Wtiter_উম্মে রোকসানা
হঠাৎ ম্যাসেঞ্জারে দিবা একটা ছবি পাঠিয়ে বললো,
--এ-ই রাত্রি দেখতো,এ-ই শাড়িটা তোর না?তোর বার্থডে যেদিন আমরা উদযাপন করেছি সেদিন এটাই তো পরেছিলিস,তাইনা?
দিবা আমার বান্ধবীর নাম।আমি ছবিটা দেখে দিবাকে বললাম,
--আরে নাহ্। আমার শাড়ি আমার আলমারিতে আছে।উনিও হয়তো একই শাড়ি কিনেছেন।একই রকম জিনিস তো সচরাচর থাকেই মার্কেটে।
--শাড়ি মার্কেটে থাকলেও একই রকম মানুষ কিন্তু সচরাচর দুটো মার্কেটে কিনতে পাওয়া যায় না।
কথাটা বলে দিবা অন্য একটা ছবি আমাকে পাঠায়।যে ছবিতে ঐ মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে রিয়াদ দাঁড়িয়ে আছে।রিয়াদ আমার বরের নাম ছিলো।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে দিবাকে বললাম,
--আমাদের ডিভোর্স হয়েছে একমাস চারদিন আজ।কাউকেই কিছু বলিনি।কি বা বলবো? আমার ডিভোর্স হয়েছে এটা? জীবনটা ভীষণভাবে ঘেঁটে গেছেরে।
--আমি আধঘন্টার মধ্যে তোর বাড়িতে আসছি।রেডি হয়ে থাক,আমরা বের হবো।
কথাটা বলে দিবা অফলাইনে চলে যায়।
আমি নিস্তব্ধ হয়ে দিবার পাঠানো ছবিটা জুম করে দেখছি।মেয়েটার কানে আমার বিয়ের ঝুমকোজোড়া।পরনে আমার শাড়ি,গলায় বিয়েতে আমার মায়ের দেওয়া চেইনটা,পাশে আমারই সেই মানুষটা।সবই আমার আবার কিছুই আমার নয়।কি এক জঘন্য অনুভূতির সৃষ্টি হচ্ছে নিজের মাঝে।
আটমাস তেরো দিনের সংসারে কাঁচা হাতে কত কিছু কিনেছি, কত কষ্ট করে সাজিয়েছিলাম সব।আরো জুম করে দেখলাম আমার হাতের তৈরি বিছানার ময়লা দূর করার বস্তুটাও বিছানার উপর পড়ে আছে।আমার একটা কথা খুব জানতে ইচ্ছে করে, অন্যের জিনিস কিংবা গুঁছিয়ে রাখা সংসারের সুবিধা ভোগ করার অনুভূতি কি রকম হয়?
কলিং বেলের আওয়াজ শুনে দরজা খুললাম।দরজা খুলতেই দিবা আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখলো।আমার দমবন্ধ হয়ে আসছিলো।
মানুষ যখন খুব ইমোশনাল হয়ে যায় তখন যদি কাছের কেউ জড়িয়ে ধরে তখন বোধহয় ইচ্ছে করে হাউমাউ করে কাঁদতে।আমারও তেমনটা মনে হচ্ছে।আমি কাঁদছিও, কিন্তু হাউমাউ করে না,নিঃশব্দে। যতোটা নিঃশব্দে কাছের মানুষজন হারিয়ে যায় ঠিক ততটা।
দিবা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,
--জানিনা,এমনটা কেন হলো?তবে তোর মতো মেয়েকে নিয়ে যে সংসার করতে পারলো না তার মতো অভাগা দুনিয়াতে আর কেউ নেই।চোখের পানি মুছে ফেল।যে লোক ডিভোর্সের এক মাসের মাথায় আরেকটা বিয়ে করতে পারে এছাড়াও আগে দুইবার বিয়ে হয়েছে এমন টাইপ মেয়েকে বিয়ে করে সে যে কতোটা চরিত্রবান মানুষ তা ঠিক বুঝেছি।
আমি দিবার চোখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি।
দিবা আমার চোখের পানি মুছে দিয়ে বললো,
--হ্যাঁ,মেয়েটা আমার পরিচিত।যাকে বিয়ে করেছে মেয়েটা আমার এলাকারই একটা বড় আপু।আমার দুই ব্যাচ সিনিয়র ছিলো।একই স্কুল থেকে পড়েছি।বরাবরই ছেলে নাচানো টাইপ মেয়ে।তোর বর কিভাবে যে এ-র ফাঁদে পড়লো আল্লাহ ভালো জানে।
