রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

অামার গার্লফ্রেন্ড একজন সম্মানিত পতিতা


এই খবর অাছে....!!!খবর....!! গরম গরম খবর!!প্রথম অালো,ইত্তেফাক,সমকাল,প্রতিদিন,সময় !এই খবর অাছে খবর !গরম গরম খবর...! দিব না কি একটা ম্যাডাম?
একটা পত্রিকা বাড়িয়ে ধরে অক্কাস।মেয়েটি রসিকতা করে জানতে চাইঃ অাচ্ছা তোমার খবর সত্যিই কি খুব গরম! শীতের ভিতর খবরটা হাতে নিলা কি শরীল সত্যিই গরম হবে..! হিহিহিহিহি!
অাক্কাস অপমানবোধ করে খুব ; ও রাগ করে চলে যায়।মেয়েটি সুন্দরী হতে পারে তাই বলে সে অপমান করবে কথাচ্ছলে !অাক্কাস গরীব হতে পারে; অভাবী হতে পারে কিন্তু অশিক্ষিত সে নয়।অাক্কাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র।পড়াশোনার খরচ যোগাতে এবং পেটের ভাত জোটাতে স্টেশনে স্টেশনে খবরের কাগজ ফেরি করে।কাজটা ছোট হতে পারে;কিন্তু সে তো ভিক্ষা করছে না।অাক্কাসের বন্ধুরা যখন বান্ধবীদের শরীরের অলিগলি নিয়ে ব্যস্ত;তখন অাক্কাস খবরের কাগজ নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রুটি রুজির জন্য।অাক্কাস সৎ, অাক্কাস কর্মঠ; অাক্কাস তাই কারোর উপহাস সহ্য করতে পারে না।

অাজও অাক্কাস খবরের কাগজ নিয়ে ব্যস্ত।একটা ট্রেন যাবার মুহূর্ত এটি।প্রতিটি কামরার জানালা থেকে কেউ না কেউ পত্রিকা চেয়ে নিচ্ছে।হঠাৎ পিছন থেকে একটা মেয়ের কন্ঠ শুনে চমকে ফিরে তাকায় অাক্কাস।" কি গরমওয়ালা অামাকে একটা গরম খবর দিবা? হিহিহিহি...."অাক্কাস অাজ মেয়েটিকে চিনতে ভুল করে না।কিন্তু গতকালকের মত রাগ করে চলে যায় না।মেয়েটার মুখের দিকে তাকায় ও।মেয়েটির হাসির ভিতর একটা অদ্ভুত মাদকতা অাছে।ওর হাসির শব্দটা যেন কাঁচ ভাঙ্গা অাওয়াজের মত সুন্দর।পত্রিকা দিতে দিতে ভাল করে দেখে অাক্কাস। মেয়েটির ঠোঁটে গাঢ় করে লাল লিপস্টিক দেওয়া।চোখে গাঢ় করে মাসকারা লাগানো।সারা মুখে উগ্র মেকঅাপ। চোখ দুটো যেন চুম্বকের মত টানে।একবার তাকালে ওই চোখে মুগ্ধতায় কাছে যেতে ইচ্ছা করবে যেকোনো পুরুষের।অাক্কাস বেশিক্ষণ তাই তাকিয়ে থাকতে পারে না।চোখ সরিয়ে নেয়।এবং কাগজটা হাতে গজিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় ভীড়ের ভিতর।পিছনের দিকে ভুলেও তাকায় না অাক্কাস।

অাজ অন্য দিনের থেকে অাগে চলে অাসে অাক্কাস স্টেশনে।রাতে ভাল করে ঘুম হয় নাই অাক্কাসের।তন্দ্রা এলেই মেয়েটির কাঁচভাঙ্গা হাসিতে ঘুম কেটে যায়।
সারারাত এলোমেলো ভাবনারা ওকে ঘুমাতে দেয়নি অাক্কাসকে।
পত্রিকা গুলো নিয়ে হাঁটছে ঠিকই সে; কিন্তু অন্য দিনের মত গরম খবর,গরম খবর বলে ক্রেতার দৃষ্টি অাকর্শন করে না ও।ওর দৃষ্টি সেই মেয়েটাকে খুজে চলে নিভৃতে।
এই গরম খবরওয়ালা ছোকরা তোমার খবরের দাম নিবা না?- হাসিহাসি মুখ করে সেই মেয়েটা মুখোমুখি দাঁড়ায় অাক্কাসের।অাক্কাস মাথা নাড়িয়ে বলে না।
অাক্কাস জিভ দিয়ে নিজের শূকনো ঠোটটা ভিজিয়ে নেয়।তারপর কাঁপাকাঁপা স্বরে প্রশ্ন করে অাপনি প্রতিদিন স্টেশনে কি করেন?
মেয়েটির হাসিটা হঠাৎ করে থেমে যায়।অাক্কাসের সরল মুখের দিকে তাঁকায়। অাচ্ছা ছোকরা এটা জানার জন্য কি অাজ এতো তাড়াতাড়ি কামে অাসা?
অাক্কাস ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানাই।
মেয়েটা অারো গভীর ভাবে অাক্কাসকে দেখে।অাক্কাসও দেখে মেয়েটাকে।মেয়েটার বয়স কতই বা হবে; হয়তো ১৭ বা ১৮ বছর। উজ্জল শ্যামলা গায়ের রং।পাতলা শাড়িতে যৌবনের চিহ্ন পরিষ্কার বোঝা যায়।ছিপছিপে দোহারা গড়ন।মাথায় কালার করা লম্বা চুল।দেখতে রাজকন্যা রাজকন্যা লাগে মেয়েটিকে।অাক্কাস যত দেখে তত মুগ্ধ হয়!
অাচ্ছা ছোকরা অামাকে দেখা হল তোমার?দেখা শেষ হলে বল। হিহিহিহি....
অাক্কাস লজ্জা পেয়ে চোখ সরিয়ে নেয়।
মেয়েটি বলে চল একটু নির্জনে কোথাও বসি।
মেয়েটি অাগে অাগে; অাক্কাস পিছন পিছন যায়।তারপর তারা স্টেশন থেকে একটু দূরে গিয়ে মুখোমুখি বসে।
চটপটে মেয়েটা এই প্রথম যেন কথা হারিয়ে চুপ করে যায়।জিভ দিয়ে ঠোটটা ভেজাই। তারপর হাতব্যাগ থেকে সিগারেট বের করে মুখে দেয়।পাঁকা ধূমপায়ীর মত সিগারেট ধরিয়ে বারকয়েক টান দেয় ও।অাক্কাস চুপচাপ চেয়ে থাকে মেয়েটির দিকে।
মেয়েটিই নিরবতা ভেঙ্গে কথা বলে।অাচ্ছা ছোকরা তোমার নাম কিঃ
-অামার নাম অাক্কাস।
-অামার নাম ইতি।রাজশাহী বাড়ি অামার।অামার বাবা একজন ডাক্তার। অামি গত বছর HSC পাশ করেছি। অামি ঢাকায় এসেছিলাম নায়িকা হবার অাশায়।বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু কপালটা ভাল ছিল না।অামি অাসলে একটা প্রতারক চক্করের কবলে পড়েছিলাম। তাই অাজ অামার এই অবস্থা। ওরা অামাকে জোর করে পতিতাবৃত্তি করিয়েছে।
অামি একজন পতিতা।অনেকে অবশ্য সম্মান করে বলে বৈশ্য।
অারো অনেক অনেক কথা বলে ইতি।ইতির চোখে জল থইথই করে...!
অাক্কাস যেন ইতির শেষ কথা গুলো শুনতে পাই না।অাক্কাসের কানে বাজে অামি একজন পতিতা......!
অাক্কাস অনেক কিছুই ভাবে।ইতি একটা সময় চুপ করে যায়। অাক্কাসের চোখে জল দেখে অবাক হয় ইতি।
অাক্কাসের হাতটা ধরে ইতি।কেঁপে উঠে অাক্কাস।ফুপিয়ে কেঁদে দেয় শিশুর মত।বড্ড মায়া লাগে ইতির।
দুজনেই চুপ করে থাকে।প্রকৃতিতে তখন অন্ধকার নেমে এসেছে।অাক্কাস ইতিকে কিছু বলতে চাই।ইতি ও বুঝতে পারে।
অাক্কাস ইতির মুখের দিকে তাকায়।ইতির একটা হাত টেনে নেয় নিজের হাতের ভিতর।তারপর খুব অাশা নিয়ে একটা কথা বলে অাক্কাস।
-ইতি তুমি অামাকে ভালবাসবে? অামি এখনো ছাত্র। অায় রোজগারও বেশী করি না।যা অায় হয় তা দিয়ে বেশ অাছি একা।কিন্তু তুমি যদি অামার সাথে থাকো তবে না হয় অারো একটু বেশী পরিশ্রম করব।
বিশ্বাস কর তোমাকে কখনো অসম্মান করব না।অনেক অনেক অভাব হয়তো থাকবে তোমার ; কিন্তু ভালবাসার অভাব কোনদিন হবে না তোমায় কথা দিলাম।
ইতির কথা গুলো বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় না।অঝোরে কাঁদে ইতি।মাগরিবের অাযান হয়ে যায়।ইতি হঠাৎ করেই অাক্কাসকে অন্ধকারে জড়িয়ে ধরে। পরম অাদরে চুম্বন দেয় ইতি অাক্কাসকে।
এভাবেই অনেকটা সময় কেটে যায়।
অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে ইতি বলে তা হয় না অাক্কাস...!
-কি হয় না?
-তোমার সাথে অামার মিল হয় না; হতে পারে না।
-কেন পারে না?
-অাবেগ দিয়ে হয়তো কয়েকটা দিন ভাল থাকা যায়; কিন্তু সারা জীবন শুধু অাবেগকে অাঁকড়ে বাঁচা যায় না।
-ইতি তোমার প্রতি এটা অাবার অাবেগ নয়।এটা অামার ভালবাসা।
-মেনে নিলাম।কিন্তু সমাজের চোখে অামি একজন বৈশ্য। অামার পরিচয় তুমি কি দিতে পারবে লোকসমাজে? কি বলবে তাদের? তাদের বলবে তুমি যাকে ভালবাসো সে সমাজের একজন উচ্ছ শ্রেণীর পতিতা ! তার থেকে এই ভাল হয় অাক্কাস তুমি সময় নাও।সারারাত ভাবো।অামি তো হারিয়ে যাচ্ছি না।অাজ সারারাত ভাবার পরও যদি মনে কর তুমি অামাকে নিয়ে সুখী হতে পারবে; তবে কাল এসো।অামি তোমার জন্য অপেক্ষা করব।
অাক্কাসকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই অন্ধকারে মিলিয়ে যায় ইতি.....!

লিখছেন:পরাগ হাশমী।


শেয়ার করুন

Author:

আমি সজীব হোসাইন -এই ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা পাশাপাশি লেখালেখির কাজটাও করি। অনলাইনে প্রযুক্তির বিষয় নিয়ে যা জানি তা মানুষের মাঝে শেয়ার করার ইচ্ছায় এ ব্লগ টি তৈরি করা।