড়চোখে তাকিয়ে ভেংচি কাটলো। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম,
"সত্যিই থাকবি না?"
"না, তোর সাথে আমি আর থাকবই না।"
"কই যাবি?"
"জাহান্নামে।"
বাল্যকালের পরিচিত কাউকে বিয়ে করলে জীবন শেষ। তারপর সেটা যদি হয় আবার বেস্ট ফ্রেন্ড তাহলে তো আর কোনো কথাই নেই। জীবনের বাকী যাও একটু ছিল তাও শেষ।
"ভাড়া লাগবে? কিছু টাকা দিয়ে দিব?"
সাদিয়া দরজার সামনে যেতে যেতে ভ্রু কুঁচকিয়ে আমায় বলল,
"হারামজাদা তুই জীবনেও মানুষ হবি না।"
"ক্যান? আমি মানুষ না? আমারে কী তোর এলিয়েন লাগে?"
সাদিয়া দরজা খুলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
"আল্লাহ! জীবনে কী পাপ করছিলাম; তুমি আমার কপালে এমন একটা বদ জামাই দিছো!"
ওর কথা শুনে আমি একটু আগ বাড়িয়ে বললাম,
"তোমার বাপে পাগল হইয়া গেছিলো আমার কাছে তোমারে বিয়া দিতে। তোমার মতো পেত্নীরে বিয়া করার কোনো ইচ্ছাই ছিল না আমার।"
সাদিয়া দাঁত কটমট করতে করতে দরজার পাশে তাকালো। সেখানে একটা ঝাড়ু রাখা ছিল। সাদিয়া সেটা হাতে নিতেই আমি পিছন ফিরে দৌড়।
"এ্যঁই তুই খাড়া, কই যাস? দৌড় দেস ক্যান? সাহস থাকলে সামনে আয়।"
আমি দেয়ালের আড়ালে গিয়ে দাঁড়িয়ে একটু উঁকি দিলাম।
"যা বাপের বাড়ি যা। দুইদিন পরেই তো আবার আইসা পরবি আমি জানি। মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্তই।"
সাদিয়া আর কিছু না বলে ঝাড়ুটা হাত থেকে ফেলে ব্যাগ-ট্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে গেলো। ও বেড়িয়ে যাওয়ার পর আমি একটু দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
"এই সাদিয়া শুন!"
সাদিয়া পিছন ফিরে তাকালো।
"টাটা, বাই।"
আমার কথা শুনে সাদিয়া জোরে একটা চিৎকার দিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলো।
সাদিয়া আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব যখন আমাদের বয়স দুই কী তিন বছর৷ একদম পাশাপাশি বাড়ি আমাদের। আমারটা ২৬ নাম্বার আর ওরটা ২৯। আমার বাসা থেকে ওর বাসায় যেতে সর্বোচ্চ ১৫ সেকেন্ড লাগে। ছোটবেলা থেকেই একই সঙ্গে বড় হয়েছি৷ একই প্লেটে ভাত খেয়েছি, একই বিছানায় ঘুমিয়েছি, একই টিভিতে কার্টুন দেখেছি। মানে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ অব্দি সবকিছু একসঙ্গেই ছিল। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি সব এক। আমাদের সম্পর্কটা যে বন্ধুত্বের ছিল সেটা প্রথম দেখায় কেউই বিশ্বাস করতো না। সবাই ভাবতো আমরা কাপল। আমরাও মানুষের কথায় অত নাক গলাতাম না৷ যার যা ভাবার ভাবুক, আমরা তো জানি আমরা কী! কিন্তু আমাদের এই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা যে পারিবারিকভাবে বিয়ের দিকে গড়িয়ে যাবে সেটা আমরা কেউই ভাবিনি।
আমাদের বিয়ে হয়েছে আজকে এক বছর, মানে বারো মাস। এই বারো মাসে সে কম করে হলেও ছত্রিশ বার ঝগড়া করেছে আমার সঙ্গে। প্রতিবার যা নিয়ে ঝগড়া হয় আমাদের মাঝে একটু ভাবতে গেলে সেটা আসলে কোনো ঝগড়ার বিষয়ই না। আসল কথা হচ্ছে, সে সবকিছুতে জিত্তে চায়। সে হেরে গেলো অথবা কোনো কথা নিয়ে আমার সঙ্গে আর পারছে বেস তখনই শুরু হয়ে যায় ঝগড়া। আর ঝগড়ার সময় তার প্রধান অস্ত্র হচ্ছে বাপের বাড়ি। কিছু হলেই বাপের বাড়ি চলে যায়। যাক এবার গেছে ভালো হয়েছে। একটু আরাম করা যাক কয়েকদিন। একদম ঝামেলামুক্ত।
সোফায় বসে বসে তামিল মুভি দেখছিলাম। কি যেন নাম! ওহ হ্যাঁ, সিতা রামান। একদম হার্ট টাচিং মুভি। ভিতরের যত ইমোশন আছে সব এক নিমিষেই চোখের জলে রূপান্তরিত হয়ে বাইরে বেড়িয়ে যায়। এগুলাই হচ্ছে মুভি। মুভি দেখতে দেখতে হঠাৎ দেখি বউয়ের কল। মুভি দেখার ধান্দায় থাকায় প্রথমবার ফোন রিসিভ করতে পারিনি। আমি একদম মুভির ক্যারেক্টারে ঢুকে গিয়েছি মনে হচ্ছে। চোখ বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে। বলতে গেলে এক প্রকার ফুঁপিয়ে কাঁদছিলাম। বউ দ্বিতীয়বার আবার কল করলো। এবার কাঁদতে কাঁদতেই ফোন রিসিভ করলাম।
"হ্যালো!"
আমি ফুঁপিয়ে কাঁদছি দেখে বউ জিজ্ঞাসা করতে লাগলো,
"এই তুমি কাঁদতেছো কেন? আরে কী হইছে তোমার? আসিফ? কী হইছে?"
আমি মুভির ক্যারেক্টারে এতটাই বিভোর হয়ে গিয়েছিলাম যে সাদিয়া কী বলছে আমি যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।
"আরে আমি তো এমনি চলে আসছি। তুমি জানো না তোমারে ছাড়া আমি থাকতে পারি না আসিফ। আমি রাগ করলে তুমি রাগ ভাঙাও দেখে আমি বারবার রাগ করি। এবার তুমি আমার জন্য কেঁদেই ফেলেছ! আমি এক্ষুনি আসছি।"
বলেই সাদিয়া ফোন রেখে দিলো। আমি মোবাইলটা পাশে রেখে দিয়ে মুভি দেখতে লাগলাম।
কিছুক্ষণ পর সাদিয়া ব্যাগ-ট্যাগ নিয়ে হাজির।
"এই আসিফ কী হইসে তোমার? আরে বোকা আমি কী একেবারে চলে গেছি কোনো হ্যাঁ? এমনভাবে কাঁদতেসো কেন? তোমারে ছাড়া আমি থাকতে পারব বলো!"
কথাগুলো বলে সাদিয়া আমাকে দু'একবার ধাক্কা দিলো। ধাক্কা খেয়ে আমি সাদিয়ার দিকে তাকালাম।
"কী হইছে তোর? কখন আসলি?"
আমার কথা শুনে সাদিয়া একটু অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো। হঠাৎ সে টিভির স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখে, সিতা রামান মুভি চলছে স্ক্রিনে আর সেটা দেখে আমি কাঁদছি
"তুই মুভি দেইখা কাঁদতেছিলি?"
"না নয়তো কী! তোর জন্য কাঁদব নাকি!"
আমার কথা শুনে সাদিয়া তার খোলা চুলগুলো ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে চোখের চশমাটা খুললো। তারপর ধাম-ধুম করে কয়েকটা কিল-ঘুষি দিয়ে ফুলতে ফুলতে রুমে চলে গেলো।
মুভি শেষ করে আমি রুমে গিয়ে দেখি সাদিয়া কাঁথা দিয়ে চুপচাপ শুয়ে আছে।
"কী হয়েছে? এভাবে চুপচাপ কেন?"
সাদিয়া আমার কথার কোনো জবাব দিলো না। আমি ওর দিকে তাকাতেই খেয়াল করলাম ওর চোখ ফুলে গেছে। কান্না করে চোখ ফুলিয়ে ফেলার মতো মেয়ে সাদিয়া নয় আমি যতটুকু জানি। আমি সাদিয়ার কাছে গিয়ে বিছানায় বসলাম।
"মাথা ব্যথা করছে খুব?"
সাদিয়া আস্তে করে উত্তর দিলো, "হুম।"
সাদিয়ার যখন প্রচন্ড মাথা ব্যথা করে তখন ওর চোখ ফুলে যায়। অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। মানুষের মাথা ব্যথা উঠলে যে চোখ ফুলে যায় সেটা আমি সাদিয়াকে না দেখলে কখনো বিশ্বাসই করতাম না। আমি খানিকটা ভয় পেয়ে গেলাম। আজ এতটা খেপানো একদমই উচিৎ হয়নি আমার। ওর অন্যকোনো অসুস্থতা হলে আমি এতটা ঘাবড়ে যাই না যতটা মাথা ব্যথা উঠলে যাই। একদম সেন্সলেস হয়ে যায় বলতে গেলে। একটু পর পর চিৎকার দিয়ে উঠে যন্ত্রণায়।
"মাথা ব্যথার লিকুইড দিয়ে একটু ম্যাসাজ করে দিই?"