তবে তুই বেঁচে গেছিস নিশ্চিত। যে ছেলের রুচি এতোটা নিম্নমানের সে কোনোভাবেই তোকে ডিজার্ভ করে না।
আমি দিবাকে বললাম,
--আট মাস তেরো দিনে আমাকে বাবার বাড়িতে কেবল একবার নিয়ে এসেছে তিনদিনের জন্য। আর দেয় নি।বাবার বাড়ির কারো সাথে আমাকে কথা বলতে দিতো না।বিয়ের পর এক মাস ভালোই ছিলো।বাকি সাত মাস নেশা করে এসে আমাকে শারিরীক মানসিক টর্চার করতো খুব।তবুও চুপ করে পড়ে রয়েছিলাম।কোনো প্রতিবাদ করিনি।বাবা বেঁচে নাই,ঘরে আরও দুটো বোন।মা একা কতোটা ভোগ করবে? মেনে নিবে কতোটা?ভেবেছি আমি ধৈর্য ধরলে হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে।সারাক্ষণ রিয়াদকে বুঝাতাম।কিন্তু দিনশেষে কোনো পরিবর্তন নাই।আমার শাশুড়ি কখনোই ছেলেকে কিছু বলতো না।উল্টো বলতো এ-ই বয়সে এসব না করলে বুড়ো হয়ে করবে নাকি? একটুআধটু এ-ই বয়সে ছেলেরা করেই।মেনে নিতে পারলে থাক নতুবা বেরিয়ে যা।
মে মাসের ২৮তারিখে শুনতে পাই মা খুব অসুস্থ। শুনেই পাগলের মতো হয়ে গেছি বাড়ি আসার জন্য। কিন্তু না,আমাকে তারা দিবেনা বাবার বাড়িতে আসতে।অনেক কান্নাকাটি করার পর রাজি হয়েছে দিবে কিন্তু তিনদিনের জন্য।তিনদিনের জন্য পাঁচটা ড্রেস দিয়ে রিয়াদ আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে চলে যায়।
এরপর তিনদিন প্রায় শেষ।এদিকে মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।এভাবে মা'কে রেখে আসতে মন সায় দিচ্ছিলো না।থেকে গেলাম পুরো মে মাসটা।জুনের ২৯তারিখে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। আগষ্টের ৯ তারিখে ডিভোর্স পেপার।
একটাই আফসোস,আমার দোষ কি সেটা আজও জানলাম না।কথাগুলো বলতে বলতে খুব কেঁদেছিলাম সেদিন।
মনে হচ্ছিলো এইতো কিছুদিন আগের ঘটনা সব। কিন্তু দেখতে দেখতে এ-ই ঘটনার বয়স প্রায় তিন যুগ ছাড়িয়েছে।আজ ২০৫০ সাল। আবার সেই আগষ্টের ৯তারিখ।আগে ভাবতাম এ-ই দিনটা ক্যালেন্ডারে না থাকলে ভালো হতো,এ-ই বাজে স্মৃতির অভিশাপ থেকে বেঁচে যেতাম।কিন্তু এখন আর এসব কিছু মনে হয় না।
মজার কথা হচ্ছে সেবার বছর ঘুরতেই আগষ্টের ৯তারিখে ধুমধাম করে আমার আবার বিয়ে হয়।এবং বছর দুয়েক পর এ-ই আগষ্টের ৯তারিখেই আমার আয়াত পৃথিবীতে আসে।একই তারিখে আমি এতো পেয়েছি যে, যা হারিয়েছি তা আর আমার মাথাতে আসেই নি।আল্লাহর দেওয়ানেওয়ার বিষয়টা আশ্চর্য সুন্দর! আলহামদুলিল্লাহ।
আজও রিয়াদের বিষয়টা আমার মাথাতে আসতো না।হুট করেই রিয়াদের সাথে আমার দেখা হয়ে গেলো লঞ্চে।পাশ কাটিয়ে চলে আসার জন্য পা বাড়িয়েছি।কিন্তু রিয়াদ পেছন থেকে বললো,
--রাত্রি ?
থমকে গেলাম।ঘুরে তাকিয়ে বললাম,
--আমায় তো মনে রাখার কথা নয়।তবুও মনে রাখলে?
মৃদু হেসে বললো,
--যে সারাদিন মাথায়,মনে আছে। তারে নতুন করে আর কি মনে করবো? যাকগে সেসব কথা।ভালো আছো?
--আলহামদুলিল্লাহ। তুমি? তা এখনও আগের মতো নেশা করো?আমাকে যেমন মারতে দ্বিতীয় জনকেও মারধর করো?
রিয়াদ থমকে গিয়ে বললো,
--এতো বছর আমায় খুব অভিশাপ দিয়েছো তাইনা?
--ধুর।অতো সময় কই?ছেলে বর এসবের মাঝে তোমায় ভাবার সময়ই তো পাইনা।
--ওহ্।
জানো, অনেক বছর হলো ডাক্তারের কড়া নির্দেশে নেশা ছেড়েছি।শরীর খুব একটা ভালো না,বুঝলে?আমার জীবনটা ভুলে ভুলেই গেলো।বছর না ঘুরতেই বউয়ের আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। টাকা পয়সা গয়নাগাটি সব নিয়ে ভেগেছে আমার খালুর সাথে।কেমন বিচ্ছিরি মানসিকতা,ছিঃ! যে একবছর সংসার করেছি তার সাথে,একটা দিনও শান্তি পাইনি।সে আমার থেকেও বেশি নেশা করতো।দিনরাত চব্বিশঘণ্টা ফোনটা কানে লাগিয়ে রাখতো।আমি তখন থেকে উপলব্ধি করতে শুরু করি, তোমার সাথে অনেক বেশি অন্যায় করে ফেলেছি।
আমি মৃদু হেসে বললাম,
-- মানুষ বড্ড আজব জিনিস রিয়াদ।একই ঘটনা নিজের সাথে না ঘটলে কখনোই বুঝে-না এ-র ফলাফল কতটা নির্মম।
আমাকে আয়াত ফোন দিচ্ছে।আমার আর ওর বাবার বিবাহ বার্ষিকী পালন করবে বলে পাগল হয়ে আছে।ভিতরে ওর বাবা ঘুমোচ্ছে। আমাদের গন্তব্য প্রায় এসে গেছে।আয়াতের বাবার ঘুম ভাঙ্গাতে হবে।আমাকে যেতে হবে রিয়াদ।
--চলে যাবে?
--আমাকে অনেক আগেই চলে যেতে বাধ্য করেছো।নতুন করে আর কি যাবো?যাকগে,ভালো থেকো।গায়ের চাদরটা ঠিকভাবে জড়িয়ে নাও।বৃষ্টি হচ্ছে তো,ঠান্ডা লেগে যাবে।
কথাটা বলেই হাঁটতে শুরু করলাম।যতোটা দ্রুত হাঁটা যায়।ততটা দ্রুত যদি বিষণ্নতাগুলো দূর হয়ে যেতো।জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে পানির উঠানামা দেখছি।ভাবছি,জীবন কত অদ্ভুত! যে যা করে তার ফল কতোটা নিখুঁত ভাবে পেয়ে যায়।রিয়াদকে এতোটা অসহায়ভাবে দেখবো,কখনোই ভাবিনি।কখনোই না।
আমি এখনো কাঁদছি।জীবন আমাকে অনেক দিয়েছে,অনেক! কিন্তু আমার সেই কাঁচাহাতের গোছানো ফেলে আসা সংসারটা অবহেলায় তছনছ হয়ে গেছে।জীবনে আসা প্রথম জিনিসগুলো মানুষ কখনোই ভুলে না।আমিও বোধহয় এখন পর্যন্ত ভুলতে পারিনি।আদৌ পারবো কিনা জানিনা।
বিঃদ্রঃ আংশিক সত্য ঘটনা।যার সাথে এমনটা হয়েছে,দু'আ করি মেয়েটার শেষটা সুন্দর হোক।আল্লাহ তাকে এতো বেশি দান করুক যেনো সে যা হারিয়েছে তা নির্দ্বিধায় ভুলে যায়।
2 coment rios:
Tricktunesbd24.wordpress.com
“sillage” is currently collaborating with FACEBOOK, YOUTUBE & INSTRAGAM
Countless internet celebrities and celebrities on Facebook and YouTube cooperate with the platform, and they will spend money on the platform to increase their popularity regularly every month, so we don’t need to worry about what to do if we don’t have a task. The platform implements the membership system for the long-term stability of a group of users to help complete the platform tasks, and the business partners who cooperate with us are also assured of placing advertisements on our platform.
Click on link and register.https://mobile.sillage.site/#/register?SN=24D841&code=6556238600
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন