ছেলেটা একটু আনকালচার্ড টাইপের!
গার্লফ্রেন্ড কে নিয়ে কোথায় বসতে হয় আর
কোথায় বসতে হয় না সেটাই বুঝে না!
তবে ছেলেটা ভালো, অন্তত মর্ডান সব
ছেড়া ফাটা প্যান্ট শার্ট পড়া ছেলেদের
থেকে প্রয়ন্তির কাছে এই
ছেলেটাকে ভালো লাগে। কুচকানো শার্ট,
বাম হাতে ক্যাসিও ঘড়ি, মাথায় চুলের বাম
পার্শ্বে সিঁথি। কাউকে আকর্ষন করার মত
কোন গুন নেই ছেলেটির মধ্যে তবু
প্রয়ন্তি ছেলেটার প্রতি আকর্ষন অনুভব
করে।
হয়তো ছেলেটার ভিতর কোন গুন
না থাকতে পারে, হয়তো বাসের পিছনের
ছিটে বসে ছেলেটা প্রিয়ন্তিকে চুমু
খেতে পারে না, পারে না জড়িয়ে ধরতে।
কিন্তু ছেলেটা ভালোবাসতে পারে প্রচন্ড,
কিন্তু সেই ভালোবাসা আবার প্রকাশ
করতে পারে না। লিন্তু
প্রিয়ন্তি বুঝতে পারে, কারন
প্রিয়ন্তিকে ছেলেটা জায়গা দিয়েছে একেবারে মনের
ভিতরে। আর সবচেয়ে আশ্চার্য লাগে যেটা,
ছেলেটা শুধু কল্পনা করেই প্রিয়ন্তির স্কেজ
করে দিতে পারবে, হুবহু প্রিয়ন্তি।
চার বছরের বেশি সময় ধরে রিলেশন আর
কয়েকদিন পর বিয়ে অথচ আজ পর্যন্ত
নির্দ্বিধায় প্রিয়ন্তির হাতটা পর্যন্ত
ধরতে পারে না।
প্রিয়ন্তি নিজে থেকে যদি ধরে তবে ছেলেটা খুব
খুশি হয়। হয়ত খানিকটা লজ্জ্বাও পায়, বার
বার শুধু চশমা ঠিক করে আর নিচের
দিকে তাকিয়ে থাকে।
এখন পর্যন্ত যতবার ছেলেটার
সাথে প্রিয়ন্তি ডেটিং এ গেছে তার প্রায়
প্রতিটি ঘটনাই
মনে পড়লে প্রিয়ন্তি হেসে ওঠে।
ডেটিং ১ঃ এটা ছিলো ছেলেটির
সাথে প্রিয়ন্তির প্রথম দেখা।
ছেলেটা কখনো দেখা করার কথা বলত না,
অথচ প্রিয়ন্তি দেখা করার জন্য ছটফট করত,
কিন্তু ছেলেটা বুঝতো না। তারপর একদিন
প্রিয়ন্তি নিজে থেকেই বলল, সে তার
সাথে দেখা করতে চায়। ছেলেটা বলল,
আচ্ছা তুমি বাসা থেকে বের হও আমি আসছি।
প্রিয়ন্তি বেশ সেজেগুজে বের হয়! প্রথম
ডেটিং বলে কথা! ছেলেটি আসলো তারপর
বলল চলো,
ছেলেটি সামনে সামনে হাটতে লাগলো আর
প্রিয়ন্তি পিছনে পিছনে। কিছুদূর যাওয়ার
পর মোড়ের টং এর
দোকানে এসে বেঞ্চে বসে পড়ল আর
প্রিয়ন্তি কে বলল বসো।
প্রিয়ন্তি কি করবে বুঝতে পারছিলোনা তারপরও
বসে পড়লো।সামনের
ছেলেগুলো তারদিকে বারবার তাকাচ্ছিলো,
প্রিয়ন্তি অস্বস্তিতে ভুগছিলো। অথচ
ছেলেটির কোন ভ্রুক্ষেপ নেই, দু কাপ চায়ের
অর্ডার দিলো চা খেয়ে বাসায়
পৌছে দিয়ে ছেলেটা চলে গেলো।
সেখান থেকে ফিরে প্রিয়ন্তির প্রচন্ড রাগ
হয়েছিলো!
যে ছেলে ডেটিং করতে গার্লফ্রেন্ড
কে নিয়ে যায় মোড়ের টং এর দোকানে তার
সাথে আবার কিসের রিলেশন। কিন্তু
ছেলেটার কন্ঠ শুনলেই প্রিয়ন্তি সব
ভুলে যেত, সেদিন ও ভলে গেল।
ডেটিং ২ঃ রমনা পার্কের
মধ্যে দিয়ে হাঁটছে দুজন, পাশাপাশি। হটাত
প্রিয়ন্তি ছেলেটার হাত ধরলো,
ছেলেটা হাত ছাড়িয়ে নিলো এবং বলল,
কি করো মানুষ দেখছে যে! প্রিয়ন্তির
প্রচন্ড রাগ হল! হন হন করে হাঁটা শুরু
করলো,
ছেলেটা কি করবে বুঝতে পারছিলোনা,
হটাত করে দৌড়ে গিয়ে হাত ধরে থামালো।
প্রিয়ন্তি হাত ধরে হাঁটছে,
ছেলেটা বারবার চশমা ঠিক করছে!
ডেটিং ৩ঃ প্রিয়ন্তির বাসায় কেউ নেই।
প্রিয়ন্তি ছেলেটাকে ঢাকলো।
সে জানে যে যদি সে ছেলেটাকে বলে বাসায়
কেউ নেই তাহলে সে আসবে না, তাই
প্রিয়ন্তি এটা না বলে বলল, মা তোমার
সাথে কথা বলতে চাচ্ছে। ছেলেটা গেল,
গিয়ে দেখে বাসায় কেউ নেই,
প্রিয়ন্তি একা বাসায়, পরনে নিল রঙ এর
একটা শাড়ি পরা। ছেলেটা হতবম্ভ
হয়ে গেলো। প্রিয়ন্তিও চুপ করে আছে,
মনে মনে ভাবছে একবার ঝাপ দিয়ে পড়ি,
পরে আবার কি ভেবে দিলো না। চা খাবে?
ছেলেটা আকস্মিক প্রশ্নে কিছু না বুঝেই
বলল হু। প্রিয়ন্তি চা নিয়ে এলো।
ছেলেটা এককাপ চা খেয়ে বের
হয়ে চলে এলো।
ডেটিং ৪ঃ প্রিন্তি খাটের উপর বসে আছে,
আজ তাদের বাসর! ছেলেটা এসে বলল, এত
গরমের ভিতর ঘোমটা দিয়ে আছো কেনো?
ছেলেটার মধ্যে কোনো রমান্টিকতা নেই।
কই নিজে এসে তুলবে তা না!
প্রিয়ন্তি নিজেই তুলল।
ছেলেটি এসে শুয়ে পড়ল পাশে। প্রিয়ন্তির
রাগে গা জ্বলে যাচ্ছে,
ঝাপিয়ে পড়লো ছেলেটির উপর! তারপর
শিখিয়ে দিলো ছেলেটিকে অনেক কিছু,
বাসর ঘর হয়ে উঠলো মধুমুয়। চাঁদ
এসে দাঁড়ালো জানালায়,
জ্যোৎস্না অতীথি হয়ে এসে ঘর
আলোকিতো করে দিয়ে যায়। ছেলেটি আজ
হটাত করেই অবলিলায় কত কথা বলে যায়।
৪ নং প্রিন্তির কল্পনা করা।
সে কল্পনা করে ছেলেটি এমন কিছুই করবে।
তাই সে কেমন করবে তা আগে থেকেই
ভেবে রেখেছে।।
।

1 coment rios:
Https://tricktunesbd24.wordpress.com
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন