valobashar golpo
হাতে একটা মাঝারি ধরনের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেলাম আর আমি এক পাশে সড়ে গেলাম। হয়ত পরেই যেতাম কিন্তু এটা তো আমার শখের বক্স তাই কোন রকমে বাচাঁলাম। কিন্তু যখন খেয়াল করতে গেলাম কার সাথে ধাক্কা খেলাম তখন দেখি দুইটা ভয়ানক চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর খুব রাগে জ্বলছে। মনে হচ্ছে, আমি ওর মেকআপ বক্স চুরি করছি।তখন আমিই বললাম..
হাতে একটা মাঝারি ধরনের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেলাম আর আমি এক পাশে সড়ে গেলাম। হয়ত পরেই যেতাম কিন্তু এটা তো আমার শখের বক্স তাই কোন রকমে বাচাঁলাম। কিন্তু যখন খেয়াল করতে গেলাম কার সাথে ধাক্কা খেলাম তখন দেখি দুইটা ভয়ানক চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর খুব রাগে জ্বলছে। মনে হচ্ছে, আমি ওর মেকআপ বক্স চুরি করছি।তখন আমিই বললাম..
-- কি হলো এমন করে তাকিয়ে কি দেখছো?
-- ওই তুমি কে হে?এই বাসায় তো আগে দেখি নি।
-- আগে দেখবে কিভাবে? আমি তো আজ সকালেই তিনতলায় পরিবার সমেত ভাড়া এসেছি।তুমিও মনে হয় এই বাসায় থাকো তাই না।
-- না জাহান্নামে থাকি।
-- ও তেরি, কবে মরলে?
-- ইইই যা রাগ হচ্ছে না। মনে হচ্ছে তোমার সাউন্ড সিস্টেমটা ফেলে দেই।
-- ওই আমি করলাম তোমার?
-- কি করলে হে? নিচে তাকিয়ে দেখো আমার জন্মদিনের কেকটা সম্পূর্ণ ফেলে দিলে ।
ওর কথা শুনেই নিচে তাকাই। আরে হা আমি তো খেয়ালই করি নি। ইশশ এটা কিন্তু ঠিক হয় নি।
-- ও সরি। আমি ইচ্ছা করে করি নি। বক্সটা আমার মুখের সামনে ছিল তো তাই মশাটার হাতে যে কেক দেখতে পারি নি।
-- ওই মানে কি আমি মশা?
-- কথা বললাম হাটের মাঝে আর যার কথা তার কানে বাজে।
বলেই আর দাড়াবার কথা মনে না করে সোজা উপরে উঠতে লাগলাম। আর মেয়েটা নিচে আমাকে ইচ্ছামত বকতে লাগলো। সত্যি মেয়েটা খুব মজার মানুষ তবে ওর হাতের কেকটা না পরে মোবাইল টা পরলে ভাল হতো। অন্তত কেক কাটার খুশিটা তো পেতো। আজ হয়ত আমাদের রুমে শিউর একটা বিচার যাবে। আর প্রথম দিনেই বিচার তাও একটা মেয়ের থেকে, এটা কি মেনে নেওয়া যায়। না আজ বিকেলেই ওর সাথে কথা বলে সরি বলে দিতে হবে নয়ত বাবার কানে এইসব গেলে আমাকে হয়ত বাসা থেকে বের করেই দিবে।
.
তারপর রুমে গিয়ে জিনিস পত্র সাজাতেঁ লাগলাম। তাছাড়া আরো অনেকেই মিলে হাতে হাতে কাজ করছি তাই তেমন একটা অসুবিধা হয় নি। এটা তিনতলা বাড়ি আর আমরা তিন তলায় ভাড়া আসছি। বাড়িওয়ালা থাকে দুতলায় আর একতলায়ও অন্য ভাড়াটিয়া।
আসলে বাবা তো সরকারী কাজ করেন তাই ওনার বদলি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ টু নরসিংদী । আর আমরাও বাসা বদলি করতে হলো। আমার লেখাপড়া শেষ হয়েছে গত বছর আর এখনও চাকরীর চেষ্টায় আছি। আর আমার একটা বোন আছে স্নিগ্ধা, এবার ইন্টার ১ম বর্ষে পরে। এবার এখানের একটা কলেজে ভর্তি করে দিতে হবে।
.
সারাদিন কাজ করে পুরো ক্লান্ত হয়ে পরলাম। দুইটা রুম গুছানো হয়েছে আর বাকি রইছে আমার রুমটা। খুব ক্লান্ত লাগছে এখন। সকালবেলা আড়াই ঘন্টা জার্নি করে এখানে আসলাম পরে একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করলাম আর রুম গুছিয়ে আমি ক্লান্ত। ইশশ যদি আমার একটা জি এফ থাকতো তাহলে একদিনের জন্য বাসায় এনে রুমটা গুছিয়ে রাখতাম। কাজের চাপে মাথাটা ঘুরাচ্ছে তাই একটু ছাদের দিকে গেলাম। ছাদের দরজার কাছে যেতেই অনেক গুলো মেয়ের আওয়াজ শুনতে পাই। তাই প্রথমে মাথাটা আগে বের করে দেখি কে কে আছে? আরে হা সকালের মেয়েটাতো তার বান্ধবীদের নিয়ে বার্থডে পার্টি করছি। কয়েকজন তো সেলফি তোলায় ব্যস্ত। আমারও মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি চাপলো তাই আর লেট না করে ওদের সামনে হাজির। আর সরাসরি সেই মেয়েটাকে বললাম...
-- কি গো জানু আমাকে একা রেখেই তুমি জন্মদিন পালন করছো?
সবাই তো আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে কারন আমাকে আজ সবাই প্রথম দেখলো আর প্রথম দেখায় সবাইকে অবাক করলাম। আমি আবার বললাম...
-- কি গো চুপ করে আছো কেন? ও বান্ধবীদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেওয়াতে বুঝি তোমার সমস্যা হচ্ছে। ওকে আমি নিজেই পরিচয় করে নিচ্ছি। হাই, আমি রাজ।
-- ওই তুমি আমার কোন কালের জানু হে? আজ সকালে বাসায় আসলে আর আমাকে জ্বালাতে শুরু করলে। এখনো তো আমার নামটাও জানো না। আর জানু বলো।
আমি তারাতারি কেকের দিকে তাকালাম আর ওর নাম লেখা আছে দেবিকা।
-- কে বলল আমি তোমার নাম জানি না?
-- হুমম এখন কেক দেখে বলবে।
-- আরে না, আমি আগে থেকেই তো জানি।
-- হইছে এবার যাও তো।
-- ওকে মহারাণী তোমার যাহা আজ্ঞা।
.
পিছনে না তাকিয়ে সামনে তাকিয়ে আমার রুমে চলে গেলাম আর হাসতে হাসতে আমার রুম সাজাতে লাগলাম। হা হা হা বাসায় এসেই একটু মজা করে নেওয়া গেল। মনে হচ্ছে মেয়েটা আমার সমান প্রতিপক্ষ। বিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটা বস্তুর রিয়েকশন আছে তেমন ওর থেকে যে আমি মহা রিয়েকশন পাবো এটা আইডিয়া হয়ে গেছে। তাই আপাতত দুইটা দিন ওর থেকে দূরে দূরে থাকবো।
.
ওইদিন রুম ঘুছিয়ে আর রুম থেকে বার হই নি। আমি এমনি এসেই মেয়েটার জন্মদিনটাকে পুরো হেডফোনের প্যাচঁ বানাই দিলাম।
সকালে ঘুম ভাঙ্গলো স্নিগ্ধা মানে আমার বোনের ডাকে। নতুন জায়গা তো তাই রাতে তেমন ঘুম হয় নি তবে শরীর ক্লান্ত থাকায় শেষ রাতে চোখটা লেগে গেছিল।
-- ওই ভাইয়া উঠ না।
-- হুমম বল কি হইছে?
-- বাবা নাকি বলছে সামনে না বাজার আছে ওইখান থেকে সবজি কিনে এনে দিতি।
-- কিন্তু আমি তো চিনি না।
-- আরে একটু হাটতেঁ হাটতেঁ চিনে যাবি। যা তো
-- যাচ্ছি।
তারপর বেরিয়ে গেলাম বাজারের খুজেঁ। বাজারেও আসলাম আর বাজারও করলাম কিন্তু সমস্যা হলো একটাই, এখন বাসায় যাওয়ার রাস্তা ভুলে গেছি। আসলে ঘুম চোখে বাজারে আসছি তো আর মোবাইলটাও সাথে আনি নি যে বাবাকে ফোন দিয়ে বলবো।
যাই হোক, বাজারের ব্যাগ নিয়ে একটা মোড়ে দাড়িয়ে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে ভাবতে লাগলাম কি করা যায়?
হঠাৎ কারো কন্ঠ শুনলাম আমার উদ্দেশ্যে। তাকিয়ে দেখি দেবিকা....
-- কি মিস্টার বাড়ি ভুলে গেলে নাকি?
-- না না এটা কেমন করে সম্ভব? আমি তো এমনি এলাকাটা দেখছিলাম।
-- হুমম তাই তো প্রায় অাধা ঘন্টা হলো এক জায়গায় দাড়িয়ে আছো।
আমি আর জবাব না দিয়ে মাথা চুলকাতে লাগলাম। তখন ও একটা হাসি দিয়ে বলল...
-- হইছে আর বলতে হবে না। এবার চলো। আসলে ওই যে সামনের বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলায় আমাদের কোচিং। আর অনেকখন তোমারে দেখলাম দাড়িয়ে আছো তাই ভাবলাম হয়ত রাস্তা ভুলে গেছো নয়ত এমন পাকাঁ ছেলে এক জায়গায় কি এত সময় দাড়িয়ে থাকে?
-- তোমার ধারনা খুব ভাল আর কালের জন্য সরি। আসলে কাল একটু দুষ্টামী করার চেষ্টা করছিলাম।
-- হুম বুঝছি, রিটার্ন দুষ্টামী আমিও ফেরত দিবো তবে আপাতত আপনাকে বাসাটা চিনিয়ে দেই।
-- ওকে
আর কোন কথা হয় নি দুজনের মাঝে। যতটুকু বুঝলাম আমার কপালে শণি ঠিকই আছে। এখন দেখাচ্ছে মানবতা, পরে দেখাবে পাষন্ডতা। এজন্যেই হয়ত বলে নারী চরিত্র বেজায় জটিল। বাসায় ওর পিছু পিছু আসলাম কিন্তু অবাকের বিষয় হলো ও যখন ওদের ফ্ল্যাটে চলে গেল। ও দুতলায় ডান পাশের ফ্ল্যাটে গেল, যেটা কি না বাড়িওয়ালার ঘর। তার মানে ও বাড়িওয়ালার মেয়ে। আমার হয়ে গিয়েছে, এবার একটু দূরে দূরে থাকতেই হবে নয়ত বাবার কানে খবর যেতে বেশি সময় লাগবে না। এমনি তো চাকরী করি না, তারপর কোন মেয়ে সংক্রান্ত সমস্যা হলে একটা মারও মাটিতে পরবে না।
.
রাতে রুমে বসে বসে ভাবতাছি এখন কি ভাবা যায়? কি করবো এমন নতুন জায়গা আর কোন জায়গায় কি কি পাওয়া যায় ওই সব কিছুই তো জানি না। তাই ভাবলাম মনটা ফ্রেশ করার জন্য একটু ছাদ থেকে ঘুরে আসি। এমনি এখন রাত ১০ টা বাজে আর এতো রাতে ছাদে কেউ না থাকারই কথা। যেই ভাবা সেই কাজ। কিন্তু ছাদে গিয়ে দেখি দেবিকা ছাদের রেলিং ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আচ্ছা এই মাইয়া কি ছাদ ছাড়া কিছু বুঝে না। আমি পিছন থেকে গিয়ে বললাম...
-- আকাশে তারাঁ গণনা করা হচ্ছে বুঝি?
-- তারাঁ যদি গণনা করা যেত তাহলে তো ভালই হতো।( আমার দিকে তাকিয়ে)
--হুমম তাও ঠিক, আচ্ছা শুনো আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি মিস. মহারাণী?
-- হুমম বলো।
-- আচ্ছা বলো তো তেলাপোকা পাখি নাকি পোকাঁ?
-- বলতে পারি না।
-- আচ্ছা বলো তো, আমাদের শেষের শিক্ষা মন্ত্রীর শশুড়ের নাম কি?
-- জানি না তো। উত্তর গুলো তুমি বলে দাও।
-- হুহ চাকরীর ইন্টারভিউতে যারা পরীক্ষা নেয় তারা প্রশ্ন করে কিন্তু উত্তর দেয় না।
-- হুমমম বুঝলাম তো।
ও একটা মুচকি হাসি দিয়ে আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।আমিও আকাশের দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে বলতে লাগলাম...
-- এক দুই তিন চার......
-- কি হচ্ছে শুনি এইগুলো?
-- বুঝতে পারছো না। আর টেনশন নিও না আমি তোমার তারাঁ গুলো গুনবো না।
ও আমার কথা শুনে কিছু বলল না। আহারে কত্তো রোমান্টিক একটা কথা বললাম আর মেয়েটা চুপ। মনে হয় প্রেমে দাগা খাইছে তাই এমন চুপসে আছে। হুম ওর পেট থেকে কথা গুলে বার করতে হবে নয়ত ওর পেটে গ্যাস্ট্রিক হয়ে যাবে পাক্কা।
-- ওই দেবিকা শুনো,
-- কি?
-- তুমি প্রতিদিন বেশি বেশি জল খাবে। খাবারের আগে একটা গ্যাস্ট্রিকেরর ঔষুধ খাবে আর লেবুর রস খাবে।
-- কেন?
-- মানে তোমার পেটে অনেক কথা জমে আছে আর কাউকে বলতে পারছো না আর বেশি কথা জমলে গ্যাস্ট্রিক হয়। তাই বললাম
-- তুমি সত্যি একটা বাদর।
বলেই চলে গেল। আরে আমি কি বললাম যে বাদরামী হয়ে গেল। অবশ্য বাদর এটা আমার গোপন নাম তবে শুধু প্রিয়ন্তি আমাকে এই নামে ডাকতো । প্রিয়ন্তি আর আমি এক সাথেই পড়তাম ভার্সিটিতে তবে ওরে ভালও বাসতাম হয়ত। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা তো সমবয়সী ছিলাম আর ওর বাসার মানুষ হঠাৎ ওর বিয়ে ঠিক করে। বিয়ের পর প্রিয়ন্তিকে নিয়ে কানাডা চলে যায়। ওর আর লেখাপড়া করা হয় নি, আমার মনের কথাও বলা হয় নি। আর ও মাঝে মাঝে আমায় ফোন দিয়ে বলে ও খুব সুখে আছে কিন্তু ও জানতে আমি ওরে ভালবাসতাম। এরপর আর কখনো এইসব আজাইরা ফিলিংসে জড়িয়ে পরি নি। আসলে সবার মেয়ের বাবা মা চায় ছেলে একটা ভাল চাকরী করুক যেন মেয়েটা সুখে থাকতে পারে। হুমম এটাই হলো আমার মত বেকারদের কষ্টের গল্প। দেবিকা কখন ছাদ থেকে চলে গেল কিন্তু আমি কেন দাড়িয়ে আছি? ওরে এই রাতে যদি ভূতে ধরে, আমি রুমে চলে যাই। আর দেবিকার পেটের কথা আমি বার করবোই।
.
এভাবে ভালই দিন গুলো পার হচ্ছিল। ওর আমাদের ঘরে আসে আর সবার সাথে কথা বলে কিন্তু আমার সাথেও কথা বলে তবে আমায় খুচিয়ে কথা বলে। একটা ফাজিল মেয়ে বলা যায় আর কি?ইশশ এই মেয়েটা যার কপালে জুটবে তার অবস্থা কি যে হবে? মেয়ে তো নয় যেন একটা সুচঁ। সময় অসময় দেখা হলেই শুধু খুচায়।
প্রায় এক মাস পরে আমি ছাদে আমার কিছু valobashar golpo
হাতে একটা মাঝারি ধরনের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে সিড়ি দিয়ে উঠতে গিয়ে হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেলাম আর আমি এক পাশে সড়ে গেলাম। হয়ত পরেই যেতাম কিন্তু এটা তো আমার শখের বক্স তাই কোন রকমে বাচাঁলাম। কিন্তু যখন খেয়াল করতে গেলাম কার সাথে ধাক্কা খেলাম তখন দেখি দুইটা ভয়ানক চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে আর খুব রাগে জ্বলছে। মনে হচ্ছে, আমি ওর মেকআপ বক্স চুরি করছি।তখন আমিই বললাম..
-- কি হলো এমন করে তাকিয়ে কি দেখছো?
-- ওই তুমি কে হে?এই বাসায় তো আগে দেখি নি।
-- আগে দেখবে কিভাবে? আমি তো আজ সকালেই তিনতলায় পরিবার সমেত ভাড়া এসেছি।তুমিও মনে হয় এই বাসায় থাকো তাই না।
-- না জাহান্নামে থাকি।
-- ও তেরি, কবে মরলে?
-- ইইই যা রাগ হচ্ছে না। মনে হচ্ছে তোমার সাউন্ড সিস্টেমটা ফেলে দেই।
-- ওই আমি করলাম তোমার?
-- কি করলে হে? নিচে তাকিয়ে দেখো আমার জন্মদিনের কেকটা সম্পূর্ণ ফেলে দিলে ।
ওর কথা শুনেই নিচে তাকাই। আরে হা আমি তো খেয়ালই করি নি। ইশশ এটা কিন্তু ঠিক হয় নি।
-- ও সরি। আমি ইচ্ছা করে করি নি। বক্সটা আমার মুখের সামনে ছিল তো তাই মশাটার হাতে যে কেক দেখতে পারি নি।
-- ওই মানে কি আমি মশা?
-- কথা বললাম হাটের মাঝে আর যার কথা তার কানে বাজে।
বলেই আর দাড়াবার কথা মনে না করে সোজা উপরে উঠতে লাগলাম। আর মেয়েটা নিচে আমাকে ইচ্ছামত বকতে লাগলো। সত্যি মেয়েটা খুব মজার মানুষ তবে ওর হাতের কেকটা না পরে মোবাইল টা পরলে ভাল হতো। অন্তত কেক কাটার খুশিটা তো পেতো। আজ হয়ত আমাদের রুমে শিউর একটা বিচার যাবে। আর প্রথম দিনেই বিচার তাও একটা মেয়ের থেকে, এটা কি মেনে নেওয়া যায়। না আজ বিকেলেই ওর সাথে কথা বলে সরি বলে দিতে হবে নয়ত বাবার কানে এইসব গেলে আমাকে হয়ত বাসা থেকে বের করেই দিবে।
.
তারপর রুমে গিয়ে জিনিস পত্র সাজাতেঁ লাগলাম। তাছাড়া আরো অনেকেই মিলে হাতে হাতে কাজ করছি তাই তেমন একটা অসুবিধা হয় নি। এটা তিনতলা বাড়ি আর আমরা তিন তলায় ভাড়া আসছি। বাড়িওয়ালা থাকে দুতলায় আর একতলায়ও অন্য ভাড়াটিয়া।
আসলে বাবা তো সরকারী কাজ করেন তাই ওনার বদলি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ টু নরসিংদী । আর আমরাও বাসা বদলি করতে হলো। আমার লেখাপড়া শেষ হয়েছে গত বছর আর এখনও চাকরীর চেষ্টায় আছি। আর আমার একটা বোন আছে স্নিগ্ধা, এবার ইন্টার ১ম বর্ষে পরে। এবার এখানের একটা কলেজে ভর্তি করে দিতে হবে।
.
সারাদিন কাজ করে পুরো ক্লান্ত হয়ে পরলাম। দুইটা রুম গুছানো হয়েছে আর বাকি রইছে আমার রুমটা। খুব ক্লান্ত লাগছে এখন। সকালবেলা আড়াই ঘন্টা জার্নি করে এখানে আসলাম পরে একটা মেয়ের সাথে ঝগড়া করলাম আর রুম গুছিয়ে আমি ক্লান্ত। ইশশ যদি আমার একটা জি এফ থাকতো তাহলে একদিনের জন্য বাসায় এনে রুমটা গুছিয়ে রাখতাম। কাজের চাপে মাথাটা ঘুরাচ্ছে তাই একটু ছাদের দিকে গেলাম। ছাদের দরজার কাছে যেতেই অনেক গুলো মেয়ের আওয়াজ শুনতে পাই। তাই প্রথমে মাথাটা আগে বের করে দেখি কে কে আছে? আরে হা সকালের মেয়েটাতো তার বান্ধবীদের নিয়ে বার্থডে পার্টি করছি। কয়েকজন তো সেলফি তোলায় ব্যস্ত। আমারও মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি চাপলো তাই আর লেট না করে ওদের সামনে হাজির। আর সরাসরি সেই মেয়েটাকে বললাম...
-- কি গো জানু আমাকে একা রেখেই তুমি জন্মদিন পালন করছো?
সবাই তো আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে কারন আমাকে আজ সবাই প্রথম দেখলো আর প্রথম দেখায় সবাইকে অবাক করলাম। আমি আবার বললাম...
-- কি গো চুপ করে আছো কেন? ও বান্ধবীদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেওয়াতে বুঝি তোমার সমস্যা হচ্ছে। ওকে আমি নিজেই পরিচয় করে নিচ্ছি। হাই, আমি রাজ।
-- ওই তুমি আমার কোন কালের জানু হে? আজ সকালে বাসায় আসলে আর আমাকে জ্বালাতে শুরু করলে। এখনো তো আমার নামটাও জানো না। আর জানু বলো।
আমি তারাতারি কেকের দিকে তাকালাম আর ওর নাম লেখা আছে দেবিকা।
-- কে বলল আমি তোমার নাম জানি না?
-- হুমম এখন কেক দেখে বলবে।
-- আরে না, আমি আগে থেকেই তো জানি।
-- হইছে এবার যাও তো।
-- ওকে মহারাণী তোমার যাহা আজ্ঞা।
.
পিছনে না তাকিয়ে সামনে তাকিয়ে আমার রুমে চলে গেলাম আর হাসতে হাসতে আমার রুম সাজাতে লাগলাম। হা হা হা বাসায় এসেই একটু মজা করে নেওয়া গেল। মনে হচ্ছে মেয়েটা আমার সমান প্রতিপক্ষ। বিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী, প্রতিটা বস্তুর রিয়েকশন আছে তেমন ওর থেকে যে আমি মহা রিয়েকশন পাবো এটা আইডিয়া হয়ে গেছে। তাই আপাতত দুইটা দিন ওর থেকে দূরে দূরে থাকবো।
.
ওইদিন রুম ঘুছিয়ে আর রুম থেকে বার হই নি। আমি এমনি এসেই মেয়েটার জন্মদিনটাকে পুরো হেডফোনের প্যাচঁ বানাই দিলাম।
সকালে ঘুম ভাঙ্গলো স্নিগ্ধা মানে আমার বোনের ডাকে। নতুন জায়গা তো তাই রাতে তেমন ঘুম হয় নি তবে শরীর ক্লান্ত থাকায় শেষ রাতে চোখটা লেগে গেছিল।
-- ওই ভাইয়া উঠ না।
-- হুমম বল কি হইছে?
-- বাবা নাকি বলছে সামনে না বাজার আছে ওইখান থেকে সবজি কিনে এনে দিতি।
-- কিন্তু আমি তো চিনি না।
-- আরে একটু হাটতেঁ হাটতেঁ চিনে যাবি। যা তো
-- যাচ্ছি।
তারপর বেরিয়ে গেলাম বাজারের খুজেঁ। বাজারেও আসলাম আর বাজারও করলাম কিন্তু সমস্যা হলো একটাই, এখন বাসায় যাওয়ার রাস্তা ভুলে গেছি। আসলে ঘুম চোখে বাজারে আসছি তো আর মোবাইলটাও সাথে আনি নি যে বাবাকে ফোন দিয়ে বলবো।
যাই হোক, বাজারের ব্যাগ নিয়ে একটা মোড়ে দাড়িয়ে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে ভাবতে লাগলাম কি করা যায়?
হঠাৎ কারো কন্ঠ শুনলাম আমার উদ্দেশ্যে। তাকিয়ে দেখি দেবিকা....
-- কি মিস্টার বাড়ি ভুলে গেলে নাকি?
-- না না এটা কেমন করে সম্ভব? আমি তো এমনি এলাকাটা দেখছিলাম।
-- হুমম তাই তো প্রায় অাধা ঘন্টা হলো এক জায়গায় দাড়িয়ে আছো।
আমি আর জবাব না দিয়ে মাথা চুলকাতে লাগলাম। তখন ও একটা হাসি দিয়ে বলল...
-- হইছে আর বলতে হবে না। এবার চলো। আসলে ওই যে সামনের বিল্ডিং এর দ্বিতীয় তলায় আমাদের কোচিং। আর অনেকখন তোমারে দেখলাম দাড়িয়ে আছো তাই ভাবলাম হয়ত রাস্তা ভুলে গেছো নয়ত এমন পাকাঁ ছেলে এক জায়গায় কি এত সময় দাড়িয়ে থাকে?
-- তোমার ধারনা খুব ভাল আর কালের জন্য সরি। আসলে কাল একটু দুষ্টামী করার চেষ্টা করছিলাম।
-- হুম বুঝছি, রিটার্ন দুষ্টামী আমিও ফেরত দিবো তবে আপাতত আপনাকে বাসাটা চিনিয়ে দেই।
-- ওকে
আর কোন কথা হয় নি দুজনের মাঝে। যতটুকু বুঝলাম আমার কপালে শণি ঠিকই আছে। এখন দেখাচ্ছে মানবতা, পরে দেখাবে পাষন্ডতা। এজন্যেই হয়ত বলে নারী চরিত্র বেজায় জটিল। বাসায় ওর পিছু পিছু আসলাম কিন্তু অবাকের বিষয় হলো ও যখন ওদের ফ্ল্যাটে চলে গেল। ও দুতলায় ডান পাশের ফ্ল্যাটে গেল, যেটা কি না বাড়িওয়ালার ঘর। তার মানে ও বাড়িওয়ালার মেয়ে। আমার হয়ে গিয়েছে, এবার একটু দূরে দূরে থাকতেই হবে নয়ত বাবার কানে খবর যেতে বেশি সময় লাগবে না। এমনি তো চাকরী করি না, তারপর কোন মেয়ে সংক্রান্ত সমস্যা হলে একটা মারও মাটিতে পরবে না।
.
রাতে রুমে বসে বসে ভাবতাছি এখন কি ভাবা যায়? কি করবো এমন নতুন জায়গা আর কোন জায়গায় কি কি পাওয়া যায় ওই সব কিছুই তো জানি না। তাই ভাবলাম মনটা ফ্রেশ করার জন্য একটু ছাদ থেকে ঘুরে আসি। এমনি এখন রাত ১০ টা বাজে আর এতো রাতে ছাদে কেউ না থাকারই কথা। যেই ভাবা সেই কাজ। কিন্তু ছাদে গিয়ে দেখি দেবিকা ছাদের রেলিং ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আচ্ছা এই মাইয়া কি ছাদ ছাড়া কিছু বুঝে না। আমি পিছন থেকে গিয়ে বললাম...
-- আকাশে তারাঁ গণনা করা হচ্ছে বুঝি?
-- তারাঁ যদি গণনা করা যেত তাহলে তো ভালই হতো।( আমার দিকে তাকিয়ে)
--হুমম তাও ঠিক, আচ্ছা শুনো আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি মিস. মহারাণী?
-- হুমম বলো।
-- আচ্ছা বলো তো তেলাপোকা পাখি নাকি পোকাঁ?
-- বলতে পারি না।
-- আচ্ছা বলো তো, আমাদের শেষের শিক্ষা মন্ত্রীর শশুড়ের নাম কি?
-- জানি না তো। উত্তর গুলো তুমি বলে দাও।
-- হুহ চাকরীর ইন্টারভিউতে যারা পরীক্ষা নেয় তারা প্রশ্ন করে কিন্তু উত্তর দেয় না।
-- হুমমম বুঝলাম তো।
ও একটা মুচকি হাসি দিয়ে আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।আমিও আকাশের দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে বলতে লাগলাম...
-- এক দুই তিন চার......
-- কি হচ্ছে শুনি এইগুলো?
-- বুঝতে পারছো না। আর টেনশন নিও না আমি তোমার তারাঁ গুলো গুনবো না।
ও আমার কথা শুনে কিছু বলল না। আহারে কত্তো রোমান্টিক একটা কথা বললাম আর মেয়েটা চুপ। মনে হয় প্রেমে দাগা খাইছে তাই এমন চুপসে আছে। হুম ওর পেট থেকে কথা গুলে বার করতে হবে নয়ত ওর পেটে গ্যাস্ট্রিক হয়ে যাবে পাক্কা।
-- ওই দেবিকা শুনো,
-- কি?
-- তুমি প্রতিদিন বেশি বেশি জল খাবে। খাবারের আগে একটা গ্যাস্ট্রিকেরর ঔষুধ খাবে আর লেবুর রস খাবে।
-- কেন?
-- মানে তোমার পেটে অনেক কথা জমে আছে আর কাউকে বলতে পারছো না আর বেশি কথা জমলে গ্যাস্ট্রিক হয়। তাই বললাম
-- তুমি সত্যি একটা বাদর।
বলেই চলে গেল। আরে আমি কি বললাম যে বাদরামী হয়ে গেল। অবশ্য বাদর এটা আমার গোপন নাম তবে শুধু প্রিয়ন্তি আমাকে এই নামে ডাকতো । প্রিয়ন্তি আর আমি এক সাথেই পড়তাম ভার্সিটিতে তবে ওরে ভালও বাসতাম হয়ত। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা তো সমবয়সী ছিলাম আর ওর বাসার মানুষ হঠাৎ ওর বিয়ে ঠিক করে। বিয়ের পর প্রিয়ন্তিকে নিয়ে কানাডা চলে যায়। ওর আর লেখাপড়া করা হয় নি, আমার মনের কথাও বলা হয় নি। আর ও মাঝে মাঝে আমায় ফোন দিয়ে বলে ও খুব সুখে আছে কিন্তু ও জানতে আমি ওরে ভালবাসতাম। এরপর আর কখনো এইসব আজাইরা ফিলিংসে জড়িয়ে পরি নি। আসলে সবার মেয়ের বাবা মা চায় ছেলে একটা ভাল চাকরী করুক যেন মেয়েটা সুখে থাকতে পারে। হুমম এটাই হলো আমার মত বেকারদের কষ্টের গল্প। দেবিকা কখন ছাদ থেকে চলে গেল কিন্তু আমি কেন দাড়িয়ে আছি? ওরে এই রাতে যদি ভূতে ধরে, আমি রুমে চলে যাই। আর দেবিকার পেটের কথা আমি বার করবোই।
.
এভাবে ভালই দিন গুলো পার হচ্ছিল। ওর আমাদের ঘরে আসে আর সবার সাথে কথা বলে কিন্তু আমার সাথেও কথা বলে তবে আমায় খুচিয়ে কথা বলে। একটা ফাজিল মেয়ে বলা যায় আর কি?ইশশ এই মেয়েটা যার কপালে জুটবে তার অবস্থা কি যে হবে? মেয়ে তো নয় যেন একটা সুচঁ। সময় অসময় দেখা হলেই শুধু খুচায়।
প্রায় এক মাস পরে আমি ছাদে আমার কিছু নতুন গাছ লাগাইছি। ওই গুলোর আশপাশটা পরিষ্কার করছিলাম। তখন মহা রানী ভিক্টোরিয়া না মানে ব্যাকটেরিয়ার আগমন হলো...
-- কি বাদর সাহেব গাছ পরিষ্কার করছো না?
-- চোখে কি ন্যাবা হইছে দেখতে পাও না?
-- দেখতে তো পাই কিন্তু যে বাদর গাছের উপর থাকে সে আবার গাছের পরিচর্যা করে এটা জানতাম না তো।
-- আবার খুচাঁচ্ছো।
-- কেন সত্যি বললে বুঝি গায়ে লাগে? ( বলেই হাসতে লাগলো?)
-- ওই মিস. লাফিং গ্যাস চুপ একদম চুপ।
-- ওকে চুপ।
-- অযথা এতো হাসো কেন হে?
-- আমি হাসলে বুঝি তোমার হিংসা হয়। আর আমার দাতঁ গুলো সুন্দর তাই হেসেঁ হেসেঁ দেখাই। এতে তোমার সমস্যা নেই।
-- আমার কোন সমস্যা নেই কিন্তু এমন করে হাসলে তোমার বয়ফ্রেন্ড তো পালাবে।
-- অলরেডি পালিয়ে গেছে।
-- মানে?
-- মানে দুবছর আগেই ব্রেকআপ হয়ে গেছে তো।
-- কি কারনে হলো?
-- আমাদের ব্রেকআপ করার কোন কারন খুজেঁ পাচ্ছিলাম না আর এটাই হলো কারন।
-- বিশ্বাস হচ্ছে না।
-- বিশ্বাস না করলে লাভ নেই। আমি তখন ইন্টার ফাইনাল পরীক্ষা দিবো আর পাপ্পু মানে আমার বয়ফ্রেন্ড আমার সাথেই পড়তো। খুব ভালবাসতাম ওরে। আমার যখনই রাগ হতো তখনই অযথা ব্রেকআপ করতাম আর ওরে জ্বালাতাম। যদিও প্রতিবার আমার দোষ ছিল কিন্তু ও নিজে এসে আমায় সরি বলতো। একদিন ঠিক এমনই হলো, আমি শুধু শুধু ওর উপর রাগ করি আর ব্রেকআপ করি। ও যখন জানতে চায় আমি কেন ব্রেকআপ করতে চাইছি তখন আমি বলছিলাম। ব্রেকআপ করার কোন কারন পাচ্ছি না আর এটাই হলো কারন।একদিন এমনই ভাবে আমি রাগ করি কিন্তু ওইদিন কেন জানি আর আমার রাগ ভাঙ্গায় নি এমনকি প্রায় ১ সপ্তাহ ওর কোন খুজঁ পায় নি। আর ও মোবাইল চালাতো না যে একটা খবর পাবো। কিন্তু আমি ওর বাসার ঠিকানা জানতাম আর তাই আমি ওর বাসায় যাই আর খুজ নিয়ে জানি ওইদিন আবীরের ট্রাক এক্সিডেন্ট হয় আর এরপর থেকে আমি প্রতি রাতে আকাশের তারাঁয় পাপ্পুকে খুজিঁ। ও হয়ত আমায় দেখছে আমার কথা গুলোও বুঝতে পারছে শুধু আমি ওরে অনুভব করতে পারছি না। আমি আজও ওর উপর রাগ করে আছি ও কেন আমায় না বলে চলে গেল? এখন আমার রাগটা কে ভাঙ্গাবে।
.
আমি ওর কথা গুলো শুনে ওরে কি জবাব দিবো ভাষাহীন হয়ে গেলাম। ও চোখে জল চলে আসছে। সত্যি কপালে যে থাকার সে থাকবে, অযথা শুধু শুধু কাউকে পাওয়া সম্ভব না।
-- দেবিকা তুমি যদি কাদোঁ তাহলে হয়ত পাপ্পু খুব কষ্ট পাবে। প্লিজ কেদোঁ না।
-- ( ও কেদেঁই যাচ্ছে)
তাই বাধ্য হয়েই আমি ওর চোখের জল মুছে দেই আর ওর পাশেই দাড়িয়ে থাকি। কেমন জগত এটা, আমরা যাকে চাই তাকে কেন পাই না। আর প্রতিটা মানুষের বুকেই একটা অবহেলিত কষ্ট লুকিয়ে আছে যা কাউকে বলাও যায় না।
.
কয়েক মাস পরে রাতে বসে বই পরছি কারন কাল আমার মৌখিক পরীক্ষা। কিছুদিন আগে একটা চাকরীর ইন্টারভিউতে পিলি ও লেখিত পরীক্ষায় পাশ করি। এখন যদি মৌখিক পরীক্ষায় টিকে যাই তাহলে হয়ত আর কেউ বেকার বলতে পারবে না। দেবিকার সাথেও কয়টা দিন কথা হচ্ছে না। ও কেন জানি আমার থেকে দূরে দূরে থাকতে চায়? জানতে হবে।
.
সকালে তারাতারি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে গেলাম পরীক্ষার জন্য। যাওয়ার সময় দেবিকার সাথে দেখা হলো কিন্তু ও ওর মুখটা পেচারঁ মত করে রেখেছে। একবার অল দি বেস্ট বললে কি সমস্যা ছিল?সকালে একটু ওরে ক্লান্ত দেখলাম, মনে হয় নাচ প্র্যাকটিস করছে। ও যে কত ধরনের গুনের অধিকারী সেটা না দেখলে বুঝা সম্ভব না। কিন্তু আমার সাথে যে কেন কথা বলে না সেটাই বুঝতে পারতাছি না।
.
রাত প্রায় ৮টার দিকে বাসায় আসলাম সব শেষ করে। আর আমার চাকরীটাও হয়ে গেছে তাই আমি খুব খুশি। বাসায় এসে ঘরের সবাইকে বললাম আর সবাই খুবই খুশি কিন্তু এবার দেবিকাকে কেমনে বলবো? ও এই সময় তো মেডাম ছাদে যায় তাই আমিও গেলাম আর দেখি সে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাকে দেখে ও ফিরে তাকালো...
-- কি গো আমার সাথে কথা বলো না কেন হে?
-- কোথায় বলি না?
-- হুমম নতুন বয়ফ্রেন্ড পেয়েছ বুঝি আমায় ভুলে গেলে।
-- আরে না বলো।
-- যাই হোক, শুনো আমার চাকরীটা হয়ে গেছে আর সামনের ১৪ ই অক্টোবর আমার ট্রেনিং এ যেতে হবে।
-- ও খুব সুখবর তো।
-- এই সুখে তোমার নাম্বার টা দাও তো। এক বছর হতে চলল আর তোমার নাম্বার আমার কাছে নাই এটা কি ঠিক?
-- মিথ্যা বলাটাও শিখলে না। কিছুদিন আগে আমি যখন নাচ প্র্যাকটিস করতে ছিলাম তখন তুমি আমার মোবাইল থেকে তোমারর নাম্বারে ফোন দাও কিন্তু তোমার নাম্বার আমার মোবাইল থেকে ডিলেট করতে ভুলে যাও।
-- বাহ্ ভাল চালাক তো তুমি। ওকে বাদ দাও, চলো এই খুশিতে একটা সেলফি তুলি।
-- ওই মুড নেই।
-- আরে চলো তো,
ওরে একটু জোর করেই ছাদের লাইটের কাছে নিয়ে এসে সেলফি তুললাম।
-- এবার খুশি তো।
-- তুমি একটু হেসেঁ দাও তাইলেই খুশি হবো।
-- হি হি হি হইছে।
-- সেলফির সাথে হাসিঁ ফ্রি, এই বছরে গার্লফ্রেন্ড সামনে বছর স্ত্রী।
-- ওই কি বললে??
-- না তো কিছু না।
-- জীৎ দার ডায়লগ কপি না করে নিজের সাহস থাকলে সরাসরি বলো ওকে।
-- না থাক। কয়দিন পর তো চলেই যাবো তাই এখন কিছু না বলাই ভাল।
-- ওকে
আমি নিচে চলে আসলাম। ওর মাথায় যে কত বুদ্ধি আর ও কত চালাক আজই বুঝলাম ওর কথা শুনে। আমার নাম্বার থেকে যে ওর ফোনে ফোন দিছিলাম এতে ও শিউর কি করে যে এটা আমার নাম্বার। তার মানে আমার নাম্বারও ও জানে। ও ডেন্জারাস মেয়ে একখান মানতে হবে।
.
আজ ১৩ই অক্টোবর আর এখন রাত সাড়ে ১১ টা বাজে। আর মাত্র ৩০ মিনিট পর ওর সাথে আমার দেখার ১ বছর হবে কারন ১৪ই অক্টোবরই আমাদের প্রথম দেখা হয়ে ছিল। আর আগামীকালই আমার ট্রেনিং এ যাওয়ার তারিখ। সকাল সাতটার ট্রেনে ঢাকা চলে যেতে হবে তাই হয়ত কাল আর শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগটাও পাবো না। তাই এখন ছাদে বসে মোমবাতি জ্বালাচ্ছি । আর কিছুখন আগে কেকও নিয়ে আসছি।
সবকিছু গুছিয়ে সাজাতেঁ ২০ মিনিটের উপর বাজলো আর তখন আমি মহারানী দেবিকার নাম্বারে একটা ফোন দিলাম। তবে মজার ব্যাপার হলো ফোন দেওয়ার সাথে সাথে ফোন রিসিভ হয়ে গেল। তার মানে আমার কথাই ভাবছিল। এই মেয়ে বাইরে শক্ত হলে কি হবে, ভিতরে একদম নরম।
-- হ্যালো মেডাম কি করছো এখন?
-- এতো রাতে মানুষের যা করার তাই করছি। আমি ঘুমাচ্ছি।
-- মিথ্যাটাও ঘুছিয়ে বলতে পারো না। যদি এটাই হতো তাহলে একবারের রিং এ ফোনটা ধরতে না।
-- হুহহ এতো কিছু জানি না। কি জন্য ফোন দিছো এটা বলো?
-- ও আচ্ছা একটু ছাদে আসতে পারবে।
-- ওকে আসছি।
বলেই ফোনটা কেটে দিল কিন্তু একবারের জন্যও জানতে চাইলো না কেন এতো রাতে ডাকলাম। একটু পরেই ওর নূপুরের আওয়াজ শুনতে পেলাম। তাই আমি একটু সড়ে দাড়ালাম।
ও ছাদে আসতেই অবাক হলো কারন মোমবাতি দিয়ে লেখা হ্যাপি বার্থডে। আর তখন আমি পিছন থেকে শুভ জন্মদিন বলতে বলতে ওর সামনে আসলাম। ও পুরো অবাক হয়ে গেল এইসব দেখে তবে ও কি বলবে হয়ত ভাবতেই পারছে না।
-- কি হলো এমন চুপ হয়ে গেলে কেন? এত্তো সুন্দর সারপ্রাইজ দিলাম তাই একটা ধন্যবাদও কি দিবে না?
-- ধন্যবাদ কিন্তু তুমি জানলে কি করে যে আমার জন্মদিন?
-- কারন গত ১৪ তারিখে আমি তোমার হাতের কেকটা ফেলে দিছিলাম তাই ভাবছি এই বছর তোমাকে সারপ্রাইজ দিবো। আর কাল তো আমি চলে যাচ্ছি আর তোমাকেও জ্বালাবো না তাই আজ চলো কেক কেটেঁ দিনটা পালন করি।
-- ( ও চুপ হয়ে গেল)
-- কি হলো চলো তো?
তারপর ওর হাতটা ধরে ওরে নিয়ে এসে কেক কাটালাম। আর ওকে আমি কেক খাইয়ে দিলাম আর একটু কেক ওর গালেও দিলাম। কিন্তু ও আমাকে কেকও খাওয়াই দিলো না। যাক গে, কারো মনের বিরুদ্ধে গিয়ে তো আর কিছু পাওয়া যায় না। অন্তত ও যদি আমার হাতে এক টুকরো কেক তুলে দিতো তাহলেই খুশি হতাম।
-- দেবিকা শুনো
-- হুমম
-- কাল তো আমি থাকবো না। চলেই যাবো আর এমনি অনেক রাত হয়ে গেছে তাই হয়ত তুমি ঘুম থেকেও উঠতে পারবে না। তাই এখনই বায় আর ভাল থেকো আর বাকি কেকটা তুমি নিয়ে যাও। কাল সকালে বাসার সবাইকে দিয়ে দিয়ো নয়ত ফেলে দাও।ঠিক আছে।
.
আর কোন কথা না বলে নিচে চলে আসলাম। ইচ্ছে ছিল আর ওরে আমার মনের কথা গুলো বলবো কিন্তু ওর মনে তো আমি নেই। যদি আমিই থাকতাম তাহলে কেক ও আমায় খাইয়ে দিতো। ও ভাল থাকুক। ঠিক তিন মাস পর বাসায় ফিরবো হয়ত মায়া কাটাতে শিখে যাবো।
ওর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখটা লেগে গেল খেয়ালই ছিল না। ছোট বোন স্নিগ্ধার ডাকে ঘুম ভাঙ্গলো। তারাতারি ফ্রেশ হতে চলে গেলাম।
যখন ওয়াশরুম থেকে বের হলাম তখন পুরু চমকেই গেলাম কারন আমার হাত ঘড়ির সামনে একটা প্লেটে কাল রাতের কেকের একটা বড় পিছ রাখা আর সাথে একটা চিরকুটে লেখা শুভ সকাল। তখন কি করবো বুঝতে পারছিলাম না । শুধু আমার মুখে একটা হাসি ফুটে উঠলো।
এখন রেডি হয়ে ব্যাগটা নিয়ে ঘর থেকে বের হবো আর সাথে বাবা আসছে। কারন বাবা আমার সাথে স্টেশন পর্যন্তই যাবে। কিন্তু দেবিকাকে দেখতে পারলে ভালই হতো। আমি বাড়ির গেটের কাছে যেতে আমার ফোনে একটা ম্যাসেজ আসলো।ম্যাসেজ টা ছিল " এই মিস্টার বাদর, মন দিয়ে ট্রেনিং করো কিন্তু কোন মেয়ে কলিগের দিকে নজর যেন না যায়। আর যদি কোন মেয়ের দিকে তাকাও তাহলে তোমার কপালে শণি আছে। "
ম্যাসেজটা পড়ার সাথে সাথে ২ তলার দিকে তাকালাম আর দেখি বেলকনিতে দাড়িয়ে মেডাম আমায় মুখ ভেংচি মারছে। আর বুঝতে বাকি রইলো না এই পথ কোন দিকে বাকঁ নিতে চললো। তাহলে এই বাদরের বাদরনী জুটলোই। যা হবে তা দেখা যাক ট্রেনিং শেষে। আমিও একটা হাসি দিয়ে বের হলাম ট্রেনের উদ্দেশ্যে।
2 coment rios:
Hi
Vhjj
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন