#writer Abdul Ahad
স্যার আসবো?আমার ডাকে শফিক সাহেব মাথা উচিয়ে আমার দিকে তাকালেন।আর আমি তাকিয়ে ওনার দিকে।আমাকে দেখে লোকটা নরম গলায় বললেন,
-জ্বী,আসুন আসুন।
আমি একটু এগিয়ে গিয়ে বললাম,
-বসবো?
-হ্যা অবশ্যই।অনুমতি নেওয়া লাগে নাকি।
-স্যার একটা কথা ছিল।
-জ্বী বলুন।
-আমার ছুটি লাগবে।দু দিনের।
আমার কথায় শফিক সাহেব আমার দিকে যেন অবাক চোখেই তাকালেন।হয়তো ভাবছেন তিনি ঠিকই শুনেছেন কিনা।ছুটি লাগবে।এতদিন চাকরি জীবনে যে একদিনও ছুটি চায়নি তার আজ ছুটি লাগবে।সত্যিই কি তিনি ঠিক শুনেছেন সেটা পরীক্ষা করার জন্যে তিনি আবারও বললেন,
-কি লাগবে?
-জ্বী,ছুটি লাগবে।
-আপনি শিওর?
-জ্বী স্যার।
-হুট করে ছুটি চাইলেন।কোন কারন আছে?আপনি সুস্থ আছেন?বাসার কেও অসুস্থ?
-না স্যার।সবাই সুস্থ।বাসায় বিয়ে,তাই ছুটি লাগবে।চেয়েছিলাম বিয়েটা শুক্রবার হলে ভাল হতো।ছুটি লাগতো না।কিন্তু হলো না ওভাবে আর।
-বাহ,ভাল তো।তবুও এতদিন পর ছুটি চাইলেন আপনি।যান দু দিনের ছুটি তিনদিন করে দিলাম।
আমি শফিক সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে উঠে দাড়াতেই লোকটা আস্তে করে বললো,
-আচ্ছা,বিয়েটা কার?
শফিক সাহেবের কথায় আমি মুচকি হেসে বললাম,
-জ্বী স্যার, আমার।
আমার কথায় শফিক সাহেবের মুখ এবার আরও একটু হা হয়ে গেলো।তিনি কিছুক্ষন এভাবেই তাকিয়ে রইলেন।তার চুপ থাকায় আমি আবারও বললাম,
-ভেবেছিলাম আপনাকে আসতে বলবো।কিন্তু বলতে পারছি না স্যার।সরি।
-কেন?
-ভেবেছি অল্প কিছু লোক নিয়েই যাব।যাব,মেয়ে নিয়ে চলে আসবো।
-খাবেন না?
-খাওয়ার আয়োজন না করলেই ভাল হয়।তবুও যদি না ছাড়ে তাহলে খেতে পারি।
-অফিসের আর কাউকে জানিয়েছেন?
-না স্যার।শুধু একজন জানে।
-কে?
-মিস মিহিন।
-শুধু এই একজনই?
-হ্যা।কারন বিয়েটা ওর সাথেই হচ্ছে।আসি স্যার।ধন্যবাদ।
কথাটি বলে আমি আর দাড়াই না।রুম থেকে বের হয়ে আমি পেছনের দিকেও তাকাই না।জানি এসময় শফিক সাহেবের মুখের অবস্থাটা কেমন।যেমন ই হোক,সমস্যা নেই।তিনি এখন এটা নিয়ে ভাববে কিছুক্ষন।তারপর আস্তে আস্তে নতুন কাজে ডুবে যাবে।যাক।
ঘড়িতে চারটা বেজে ত্রিশ মিনিট।অফিস থেকে বের হতেই ফোনটা কেপে ওঠে।পকেটে রাখা ফোন আমার বের করতে ইচ্ছে করে না।আমি একটু এগিয়ে রিক্সাওয়ালা চাচার দিকে হাত বাড়িয়ে বলি,
-যাবেন?
লোকটা আমার কথায় কিছু বলে না।রিক্সা এনে আমার পাশে দাড় করায়।এর মাঝেই ফোনটা আবারও কেপে ওঠে।মলিন মুখে আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফোনটা বের করে রিক্সায় চেপে বসি।মিহিনের ফোন।
ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে মিহিনের কাপা গলা,
-কোথায় তুমি?
-অফিস থেকে বের হলাম।আজ অফিসে আসলে না যে?
-গুছিয়ে নিচ্ছিলাম সবকিছু।কিন্তু কালকের প্লান ক্যান্সেল।
-আচ্ছা।তাহলে কি বিয়েটা হচ্ছে না?
-হচ্ছে।আজকেই।আমি বের হয়েছি।তুমি চলে এসো।
-হঠাৎ আজকে?
-বাসায় জেনে গেছে আমাদের কথা।
-আশ্চর্য! কিভাবে জানলো?
-জানিনা।
-আচ্ছা,শফিক সাহেবের সাথে তোমাদের কোন সম্পর্ক আছে?
-কোন শফিক সাহেব?
-অফিসের।ফর্সা,টাক মাথা। গোলগাল চেহারা।
-ওনাকে নিয়েও ফাজলামো। তোমার বস।চাকরি চলে যাবে কিছু বললে।
-ওনার সাথে তোমাদের কোন সম্পর্ক আছে কি না?
-হ্যা।বাবার সাথে যোগাযোগ হয়।অনেক আগের পরিচিত।
- তাহলে এই ভদ্রলোকটা একটা শুভ কাজ আটকে দেওয়ার চেষ্টায় আছে।আসলে ছুটি নেওয়ার সময় ওনাকে আমিই বলেছি,তোমার সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে।তবে পালিয়ে বিয়ে সেটা বলিনি।
আমার কথায় মিহিন কিছুটা চুপ থেকে আস্তে করে বললো,
-যেটা করার সেটা তো করেই ফেলেছো।আমি অপেক্ষা করছি।চলে আসো।
-তুমি পৌঁছে গেছো?
-হ্যা।
-আসছি।আচ্ছা আমরা পালিয়ে বিয়ে করছি কেন?
-তুমি কি এই সময়েও আমার সাথে মজা করবে?
-আসলে ভুলে গিয়েছি।মনে করতে পারছি না।
-বাসায় যদি জানে যে, যে ছেলেকে আমি পছন্দ করি তার আপনজন বলতে কেও নেই। কোন গার্ডিয়ান নেই।তাহলে কি তারা বিয়ে দেবে আমাকে তার সাথে?বলো,তুমিই বলো?
মিহিনের কথায় আমি একটু চুপ করে থাকি।মেয়েটা মন্দ কিছু বলেনি।এরকম ছেলের সাথে কোন বাবাই চাইবে না তার মেয়ের বিয়ে হোক।আর দেবেও না।আমি আরও একটু চুপ থেকে বলি,
-আচ্ছা,এসব নিয়ে বিয়ের পর কথা বললো।তুমি দাড়াও।আমি আসছি।
ফোনটা কেটে আমি রিক্সাওয়ালা চাচার দিকে তাকাই।নরম গলায় বলি,
-কি বুঝলেন?কোথায় যেতে হবে?
লোকটা আমার কথায় হাসে।দাত কেলিয়ে হাসে।হাসতে হাসতে বলে,
-কাজি অফিসে।
আমি আর রিক্সাওয়ালা চাচার কথায় কিছু বলি না।মুচকি হেসে চোখটা বন্ধ করি।ঘুটঘুটে অন্ধকারে মিহিনের মুখটা আবারও ভেসে ওঠে।এদিকে রিক্সা চলতে শুরু করেছে।গন্তব্য কাজি অফিস।
0 coment rios:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন