বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

Romantic lovestory



'দোস্ত একটা উপকার করবি ?? বল না করবি,
প্লিইইজ'
'কি উপকার?'
'চল আমরা রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস চেইঞ্জ
করে ফেলি!'
'মানে ??'
'মানে তুই একটা ফকিন্নি !! এই নরমাল কথা
বুঝিস না ক্যান ?? মানে তুই আর আমি
ফেইসবুকে রিলেশনশিপ দিয়ে দিব'
রিততি'র কথা শুনে যতটা না অবাক হয়, তার
চেয়ে বেশী বিরক্ত হয় মুহিন। এই সব
আজাইরা ফাইজলামি করার কোনো মানে
হয় ?!!
'দ্যাখ রিততি, এমনিতেই প্যারায় আছি।
টিউশনি টাও ভোগে গেছে। এই সময় এই রকম
ফাইজলামি একদম ভাল্লাগে না'
'পুরো ব্যাপার টা না শুনেই চিল্লাস
ক্যান ?? তুই ই ফেইসবুকে আমার একমাত্র
বেস্ট ফ্রেন্ড। তোর সাথেই শেয়ার করি সব
কিছু। তাই বিপদে পড়ে তোর কাছেই আসছি।
আর তুই এরকম করতে পারলি??'
'বিপদ !! কিসের বিপদ ??'
'তোকে জাস্ট আমার সাথে কিছুদিন অভিনয়
করতে হবে। কিছুদিন পরেই রিলেশনশিপ
ডিলেট করে দিস'
'কি বলিস উল্টা পাল্টা !! তোর যে মাথা
খারাপ হইসে, বাড়ীর লোক জানে??'
'ওই ফকিন্নি একদম চুপ !! চুপচাপ মন দিয়ে
শোন , বলি- ওই যে ওই 'তেপান্তরের
রাজপুত্র' ছেলে টা আছে না ?? আরে ওই যে
সেলিব্রেটি টাইপের। কিছুদিন আগে ওর
সাথে আমার রিলেশন হয়ে গেছে। আমাদের
রিলেশনশিপ হাইড করা আছে। ওর সাথে
গতকাল আমার সেই লেভেলের ঝগড়া হইসে।
সেলিব্রেটি বলে বেশী বেশী ভাব। ওরে
একটু জেলাস আর সাইজ করাতেই তোকে
কিছুদিনের জন্য এই অভিনয় টুকু করতে হবে।
প্লিজ দোস্ত, না করিস না'
রিততি'র এই শেষ মেসেজ টা দেখা মাত্রই
বড় ধরনের একটা ধাক্কা খেলো মুহিন।
স্তব্ধ হয়ে গেল নিমেষেই। রিততি
রিলেশনে গেল অথচ ওর বেস্ট ফ্রেন্ড টা ই
জানলো না ??
'ভালো খুব ভালো। কিন্তু রিলেশনে গেলি,
একটা বার আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে
করলি না ??'
'আরে কিছুদিন হলো হয়ে গেছে। ভাবছিলাম
আজই রিলেশনশিপ টা পাবলিক করে তোকে
সারপ্রাইজ দিব। কিন্তু গতকালই উনি দুই
লাইন বেশী বুইঝা বিশাল একটা ঝগড়া
বাঁধাইলো। প্লিজ দোস্ত, বেশী না তুই ৭ টা
দিন একটু অভিনয় কর। ওনার ভাব একটু কমুক।
তারপর তুই রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ডিলেট
করে দিস'
-------------
আজ রিততি ও মুহিনের ফেইক রিলেশনের
সপ্তম দিন। আজই ওদের রিলেশনশিপ
স্ট্যাটাস ডিলেট করার দিন। এই সাতটি
দিন ই সুনিপূন ভাবে অভিনয় করে গেছে
মুহিন। একে অপরকে ট্যাগ দিয়ে দিয়ে কত
রোমান্টিক রোমান্টিক স্ট্যাটাস দিয়ে
গেছে দুজন, চ্যাট করতে করতেই রাত গুলো
পেড়িয়ে গেছে।
সেদিন রিলেশনশিপ দেওয়ার রাতে দুজনের
মাঝে সে কি উত্তেজনা। সবাই যখন একে
একে উইশ করতে থাকলো লজ্জায় কেউই কারো
কমেন্টের রিপ্লাই পর্যন্ত দেয় নি। একটা
ফেইক রিলেশনে যে এতটা অনুভূতি চলে আসে
ভাবতে পারেনি মুহিন।
ভালবাসার অভিনয় টা খুবই মারাত্মক।
অভিনয় করতে করতে অনেক সময় সত্যিকারের
ভালোবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়। মায়া পড়ে
যায় অভিনয় করা মানুষ টার উপর। জিনিস
টা খুব ভালো ভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছে
মুহিন।
এই সাত টা দিন মুহিনের জীবনের শ্রেষ্ঠ
কয় টা দিন ছিল। কিন্তু মুহিন যখনই ভাবতো
এটা কেবলই ভালবাসার অভিনয় মাত্র।
তখনই এক ধরনের শূন্যতা এসে গ্রাস করতো
মুহিন কে। মুহিন সিদ্ধান্ত নেয় আজই আইডি
ডিএক্টিভেট করে দিবে সে। ফেইসবুকে
থেকে রিততি'র সাথে অন্যকারো রিলেশন
মেনে নিতে পারবেনা সে কিছুতেই।
একের পর এক রিততি'র মেসেজ আসতেই থাকে
মুহিনের ইনবক্সে। ওদিকে কোনো প্রকার
ভ্রুক্ষেপ নেই মুহিনের।
...রাত ১১ টা বেজে ৫৫ মিনিট।
রিলেশনশিপ ডিলেট করা হবে একটু পরেই।
তারপর আইডি ডিএক্টিভেট করে ফেইসবুক
থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে মুহিন। কেউ
জানবে না, জানবে না রিততিও।
হঠাৎ একটি নোটিফিকেশন চলে আসে। মুহিন
নোটিফিকেশনে ক্লিক করতেই দেখে মুহিন
কে ট্যাগ করে রিততি'র স্ট্যাটাস-
'জানি তুই আমার প্রেমে পড়েছিস। কিন্তু
আমি তো তোর প্রেমে পড়েছি অনেক আগেই।
জানতাম তোকে প্রপোজ করলে তুই রাজি হতি
না। কারন তুই ভার্চুয়াল রিলেশনে বিশ্বাস
করিস না। কিন্তু এখন তোর সেই অবিশ্বাস
টা হয়তো নেই। কারন তুই এই ক'দিনে
নিশ্চই বুঝে গিয়েছিস, ভার্চুয়াল রিলেশন
গুলো ফেইক হলেও অনুভূতি গুলো ফেইক হয় না,
ভালবাসার গভীরতা গুলো ফেইক হয় না।
'তেপান্তরের রাজপুত্র' নামের কোনো
আইডিই আমার লিস্টে নেই। জাস্ট এতটুকু
মিথ্যে না বললে হয়তো তোকে এতটা কাছে
পেতাম না। ভালবাসা টা যে কি জিনিস,
বুঝাতেও পারতাম না। বিশ্বাস কর, এই ৭টা
দিন তুই অভিনয় ভাবলেও এতটুকু অভিনয়
আমার ভিতর ছিলো না। একদম না !!'
রিততি'র স্ট্যাটাস টা পড়েই অনেক টা
স্তব্ধ হয়ে যায় মুহিন। কমেন্ট করতে গিয়ে
মুহিনের হাত কাঁপছে বার বার। কি কমেন্ট
করবে বুঝতে পারছে না সে কিছুতেই ।
আচ্ছা, এর আগে কমেন্ট করতে তো হাত এতটা
কাঁপতো না !!
অনুভূতি গুলো আসলেই ফেইক হয় না।
কক্ষনো না।

শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।