"লাগবে না।"
আমি বিছানা থেকে উঠে গিয়ে ওয়ারড্রব থেকে মাথা ব্যথার লিকুইডটা এনে সাদিয়ার পাশে আবার বসলাম।
"দেখি মাথাটা আমার হাঁটুর উপরে রাখো।"
"বললাম তো লাগবে না।"
"একটা মাইর দিব কিন্তু। মাথা দাও।"
সাদিয়া আমার হাঁটুর উপরে মাথা দিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো।
"আমার দিকে তাকাও।"
"উহু।"
"তাকাতে বলছি না আমি!"
"না, তাকাবো না।"
"আচ্ছা স্যরি।"
সাদিয়া চুপ করে রইলো। অতঃপর আমি সাদিয়ার কপালে একটু চুমু দিয়ে মাথায় লিকুইড দিয়ে ম্যাসাজ করতে লাগলাম। সে হঠাৎ করে তখন আমার দিকে তাকালো।
"চোখ বন্ধ করো। না হলে জ্বলবে।"
"আমায় ভালোবাসো?"
"একটুও না।"
"সত্যি?"
আমি চুপ করে রইলাম।
"আচ্ছা আমি যদি কখনো হারিয়ে যাই তখন কী করবে তুমি? পাগলের মতো আমায় খুঁজবে?"
"একদমই না।"
"তো কি করবা?"
"বলবো, আপদ বিদায় হয়েছে। তখন আরেকটা বিয়ে করব।"
সাদিয়া আবার খেপে গেলো।
"ওই, তুই ছাড় আমারে। আমার মাথা ম্যাসাজ করতে হবে না তোর। ছাড় আমারে, ছাড়!"
সাদিয়া আমার হাঁটু থেকে মাথা সরানোর জন্য ধস্তাধস্তি করতে লাগল। আমি ওকে শক্ত করে ধরলাম যাতে উঠে যেতে না পারে।
"কী সমস্যা তোমার? এরকম ধস্তাধস্তি করতেসো কেন?"
"আমি তোর কাছে থাকমু না। আমি বাপের বাড়ি চইলা যামু।"
আমি সাদিয়ার কপাল থেকে হাত সরিয়ে নিয়ে তাকে হাঁটুর উপর থেকে উঠিয়ে দিলাম। সে বসে আমার দিকে তাকালো।
"আচ্ছা যা, বাপের বাড়ি যা। আমার কিন্তু মাইয়া রাশি। মাইয়ারা দেখলেই ফিদা হইয়া যায়। বিয়া করার লাইজ্ঞা পাগল হইয়া যায়। তুই নিজেও জানোস। ঠিকাছে তুই যা বাপের বাড়ি।"
কথাটা বলে আমি অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম। সাদিয়া খানিকটা চুপসে গেলো। তারপর আস্তে করে আবার আমার হাঁটুর উপরে মাথা এলিয়ে দিলো।
"খালি আমি দেইখা তোর সংসার কইরা গেলাম৷ অন্যকোনো মাইয়া হইলে কবে লাত্থি মাইরা যাইতোগা!"
সাদিয়ার কথা শুনে আমি হেসে উঠলাম।
"এগুলা তো আমাদের আম্মাদের ডায়লগ। নতুন কিছু থাকলে বল।"
"হারামী!"
"আমি তোরে রাইখা অন্যকাউরে বিয়া করব এইটা তুই বিশ্বাস করলি?"
"না করার কিছু নাই। ব্যাডা মানুষ!"
.
পরেরদিন সকাল ৬ টায় হুট করে আমার ঘুম ভেঙে গেলো একটা বাজে স্বপ্ন দেখে। দেখলাম, সাদিয়া আমাকে ডিভোর্স দিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছে। এরকম স্বপ্ন দেখলে আর ঘুম হয়??
ঘুম থেকে উঠে আমি সাদিয়ার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। মেয়েটা গভীর ঘুমে মগ্ন। ঘুমন্ত অবস্থায় কত সুন্দর লাগছে সাদিয়াকে। একদম পরীর মতো। মাই কুইন। মুখের উপর থেকে আমি চুলগুলো সরাতে গিয়েই ধরা খেয়ে গেলাম। সাদিয়া উঠে গেলো।
"সকাল বেলা কইরা কী শুরু করসোস হ্যাঁ? ঘুমাইতেও দিবি না শান্তিমতো?"
আমি চুপ করে রইলাম।
"কী হইলো চুপ কইরা আসোস ক্যান?"
"কী কইতাম?"
সাদিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,
"আমারে ছাড়া যখন থাকতেই পারোস না তাইলে আমারে খেপাস ক্যান? জানোস না আমার রাগ অনেক।"
"তোর কচুর রাগ!"
"তাও ভালো হবি না হারামজাদা!"
আমি আধা শোয়া থেকে পুরোপুরি শুয়ে পড়লাম৷ তারপর বেশ কিছুক্ষণ নিরবতা।
"চা খাবি?"
"আমি যে তোর জামাই অথচ একদিনও দেখলাম না আমারে 'তুমি' কইরা কইতে। সম্মানই দিলি না!"
আমার কথা শুনে সাদিয়া একটু হাসলো।
"মাননীয় জামাই মহোদয়, আপনি কী এই শীতের সকালে এক কাপ রঙ চা বারান্দায় রকিং চেয়ারে বসে দু'জনে মিলে ভাগাভাগি করে খেতে চান?"
আমি সাদিয়ার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকালাম।
"তুমি শুয়ে থাকো। আমি চা করে আনছি।"
"তুমি বানাইবা?"
"ইয়াপ।"
বলেই আমি কাঁথা ছেড়ে উঠে রান্নাঘরে গেলাম। রঙ চা বানানো একদম সহজ। শীতের সকালে রঙ চায়ের কোনো তুলনা হয় না। যারা আমার মতো রঙ চা পছন্দ করেন কড়া লিকার দিয়ে; তাদের মনে নিঃসন্দেহে কোনো ভেজাল নেই। তারা একদম খাঁটি মনের মানুষ।
"তুমি এখনো শুয়েই আছো! উঠ, চা বানানো শেষ।"
সাদিয়া বিছানা ছেড়ে উঠে আমার সাথে বারান্দায় গিয়ে বসলো। গরম গরম চা'য়ে চুমুক দিতেই শরীরটা একদম সতেজ হয়ে উঠলো। আহা রঙ চা!
সাদিয়া তার কাপে একটু চুমুক দিয়ে আমার দিকে তাকালো।
"তোমার চায়ের কাপটা দাও তো।"
"কেন?"
"দিতে বলছি দাও।"
"না দিব না। তোমারটা তুমি খাও।"
সাদিয়া ভ্রু কুঁচকে তাকালো আমার দিকে।
"দিতে বলছি না আমি?"
"নিজেরটা খাও। আমারটা কেন চাও?"
"চা কিন্তু এখন শরীরে ঢেলে দিব বলছি!"
আমি আমার চায়ের কাপ'টা সাদিয়ার হাতে দিয়ে ঘাপটি মেরে বসে রইলাম।
সে কাপে এক চুমুক দিয়ে আবার আমার দিকে তাকালো। আমি এক চোখ বন্ধ করে আরেক চোখে সাদিয়ার দিকে তাকালাম। সাদিয়া মুচকি হাসি দিয়ে বলে উঠলো,
"তুমি কী কোনোদিনও ভালো হবে না আসিফ? তুমি কী সেই পুরোনো খেলা আবার শুরু করেছ?"
আমি মাথা নিচু করে হাসতে লাগলাম।
"ভালো হয়ে যাও আসিফ। তোমাকে আমি অনেক সময় দিয়েছি।"
চা করার সময় আগেই পাতিলে চিনি দেইনি। নামানোর পরে দুইটা আলাদা কাপে রেখে আমার কাপের মধ্যে চিনি দিয়ে সাদিয়ার কাপে ইচ্ছেমতো লবণ দিয়ে মিশিয়ে দিয়েছি।
"হারামী এখনো হাসতেছে!"
কথাটা বলেই সাদিয়া আমার পিঠে কয়েকটা কিল-ঘুষি দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।
"আয় আমার কম্বলের মধ্যে আয়৷"
সাদিয়া আমার কম্বলের মধ্যে এসে আমার কাঁধে মাথা রাখল। তারপর ভোরবেলার পাখির মনোরম কিচিরমিচির শব্দ শুনতে লাগলো।
.
জীবনে এরকম কিছু মানুষ থাকা ভীষণ জরুরী, যার সাথে শত ঝগড়াঝাটি করার পরেও ছেড়ে যাওয়ার চিন্তা মাথায় আনবে না; হাজারটা খুনসুটি করার পরেও রাগ করে চুপচাপ বিছানার এক কোণায় গিয়ে গাপটি মেরে বসে থাকবে না। যার হাসিমাখা মুখখানি দেখলে যান্ত্রিক শহরের সারাদিনের কোলাহল, ব্যস্ততা, ক্লান্তি নিমিষেই মুছে যাবে। যার সঙ্গে কোনোরকম সংকোচবোধ না করে নির্দ্বিধায় সবকিছু শেয়ার করে নিজেকে একটু হালকা ভাবা যাবে। আসলেই, দিনশেষে আমাদের এরকম একজন মানুষের ভীষণ প্রয়োজন; অনেক প্রয়োজন।
.
.jpeg)
1 coment rios:
Nc
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন